DYFI Bhadreswar-Bighati

DYFI Bhadreswar-Bighati DYFI Bhadreswar-Bighati (LC). Democratic Youth Federation of India is a youth organisation in India.

01/08/2025
“রবীন বাবু ( #রবীনদেব) আমার বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানালেন। আমি বলেছিলাম, যাব। তবু বয়স বাড়ছে তো। শরীর তেমন সঙ্গ দিচ্ছে না।...
08/07/2025

“রবীন বাবু ( #রবীনদেব) আমার বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানালেন। আমি বলেছিলাম, যাব। তবু বয়স বাড়ছে তো। শরীর তেমন সঙ্গ দিচ্ছে না। আসতে পারব কিনা নিশ্চিত ছিলাম না। শেষপর্যন্ত কিছুটা জেদ করেই চলে এলাম।

এই জেদ বাড়িয়ে দিল একটি টিভি চ্যানেল। তারা নানা রকম উল্টোপাল্টা প্রশ্ন শুরু করে দিল।
কেন আপনি যাবেন?
জ্যোতি বসুর সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক?
রীতিমতো ধমক দিতে শুরু করল। তখন আমারও জেদ চেপে গেল। আর বাঙালের জেদ চাপলে কী হয়, তা তো জানেন। চলে এলাম।

জ্যোতি বাবুর দাদা-বউদি আমার মক্কেল ছিলেন। তাঁর ভায়রাভাইও আমার মক্কেল। অতি সজ্জন মানুষ। তাঁদের কাছে জ্যোতি বাবুর অনেক কথা শুনেছি। তবে, আমি যেসব কথা বলব, তা একটু অন্যরকমের। বাকি যাঁরা আছেন, তাঁরা অনেক গুণী মানুষ। তাঁরা অনেককিছু জানেন। অনেকেই সুবক্তা। তাঁরা সেসব কথা বলবেন। আমি বরং আমার মতো করে বলি।

আমার কাছে, জ্যোতিবাবু বনের এক বড় বাঘের মতো। আমি জঙ্গলে ঘোরাফেরা করি। তাই আমি আমার ভাষাতেই বলি।
সেই বাঘ, যাকে গোটা জঙ্গল সমীহ করে। যাকে অনেকের মাঝেও আলাদা করে চেনা যায়। প্রবল তাঁর ব্যক্তিত্ব।
নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না। কিন্তু যখন বলতেন, সেটাই হত শেষ কথা।
সচরাচর তিনি হাসতেন না। কিন্তু যখন হাসতেন, সেই হাসি দেখলে ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েও প্রেমে পড়ে যেত।

আপনারা যাই বলুন, উনি বক্তৃতা একদম ভাল দিতেন না। কোনও বাক্য সম্পূর্ণ করতেন না। আমি বললাম, ওরা বলল, এই সব বলতেন। কিন্তু যাদের জন্য বললেন, তাঁরা ঠিক বুঝতেন। কী বলতে চাইছেন, তা নিয়ে কোনও অস্পষ্টতা ছিল না।

এখনকার রাজনীতিকদের দেখি। এখন রাজনীতি ভাল একটা প্রফেশন। এত সহজে এত রোজগার আর কোনও প্রফেশনে হয় না।
একজন বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার। চাইলে কী আরামে জীবনটা কাটাতে পারতেন! কিন্তু কালো কোট তুলে রেখে তিনি নেমে পড়লেন লড়াই সংগ্রামে।

জ্যোতিবাবুর মতো লোকেরা টাকার জন্য, গাড়ি-বাড়ির জন্য রাজনীতিতে আসেননি। সারা জীবন একটা মূল্যবোধের রাজনীতি করে গেছেন। একটা আদর্শের জন্য লড়াই করেছেন। হয়ত, তাঁর সব ভাবনা সব সময় সঠিক ছিল না। কোনও কোনও বিষয় নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আমিও নানা সময়ে সমালোচনা করেছি। কিন্তু সেই ভাবনার মধ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর আন্তরিকতা বা সদিচ্ছা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না।

এবার জ্যোতিবাবুর সঙ্গীসাথীদের কথা একটু বলি। অনেকেই এই মঞ্চে আছেন-
এই যে #বিমানবাবু( #বিমানবসু) সারা জীবন বিয়ে-থা করলেন না। সাদাসিধে মানুষ। খালি রুমাল হারিয়ে ফেলেন। একবার বইমেলায় একসঙ্গে অনেকক্ষণ ছিলাম। পকেট হাতড়াচ্ছেন, রুমাল খুঁজে পাচ্ছেন না। আমার কাছে দুটো রুমাল ছিল। একটা ওনাকে দিলাম। বললাম, রুমাল দিতে নেই। এটা কিন্তু ফেরত দেবেন। উনি বললেন, আপনার জন্য আমি এক ডজন ভাল রুমাল এনে দেব। কত বছর পেরিয়ে গেল। আজও সেই রুমাল উনি দিলেন না। যাঁরা এত ভাল কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের এমন ছোটখাটো ভুল ধরতে নেই। ওনার দুটো মস্তবড় দোষ। সারাজীবন বিয়ে করলেন না। দুই, মেয়েদের সম্পর্কে কোনও আকর্ষণ আছে বলেও মনে হয় না। এই দুটোকে অনেকে বলবেন গুণ। আমি দোষই বলব। তবে যাঁদের এতরকম গুণ থাকে, তাঁদের এমন দু-একটা দোষ থাকলে ক্ষতি নেই। এই দুটো দোষ আছে বলেই উনি এত মানুষের কাজ করতে পারছেন।

