DYFI Bhadreswar-Bighati

DYFI Bhadreswar-Bighati DYFI Bhadreswar-Bighati (LC). Democratic Youth Federation of India is a youth organisation in India.

21/07/2026

তৃণমূল! সে নাকি আবার ভালো? ভ্রূণাবস্থা থেকেই তৃণমূল ‘দুষ্কৃতীদের দঙ্গল’
, ১৯৯৩ সাল

মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের তখন জন্মই হয়নি।
মমতা ব্যানার্জি তখন কংগ্রেসে। যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী।
তিনিই ডাক দিয়েছিলেন —‘মহাকরণ অভিযান’।

কেন..?
ইস্যু - ভোটার কার্ড আবশ্যিক।
অথচ, কেন্দ্রে তখন কংগ্রেসেরই সরকার চলছে। প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসীমা রাও এবং সেই সরকারের তিনি একজন এমপি।
আর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেসেরই এমপি মমতা ব্যানার্জি।
তাও গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে নির্বাচিত বামফ্রন্ট সরকারের দপ্তর হামলা করে দখলের ডাক।
ঘোষণা ছিল ‘মহাকরণ দখল করা হবে’। যদিও প্রদেশ কংগ্রেস এই ‘অভিযান’-র বিরোধিতা করে।

আজকাল পত্রিকায় ১৯৯৩-র ২৪শে জুলাই একটি খবর প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল —‘গুন্ডামি রুখতে গণি বসুর সঙ্গে’।
সংবাদে জানা যায়, তৎকালীন কংগ্রেস নেতা এ বি এ গণিখান চৌধুরী নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ২১শে জুলাইয়ের আগে।
গণিখান চৌধুরী সেদিন পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা শক্ত হাতে রক্ষা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের ব্যবস্থা নেবেন তাকে নিঃশর্তে সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
জ্যোতি বসুকে গণিখান চৌধুরী বলেন, - ‘‘গুন্ডামি করে মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীকে ঢুকতে না দেওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না।
আপনাকে আমি নির্বাচনের মাধ্যমে গদি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করবো। আপনিও তার বিরোধিতা করবেন। কিন্তু কেউ যদি জোর করে আপনার চেয়ারটা কেড়ে নিতে চায় তা হলে সেটা হবে স্রেফ গুন্ডামি। এটা কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।’’

প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও-ও যে যুব কংগ্রেসের এই ধরনের বেপরোয়া ঘটনার সমালোচনা করেছেন তা জ্যোতি বসুকে সেদিনই জানান গণিখান চৌধুরী।

তবু রক্ত ঝরেছিল কেন?
কী হয়েছিল ২১শে জুলাই?

পুলিশের গুলিতে ১৩জন যুব কংগ্রেস ‘কর্মী’ নিহত হয়েছিলেন ময়দানে।
‘২১শে জুলাই’ বলতে সোজা কথায় এমনটাই বলা হয়।
কিন্তু, কেন পুলিশ গুলি চালালো?
যারা মারা গিয়েছিলেন, তাঁরা কারা?

সেদিন Mamata Banerjee, Madan Mitra, সোনালি গুহদের কাণ্ডকারখানা কেমন ছিল?
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা ব্যানার্জি ওই ২১শে জুলাই নিয়ে কী করেছেন?
এই প্রশ্নের উত্তরগুলি খুঁজে দেখা যেতে পারে ঠিক কি হয়েছিল ১৯৯৩-র ২১শে জুলাই।
স্বরাষ্ট্রসচিব হিসাবে মণীশ গুপ্ত সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে ১৯৯৩-র ২রা আগস্ট একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন।

সেই হলফনামা অনুসারে, ‘‘ওইদিন(১৯৯৩-র ২১শে জুলাই)-এ জমায়েতে ‘বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী(অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিলো।’’
সেদিন ১৩ জন যুবকের মৃত্যু হয়েছিল।
আশ্চর্য হলো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু আজও তৃণমূল জানে না ওই ঘটনায় মৃত ১৩তম ব্যক্তিটি কে?
তৃণমূলের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ওই ১৩ নম্বর জায়গার পাশে লেখা আছে —‘অ্যানোনিমাস’। অর্থাৎ অজানা।
কেন তাঁর পরিচয় গোপন রাখেন মমতা ব্যানার্জি?

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চ্যাটার্জির নেতৃত্বে ‘২১ শে জুলাইয়ের তদন্ত কমিশন’ তৃণমূল সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরই গঠিত হয়। ২০১৪-র ডিসেম্বরে এই কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়।

কমিশন সাক্ষ্য দিতে ডেকেছিল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে।
কিন্তু যিনি সেই ‘অভিযান’-র উদ্যোক্তা, সেই মমতা ব্যানার্জিকেই এই কমিশন কখনো ডাকেনি।
এ কেমন কমিশন..?
এ কেমন সাক্ষ্য..?

কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চ্যাটার্জি তাঁর তদন্ত রিপোর্ট জানাতে বাধ্য হয়েছেন, যে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছিল সেদিন, তাদের মধ্যে একজনের গায়ে গুলির কোনও আঘাতই মেলেনি। সেই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ ‘সিরোসিস অব লিভার’। সাধারণত এই রোগটি বেপরোয়া মদ্যপানের কারণে হয়।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব তখন ছিলেন মণীশ গুপ্ত। পালাবদলের পর মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ হয়ে তিনি হন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হলে তাঁকে মমতা ব্যানার্জি রাজ্যসভার সাংসদ (মিঠুন চক্রবর্তী পদত্যাগ করলে তাঁর শূূন্যস্থানে) করেছেন। স্বরাষ্ট্রসচিব হিসাবে তিনি সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন।

১৯৯৩-র ২রা আগস্ট তাঁর জমা দেওয়া সেই হলফনামা অনুসারে, -
‘‘ওই দিন(১৯৯৩-র ২১শে জুলাই)-এ জমায়েতে বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী (অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিলো। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সারা রাজ্যের কয়েক হাজার যুব কংগ্রেসকর্মী স্ট্র্যান্ড রোড, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ, এসপ্ল্যানেড রো ইস্ট এবং ব্রেবোর্ন রোডে জমায়েত হয়। মেয়ো রোডে ১৫ হাজার, ধর্মতলায় ১৫ হাজার, ব্রেবোর্ন রোডে, স্ট্র্যান্ড রোডে ১০ হাজার, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ৭ হাজার জমায়েত ছিলো।
যুব কংগ্রেস কর্মীরা মহাকরণের দিকে ছুটতে থাকে। পুলিশ প্রথমে নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জনতাকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের সেই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। ‘জনতা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাইপগান থেকে গুলি ছোঁড়ে। ইট, পাথর, সোডার বোতলও ছোঁড়া হয় যথেচ্ছ। পুলিশ তখন লাঠি চালায়। ৩৪১ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটায় পুলিশ এবং রাইফেল থেকে ৭৫ রাউন্ড ও রিভলভার থেকে ৪৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।’’

