চিলেকোঠার ঘর

চিলেকোঠার ঘর ভিজে গেল আশরীর, ভিজে গেল বৃষ্টিও নিজে—
বৃষ্টিবিরতি জুড়ে সেই ছবি, আমি ভিজিনি যে—

রোদে পোড়া ডানাদুটোই, ক্রমাগত স্থির
চাইলেও নড়তে পারে না আর
তেপান্তরের সেই সে শৈশবের স্বপ্ন
ঝরে পড়ে অকালবেলায়।

জ্যোৎস্না ভেজা রাত্তিরে
তাই, স্বাত্ত্বনা পায় যান্ত্রিক নারীকন্ঠের;
অশনি সঙ্কেত লালবাতি
অগ্রাহ্য করে, তবু উড়তে চায় সে
ঠোক্কর খেয়ে মাটিতে পড়ে, ব্যার্থ প্রয়াসে-

গুমরে মরে আবার রোদের অপেক্ষায়,
অশেষ রাতে, সেই চিলেকোঠায়।।

13/11/2021

পাশবালিশের নীচে হারানো চাবিকাঠি
[সাঁঝবাতি]
===========================

ওই কুয়াশার দিকে পিঠ করে বোসো, এই উজ্জ্বলতার আরও একটু সামনে এসো, হাত সেঁকে নাও গনগনে আগুনে। নইলে তোমার স্বচ্ছ আঙুলের লালচে নখে উন্মাদনার স্বাদ আছে ভেবে ফুটে উঠবে সহস্র কলমি লতা!

বসবাস ছারখার হোক, ধুলোয় মিশে যাক
সোনালী সুতোয় গাঁথা অর্ধদগ্ধ-শোক,
ব্যর্থ হোক রমনকালিন ঘেমে ওঠার দুর্বলতা
অথবা সতেজ হোক রুগ্ন সাদাটে-ঠোঁট।

শুকনো পাতার শোক - মুখস্থ করে নিক কদর্য জর্জরতা।

আসন্ন শীতে আর কিছু হোক না হোক শুধু ইঙ্গিতে নির্ভুল বলে দিতে পারি, কতটা নির্মম হলে ঝরে যায় আগুনের সখ্যতা।

তোমার নাকফুলের পাশে, আমার নিব ভাঙা কলম বেশ মানাচ্ছে, অল্প আলো তবু, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওরা একে অপরকে ছাপোষা বানাচ্ছে; তুমি জানতে? এভাবে বিনা নোটিশে হঠাৎ চলে এলে আমাকে অমূলক অস্বস্থিতে থাকতে হবে। তুমি জানতে? আজ রোদ উঠবে না তাই তুমি আজ পুকুরপাড়ে ছেড়ে এসেছো তোমার বয়ঃসন্ধির প্রকরণ। তুমি জানতে? গহিন মানুষ সমাজে, শুধু মাঝে মাঝে আমারই ভুলে ধেয়ে আসে পরিযায়ী পাখিদের দল।

এই তো দেখো, রাত্রিবাস ছেড়ে সকালের আগুনে আসার ঠিক আগে, তোমার মুখের আদল দেখতে পেয়েছি আমার বালিশের পাশে। বেশ শীত শীত ভাব এখন তাই রাস্তায়-বিছানায়-স্নানের গরম জলে-রোদে দেওয়া লেপে কেমন রঙিন সাজ! আমি চোখ বন্ধ করে বসি তবু, শরীর থেকে গড়িয়ে যায় উত্তাপ। পুকুরের ধারে ওভাবে বসো না, আসার আগে জানিয়ে এসো নইলে আমার পরাজয়ে তুমিই জর্জরিত হতে থাকবে অযথা...

04/11/2021

ইদানীং মাথার ভীতর একদল পিঁপড়ে বসতি গড়েছে; সুযোগ পেলেই
এবাসা থেকে ওবাসা পর্যন্ত দল বেঁধে যাত্রা শুরু করে – কখনও বা
আমার উত্তেজনার ইন্ধনে পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে এসে যথেচ্ছ
অত্যাচার চালায় – হাতের আঙুল পিঠ পর্যন্ত যথার্থ পৌঁছায় না।
যদি বা চেষ্টা চরিত্তির করে পৌঁছাতে পারতো; তাতেও বাধা দিয়ে বসে
সাধের জড়তা -

[সাঁঝবাতি]

।।অস্তরাগ।।[সাঁঝবাতি]===========নীরবতা তোমার ধর্ম নয় হে বীর,স্থবির রয়েছো যে মর্ম-সন্ধিক্ষণে অস্তমিত অন্তরিত দহনে, সে নির...
21/08/2021

।।অস্তরাগ।।
[সাঁঝবাতি]
===========

নীরবতা তোমার ধর্ম নয় হে বীর,
স্থবির রয়েছো যে মর্ম-সন্ধিক্ষণে অস্তমিত অন্তরিত দহনে, সে নির্নিমেষ উষ্ণতা তোমার - লেলিহান গভীর।
গড়েছো নিজেকে যত অশ্রু চুঁয়ে চুঁয়ে
বেহাগ বেরাগ স্বরে তোমার অন্তরে অনন্ত বারিধারা শুকায়ে,
জেগে আছে দেখো নদীর স্রোত তোমার সঙ্গোপনে
এক মন থেকে অন্য মননে বীণায় বাজায়ে আহির।।