এই যে #বুদ্ধবাবু( #বুদ্ধদেবভট্টাচার্য)। খুব পড়াশোনা করেন। জ্যোতিবাবুকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই উনি বলতেন, ওটা বুদ্ধ জানে। ও খুব পড়াশোনা করে। পড়াশোনা একটা মহৎ গুণ। বামপন্থীদের সঙ্গে পড়াশোনার একটা গভীর সম্পর্ক আছে। বুদ্ধবাবুর আরেকটা পরিচয় আপনারা জানেন না। আপনারা জানেন না উনি কোন পরিবারের ছেলে। একবার উনি আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আমার লেখার টেবিলে "পুরোহিত দর্পন" দেখে বললেন, এটা নিয়ে আপনি কী করছেন ? আমি বললাম, আমি মুর্খ মানুষ। বেশি কিছু জানি না। এখান থেকে টুকি, ওখান থেকে টুকি। এদিন উনি বলেছিলেন, এই 'পুরোহিত দর্পনে'র লেখক তাঁর কে ? মানুষটা বড় অন্তর্মুখী। এটা মস্তবড় গুণ, আবার দোষও। কারণ, রাজনীতি করতে গেলে এত অন্তর্মুখী হলে চলে না, একটু বহির্মুখী হতে হয়।

আমার বাঁদিকে আছে #সীতারাম ( #সীতারামইয়েচুরি)। এঁকে আপনারা সবাই চেনেন। আমি চিনি অনেকদিন ধরে। আমার মেয়ে জে এন ইউ-তে পড়ত। আর জে এন ইউ-র এক উজ্জ্বল ছাত্র সীতারাম ইয়েচুরি। এখনও জে এন ইউ-তে যান, বুঝতে পারবেন সবাই ওকে কী শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ওর আরেকটা পরিচয় আপনারা জানেন না, ও ভয়ঙ্কর এক লেডিকিলার। এমন সুন্দর দেখতে একটা ছেলে, লেখাপড়ায় দারুণ, বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান, দারুণ কথা বলে। তার প্রেমে মেয়েরা পড়বে না! সেই সময় কত মেয়ে যে ওর জন্য পাগল ছিল, তা যদি জানতেন!

আমার ডানদিকে সূর্য ( #সূর্যকান্তমিশ্র) ডাক্তার মানুষ। ভদ্র, বিনয়ী। সুবক্তা। আ‌লাপ ছিল না। আজই আলাপ হল। কিন্তু তাঁকেও চিনি অনেকদিন ধরে।

এই যে এতজনের কথা বললাম, এঁদের কাউকে আপনি অসৎ বলতে পারবেন না। এরা কেউ কিন্তু গাড়ি, বাড়ি বা টাকার জন্য রাজনীতি করতে আসেননি। অন্য পেশায় অনেক সফল হতে পারতেন। সব হাতছানি ছেড়ে এসেছেন। জ্যোতিবাবু ছিলেন এঁদের নেতা। এঁদের দেখেই বোঝা যায়, জ্যোতিবাবু কেমন ছিলেন!
জ্যোতিবাবুর জন্মদিনে তাঁর সঙ্গীসাথীদের কথা এত বলছি কেন! জানেন? কারণ, একটা মানুষ কেমন, সেটা তাঁর সঙ্গীসাথীদের দেখেই বোঝা যায়।"

বুদ্ধদেব গুহ (সাহিত্যিক)

20/06/2025
১৪ জুন, ১৯২৮। স্থানঃ রোজারিও (আর্জেন্টিনা)। যখন জন্ম হ'ল, তখন আদুরে নাম তেতে। আর পরিচিত নাম আর্নেস্তো, বাবা-মা’র দেয়া। স...
14/06/2025

১৪ জুন, ১৯২৮। স্থানঃ রোজারিও (আর্জেন্টিনা)। যখন জন্ম হ'ল, তখন আদুরে নাম তেতে। আর পরিচিত নাম আর্নেস্তো, বাবা-মা’র দেয়া। সেটাই পুরো বদলে হ'ল "চে"।
আর্জেন্টাইন ভাষায়, "চে" শব্দ একটি ইন্টারজেকশন বা আবেগসূচক অব্যয়, যা মূলত মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন "হে" বা "মেট" অর্থাৎ বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে যা বলা যায়।

তবে, স্কুল জীবনে আরেকটা নাম ছিল, "ফুসের"। বন্ধুরা "ফুসের" বলে ডাকত ( "ফুসের" মানে, ‘ক্ষীপ্ত ঝড়ের ছোবল’)।

জগৎ বিখ্যাত হওয়ার পরে মানুষটাকে কেউ আর "ফুসের" কিংবা ‘তেতে’ বলে ডাকেনি। কিভাবে নাম হ'ল "চে"?

আর্নেস্তো-র জীবন-চলায় তার মা সেলিয়ার অনেক প্রভাব আছে বলে অনেকেই মনে করেন । কারণ তার মা ছিলেন একজন কুসংস্কার-বিরোধী, নারীবাদী প্রগতিশীল মহিলা। বাবা লিঞ্চ শান্তশিষ্ট স্বভাবের লোক ছিলেন।

ছোটবেলা থেকে মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত যে জিনিষটি সঙ্গে নিয়ে আর্নেস্তো বেড়িয়েছেন তাহলো ‘হাঁপানি’। ইনহেলার সঙ্গে রাখতে হতো। বাবা-মা হাওয়া বদলের চেষ্টা করেও কোন ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ডাক্তার হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের ‘হাপানি’ ছাড়াতে পারেননি আর্নেস্তো।

অসুস্থতার কারণে স্কুল শুরুটা কিছুটা বিলম্বিত হয়। স্কুলে ভর্তি হন ৯ বছর বয়সে। লেখাপড়ার চেয়ে দূরন্তপনাই ছিলো বেশী।