অর্থাৎ সেদিন ‘আন্দোলনকারীরা’ বোমা, পাইপগান নিয়ে এসেছিলো! তারা মহাকরণ দখল করতে ছুটছিলো। গুলি ছুঁড়ছিলো, বোমা মারছিলো।

মণীশ গুপ্তর হলফনামা আরও জানিয়েছিল, -
‘‘সেদিন ৩টি বাস পোড়ানো হয়েছিলো। ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিলো। সব মিলিয়ে জখম হয়েছিলেন ২১৫ জনেরও বেশি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডি সি (সদর), ৭জন ডি সি, ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ছিলেন।
৩৪ জন পুলিশকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ হাসপাতালে। তাঁদের অনেকেরই পাইপগানের গুলি এবং বোমার স্প্লিন্টার লেগেছিলো। তালতলা থানার সার্জেন্ট ডি কে ঘোষালের গুলি লেগেছিলো। এক সাব ইনস্পেক্টর কালাচাঁদ সমাদ্দারের শরীরে আঘাত ছিল বোমার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাব ইনস্পেক্টর এ কে গাঙ্গুলিকে এস এস কে এম হাসপাতালের সামনে মেরে মাথা ফাটিয়ে, হাত ভেঙে দিয়েছিলো দুর্বৃত্তরা।’’

আক্রান্ত, রক্তাক্ত হয়েছিলো পুলিশ। তাই গুলি চালিয়েছিলো।
সেদিনও সাংবাদিক পিটিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির দলবল। দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ ধর্মতলায় স্কুটার আরোহী সংবাদসংস্থা পিটি‌আই-র বরিষ্ঠ সাংবাদিক সঈদ আহ্‌মেদকে মমতা ব্যানার্জির কর্মীরা ঘিরে ধরে মেরেছিল।

আরও কী চক্রান্ত ছিল?

সোনালি গুহর কথাই শোনা যাক। সাতগাছিয়ার বিধায়ক সোনালি গুহ দীর্ঘসময় রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষা ছিলেন। নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ভাসালেন... সেবা করবেন বলে বিজেপির পতাকা হাতে নিলেন... বিজেপি হেরে যাওয়ায় এখন আবার উশখুশ করছেন...

এই সোনালি গুহ ১৯৯৩সালের ২১শে জুলাইয়ের স্মৃতিচারণা করতে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-য় একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেছিলেন তিনি ২০১২-তে।
সোনালি গুহ দলীয় মুখপত্রের (বর্ষ -৮,সংখ্যা ৩৯০, সাপ্তাহিক) সংখ্যার তৃতীয় পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন...
‘‘১৯বছর আগের ২১শে জুলাই। দিনটি ছিল বুধবার। সকাল-সকাল আমরা দিদির বাড়ি চলে এসেছিলাম। আগে থেকেই আমাদের কয়েকজন মেয়েকে গোপনে একটা দায়িত্ব দেওয়া ছিলো।’’

কী সেই দায়িত্ব?

বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষা লিখছেন, - ‘‘তা হলো, জ্যোতি বসুর গাড়ি আটকে দিতে হবে। আমরা তাই সটান চলে গেলাম রেড রোডে। কারণ ওই রাস্তা দিয়ে জ্যোতি বসুর কনভয় যাবে। মুসলিম মহিলাদের মতো বোরখা পরে সেদিন ওই রাস্তায় গিয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু শ্যামলী ভদ্র (প্রয়াত প্রাক্তন কাউন্সিলর)-র হাতের শাঁখা-পলা বেরিয়ে পড়ায় পুলিশ ধরে ফেলে।’’
পুলিশ সেদিন তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

কিন্তু যা স্পষ্ট, তা হলো — ১৯৯৩সালের ২১শে জুলাই মহানগরের ফাঁকা রাস্তায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর গাড়ি আটকানোর চক্রান্ত করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তারজন্য রীতিমতো আগে থেকে ছক কষা হয়েছিলো। এমনকি ছদ্মবেশেরও সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা আজকের মতো আঁটোসাঁটো, কড়া ছিলো না। রাজ্যস্তরে ‘ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো’ কথাটির অস্তিত্বই ছিলো না। ছিলো না হাতে নিরাপত্তাকর্মী। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় ছিল ছোট। ফলে সহজেই অনুমান করা যায়, কমরেড জ্যোতি বসুকে ঘিরে নিরাপত্তা ছিল যথেষ্ট শিথিল। সেই সুযোগে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে ঠিক কী করার ভাবনা ছিলো মমতা ব্যানার্জির..?
তা স্বাভাবিকভাবেই এড়িয়ে গেছেন সোনালি গুহ।
যদি শুধু বিক্ষোভ দেখানোর ইচ্ছাও থাকতো, তাহলে ছদ্মবেশ নেওয়ারও কোনো দরকার পড়তো কি... সন্দেহটা কি আর এমনি দানা বাঁধে ...
All India Trinamool Congress, চাইলে প্রদত্ত এই তথ্যর বিরুদ্ধ তথ্য দিতে পারবে..?

কি ঘটেছিল ২১শে জুলাই?
৩টি বাস পোড়ানো হয়েছিল
৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল
গুলি-বোমা-পাথরে জখম হয়েছিলেন ২১৫পুলিশ
ধর্মতলায় সাংবাদিক মার খেয়েছিলেন
‘বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী (অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিল’ জানিয়েছিলেন পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেসেরই সাংসদ মণীশ গুপ্ত।
জ্যোতি বসুকে গাড়ি থেকে নামাতে ছদ্মবেশ নিয়েছিল সোনালী গুহরা (সেকথা নিজেরাই স্বীকার করেছিলেন দলীয় মুখপত্রে)
মৃতদের একজনের নাম দীর্ঘদিন জানায়নি তৃণমূল
১জন মারা যায় ‘সিরোসিস অব লিভারে’
বিরোধিতা করেও জ্যোতি বসুর শরণাপন্ন হন সেই সময়ের কংগ্রেস নেতা গণিখান চৌধুরী, বিরোধীতা করেছিলেন খোদ কংগ্রেস সরকারেরই প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও...

টানা তিন তিন বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারমধ্যে পরপর দু'বার বিধায়ক হিসাবে জিতেছেন মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরও থেকেছে তারই হাতে... এইভাবে বছরের পর বছর শহীদ দিবস পালনও করেছেন...

