18/08/2025
‼️দেখলাম চাড্ডিরা একটা পোস্ট ছেড়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে- যে সিনেমা বাঙালি সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকদের বানাবার কথা ছিলো, সেই সিনেমা বানিয়েছে অবাঙালি বিবেক অগ্নিহোত্রী।
ঠিক কথা, কিন্তু কেন?
ব্যাপরটা হল সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটকদের সাথে বিবেকের একটা পার্থক্য আছে।
প্রথমত ঐ তিন জন বাঙালি পরিচালক নিজেরা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এবং ১৯৪৬ এর দাঙ্গার ১৯৪৭ এর দাঙ্গা ১৯৫০ এর দাঙ্গা, টানা দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যেটা বিবেক করেননি, বিবেকের জ্ঞানের উৎস WhatsApp ইউনিভার্সিটি, সেই নমুনা আমরা কাশ্মীর ফাইলস এ দেখেছি। সুতরাং ঐ তিন জন অনেক বেশি বুঝতেন, তাই তারা সিনেমা বানাননি।
দ্বিতীয়ত ঐ তিনজন সিনেমা এবং সামাজিক প্রগতির প্রতি কমিটেড ছিলেন, হিন্দু মুসলিম মিলিয়ে বাঙালি জাতির গঠনের প্রতি কমিটেড ছিলেন। হিন্দু বা মুসলিম কোনো অংশকে বাদ দিলে বাঙালি জাতি ভেঙে যায়, যেমন্টা রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছিলেন, সেটা তারও বুঝতেন। তাই বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন বাংলা শিল্প সাহিত্যে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং বা ৪৬ এর দাঙ্গার কথা এলেও, একতরফা বিদ্বেষ রটানোর কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না। বাংলা সাহিত্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিভৎসতা দেখানো হয়েছে, সাধারণ হিন্দুব মুসলিম মানুষের বিপন্ন হওয়ার কথা দেখানো হয়েছে, কিন্তু বিদ্বেষ রটানো হয়নি। বাংলাদেশের সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস খোয়াব নামায় ৪৬ এর দাঙ্গার অসামান্য বর্ণনা আছে, যার খুটিনাটির ধারে কাছ WhatsApp বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যাওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু এটা হিন্দু বিদ্বেষের দৃষ্টিতে লেখা নয়, উভয় সম্প্রদায়ের সামাজিক ঐক্যের স্বাভাবিকতা কীভাবে নষ্ঠ হল তার বর্ণনা আছে।
অন্যদিকে অবাঙালি বহিরাগত বিবেকের কমিটমেন্ট হল হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্টদে প্রপাগান্ডার প্রতি। ৪৬এর দাঙ্গা যে পূর্বভারতের পুজিপতিরা ফান্ডিং করে, বিহার উত্তর প্রদেশ থেকে গুন্ডা ভারা করে ঘটিয়েছিলো তাদের উত্তরসূরীদের প্রতি। যারা বাঙালি সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন অশান্তি চায়, তাদের প্রতি। ফলত পশ্চিমভারতের অবাঙালি বিবেক যা পারেন, যেটা বাঙালি সমাজের পক্ষে দায়বদ্ধ কোনো বাঙালি পরিচালক, এমনকি গোটা ভারতের কোনো সুস্থ মস্তিস্কের পরিচালকের দ্বারা করা সম্ভব নয়, যারা WhatsApp University র গবেষণা থেকে স্ক্রিপ্ট বানায় না।
হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থান এবং এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রের প্রবক্তাদের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সময় এসেছে, তারা ২০২৮ সালে আগামী ডি-লিমিটেশনকে মাথায় রেখে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে ব্যাপকভাবে বাংলার ভোটার কমাতে চায়। যার ফলে বাংলার লোকসভা আসন কমবে। কেন্দ্রে বাঙালার ভাগিদারী, বার্গেনিং পাওয়ার কমবে। গো বলয় জিতেই দিল্লিতে সরসকার গড়া যাবে। বাংলা এবসোলিউট সেন্সে কলোনিতে পরিনত হবে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ভাঙতে তাই বাংলার সমাজে সাম্প্রদায়িক বিষ ঢালা প্রয়োজন। যেমন ভাবে ১৯৪৫ এর নভেম্বর থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের মুক্তির দাবিতে এবং ১৯৪৬ এর নৌবিদ্রোহে অভূতপূর্ব ব্রিটিশ বিরোধী গণ অভ্যুত্থানে প্রেক্ষিতে হিন্দু মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট করতেই উভয় সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক শক্তি ৪৬এর দাঙ্গা করেছিল...