09/05/2026
পূর্ব দিগন্তে যখন শুভেন্দুর উদয় হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে নানা বর্ণের বিশিষ্টজন শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন, তখন খুব সম্ভবত কারও মনে আসছেনা সেই ৩৫ লক্ষ ভোটাধিকার হারানো মানুষের কথা, যাঁরা বেনাগরিক হবার দরজায় দাঁড়িয়ে। মনে পড়ার কথাও না, কারণ, যে বৃহত্তম গণতন্ত্রের উৎসব চলছে, ওঁরা তো সেই সৌধের নিচের উইপোকা মাত্র। তাই এই সুখের দিনে মনে কোনো মালিন্য রাখবেন না। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট। ডিটেক্ট আর ডিলিট হয়ে গেছে, এ তো তারই জয়োৎসব। এই মহাযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে যিনি সম্পন্ন করেছিলেন, কাগজে জল্পনা পড়লাম, তিনি মুখ্যসচিব হতে পারেন। সত্যিই হবেন কিনা জানিনা, কিন্তু হওয়াই উচিত। ৩৫ লক্ষ মানুষের শেষ খড়কুটো ছিল যে ট্রাইবুনাল, তার অন্যতম মাথা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম পদত্যাগ করেছেন গত পরশু। নেহাৎই ব্যক্তিগত কারণে। সেটাও হওয়াই ঠিক, কারণ ও ট্রাইবুনাল কোন স্বর্গেই বা নিয়ে যেত। শিবজ্ঞানম বলেছেন, এও কাগজে পড়লাম, ১৭৭৭ জনের কেস তিনি দেখেছেন, একজনকেও বাদ দেবার মতো পাননি। একটা যে বিপুল অনাচার হয়েছে, ঠারে-ঠোরে এইভাবে সেটা জানাবার পরে তো থাকার কথাও না। তিনি থাকলেও বিশেষ লাভ হত না নয়। শিবজ্ঞানম জানিয়েছেন, এমনিও স্রেফ কলকাতায়ই যত অ্যাপিল জমা পড়েছে, এই গতিতে কাজ হলে বিচার হতে চার বছর পেরিয়ে যাবে। বাকিদের কোথায় কবে কী হবে, সে বলেননি। প্রধান বিচারপতির এজলাসে যে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, যে, এবার ভোট না দিতে পারলে পরের বার দেবে, সেটা যে হচ্ছেনা, সেটা অবশ্য মোটামুটি বোঝাই যাচ্ছে।
ভোটারদের ৫% কে বাদ দিয়ে এমনিই পৃথিবীর কোনো দেশে ভোট হয়না। হলেও, সেটা খুব বৈধ বা ন্যায়সঙ্গত বোধহয় হয়না, জয়-পরাজয়ের ব্যবধানই যেখানে ওরকম। কিন্তু তাতে তো পূর্বদিগন্তে চন্দ্রোদয় আটকে থাকতে পারেনা। বিরোধী দলগুলোই এই নিয়ে ট্যাঁফোঁ করলনা তো আপনি-আমি কে। অতএব, অবশ্যই শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানান। যারা ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট স্লোগান দিয়ে দিয়ে, রোহিঙ্গা তাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে, নানা ছল ও বলে ক্ষমতায় এসেছে, তাদেরকে কিছু সময় তো দিতেই হবে, ঠিক কী-কী করে দেখার জন্য। না করলে তো আমরা জানতে পারবনা। তাই, এই শুভক্ষণে আর মনে কোনো ক্লিন্নতা রাখবেন না। শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানান। অনেকেই বলছেন, সরকার তো দলের হয়না, রাষ্ট্র কোনো দলের না। ঠিকই বলছেন। তাঁদের উপর আস্থা রেখে আমিও শুভেচ্ছাই জানাচ্ছি। একটু বাদে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও দেখব হয়তো। ভোটের বিশ্লেষণ করব, মন্ত্রীসভার গঠনবৈচিত্র্য নিয়ে মাথা ঘামাব। শুধু এই চকচকে সকালে মাঝে-মধ্যে ওই ৩৫ লক্ষের কথাও মনে পড়বে। এইটুকু গোস্তাকি আশা করা যায় মাপ হয়ে যাবে।