তবু ২১ জুলাইয়ের উপর যে তদন্ত কমিশন বসেছিল জাস্টিস সুশান্ত চ্যাটার্জির নেতৃত্বে তার রিপোর্ট জমা হলেও... শাস্তি কেউ পেয়েছে ..?
জন্মের আগেই ২১শে জুলাই চরিত্র বুঝিয়েছিল তৃণমূল!
‘দুষ্কৃতীদের দঙ্গল’

মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন কোনও দল কী হতে পারে, কী কী করতে পারে তা স্পষ্ট করেছিল ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই-ই।

তৃণমূল! সে নাকি আবার ভালো? ভ্রূণাবস্থা থেকেই তৃণমূল ‘দুষ্কৃতীদের দঙ্গল’  , ১৯৯৩ সালমুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। স্বরাষ্ট্রসচ...
21/07/2026

তৃণমূল! সে নাকি আবার ভালো? ভ্রূণাবস্থা থেকেই তৃণমূল ‘দুষ্কৃতীদের দঙ্গল’

, ১৯৯৩ সাল

মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের তখন জন্মই হয়নি।
মমতা ব্যানার্জি তখন কংগ্রেসে। যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী।
তিনিই ডাক দিয়েছিলেন —‘মহাকরণ অভিযান’।

কেন..?

ইস্যু - ভোটার কার্ড আবশ্যিক।

অথচ, কেন্দ্রে তখন কংগ্রেসেরই সরকার চলছে। প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসীমা রাও এবং সেই সরকারের তিনি একজন এমপি।
আর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেসেরই এমপি মমতা ব্যানার্জি।
তাও গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে নির্বাচিত বামফ্রন্ট সরকারের দপ্তর হামলা করে দখলের ডাক।

ঘোষণা ছিল ‘মহাকরণ দখল করা হবে’। যদিও প্রদেশ কংগ্রেস এই ‘অভিযান’-র বিরোধিতা করে।

আজকাল পত্রিকায় ১৯৯৩-র ২৪শে জুলাই একটি খবর প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল —‘গুন্ডামি রুখতে গণি বসুর সঙ্গে’।

সংবাদে জানা যায়, তৎকালীন কংগ্রেস নেতা এ বি এ গণিখান চৌধুরী নয়াদিল্লির বঙ্গভবনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ২১শে জুলাইয়ের আগে।

গণিখান চৌধুরী সেদিন পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা শক্ত হাতে রক্ষা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের ব্যবস্থা নেবেন তাকে নিঃশর্তে সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

জ্যোতি বসুকে গণিখান চৌধুরী বলেন, - ‘‘গুন্ডামি করে মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীকে ঢুকতে না দেওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না।
আপনাকে আমি নির্বাচনের মাধ্যমে গদি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করবো। আপনিও তার বিরোধিতা করবেন। কিন্তু কেউ যদি জোর করে আপনার চেয়ারটা কেড়ে নিতে চায় তা হলে সেটা হবে স্রেফ গুন্ডামি। এটা কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।’’

প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও-ও যে যুব কংগ্রেসের এই ধরনের বেপরোয়া ঘটনার সমালোচনা করেছেন তা জ্যোতি বসুকে সেদিনই জানান গণিখান চৌধুরী।

তবু রক্ত ঝরেছিল কেন?
কী হয়েছিল ২১শে জুলাই?

পুলিশের গুলিতে ১৩জন যুব কংগ্রেস ‘কর্মী’ নিহত হয়েছিলেন ময়দানে।
‘২১শে জুলাই’ বলতে সোজা কথায় এমনটাই বলা হয়।

কিন্তু, কেন পুলিশ গুলি চালালো?
যারা মারা গিয়েছিলেন, তাঁরা কারা?
সেদিন Mamata Banerjee, Madan Mitra, সোনালি গুহদের কাণ্ডকারখানা কেমন ছিল?

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা ব্যানার্জি ওই ২১শে জুলাই নিয়ে কী করেছেন?
এই প্রশ্নের উত্তরগুলি খুঁজে দেখা যেতে পারে ঠিক কি হয়েছিল ১৯৯৩-র ২১শে জুলাই।

স্বরাষ্ট্রসচিব হিসাবে মণীশ গুপ্ত সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে ১৯৯৩-র ২রা আগস্ট একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন।
সেই হলফনামা অনুসারে, ‘‘ওইদিন(১৯৯৩-র ২১শে জুলাই)-এ জমায়েতে ‘বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী(অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিলো।’’
সেদিন ১৩ জন যুবকের মৃত্যু হয়েছিল।

আশ্চর্য হলো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু আজও তৃণমূল জানে না ওই ঘটনায় মৃত ১৩তম ব্যক্তিটি কে?

তৃণমূলের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ওই ১৩ নম্বর জায়গার পাশে লেখা আছে —‘অ্যানোনিমাস’। অর্থাৎ অজানা।
কেন তাঁর পরিচয় গোপন রাখেন মমতা ব্যানার্জি?

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চ্যাটার্জির নেতৃত্বে ‘২১ শে জুলাইয়ের তদন্ত কমিশন’ তৃণমূল সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরই গঠিত হয়। ২০১৪-র ডিসেম্বরে এই কমিশন রিপোর্ট জমা দেয়।

কমিশন সাক্ষ্য দিতে ডেকেছিল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে।

কিন্তু যিনি সেই ‘অভিযান’-র উদ্যোক্তা, সেই মমতা ব্যানার্জিকেই এই কমিশন কখনো ডাকেনি।
এ কেমন কমিশন..?
এ কেমন সাক্ষ্য..?

কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চ্যাটার্জি তাঁর তদন্ত রিপোর্ট জানাতে বাধ্য হয়েছেন, যে ১৩জনের মৃত্যু হয়েছিল সেদিন, তাদের মধ্যে একজনের গায়ে গুলির কোনও আঘাতই মেলেনি। সেই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ ‘সিরোসিস অব লিভার’। সাধারণত এই রোগটি বেপরোয়া মদ্যপানের কারণে হয়।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব তখন ছিলেন মণীশ গুপ্ত। পালাবদলের পর মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ হয়ে তিনি হন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হলে তাঁকে মমতা ব্যানার্জি রাজ্যসভার সাংসদ (মিঠুন চক্রবর্তী পদত্যাগ করলে তাঁর শূূন্যস্থানে) করেছেন। স্বরাষ্ট্রসচিব হিসাবে তিনি সেদিনের ঘটনার বিষয়ে হাইকোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন।

১৯৯৩-র ২রা আগস্ট তাঁর জমা দেওয়া সেই হলফনামা অনুসারে, -
‘‘ওই দিন(১৯৯৩-র ২১শে জুলাই)-এ জমায়েতে বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী (অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিলো। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সারা রাজ্যের কয়েক হাজার যুব কংগ্রেসকর্মী স্ট্র্যান্ড রোড, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ, এসপ্ল্যানেড রো ইস্ট এবং ব্রেবোর্ন রোডে জমায়েত হয়। মেয়ো রোডে ১৫ হাজার, ধর্মতলায় ১৫ হাজার, ব্রেবোর্ন রোডে, স্ট্র্যান্ড রোডে ১০ হাজার, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ৭ হাজার জমায়েত ছিলো।
যুব কংগ্রেস কর্মীরা মহাকরণের দিকে ছুটতে থাকে। পুলিশ প্রথমে নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জনতাকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের সেই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। ‘জনতা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাইপগান থেকে গুলি ছোঁড়ে। ইট, পাথর, সোডার বোতলও ছোঁড়া হয় যথেচ্ছ। পুলিশ তখন লাঠি চালায়। ৩৪১ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটায় পুলিশ এবং রাইফেল থেকে ৭৫ রাউন্ড ও রিভলভার থেকে ৪৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।’’