বন্ধুরা ডাকতো ‘ফুসের’ বলে( ‘ফুসের’ মানে হলো ‘ক্ষীপ্ত ঝড়ের ছোবল’)। ফুটবল, দাবা এমনকি রাগবি খেলায় ছিলেন পারদর্শী।
কবিতার প্রতি ঝোঁক ছিল। বাড়িতে প্রচুর বই থাকার দরুন মার্ক্স, লেনিন, এঙ্গেলস শৈশবেই পড়া শেষ। টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, গোর্কির লেখা পড়ে নিপিড়িত মানুষের কথা পড়তেন।

আর্নেস্তো-র মূল শারীরিক অবয়বটি ফুঠে ওঠে আঠারো বছর বয়স থেকে। লম্বাদেহ, চওড়া কাঁধ, মাথায় লম্বা চুল- একটা পরিণত মানুষ। তখন সে হাই স্কুলের ওপরের ক্লসের ছাত্র।

ছোটবেলায় আর্নেস্তো-র সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক বক্তৃতা শুনতেন ঠিকই, কিন্তু জড়িয়ে পড়া যাকে বলে তা হয়নি। বরং তৎকালীন আর্জেন্টাইন কমিউনিস্ট পার্টির লোকজনদের আচার -আচরণ তার ভালোও লাগতো না। তবে, লাতিন আমেরিকাকে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিঁড়ে- কুটে খাচ্ছিলো সেটা তিনি পরিষ্কার বুঝেছিলেন। আর লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে জাহাজে কাজ করা, দোকানে কাজ করা, ফেরি করার মতো অনেক কাজই করেছেনৃ। ঘুরে বেড়ানোটা ছিলো মূল কাজ।

বাইশ বছর বয়সে বন্ধু আলবার্তো গ্রানাদাকে সঙ্গে নিয়ে আর্নেস্তো বেড়িয়ে পড়লেন সমগ্র লাতিন আমেরিকা ঘুরে দেখবেন বলে। সঙ্গে ইঞ্জিন লাগানো একটি বাইসাইকেল আর লাতিন প্রকৃতি ও জীবনকে জানার আকুল অগ্রহ। বিভিন্ন এলাকার নানা রকম মানুষের নানা রকম জীবন-যাপন- চিন্তা -চেতনা তাকে নতুন কিছু ভাবতে শেখালো, ধরা পড়ল চলমান সমাজের নানা সীমাবদ্ধতা।

আর্নেস্তো ডায়েরি লিখতেন। ডায়েরিতে লিখেছিলেন “আমার মধ্যে নতুন এক ধারণা জন্মাচ্ছে ও রুপ নিচ্ছে তা হলো এই সভ্যতাকে ঘৃণা করা। বিশাল হৈচৈ আর হট্টেগোলের মধ্যে লোকোমোটিভ ইঞ্জিনের মতো শহরে যান্ত্রিক মানুষদের উদ্ভট জলছবি এক শান্তি বিঘ্নকারী জঘন্য চরিত্র”।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লাল ফৌজের কাছে জার্মানির পরাজয়, চীনে মাও সে তুং –এর গেরিলা নেতৃত্ব ও বিজয় ভীষণভাবে উজ্জীবিত করেছিল আর্নেস্তোকে। নিজেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী মনে করতেন। ১৯৫১ সালে আর্নেস্তো আপাত ভ্রমণ শেষ করে আবার ডাক্তারি পড়ায় মন দেন।

১৯৫৩ সালে পড়াশুনা শেষ হয়, কিন্তু শেষ হয় না লাতিন আমেরিকা ঘুরে-বেড়ানোর কাজ। মা সেলিয়ার আকুতি – মিনতি তাকে ক্ষান্ত করতে পারেনি।

এবার যাত্রা গুয়েতেমালা। সঙ্গী মেডিকেল কলেজের বন্ধু কালিকো। আর্নেস্তো-র ভ্রমণকে নিছক ঘুরে বেড়ানো ধরলে ঠিক হবেনা। আসলে সে সময়টাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার সস্পদ- সম্পত্তি লুন্ঠনের চূড়ান্ত মাত্রায় ছিল। সরকারগুলো ছিল পুতুল সরকার । জনগণ ছিল নির্যাতিত-নিপীড়িত-শোষিত। গুয়েতেমালা, বলিভিয়া, চিলি, কিউবা, ভেনিজুয়েলা কোন দেশই আমেরিকার কব্জার বাইরে ছিল না।

আর্নেস্তোএই করুণদশাগুলো নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে এবার প্রয়োজনে রাজনীতিতে জড়িয়ে করতে হবে এমন বাসনাও ছিল।

১৯৫৩ সালের জুলাই মাসের ২৬ তারিখ ফিদেল ক্যাস্ত্র’র নেতৃত্বে একদল তরুন বিপ্লবী কিউবার তৎকালীন স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে বিপ্লব ঘোষণা করে। সান্তিয়াগো শহরের কাছে মানকাদা ব্যরাকে হামলা চালান হয়।
ওই ঘটনায় ফিদেল ক্যাস্ত্র ও তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্র’র জেল হয়ে যায় এবং দেশ ছাড়েন অনেক বিপ্লবী। তাদেরই একজন নিকো।

নিকোর সঙ্গে এবং কিউবান অনেক বিপ্লবীর সঙ্গে অনেক ভাব হয় আর্নেস্তো-র। এই নিকোই প্রথম আর্নেস্তোকে ‘চে’ নামে সম্বোধন করেন। সেই থেকে আর্নেস্তো গ্যুভারার পরিচয় চে গ্যুভারা হিসেবে।

হিলদা নামের একটি মেয়ে মেক্সিকোতে চে’কে কিউবান বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। চে তার ভ্রমণকালে লাতিন আমেরিকার পেরু, এল সালভেদর, কোস্টারিকা, পানামা, গুয়েতেমালা, বলিভিয়া ঘুরে বেড়িয়েছেন।