নীরবতা তোমার ধর্ম নয় হে বীর,
ঈশ্বরের দর্প চুরমার করে,
স্মিত শুষ্ক হাস্যে দাঁড়িয়েছো স্থির, অস্তমিত অন্তর্ধানে
সে ধর্ম তোমার নয়; কথা বল -
কথা বল, দুপুরের গুলঞ্চহার বুভুক্ষু পাপ ফুল কথা বল;
কথা বল, যত দিন কথা ফুরায় প্রকৃতির বিকলাঙ্গ কানে,
নিজেকে নবজন্ম দানে অশেষ করে বাজাও বাঁশি আশাবরীর।।

হে বীর নীরবতা তোমার ধর্ম নয়,
নিজেকে ক্ষয় করে তাই তোমারই অস্তিত্ব করো বাঙময়।।

19/08/2021

শরীর পোড়ে যতিচিহ্ন ভারে কথায় কবিতায়,
দু'চোখ জুড়ে মৃত্যু নামুক সহমরণের প্রথায়।

[সাঁঝবাতি]

17/08/2021

মৃতজঠর থেকে উঠে আসবে মিলনমুহূর্তের চাপা স্বর
তার আরও গভীরে সুগম্ভীর ঘণ্টাধ্বনি;
কন্দর্পের মতো আমাদের রূপ, খচিত হবে দুর্লভ প্রবালে
হরেক রকমের অক্ষরে, অন্ধকারের ভাষায়,
হরেক রকমের অন্ধকারে, ভাষার অক্ষরে
শত শত নগ্নদেহের গাঢ় অভিব্যক্তিতে সাঁকোয়-রেলব্রিজে-দিকচক্রবালে
আর আকাশের ফাটল বেয়ে
গড়িয়ে আসতেই থাকবে তোমার ঈশ্বরের দৈববাণী...

[সাঁঝবাতি]

10/08/2021

কতযুগ ধরে হেঁটে আসছি কে জানে, কত পথপ্রান্তরপাথরপাহাড়শহরনগরবন্দর পার হয়ে হয়ে পায়ের তলায় নেবেছে নরম মাটি, না না মাটি নয় মাটি নয় রাস্তাই, পথই - কিন্তু খুব চেনা, আগে এসেছিলাম কখনও কি? ওই যে গাছটা দেখা যায়, কখনও কি বসেছিলাম ওখানেই। হয়তো কখনও হেঁটে গেছি এই রাস্তা দিয়েই। কিম্বা হয়তো ক্লান্ত হয়ে সেই যে বসেছিলাম সেই কোন ত্রেতাকালে তারপরে আর হয়তো উঠে যাইনি কখনও। হ্যাঁ তাইই হবে, কিজানি - হয়তো বা তাও না। কখনও হেসেছি হয়তো কখনও ব্যথা হয়ে বিরতি নিয়েছে চোখের জল। একটু জিরিয়েছি তারপর আবারও হেঁটে গেছি আদি থেকে অনন্তে, যত্নেঅযত্নেব্যাথায়তৃষ্ণায়ক্ষোভেআহ্লাদে তোমায় পেতে পেতে তুমি যেন কেমন অভ্যেস হয়ে উঠেছো আমার পাঁজরের মধ্যস্থ কোন অপরিচিত অন্তরালে।

কখন যে আবির ভৈরব মালকোশ হয়ে উঠেছে তাও কি মনে করতে পারি আমি! এমনি করেই হয়তো কয়েকশো অতীত জুড়ে কেবল না-জানার মতো করে জেনে নিয়েছি চেনা জানা বিচ্ছেদঅবিচ্ছেদের বর্ণান্তর; জানি না, মনে করতে পারি না অনেক চেষ্টা করেও। তবু তো বিরাম নেই অন্ত নেই - আছে কেবল এক পূর্ণচ্ছেদের শেষ থেকে অন্য পরিচ্ছেদের শুরুর অকৃত্রিম অঙ্গীকার। পেয়েছি হারিয়েছি হারিয়ে পেয়েছি কিম্বা পেয়ে হারিয়েছি; তবু কখনও স্তব্ধ হয়নি এইভাবেই যেমন করে হেঁটে চলেছি পাহারপ্রান্তরদিগন্তরেখাতেপান্তর পায়ের চিহ্নে রাঙা করে।।

তাও কি কমেছে যন্ত্রনা, নাঃ একটুও না। কে বলতে পারে বলতো যন্ত্রণা, পাওয়ায় বেশি না'কি হারানোয়?!!

09/08/2021

আমায় টানতে টানতে শিকল হারায় অন্ধকার
জানিস মৃত্যু,
যে কলঙ্কিনী বুকে বসে আছে তার জন্য
শূন্য করে রেখেছি আমার শখের শবাধার...

[সাঁঝবাতি]

Address

Bhatchala, Peon Para More, P. O./Sripally
Burdwan
713103

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when চিলেকোঠার ঘর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share