অর্থাৎ সেদিন ‘আন্দোলনকারীরা’ বোমা, পাইপগান নিয়ে এসেছিলো! তারা মহাকরণ দখল করতে ছুটছিলো। গুলি ছুঁড়ছিলো, বোমা মারছিলো।

মণীশ গুপ্তর হলফনামা আরও জানিয়েছিল, -
‘‘সেদিন ৩টি বাস পোড়ানো হয়েছিলো। ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিলো। সব মিলিয়ে জখম হয়েছিলেন ২১৫ জনেরও বেশি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডি সি (সদর), ৭জন ডি সি, ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ছিলেন।
৩৪ জন পুলিশকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ হাসপাতালে। তাঁদের অনেকেরই পাইপগানের গুলি এবং বোমার স্প্লিন্টার লেগেছিলো। তালতলা থানার সার্জেন্ট ডি কে ঘোষালের গুলি লেগেছিলো। এক সাব ইনস্পেক্টর কালাচাঁদ সমাদ্দারের শরীরে আঘাত ছিল বোমার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাব ইনস্পেক্টর এ কে গাঙ্গুলিকে এস এস কে এম হাসপাতালের সামনে মেরে মাথা ফাটিয়ে, হাত ভেঙে দিয়েছিলো দুর্বৃত্তরা।’’

আক্রান্ত, রক্তাক্ত হয়েছিলো পুলিশ। তাই গুলি চালিয়েছিলো।
সেদিনও সাংবাদিক পিটিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির দলবল। দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ ধর্মতলায় স্কুটার আরোহী সংবাদসংস্থা পিটি‌আই-র বরিষ্ঠ সাংবাদিক সঈদ আহ্‌মেদকে মমতা ব্যানার্জির কর্মীরা ঘিরে ধরে মেরেছিল।

আরও কী চক্রান্ত ছিল?
সোনালি গুহর কথাই শোনা যাক। সাতগাছিয়ার বিধায়ক সোনালি গুহ দীর্ঘসময় রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষা ছিলেন। নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ভাসালেন... সেবা করবেন বলে বিজেপির পতাকা হাতে নিলেন... বিজেপি হেরে যাওয়ায় এখন আবার উশখুশ করছেন...

এই সোনালি গুহ ১৯৯৩সালের ২১শে জুলাইয়ের স্মৃতিচারণা করতে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-য় একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেছিলেন তিনি ২০১২-তে।
সোনালি গুহ দলীয় মুখপত্রের (বর্ষ -৮,সংখ্যা ৩৯০, সাপ্তাহিক) সংখ্যার তৃতীয় পৃষ্ঠায় লিখেছিলেন...
‘‘১৯বছর আগের ২১শে জুলাই। দিনটি ছিল বুধবার। সকাল-সকাল আমরা দিদির বাড়ি চলে এসেছিলাম। আগে থেকেই আমাদের কয়েকজন মেয়েকে গোপনে একটা দায়িত্ব দেওয়া ছিলো।’’

কী সেই দায়িত্ব?

বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষা লিখছেন, - ‘‘তা হলো, জ্যোতি বসুর গাড়ি আটকে দিতে হবে। আমরা তাই সটান চলে গেলাম রেড রোডে। কারণ ওই রাস্তা দিয়ে জ্যোতি বসুর কনভয় যাবে। মুসলিম মহিলাদের মতো বোরখা পরে সেদিন ওই রাস্তায় গিয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু শ্যামলী ভদ্র (প্রয়াত প্রাক্তন কাউন্সিলর)-র হাতের শাঁখা-পলা বেরিয়ে পড়ায় পুলিশ ধরে ফেলে।’’

পুলিশ সেদিন তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

কিন্তু যা স্পষ্ট, তা হলো — ১৯৯৩সালের ২১শে জুলাই মহানগরের ফাঁকা রাস্তায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর গাড়ি আটকানোর চক্রান্ত করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তারজন্য রীতিমতো আগে থেকে ছক কষা হয়েছিলো। এমনকি ছদ্মবেশেরও সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা আজকের মতো আঁটোসাঁটো, কড়া ছিলো না। রাজ্যস্তরে ‘ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো’ কথাটির অস্তিত্বই ছিলো না। ছিলো না হাতে নিরাপত্তাকর্মী। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় ছিল ছোট। ফলে সহজেই অনুমান করা যায়, কমরেড জ্যোতি বসুকে ঘিরে নিরাপত্তা ছিল যথেষ্ট শিথিল। সেই সুযোগে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে ঠিক কী করার ভাবনা ছিলো মমতা ব্যানার্জির..?

তা স্বাভাবিকভাবেই এড়িয়ে গেছেন সোনালি গুহ।

যদি শুধু বিক্ষোভ দেখানোর ইচ্ছাও থাকতো, তাহলে ছদ্মবেশ নেওয়ারও কোনো দরকার পড়তো কি... সন্দেহটা কি আর এমনি দানা বাঁধে ...
All India Trinamool Congress চাইলে প্রদত্ত এই তথ্যর বিরুদ্ধ তথ্য দিতে পারবে..?

কি ঘটেছিল ২১শে জুলাই?

৩টি বাস পোড়ানো হয়েছিল
৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল
গুলি-বোমা-পাথরে জখম হয়েছিলেন ২১৫পুলিশ
ধর্মতলায় সাংবাদিক মার খেয়েছিলেন
‘বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী (অ্যান্টিসোস্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিল’ জানিয়েছিলেন পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেসেরই সাংসদ মণীশ গুপ্ত।
জ্যোতি বসুকে গাড়ি থেকে নামাতে ছদ্মবেশ নিয়েছিল সোনালী গুহরা (সেকথা নিজেরাই স্বীকার করেছিলেন দলীয় মুখপত্রে)
মৃতদের একজনের নাম দীর্ঘদিন জানায়নি তৃণমূল
১জন মারা যায় ‘সিরোসিস অব লিভারে’

বিরোধিতা করেও জ্যোতি বসুর শরণাপন্ন হন সেই সময়ের কংগ্রেস নেতা গণিখান চৌধুরী, বিরোধীতা করেছিলেন খোদ কংগ্রেস সরকারেরই প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও...

টানা তিন তিন বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারমধ্যে পরপর দু'বার বিধায়ক হিসাবে জিতেছেন মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরও থেকেছে তারই হাতে... এইভাবে বছরের পর বছর শহীদ দিবস পালনও করেছেন...
তবু ২১ জুলাইয়ের উপর যে তদন্ত কমিশন বসেছিল জাস্টিস সুশান্ত চ্যাটার্জির নেতৃত্বে তার রিপোর্ট জমা হলেও... শাস্তি কেউ পেয়েছে ..?