হিলদা পেরুর মেয়ে। সেখানকার মার্ক্সবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। রাজধানী চিলিতে চে’র সঙ্গে দেখা এবং সেসময় থেকেই বন্ধুত্ব। অভিজাত পরিবারের ডাক্তার-বুদ্ধিমান ছেলে সব কিছু ছেড়ে গরীবদের কথা ভাবছে-এ ছিলো হিলদার চে’কে ভালো লাগার কারণ। হিলদাকে পরে চে বিয়ে করেন। মেক্সিকোতেই ১৯৫৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী হিলদা- চে’র প্রথম কন্যা হিলদিতার জন্ম হয়।

ডাক্তারি পেশা সাথে হিলদা আর হিলদিতাকে নিয়ে তথাকথিত সুখী সংসার দিয়েই গল্পের শেষ হতে পারতো, কিন্তু তাতে বিপ্লবী চে’র জন্ম হতো না। বিপ্লবের ইতিহাস গড়ে ওঠার প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল আমেরিকার নৃশংস সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ খসিয়ে দেওয়ার।

ক্যস্ত্রো’র সাথে সাক্ষাৎ-এর পর থেকেই চে নিজেকে ক্যাস্ত্রোর দলের সাথে সম্পূর্ণভাবে জড়িয়ে ফেললেন। প্রশিক্ষণ শিবিরে চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন। পুরোপুরি সক্রিয় বিপ্লবী যেমনটি হয়। কিন্তু সমস্যাটা হলো যে, মেক্সিকোতে জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীরা কিছুটা নিরাপদ থাকলেও ‘কম্যুনিস্ট’দের বেলায় তা ছিলো না। চে’র গতিবিধি-আচার- আচরণে সামাজিক বিপ্লবের আভাস পেয়েছিলো মেক্সিকান পুলিশ। চে ছিলেন মাও সে তুং-এর অনুরাগী। ব্যস ধরে জেলে পুরে দেওয়া হলো। ক্যস্ত্রোর সামনে কিউবামূখী অভিযান, এমূহুর্তে চে জেলে, তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাথে একটা রফা করে চে’কে জেল থেকে বের করে আনা হয়েছিল। কিন্তু, শর্ত ছিলো চে’কে মেক্সিকো ছাড়তে হবে।

চে ভাবলেন অন্য কোথাও গেলে তো হবে না তাঁকে যেতে হবে কিউবার যুদ্ধে। যুদ্ধযাত্রায় সবমিলিয়ে বিরাশিজন। চে একাই আর্জেন্টাইন বাকিরা সব কিউবান। ভরসা হালকা নৌযান ‘গ্রানামা’।

কিউবার সিয়েরে মায়েস্তায় যাবার সিদ্ধান্ত হলো । এখানকার জনগণ ক্যাস্ত্রোর বিপ্লবকে সমর্থন করে এবং ২৬ জুলাই আন্দোলনকে সমর্থন করে। দিনক্ষণ ঠিক হলো ১৯৫৬ সালের ১৫ নভেম্বর। রওনাও হওয়া গেল কিন্তু প্রকৃতি এতটাই বিরুপ, যে পাঁচ দিনের পথ পাড়ি দিতে হলো সাত দিনে। কিন্তু সমস্যা বিলম্ব না , সমস্যা হ'ল বাতিস্তা সরকারের কাছে এ অভিযানের খবর পৌঁছে যায়। তাই কিউবান তীরে পৌঁছানের সাথে সাথে বিমান হামলা শুরু হয়ে যায় এবং এতে বিরাশি জনের মধ্যে ষাট জনকেই বাতিস্তার সরকার মেরে ফেলে। দিকবিদিক ছুটো ছুটি করতে গিয়ে চে’র ঘাড়েও গুলি লাগে । জখম নিয়ে চে যখন এক কৃষকের বাড়িতে অন্যান্য যোদ্ধাদের সাথে মিলিত হন তখন তারা ক্যস্ত্রোসহ মাত্র বারজন।

সশস্ত্র সংগ্রামের সফলতার একটি বড় দিক হলো জনসম্পৃক্ততা। এটা চে এবং ক্যস্ত্রোর অজানা ছিলো না। হয়তো এজন্যই সিয়েরা মায়েস্তা অঞ্চলটি হয়ে ওঠে ছোট খাটো একটা ক্যন্টনমেন্ট। কয়েকটি বাহিনীর মধ্যে চতুর্থটির নাম ছিলো ,‘শত্রু বিভ্রান্ত করার বাহিনী’। এই বাহিনীর কমান্ডেন্ড নিযুক্ত করা হয় চে গুয়েভারাকে। এখানে- জুতা, চুরুট, পাউরুটি, কার্তুজের বেল্ট আরো কত কী কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলখানা, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করণ কারখানা, ট্রেনিং সেন্টার, স্কুল, রেডিও সেন্টার এসবই পরিচালিত হয় স্থানীয় জনগণ এবং ২৬ জুলাই আন্দোলনের কর্মী দ্বারা। যুদ্ধ পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা দিত স্থানীয় জোতদাররা। আক্রমনে জয় পরাজয়ের ভিতর দিয়ে ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে স্বাধীন অঞ্চল যা চে আর ক্যস্ত্রোর নিয়ন্ত্রনে থাকে।

১৯৫৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর। চে তাঁর বাহিনী নিয়ে ধ্বংস করে দেয় শান্তাক্লারার রেল ও সড়ক সেতু। বাতিস্তার বাহিনীও থেমে থাকেনি। অবিরাম বিমান আক্রমণ চালিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও চে’ বাহিনীই জয়লাভ করেছে, আত্মসমর্পণ করেছে বাতিস্তার বাহিনী।

