13/11/2021
পাশবালিশের নীচে হারানো চাবিকাঠি
[সাঁঝবাতি]
===========================
ওই কুয়াশার দিকে পিঠ করে বোসো, এই উজ্জ্বলতার আরও একটু সামনে এসো, হাত সেঁকে নাও গনগনে আগুনে। নইলে তোমার স্বচ্ছ আঙুলের লালচে নখে উন্মাদনার স্বাদ আছে ভেবে ফুটে উঠবে সহস্র কলমি লতা!
বসবাস ছারখার হোক, ধুলোয় মিশে যাক
সোনালী সুতোয় গাঁথা অর্ধদগ্ধ-শোক,
ব্যর্থ হোক রমনকালিন ঘেমে ওঠার দুর্বলতা
অথবা সতেজ হোক রুগ্ন সাদাটে-ঠোঁট।
শুকনো পাতার শোক - মুখস্থ করে নিক কদর্য জর্জরতা।
আসন্ন শীতে আর কিছু হোক না হোক শুধু ইঙ্গিতে নির্ভুল বলে দিতে পারি, কতটা নির্মম হলে ঝরে যায় আগুনের সখ্যতা।
তোমার নাকফুলের পাশে, আমার নিব ভাঙা কলম বেশ মানাচ্ছে, অল্প আলো তবু, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওরা একে অপরকে ছাপোষা বানাচ্ছে; তুমি জানতে? এভাবে বিনা নোটিশে হঠাৎ চলে এলে আমাকে অমূলক অস্বস্থিতে থাকতে হবে। তুমি জানতে? আজ রোদ উঠবে না তাই তুমি আজ পুকুরপাড়ে ছেড়ে এসেছো তোমার বয়ঃসন্ধির প্রকরণ। তুমি জানতে? গহিন মানুষ সমাজে, শুধু মাঝে মাঝে আমারই ভুলে ধেয়ে আসে পরিযায়ী পাখিদের দল।
এই তো দেখো, রাত্রিবাস ছেড়ে সকালের আগুনে আসার ঠিক আগে, তোমার মুখের আদল দেখতে পেয়েছি আমার বালিশের পাশে। বেশ শীত শীত ভাব এখন তাই রাস্তায়-বিছানায়-স্নানের গরম জলে-রোদে দেওয়া লেপে কেমন রঙিন সাজ! আমি চোখ বন্ধ করে বসি তবু, শরীর থেকে গড়িয়ে যায় উত্তাপ। পুকুরের ধারে ওভাবে বসো না, আসার আগে জানিয়ে এসো নইলে আমার পরাজয়ে তুমিই জর্জরিত হতে থাকবে অযথা...