জন্মের আগেই ২১শে জুলাই চরিত্র বুঝিয়েছিল তৃণমূল!
‘দুষ্কৃতীদের দঙ্গল’
মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন কোনও দল কী হতে পারে, কী কী করতে পারে তা স্পষ্ট করেছিল ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই-ই।

23/04/2026

TMC প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডবল ডবল চাকরী। প্রতিশ্রুতি রেখেছে?

দেশে সরকার গঠনের আগে BJP প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বছরে ২ কোটি চাকরীর।
প্রতিশ্রুতি রেখেছে?
বরং, প্রতিশ্রুতির কথা মনে করালে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিয়েছেন "জুমলা"।

বামপন্থীরা যা বলে, তা করে দেখায়... ইতিহাস প্রমাণ আছে।

13/04/2026

    Monis Panda
11/04/2026



Monis Panda

01/08/2025
“রবীন বাবু ( #রবীনদেব) আমার বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানালেন। আমি বলেছিলাম, যাব। তবু বয়স বাড়ছে তো। শরীর তেমন সঙ্গ দিচ্ছে না।...
08/07/2025

“রবীন বাবু ( #রবীনদেব) আমার বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানালেন। আমি বলেছিলাম, যাব। তবু বয়স বাড়ছে তো। শরীর তেমন সঙ্গ দিচ্ছে না। আসতে পারব কিনা নিশ্চিত ছিলাম না। শেষপর্যন্ত কিছুটা জেদ করেই চলে এলাম।

এই জেদ বাড়িয়ে দিল একটি টিভি চ্যানেল। তারা নানা রকম উল্টোপাল্টা প্রশ্ন শুরু করে দিল।
কেন আপনি যাবেন?
জ্যোতি বসুর সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক?
রীতিমতো ধমক দিতে শুরু করল। তখন আমারও জেদ চেপে গেল। আর বাঙালের জেদ চাপলে কী হয়, তা তো জানেন। চলে এলাম।

জ্যোতি বাবুর দাদা-বউদি আমার মক্কেল ছিলেন। তাঁর ভায়রাভাইও আমার মক্কেল। অতি সজ্জন মানুষ। তাঁদের কাছে জ্যোতি বাবুর অনেক কথা শুনেছি। তবে, আমি যেসব কথা বলব, তা একটু অন্যরকমের। বাকি যাঁরা আছেন, তাঁরা অনেক গুণী মানুষ। তাঁরা অনেককিছু জানেন। অনেকেই সুবক্তা। তাঁরা সেসব কথা বলবেন। আমি বরং আমার মতো করে বলি।

আমার কাছে, জ্যোতিবাবু বনের এক বড় বাঘের মতো। আমি জঙ্গলে ঘোরাফেরা করি। তাই আমি আমার ভাষাতেই বলি।
সেই বাঘ, যাকে গোটা জঙ্গল সমীহ করে। যাকে অনেকের মাঝেও আলাদা করে চেনা যায়। প্রবল তাঁর ব্যক্তিত্ব।
নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। কিন্তু যখন বলতেন, সেটাই হত শেষ কথা।
সচরাচর তিনি হাসতেন না। কিন্তু যখন হাসতেন, সেই হাসি দেখলে ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েও প্রেমে পড়ে যেত।

আপনারা যাই বলুন, উনি বক্তৃতা একদম ভাল দিতেন না। কোনও বাক্য সম্পূর্ণ করতেন না। আমি বললাম, ওরা বলল, এই সব বলতেন। কিন্তু যাদের জন্য বললেন, তাঁরা ঠিক বুঝতেন। কী বলতে চাইছেন, তা নিয়ে কোনও অস্পষ্টতা ছিল না।

এখনকার রাজনীতিকদের দেখি। এখন রাজনীতি ভাল একটা প্রফেশন। এত সহজে এত রোজগার আর কোনও প্রফেশনে হয় না।
একজন বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার। চাইলে কী আরামে জীবনটা কাটাতে পারতেন! কিন্তু কালো কোট তুলে রেখে তিনি নেমে পড়লেন লড়াই সংগ্রামে।

জ্যোতিবাবুর মতো লোকেরা টাকার জন্য, গাড়ি-বাড়ির জন্য রাজনীতিতে আসেননি। সারা জীবন একটা মূল্যবোধের রাজনীতি করে গেছেন। একটা আদর্শের জন্য লড়াই করেছেন। হয়ত, তাঁর সব ভাবনা সব সময় সঠিক ছিল না। কোনও কোনও বিষয় নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আমিও নানা সময়ে সমালোচনা করেছি। কিন্তু সেই ভাবনার মধ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর আন্তরিকতা বা সদিচ্ছা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না।

এবার জ্যোতিবাবুর সঙ্গীসাথীদের কথা একটু বলি। অনেকেই এই মঞ্চে আছেন-
এই যে #বিমানবাবু( #বিমানবসু) সারা জীবন বিয়ে-থা করলেন না। সাদাসিধে মানুষ। খালি রুমাল হারিয়ে ফেলেন। একবার বইমেলায় একসঙ্গে অনেকক্ষণ ছিলাম। পকেট হাতড়াচ্ছেন, রুমাল খুঁজে পাচ্ছেন না। আমার কাছে দুটো রুমাল ছিল। একটা ওনাকে দিলাম। বললাম, রুমাল দিতে নেই। এটা কিন্তু ফেরত দেবেন। উনি বললেন, আপনার জন্য আমি এক ডজন ভাল রুমাল এনে দেব। কত বছর পেরিয়ে গেল। আজও সেই রুমাল উনি দিলেন না। যাঁরা এত ভাল কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের এমন ছোটখাটো ভুল ধরতে নেই। ওনার দুটো মস্তবড় দোষ। সারাজীবন বিয়ে করলেন না। দুই, মেয়েদের সম্পর্কে কোনও আকর্ষণ আছে বলেও মনে হয় না। এই দুটোকে অনেকে বলবেন গুণ। আমি দোষই বলব। তবে যাঁদের এতরকম গুণ থাকে, তাঁদের এমন দু-একটা দোষ থাকলে ক্ষতি নেই। এই দুটো দোষ আছে বলেই উনি এত মানুষের কাজ করতে পারছেন।

এই যে #বুদ্ধবাবু( #বুদ্ধদেবভট্টাচার্য)। খুব পড়াশোনা করেন। জ্যোতিবাবুকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই উনি বলতেন, ওটা বুদ্ধ জানে। ও খুব পড়াশোনা করে। পড়াশোনা একটা মহৎ গুণ। বামপন্থীদের সঙ্গে পড়াশোনার একটা গভীর সম্পর্ক আছে। বুদ্ধবাবুর আরেকটা পরিচয় আপনারা জানেন না। আপনারা জানেন না উনি কোন পরিবারের ছেলে। একবার উনি আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আমার লেখার টেবিলে "পুরোহিত দর্পন" দেখে বললেন, এটা নিয়ে আপনি কী করছেন ? আমি বললাম, আমি মুর্খ মানুষ। বেশি কিছু জানি না। এখান থেকে টুকি, ওখান থেকে টুকি। এদিন উনি বলেছিলেন, এই 'পুরোহিত দর্পনে'র লেখক তাঁর কে ? মানুষটা বড় অন্তর্মুখী। এটা মস্তবড় গুণ, আবার দোষও। কারণ, রাজনীতি করতে গেলে এত অন্তর্মুখী হলে চলে না, একটু বহির্মুখী হতে হয়।