‘জয় আমাদের সুনিশ্চিত’- চে’র এ ঘোষনা শোনার পর কিউবার জনগণকে অপেক্ষা করতে হয়েছে মাত্র চৌদ্দ দিন। স্বৈরাচারী বাতিস্তার পতন ঘটে ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি। লাতিন আমেরিকায় মার্কিনীরা প্রথম বারের মতো মাথা অবনত করে আর বাতিস্তা তার পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান ডোমিনিকান রিপাবলিকে।

কিউবা তখন মুক্ত। চে নিযুক্ত হন শিল্পমন্ত্রী এবং স্টেট ব্যাংকের প্রধান।

এবার দেশের মন্ত্রীত্ব, সাথে হিলদা আর হিলদিতাকে নিয়ে তথাকথিত সুখী সংসার দিয়েও গল্পের শেষ হতে পারতো, কিন্তু তাতে বিশ্ববিপ্লবী চে’র জন্ম হতো না। এবার বিশ্ব বিপ্লবের ইতিহাস গড়ে ওঠার প্রয়োজন।

চে’র কথা হলো শুধু কিউবা নিয়ে ভাবলেই হবে না, ভাবতে হবে সমগ্র লাতিন আমেরিকা তথা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষদের কথা।

গোয়েন্দারা চে’ কে “কৌশলগত ভয়ংকর” হিসেবে বিবেচনা করতো। চে’র এই কঠোর নীতির কারণে তাঁর মা সেলিয়াকেও তিন মাস জেল খাটতে হয়েছিল। তাই, কিউবান সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কীভাবে লাতিন আমেরিকা থেকে মার্কিন প্রশাসনের দালালদের উৎখাত করতে হবে সে বিষয়টি সর্বদাই মনে জাগ্রত ছিল। কিন্তু, শুধু মনে জাগ্রত থাকলে তো চলবে না, বাস্তব রূপ দিতে হবে। তাহলে উপায় তো একটাই- চে’কে কিউবা ছাড়তে হবে।

পড়ে রইল মন্ত্রিত্ব। ছেড়েও দিলেন কিউবা, লাতিন আমেরিকাকে স্বাধীনতা উপহার দিতে হবে, করতে হবে সাধারণ মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা।
শুধু বিপ্লবেই তা হবে না... শিক্ষা ছাড়া বিপ্লব অপূর্ণ। যিনি শিক্ষক... তিনিই বিপ্লবী।

১৯৬৫’র এপ্রিল থেকে তাকে আর হাভানায় দেখা যায়নি। কোথায় গেলেন তিনি?
তানজানিয়া, কঙ্গো, জার্মানিতে তার কর্মকান্ডের অনেক নজিরের কথা শোনা যায়। গোটা ল্যাটিন আমেরিকার স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর চে। আর তাঁকে পাগলের মত খুঁজে চলেছে গোয়েন্দারা। নিশ্চিত হওয়া গেল, যখন মার্কিন গোয়েন্দারা বলিভিয়ান সৈন্যদের দিয়ে চে’কে ঘিরে ফেলল বলিভিয়ার একটি গ্রামে।

নির্দেশ ছিল, গ্রেপ্তারের। গ্রেপ্তার হলেই, আন্তর্জাতিক আদালত। তার পর আরেক ইতিহাসের সম্ভবনা। তাই প্রয়োজন হয়েছিল, চে-কে ঠান্ডা মাথায় খুন করে দেওয়ার।

যেখানে চে কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে লা হ্যিগুয়ান (স্থানের নাম) -এর এক স্কুল বাড়িতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। চে কে জীবিত রাখতে চাইছিল সিআইএ। তবে বলিভিয়ার শাসকের ইন্ধনে নিরস্ত্র চে কে গুলি করে হত্যা করা হয় গ্রেপ্তারের পরের দিন। আর তার আভাস পরবর্তী কালে সিআইএ প্রকাশিত ফাইলেই স্পস্ট।

চে বলেছিলেন "ফিদেল কে বলে দিও, আমেরিকাতেও একদিন সমাজতন্ত্র ফিরবে, ফিরবেই।"

12/02/2025

যে চাড্ডি (চারটি) উটকো পেঁচো ল্যাজ দুলিয়ে এসে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত আমার লেনিন বা My Lenin দেখতে দেবে না বলল, তারা নিজেরাও জানে যে, খুব বেশি হলে ইস্কুলের মাস্টার মশাই ভয় পেয়ে যাবেন। কারণ, এই মাস্টারমশাই তো আর সূর্য সেন নয়। তবে বাকিরা তাদের খুব একটা পাত্তা দেয়-টেয় না। বামপন্থী ছাত্র-যুবরা তো এই সময়ে বেশি বেশি করে সামাজিক মাধ্যমে ছবির প্রসার শুরু করে দিয়েছে। ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখা ..,

তবে, ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত আমার লেনিন বা My Lenin শুধুমাত্র দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং সাথে আরো কিছু আছে। ব্যক্তি লেনিন সম্পর্কে এবং My Lenin চলচ্চিত্র বিষয়ে ঋত্বিক ঘটক কি কি বলেছেন তার একটা বিবরণ এই পোস্টেই জুড়ে দেওয়া হ'ল:

শিল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঋত্বিক ঘটক বলেছেন -
"মনে রাখতে হবে, লেনিন সাহেবের সেই প্রিয় বাক্য- আর্ট মুভস ইন আন আনএনডিং লাইন। শিল্পে, বিপ্লব দড়াম করে আসে না। এক শ্রেণী-শিল্প থেকে অন্য শ্রেণী-শিল্পের জন্মগ্রহণের অঙ্কটা অন্যরকম। অতীতকে অনুধাবন করে, তার শ্রেষ্ঠ অংশকে নিজের
ঐতিহ্যের সামিল করে, তার পরে 'নিজের মন্ত্রদৃষ্টি' যোগ করেই ফল দাঁড়াবে, নচেৎ নয়।"

আরেক জায়গায় প্রশ্ন করা হয়েছিল,
আপনার চিস্তা ভাবনায় কি বিশেষ কোনো দর্শনের প্রভাব আছে?