আমার বাঁদিকে আছে #সীতারাম ( #সীতারামইয়েচুরি)। এঁকে আপনারা সবাই চেনেন। আমি চিনি অনেকদিন ধরে। আমার মেয়ে জে এন ইউ-তে পড়ত। আর জে এন ইউ-র এক উজ্জ্বল ছাত্র সীতারাম ইয়েচুরি। এখনও জে এন ইউ-তে যান, বুঝতে পারবেন সবাই ওকে কী শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ওর আরেকটা পরিচয় আপনারা জানেন না, ও ভয়ঙ্কর এক লেডিকিলার। এমন সুন্দর দেখতে একটা ছেলে, লেখাপড়ায় দারুণ, বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান, দারুণ কথা বলে। তার প্রেমে মেয়েরা পড়বে না! সেই সময় কত মেয়ে যে ওর জন্য পাগল ছিল, তা যদি জানতেন!

আমার ডানদিকে সূর্য ( #সূর্যকান্তমিশ্র) ডাক্তার মানুষ। ভদ্র, বিনয়ী। সুবক্তা। আ‌লাপ ছিল না। আজই আলাপ হল। কিন্তু তাঁকেও চিনি অনেকদিন ধরে।

এই যে এতজনের কথা বললাম, এঁদের কাউকে আপনি অসৎ বলতে পারবেন না। এরা কেউ কিন্তু গাড়ি, বাড়ি বা টাকার জন্য রাজনীতি করতে আসেননি। অন্য পেশায় অনেক সফল হতে পারতেন। সব হাতছানি ছেড়ে এসেছেন। জ্যোতিবাবু ছিলেন এঁদের নেতা। এঁদের দেখেই বোঝা যায়, জ্যোতিবাবু কেমন ছিলেন!
জ্যোতিবাবুর জন্মদিনে তাঁর সঙ্গীসাথীদের কথা এত বলছি কেন! জানেন? কারণ, একটা মানুষ কেমন, সেটা তাঁর সঙ্গীসাথীদের দেখেই বোঝা যায়।"

বুদ্ধদেব গুহ (সাহিত্যিক)

20/06/2025
১৪ জুন, ১৯২৮। স্থানঃ রোজারিও (আর্জেন্টিনা)। যখন জন্ম হ'ল, তখন আদুরে নাম তেতে। আর পরিচিত নাম আর্নেস্তো, বাবা-মা’র দেয়া। স...
14/06/2025

১৪ জুন, ১৯২৮। স্থানঃ রোজারিও (আর্জেন্টিনা)। যখন জন্ম হ'ল, তখন আদুরে নাম তেতে। আর পরিচিত নাম আর্নেস্তো, বাবা-মা’র দেয়া। সেটাই পুরো বদলে হ'ল "চে"।
আর্জেন্টাইন ভাষায়, "চে" শব্দ একটি ইন্টারজেকশন বা আবেগসূচক অব্যয়, যা মূলত মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন "হে" বা "মেট" অর্থাৎ বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে যা বলা যায়।

তবে, স্কুল জীবনে আরেকটা নাম ছিল, "ফুসের"। বন্ধুরা "ফুসের" বলে ডাকত ( "ফুসের" মানে, ‘ক্ষীপ্ত ঝড়ের ছোবল’)।

জগৎ বিখ্যাত হওয়ার পরে মানুষটাকে কেউ আর "ফুসের" কিংবা ‘তেতে’ বলে ডাকেনি। কিভাবে নাম হ'ল "চে"?

আর্নেস্তো-র জীবন-চলায় তার মা সেলিয়ার অনেক প্রভাব আছে বলে অনেকেই মনে করেন । কারণ তার মা ছিলেন একজন কুসংস্কার-বিরোধী, নারীবাদী প্রগতিশীল মহিলা। বাবা লিঞ্চ শান্তশিষ্ট স্বভাবের লোক ছিলেন।

ছোটবেলা থেকে মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত যে জিনিষটি সঙ্গে নিয়ে আর্নেস্তো বেড়িয়েছেন তাহলো ‘হাঁপানি’। ইনহেলার সঙ্গে রাখতে হতো। বাবা-মা হাওয়া বদলের চেষ্টা করেও কোন ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ডাক্তার হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের ‘হাপানি’ ছাড়াতে পারেননি আর্নেস্তো।

অসুস্থতার কারণে স্কুল শুরুটা কিছুটা বিলম্বিত হয়। স্কুলে ভর্তি হন ৯ বছর বয়সে। লেখাপড়ার চেয়ে দূরন্তপনাই ছিলো বেশী।

বন্ধুরা ডাকতো ‘ফুসের’ বলে( ‘ফুসের’ মানে হলো ‘ক্ষীপ্ত ঝড়ের ছোবল’)। ফুটবল, দাবা এমনকি রাগবি খেলায় ছিলেন পারদর্শী।
কবিতার প্রতি ঝোঁক ছিল। বাড়িতে প্রচুর বই থাকার দরুন মার্ক্স, লেনিন, এঙ্গেলস শৈশবেই পড়া শেষ। টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, গোর্কির লেখা পড়ে নিপিড়িত মানুষের কথা পড়তেন।

আর্নেস্তো-র মূল শারীরিক অবয়বটি ফুঠে ওঠে আঠারো বছর বয়স থেকে। লম্বাদেহ, চওড়া কাঁধ, মাথায় লম্বা চুল- একটা পরিণত মানুষ। তখন সে হাই স্কুলের ওপরের ক্লসের ছাত্র।

ছোটবেলায় আর্নেস্তো-র সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক বক্তৃতা শুনতেন ঠিকই, কিন্তু জড়িয়ে পড়া যাকে বলে তা হয়নি। বরং তৎকালীন আর্জেন্টাইন কমিউনিস্ট পার্টির লোকজনদের আচার -আচরণ তার ভালোও লাগতো না। তবে, লাতিন আমেরিকাকে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিঁড়ে- কুটে খাচ্ছিলো সেটা তিনি পরিষ্কার বুঝেছিলেন। আর লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে জাহাজে কাজ করা, দোকানে কাজ করা, ফেরি করার মতো অনেক কাজই করেছেনৃ। ঘুরে বেড়ানোটা ছিলো মূল কাজ।

বাইশ বছর বয়সে বন্ধু আলবার্তো গ্রানাদাকে সঙ্গে নিয়ে আর্নেস্তো বেড়িয়ে পড়লেন সমগ্র লাতিন আমেরিকা ঘুরে দেখবেন বলে। সঙ্গে ইঞ্জিন লাগানো একটি বাইসাইকেল আর লাতিন প্রকৃতি ও জীবনকে জানার আকুল অগ্রহ। বিভিন্ন এলাকার নানা রকম মানুষের নানা রকম জীবন-যাপন- চিন্তা -চেতনা তাকে নতুন কিছু ভাবতে শেখালো, ধরা পড়ল চলমান সমাজের নানা সীমাবদ্ধতা।

আর্নেস্তো ডায়েরি লিখতেন। ডায়েরিতে লিখেছিলেন “আমার মধ্যে নতুন এক ধারণা জন্মাচ্ছে ও রুপ নিচ্ছে তা হলো এই সভ্যতাকে ঘৃণা করা। বিশাল হৈচৈ আর হট্টেগোলের মধ্যে লোকোমোটিভ ইঞ্জিনের মতো শহরে যান্ত্রিক মানুষদের উদ্ভট জলছবি এক শান্তি বিঘ্নকারী জঘন্য চরিত্র”।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লাল ফৌজের কাছে জার্মানির পরাজয়, চীনে মাও সে তুং –এর গেরিলা নেতৃত্ব ও বিজয় ভীষণভাবে উজ্জীবিত করেছিল আর্নেস্তোকে। নিজেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী মনে করতেন। ১৯৫১ সালে আর্নেস্তো আপাত ভ্রমণ শেষ করে আবার ডাক্তারি পড়ায় মন দেন।

১৯৫৩ সালে পড়াশুনা শেষ হয়, কিন্তু শেষ হয় না লাতিন আমেরিকা ঘুরে-বেড়ানোর কাজ। মা সেলিয়ার আকুতি – মিনতি তাকে ক্ষান্ত করতে পারেনি।

এবার যাত্রা গুয়েতেমালা। সঙ্গী মেডিকেল কলেজের বন্ধু কালিকো। আর্নেস্তো-র ভ্রমণকে নিছক ঘুরে বেড়ানো ধরলে ঠিক হবেনা। আসলে সে সময়টাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার সস্পদ- সম্পত্তি লুন্ঠনের চূড়ান্ত মাত্রায় ছিল। সরকারগুলো ছিল পুতুল সরকার । জনগণ ছিল নির্যাতিত-নিপীড়িত-শোষিত। গুয়েতেমালা, বলিভিয়া, চিলি, কিউবা, ভেনিজুয়েলা কোন দেশই আমেরিকার কব্জার বাইরে ছিল না।

আর্নেস্তোএই করুণদশাগুলো নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে এবার প্রয়োজনে রাজনীতিতে জড়িয়ে করতে হবে এমন বাসনাও ছিল।

১৯৫৩ সালের জুলাই মাসের ২৬ তারিখ ফিদেল ক্যাস্ত্র’র নেতৃত্বে একদল তরুন বিপ্লবী কিউবার তৎকালীন স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘোষণা করে। সান্তিয়াগো শহরের কাছে মানকাদা ব্যরাকে হামলা চালান হয়।
ওই ঘটনায় ফিদেল ক্যাস্ত্র ও তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্র’র জেল হয়ে যায় এবং দেশ ছাড়েন অনেক বিপ্লবী। তাদেরই একজন নিকো।

নিকোর সঙ্গে এবং কিউবান অনেক বিপ্লবীর সঙ্গে অনেক ভাব হয় আর্নেস্তো-র। এই নিকোই প্রথম আর্নেস্তোকে ‘চে’ নামে সম্বোধন করেন। সেই থেকে আর্নেস্তো গ্যুভারার পরিচয় চে গ্যুভারা হিসেবে।

হিলদা নামের একটি মেয়ে মেক্সিকোতে চে’কে কিউবান বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। চে তার ভ্রমণকালে লাতিন আমেরিকার পেরু, এল সালভেদর, কোস্টারিকা, পানামা, গুয়েতেমালা, বলিভিয়া ঘুরে বেড়িয়েছেন।

হিলদা পেরুর মেয়ে। সেখানকার মার্ক্সবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। রাজধানী চিলিতে চে’র সঙ্গে দেখা এবং সেসময় থেকেই বন্ধুত্ব। অভিজাত পরিবারের ডাক্তার-বুদ্ধিমান ছেলে সব কিছু ছেড়ে গরীবদের কথা ভাবছে-এ ছিলো হিলদার চে’কে ভালো লাগার কারণ। হিলদাকে পরে চে বিয়ে করেন। মেক্সিকোতেই ১৯৫৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী হিলদা- চে’র প্রথম কন্যা হিলদিতার জন্ম হয়।

ডাক্তারি পেশা সাথে হিলদা আর হিলদিতাকে নিয়ে তথাকথিত সুখী সংসার দিয়েই গল্পের শেষ হতে পারতো, কিন্তু তাতে বিপ্লবী চে’র জন্ম হতো না। বিপ্লবের ইতিহাস গড়ে ওঠার প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল আমেরিকার নৃশংস সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ খসিয়ে দেওয়ার।

ক্যস্ত্রো’র সাথে সাক্ষাৎ-এর পর থেকেই চে নিজেকে ক্যাস্ত্রোর দলের সাথে সম্পূর্ণভাবে জড়িয়ে ফেললেন। প্রশিক্ষণ শিবিরে চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন। পুরোপুরি সক্রিয় বিপ্লবী যেমনটি হয়। কিন্তু সমস্যাটা হলো যে, মেক্সিকোতে জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীরা কিছুটা নিরাপদ থাকলেও ‘কম্যুনিস্ট’দের বেলায় তা ছিলো না। চে’র গতিবিধি-আচার- আচরণে সামাজিক বিপ্লবের আভাস পেয়েছিলো মেক্সিকান পুলিশ। চে ছিলেন মাও সে তুং-এর অনুরাগী। ব্যস ধরে জেলে পুরে দেওয়া হলো। ক্যস্ত্রোর সামনে কিউবামূখী অভিযান, এমূহুর্তে চে জেলে, তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাথে একটা রফা করে চে’কে জেল থেকে বের করে আনা হয়েছিল। কিন্তু, শর্ত ছিলো চে’কে মেক্সিকো ছাড়তে হবে।

চে ভাবলেন অন্য কোথাও গেলে তো হবে না তাঁকে যেতে হবে কিউবার যুদ্ধে। যুদ্ধযাত্রায় সবমিলিয়ে বিরাশিজন। চে একাই আর্জেন্টাইন বাকিরা সব কিউবান। ভরসা হালকা নৌযান ‘গ্রানামা’।