ঋত্বিক ঘটক উত্তর দিয়েছিলেন -
"আমার চিস্তা-ভাবনা প্রভাবিত হচ্ছে প্রধানত মার্ক্স এবং লেনিনের চিন্তা থেকে। বুদ্ধদেবও আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন এবং তার চিস্তাধারা থেকে উদ্ভুত কাশ্মীরের সর্বাস্তিবাদী দর্শন থেকেও আমি বিশেষ অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তা ছাড়া বাংলা দেশের বিভিন্ন গ্রামে আমি ঘুরে কাটিয়েছি। সেখানে গ্রাম্য গান সংগ্রহ করার সময়ে আমি বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিলেছি এবং তাদের দর্শনের সাথে পরিচিত হয়েছি। এ সমস্তই আমাকে বিচলিত করেছে।"

My Lenin চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে ঋত্বিক ঘটক বলেছেন -
“'আমার লেনিন' একটা রিপোর্টাজ গোছের, যেটাকে গুছিয়ে একটা গল্পের আকার দেবার চেষ্টা করা হয়েছে, মন্দ হয় নি।"

আরেক জায়গায় প্রশ্ন ছিল :
আচ্ছা, “মাই লেনিন' ছবিটা তো আমরা দেখতে পেলাম না, ওটা কি দেখানো যায় না?
ঋত্বিক ঘটক উত্তর দিয়েছিলেন -

"ওটা... অসুবিধে নানান ঘটে গেছে। সেটা হচ্ছে... বলছি। মোরারজী দেশাই। আমার এই ছবি “মাই লেনিন' এখানে সেন্সর বোর্ড থেকে পাস করে এনে দিল্লীতে যায়। তখনো পর্যস্ত কংগ্রেস দুভাগ হয় নি। তো ছবি দেখলাম। তারপর পোলিশ কালচারাল আ্যাটাচি, সে তো পাগল। সে বাংলা অসম্ভব ভালো বোঝে । একেবারে গেল। তারপর রাশ্যা, পোল্যাণ্ড, চেকোস্লোভাকিয়া... সব বিক্রি হবে, তারপরে আমি... মোরারজী হচ্চে ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার, সে কী একটা কাগজ পাঠিয়ে দিয়েছে।
ইন্দিরাদি আমাকে বলল যে, এ ছবি তো ব্যান ঋত্বিক ! আমি বললাম তুমি দিদি কিছু করো একটা! এটা কী? হোয়াট ইজ দিস ননসেন্সঃ রিডিকিউলাস! তখন হাকসার সাহেব, মানে যিনি অলমোস্ট মাই ফাদার, অসম্ভব ভালোবাসত আমাকে-- হি ওয়াজ দেন চীফ সেক্রেটারি টু ইন্দিরা গান্ধী। হি টুক ইট টু মোরারজী। তখন এই মেয়েটা... হ্যা, নন্দিনী- এখন গিয়েছে উড়িষ্যাতে, তখন ওখানে-- আমাকে ডেকে বলে যে, খত্বিক আমি কী করবো ? তুই কী কচ্ছিস কর। (আমি বললাম) হ্যা, তুই ভাগ তো এখান থেকে... । হাকসার সাহেব বেরিয়ে এসে বললেন, ইসি মে কোই গড়বড় নেহি, হোয়াই ইজ রং উইথ ইট? তখন রাশ্যাতে বিক্রি হল।
এর মধ্যে কিস্তু সমস্ত সোশ্যালিস্ট কান্ট্রি কিনতে চেয়েছে। এবং টাকা সোজাসুজি পাওয়া যেত। এবং পেলে আমার বৌ-বাচ্ছারা খেয়ে বাঁচত। এই মোরারজী- করে এটা বন্ধ করে দিল। এনিওয়ে, হাকসার সাহেব এবং নন্দিনী মিলে ওই হাজার তিরিশেক না চল্লিশেক টাকা- অতটা আমার ঠিক মনে নেই- সামথিং লাইট দ্যাট, দে ম্যানেজ্ড। যাতে করে আমি তখন টাকা পাব এবং বদনাম কিনব। আমার বৌ ক্ষেপে ব্যোম হয়ে যাবে তখন। ব্যাস।
দিস ইজ পার্ট অব লাইফ, কান্ট বি হেল্পড। কিসু পয়সা ওড়াইসি, ওড়াইয়া- পোড়াইয়া গিয়া মি ফ্লাই ব্যাক টু ক্যালকাটা। বৌটাগো কয়টা টাকা দেবার জন্য বাওয়া! মানে অন্ততপক্ষে ফর এ মান্থ, ডোন্ট ডিস্টার্ব। দীজ আর অকুপেশনাল হ্যাজার্ডস!"

'আমার লেনিন' বা My Lenin ভারতে আগেও প্রদর্শন করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। সেই বিষয়ে ঋত্বিক ঘটকের লেখা 'সিনেমা এন্ড আই' বইতে উল্লেখ রয়েছে:

*"Screening of this film was banned within the country at that time. It was, however, allowed screening in the USSR. Later it was given permission within the country for private screenings only"

আমার লেনিন' বা My Lenin চলচ্চিত্রের নির্মাণকারীদের পরিচয় লিপি:

My Lenin 1970 (Documentary)
Time: 20 minutes

Production: Sumana Films
Producer: Sushil Karan
Screenplay & Direction: Ritwik Ghatak
Cinematography: Dhrubajyoti Basu
Music: Jyotirindra Maitra
Editor: Ramesh Joshi
Playback Singers: Binoy Roy. Priti Bandyopadhyay, Mantu Ghosh, Anima Dasgupta, Reba Ray Choudhury
Cast : Arun Kumar

#আমারলেনিন #লেনিন #ঋত্বিকঘটক #ঋত্বিক

Mamata Banerjee সত্যি কিচ্ছু জানতেন না...১) সন্দীপ ঘোষ যখন তার থেকে অনেক অভিজ্ঞ এবং যোগ্য প্রফেসরকে টপকে মাত্র ৫০ বছর বয...
08/10/2024

Mamata Banerjee সত্যি কিচ্ছু জানতেন না...