কিউবার সিয়েরে মায়েস্তায় যাবার সিদ্ধান্ত হলো । এখানকার জনগণ ক্যাস্ত্রোর বিপ্লবকে সমর্থন করে এবং ২৬ জুলাই আন্দোলনকে সমর্থন করে। দিনক্ষণ ঠিক হলো ১৯৫৬ সালের ১৫ নভেম্বর। রওনাও হওয়া গেল কিন্তু প্রকৃতি এতটাই বিরুপ, যে পাঁচ দিনের পথ পাড়ি দিতে হলো সাত দিনে। কিন্তু সমস্যা বিলম্ব না , সমস্যা হ'ল বাতিস্তা সরকারের কাছে এ অভিযানের খবর পৌঁছে যায়। তাই কিউবান তীরে পৌঁছানের সাথে সাথে বিমান হামলা শুরু হয়ে যায় এবং এতে বিরাশি জনের মধ্যে ষাট জনকেই বাতিস্তার সরকার মেরে ফেলে। দিকবিদিক ছুটো ছুটি করতে গিয়ে চে’র ঘাড়েও গুলি লাগে । জখম নিয়ে চে যখন এক কৃষকের বাড়িতে অন্যান্য যোদ্ধাদের সাথে মিলিত হন তখন তারা ক্যস্ত্রোসহ মাত্র বারজন।

সশস্ত্র সংগ্রামের সফলতার একটি বড় দিক হলো জনসম্পৃক্ততা। এটা চে এবং ক্যস্ত্রোর অজানা ছিলো না। হয়তো এজন্যই সিয়েরা মায়েস্তা অঞ্চলটি হয়ে ওঠে ছোট খাটো একটা ক্যন্টনমেন্ট। কয়েকটি বাহিনীর মধ্যে চতুর্থটির নাম ছিলো ,‘শত্রু বিভ্রান্ত করার বাহিনী’। এই বাহিনীর কমান্ডেন্ড নিযুক্ত করা হয় চে গুয়েভারাকে। এখানে- জুতা, চুরুট, পাউরুটি, কার্তুজের বেল্ট আরো কত কী কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলখানা, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ কারখানা, ট্রেনিং সেন্টার, স্কুল, রেডিও সেন্টার এসবই পরিচালিত হয় স্থানীয় জনগণ এবং ২৬ জুলাই আন্দোলনের কর্মী দ্বারা। যুদ্ধ পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা দিত স্থানীয় জোতদাররা। আক্রমনে জয় পরাজয়ের ভিতর দিয়ে ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে স্বাধীন অঞ্চল যা চে আর ক্যস্ত্রোর নিয়ন্ত্রনে থাকে।

১৯৫৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। চে তাঁর বাহিনী নিয়ে ধ্বংস করে দেয় শান্তাক্লারার রেল ও সড়ক সেতু। বাতিস্তার বাহিনীও থেমে থাকেনি। অবিরাম বিমান আক্রমণ চালিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও চে’ বাহিনীই জয়লাভ করেছে, আত্মসমর্পণ করেছে বাতিস্তার বাহিনী।

‘জয় আমাদের সুনিশ্চিত’- চে’র এ ঘোষনা শোনার পর কিউবার জনগণকে অপেক্ষা করতে হয়েছে মাত্র চৌদ্দ দিন। স্বৈরাচারী বাতিস্তার পতন ঘটে ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি। লাতিন আমেরিকায় মার্কিনীরা প্রথম বারের মতো মাথা অবনত করে আর বাতিস্তা তার পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান ডোমিনিকান রিপাবলিকে।

কিউবা তখন মুক্ত। চে নিযুক্ত হন শিল্পমন্ত্রী এবং স্টেট ব্যাংকের প্রধান।

এবার দেশের মন্ত্রীত্ব, সাথে হিলদা আর হিলদিতাকে নিয়ে তথাকথিত সুখী সংসার দিয়েও গল্পের শেষ হতে পারতো, কিন্তু তাতে বিশ্ববিপ্লবী চে’র জন্ম হতো না। এবার বিশ্ব বিপ্লবের ইতিহাস গড়ে ওঠার প্রয়োজন।

চে’র কথা হলো শুধু কিউবা নিয়ে ভাবলেই হবে না, ভাবতে হবে সমগ্র লাতিন আমেরিকা তথা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষদের কথা।

গোয়েন্দারা চে’ কে “কৌশলগত ভয়ংকর” হিসেবে বিবেচনা করতো। চে’র এই কঠোর নীতির কারণে তাঁর মা সেলিয়াকেও তিন মাস জেল খাটতে হয়েছিল। তাই, কিউবান সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কীভাবে লাতিন আমেরিকা থেকে মার্কিন প্রশাসনের দালালদের উৎখাত করতে হবে সে বিষয়টি সর্বদাই মনে জাগ্রত ছিল। কিন্তু, শুধু মনে জাগ্রত থাকলে তো চলবে না, বাস্তব রূপ দিতে হবে। তাহলে উপায় তো একটাই- চে’কে কিউবা ছাড়তে হবে।

পড়ে রইল মন্ত্রিত্ব। ছেড়েও দিলেন কিউবা, লাতিন আমেরিকাকে স্বাধীনতা উপহার দিতে হবে, করতে হবে সাধারণ মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা।
শুধু বিপ্লবেই তা হবে না... শিক্ষা ছাড়া বিপ্লব অপূর্ণ। যিনি শিক্ষক... তিনিই বিপ্লবী।

১৯৬৫’র এপ্রিল থেকে তাকে আর হাভানায় দেখা যায়নি। কোথায় গেলেন তিনি?
তানজানিয়া, কঙ্গো, জার্মানিতে তার কর্মকান্ডের অনেক নজিরের কথা শোনা যায়। গোটা ল্যাটিন আমেরিকার স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর চে। আর তাঁকে পাগলের মত খুঁজে চলেছে গোয়েন্দারা। নিশ্চিত হওয়া গেল, যখন মার্কিন গোয়েন্দারা বলিভিয়ান সৈন্যদের দিয়ে চে’কে ঘিরে ফেলল বলিভিয়ার একটি গ্রামে।

নির্দেশ ছিল, গ্রেপ্তারের। গ্রেপ্তার হলেই, আন্তর্জাতিক আদালত। তার পর আরেক ইতিহাসের সম্ভবনা। তাই প্রয়োজন হয়েছিল, চে-কে ঠান্ডা মাথায় খুন করে দেওয়ার।

যেখানে চে কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে লা হ্যিগুয়ান (স্থানের নাম) -এর এক স্কুল বাড়িতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। চে কে জীবিত রাখতে চাইছিল সিআইএ। তবে বলিভিয়ার শাসকের ইন্ধনে নিরস্ত্র চে কে গুলি করে হত্যা করা হয় গ্রেপ্তারের পরের দিন। আর তার আভাস পরবর্তী কালে সিআইএ প্রকাশিত ফাইলেই স্পস্ট।

চে বলেছিলেন "ফিদেল কে বলে দিও, আমেরিকাতেও একদিন সমাজতন্ত্র ফিরবে, ফিরবেই।"

Address

Station Road
Bhadreswar
712124

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DYFI Bhadreswar-Bighati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share