১) সন্দীপ ঘোষ যখন তার থেকে অনেক অভিজ্ঞ এবং যোগ্য প্রফেসরকে টপকে মাত্র ৫০ বছর বয়সে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের MSVP এর পদ থেকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের পদে উন্নীত হলেন, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

২) যখন সন্দীপ ঘোষ আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের পদে বসার ৭ দিনের মধ্যে ওনার স্ত্রীকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে আর জি করে ট্রান্সফার করে আনা হয়, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৩) সন্দীপ আর জি করের প্রিন্সিপালের পদে বসার কয়েক মাসের মধ্যে যখন সেই কলেজে তুমুল ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৪) সন্দীপের প্রিন্সিপাল হওয়ার পরপরই যখন একে একে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের chairperson, RKS, MSVP এবং Deputy Superintendent কে বদল করা হয়, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৫) যখন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপারসন পদটিকে মিউজিক্যাল চেয়ার বানিয়ে আড়াই বছরের মধ্যে চার বার চেয়ারপারসন বদল করা হয়, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৬) যখন এই রাজ্যের প্রায় সবকটি সংবাদ পত্র এবং টিভি চ্যানেল সন্দীপ ঘোষের একের পর এক দুর্নীতির খবর বার করছিল, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৭) যখন দুই দুই বার সন্দীপ ঘোষের বদলি হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে সেই আদেশনামা আশ্চর্যজনকভাবে প্রত্যাহিত হয়, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৮) যখন গায়ের জোরে ২ জন ডাক্তারি ছাত্রের ইন্টার্নশিপ কমপ্লিশন সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছিল না এবং তাদের কোর্ট কাছারি করতে হচ্ছিল, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

৯) যখন সরকারের নির্বাচিত রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সমেত সন্দীপ ঘোষের একাধিক দুর্নীতির বিষয়ে সর্বোচ্চ জায়গায় অভিযোগ জমা করেন, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১০) যখন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (নন - মেডিক্যাল) স্বাস্থ্য দপ্তরে সন্দীপ ঘোষের একাধিক দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানান, তখন মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১১) যখন ডাক্তারি পরীক্ষায় যোগ্য ছাত্র - ছাত্রীদের জোর করে ফেল করিয়ে দেওয়া আর অযোগ্য ছাত্র - ছাত্রীদের অর্থমূল্যে ঝুড়ি ঝুড়ি নম্বর দেওয়ার অভিযোগ আসছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১২) যখন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রমোশন - ট্রান্সফার - পোস্টিং অর্থমূল্যে করানোর একের পর এক অভিযোগ আসছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৩) যখন মেডিক্যাল কাউন্সিলে নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৪) যখন একই ব্যক্তি তার অসাধারণ ( ?) কর্মকুশলতার জন্য কলকাতার দুটি মেডিক্যাল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে , হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে, WBMC এর সর্বোচ্চ পদে আসীন হন, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৫) যখন গত পাঁচ বছরে একাধিকবার কোনো অফিশিয়াল কারণ না দেখিয়েই DME, DHS এর মত সর্বোচ্চ পদাধীকারীদের গুরুত্বহীন OSD পদে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৬) মেডিক্যাল কলেজ থেকে শুরু করে প্রতিটি হাসপাতালে যখন হুমকি সংস্কৃতি অবাধে রাজ করত, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৭) রাজ্যের একের পর এক মেডিক্যাল কলেজ ( আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ থেকে কল্যানী মেডিক্যাল কলেজ)গুলোতে যখন থ্রেট সিন্ডিকেটের লোকজন দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৮) উত্তরবঙ্গের কোনো এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ যখন কোনও এক আশ্চর্য ম্যাজিকে সরকারিভাবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

১৯) অভিক - বিরূপাক্ষ - সন্দীপ - সুশান্তরা যখন মেডিক্যাল কলেজে কলেজে নয়া মেডিক্যাল এথিক্সের পাঠ দিচ্ছিলেন, তখনও মমতা ব্যানার্জি সত্যিই কিছুই জানতেন না।

২০) আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের একজন স্নাতকোত্তর চিকিৎসক ছাত্রী যখন কর্মরত অবস্থায় ধর্ষিত এবং খুন হন, যখন তার মৃতদেহের চারপাশে ভিড় জমায় এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কিছু চেনা মুখ, যখন এই মৃত্যুর প্রতিবাদ মঞ্চে অবাধে ঝাঁপিয়ে পড়ে কিছু বিশেষ ভাবে নিয়োজিত লুম্পেন, তখনও মমতা ব্যানার্জি বিশেষভাবে সত্যিই কিছুই জানতেন না।

স্বাস্থ্য দপ্তরে দূর্নীতির পাহাড় হয়েছে... স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অরাজগতার সমুদ্রে ডুবেছে... আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী #মমতা ব্যানার্জি বসত্যিই কিছুই জানতেন না।

নিজের রাজ্যে নিজের দফতর সম্পর্কে এমন উদাসীন অন্ধকারে থাকা মেয়েকেই বাংলার মানুষ চেয়েছিল?

22/09/2024

কি মনে হয়? RG Kar একটা অতি পৈশাচিক ঘটনা মাত্র! একটু তলিয়ে ভাবার সময় থাকলে শিকড়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। আর যায় বলেই... রাজপথে "We the People"

যে সংবিধান রক্ষার কসম খেয়ে খাকি গায়ে চাপিয়েছিলেন, সেই উর্দি নিয়েই সংবিধান স্বীকৃত অধিকারকে কেড়ে নিতে এগিয়ে এলেন ভদ্রেশ্বর থানার এএসআই...
-"সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া যাবে না, পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া যাবে না।"
কারণ জানতে চাইলেই আঙুল তুলে চোখ পাকিয়ে শাসানি..
উত্তরে সমস্বরে তীব্র হল জনগণের প্রতিবাদ।

নাম কি ? নাম থাকলেও উর্দিতে নেমপ্লেট নেই। তার উপর মদ্যপ।

রবিবার সন্ধ্যায় ভদ্রেশ্বর বাজারে জিটি রোডের ধার ঘেঁসে মানববন্ধনের শৃঙ্খল। চলছে স্লোগান। রয়েছে পুলিশ। তার মধ্যেই একজন খাকি উর্দি গায়ে চাপিয়ে, মদ্যপ অবস্থায়, নেমপ্লেট ছাড়াই পুলিশের সামনে দিয়ে গটগটিয়ে চলে এল? না বহিরাগত নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেল তিনি ভদ্রেশ্বর থানারই একজন এএসআই।

অর্থ কি হ'ল। একাধিক পুলিশ অফিসারের সামনেই, অধস্তন কর্মচারি পুলিশ রুল অবমাননা (উর্দিতে নেমপ্লেট ব্যাতীত) করে, আপনার সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারকে কেড়ে নিতে আসতে পারেন। আর তা বাধা দিতে কোনও অফিসারই এগিয়ে আসেন না।

সম্বিত ফিরল তখন, প্রতিবাদের স্বর যখন যানবাহনের আওয়াজকে ছাপিয়ে গেল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এলেন একাধিক পুলিশকর্মী। প্রতিবাদ আর প্রশ্নের স্বরে ছিটকে নেমপ্লেট ছাড়া উর্দিধারী মদ্যপ এএসআই তখন চা এর দোকানে। স্লোগান আরো স্পষ্ট আরো শানিত। বাড়ছে ভিড়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আর যুক্তিতে নাস্তানাবুদ প্রশাসন "নেমপ্লেট ছাড়া উর্দিধারী মদ্যপ এএসআই" অপরাধ করেছে তা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হল প্রশাসন। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ রক্ষা করল জনগনের সাংবিধানিক অধিকার, পিছু হটল অনৈতিক দাবি। জিতে গেল ভদেশ্বরবাসী।

থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছে সাধারণ মানুষ সহ বামপন্থী ছাত্র-যুবর প্রতিনিধিরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, এমন পরিস্থিতি আগামীতে আর ভদ্রেশ্বরের বুকে ঘটবে না। নেমপ্লেট ছাড়া উর্দিধারী মদ্যপ সেই এএসআই সরে যাচ্ছেন ভদ্রেশ্বর থানা এলাকা থেকে।

এক অফিসার আক্ষেপ করে বললেন, "কিছু পুলিশের জন্যই এইভাবেই সমস্ত ডিপার্টমেন্টের অসম্মান হয়।"
.. ঠিক কথা, সবাই একরকম নয়, তবে সবাই একই সাথে পরিস্থিতি তৈরির সময় দাঁড়িয়ে থাকেন।
ঠিক যেভাবে, নেমপ্লেট ছাড়া উর্দিধারী মদ্যপ এক এএসআই থানার ভিতর থেকে সবার চোখের সামনে দিয়ে ডিউটিতে আসেন।
ঠিক যেভাবে, বাইরে অনেক পুলিশের মধ্যে থেকে, নেমপ্লেট ছাড়া উর্দিধারী মদ্যপ কোনও এক এএসআই সাধারণ মানুষের দিকে এগিয়ে আসে, ব্যাক গ্রাউন্ডে সৎ ডিপার্টমেন্ট দাঁড়িয়ে থাকে, আর ফোর গ্রাউন্ডে; নেমপ্লেট ছাড়া উর্দিধারী মদ্যপ অস্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টকে... অস্বীকার করে সংবিধানকে...

আর উত্তরে, প্রতিবাদে সোচ্চারিত হয়... "We the People"



The Bharatiya Janata Party (BJP) has the highest number of representatives (54 MPs and MLAs) with declared cases related...
28/08/2024

The Bharatiya Janata Party (BJP) has the highest number of representatives (54 MPs and MLAs) with declared cases related to crimes against women according to the report.

West Bengal tops the list with 25 sitting MPs and MLAs facing charges related to crimes against women, followed by Andhra Pradesh with 21 and Odisha with 17, according to the report.

ধর্ষণের বিরুদ্ধে ধর্ষকের প্রতিবাদ।এই প্রতিবাদকে সমর্থন না করা মানেই "আমরা আলাদা হয়ে যাচ্ছি।"   #ছাত্রসমাজ
28/08/2024

ধর্ষণের বিরুদ্ধে ধর্ষকের প্রতিবাদ।
এই প্রতিবাদকে সমর্থন না করা মানেই "আমরা আলাদা হয়ে যাচ্ছি।"

#ছাত্রসমাজ

মঙ্গলবার নবান্ন অভিযান। সোমবার তার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিল পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ। কিন্তু সেখানে স...

২০ আগষ্ট। মঙ্গলবার। সন্ধ্যা ৭ টা। মশাল মিছিল। স্থানঃ বিঘাটি পঞ্চায়েত অফিস
19/08/2024

২০ আগষ্ট। মঙ্গলবার। সন্ধ্যা ৭ টা। মশাল মিছিল।
স্থানঃ বিঘাটি পঞ্চায়েত অফিস

Address

Station Road
Bhadreswar
712124

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DYFI Bhadreswar-Bighati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share