নীহার চক্রবর্তীর গল্প

নীহার চক্রবর্তীর গল্প it is a page of my stories,

19/10/2024

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! আমার নতুন ফলোয়ারদের স্বাগত জানাই! আপনাদের ফলোয়ার হিসাবে পেয়ে আমি খুবই খুশি! Arijita Basu, Adv Pampa Banerjee, নুরুল ইসলাম, Ruhul Amin Kayum Job, Sima Debnath, Musu Parveen, আরজু খান টপ, MD Rubel Ahmed, সিরাজুল ইসলাম চাকরি চাকরি, Radib Tamjid Arif

08/11/2018

চিরদশা
নীহার চক্রবর্তী

-- সত্যিকারের বিচার হয়ে গেছে বুড়োর সময় গড়ানোর সাথে-সাথে । তুমি আর কেঁদো নাকো,মা । কথার আগুন জ্বালিও না আর ।
বিবাহিতা মেয়েটা একথা বলে স্নেহ-ভরে কাপড়ের আঁচল দিয়ে তার মায়ের চোখ মুছিয়ে দিতে থাকলো ।

মা তার অবশিষ্ট জল নিয়ে বলল মেয়েকে ।
-- নাই বা কাঁদলাম আর । নাই বা কথার আগুন জ্বালালাম । কিন্তু ওই বুড়ো কি আমার পুড়ে খাক করে দেওয়া সোনার সময় আর ফিরিয়ে দিতে পারবে ?

মেয়ে তখন মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না চেপে বলল ।
-- সে আর পারে কি,মা ? আর তুমি তো একজন নও । আরও শত কত মেয়ে এমন আছে । তোমার বুকে জমে থাকা জল মুক্তো-বৃষ্টি ক'রে এবার থেকে তাদের সাজাতে থাকো । সে না কাঁদলেও চলবে,মা ।
মা থামল তারপর । খুব কষ্টে সে ঠোঁটের কোণে আনল এক চিলতে হাসি ।

আর ওই বুড়ো বৌ-মেয়ের সব শুনে কাশতে কাশতে এক চিলতে হেসে উত্তরে মুখ করে নিজেকে লুকিয়ে নিলো ।
কিন্তু বুড়ো হঠাৎ কাশতে থাকলো খুব । ছুটে গেলো আগে সেই বুড়ী । বড় অবহেলায় আজ তাকে মনে হয় কত না হাজার বছরের মা ।

19/11/2016

ঈশ্বরের মানুষ

অবিনাশ হালদার একসময় রামপুর এলাকার বড় মুদি-ব্যবসায়ী ছিল । এখন তার বয়স হয়েছে । তাই তাকে আর দোকানে বসতে দেখা যায় না । তার একমাত্র ছেলে অবনী বসে । এখন সে ধম্ম-কম্ম করে বেড়ায় । কীর্তন-গান শুনতে শুনতে একেবারে বুঁদ হয়ে যায় । কেউ-কেউ তার তখন চোখের জলও দেখেছে ।

অবিনাশ হালদারের গঙ্গা-স্নান নিয়মিত । সেই ভোরে কয়েকজন চেনা সঙ্গী নিয়ে গঙ্গায় যায় । তৃপ্তি ক’রে স্নান করে বাড়ি ফেরে ঘটিতে গঙ্গাজল নিয়ে । পারে দাঁড়িয়ে সে সূর্য-প্রণাম সারে । অনেকেই দেখে তা মিটমিট করে হাসে । তাদের হাসি দেখে বুঝি সে খুব রেগে যেতো । যাহোক,সে হাসি তার আর দেখা হয় না । হাসিবাজদের রক্ষে বলতেই হয় ।

কিন্তু কয়েকদিন আগে অবিনাশ হালদার যখন গঙ্গার পারে দাঁড়িয়ে সূর্য-প্রণাম করছিলো,তখন তার কানে হাসির শব্দ এলো । একটু জোরেই হেসে ফেলেছিল তার এক সঙ্গী । সঙ্গে-সঙ্গে সে সূর্য-প্রণাম শিকেয় তুলে রাগত-চোখে সেই সঙ্গীর দিকে তাকাল । তখনো সেই সঙ্গীর মুখে খই-সাদা হাসি । দেখে খুব রাগ হল অবিনাশ হালদারের ।

‘’কী ব্যাপার ? এত হাসির কারণ কী,গনশা ? এখনো হাসছ যে । কী হয়েছে,শুনি ?’’
সেই সঙ্গীর নাম গণেশ অরকার । একসময় অবিনাশ হালদারের দোকানের কর্মচারী সে । দীর্ঘ কুড়ি বছর কাজ করার পর সে কাজ ছেড়ে দেয় কি এক কারণে অবিনাশ হালদারের সঙ্গে রাগারাগি হওয়ায় । পরে অবশ্য মিল হয়ে যায় । এখন গণেশ সরকার তার প্রতিদিনের গঙ্গা-স্নানের সঙ্গী ।
গণেশ সরকার অবিনাশ হালদারের কথায় এতটুকু চমকাল না । ভয়ও পেলো না ।
এক-মুখ হেসে অবিনাশ হালদারকে বলল,’’প্রতিদিন আমি লক্ষ্য করি আপনাকে । এত প্রণাম কীসের ? এত সময় লাগে কেন আপনার ? তাই ভাবি । আজ একটু বেশীই ভেবে ফেলেছিলাম । এখনো হাসছি । তবে ভেতরে । আপনার সম্মান বলে তো কিছু আছে ।‘’

অবিনাশ হালদার গণেশ সরকারের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকলো । কি উত্তর দেবে ভাবতে থাকলো ।
তারপর উত্তর দিলো সে গণেশ সরকারের কথার ।
‘’ঈশ্বরকে স্মরণ করতে সময় লাগে । যতক্ষণ না ডাকে তিনি সাড়া দেন,ততক্ষণ আমাকে অপেক্ষা করতে হয় । এই আর কি । তুমি কী ভাবো,শুনি ?’’
গণেশ সরকার তখন বলে ওঠে মজার সুরে,’’আপনার ডাকে তিনি সাড়া দেন ? আমার কিন্তু মনে হয় না তা । আপনি ডেকে-ডেকে পা ব্যথা হলে তারপর আমাদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে করেন । আমার বুড়ী-মা রোজ তাকে ডাকে । কিন্তু সাড়া পায় না । তাই বিছানায় শুয়ে মা খুব কাঁদে । আর আপনার মতো মানুষের ডাকে সাড়া দেবেন ঈশ্বর ? আমি অন্তত ভাবতে পারি না । কি যে বলেন । চিনি না আপনাকে ?’’
একনাগাড়ে কথাগুলো বলার পর গণেশ সরকার একা-একা হাসতে হাসতে সামনের দিকে এগোতে থাকলো । পিছন থেকে ডাকল অবিনাশ হালদার সরোষে । গনেশ সরকার দাঁড়িয়ে পড়লো । অবিনাশ হালদার ভেবেছিলো গনেশ সরকার তার দিকে এগিয়ে আসবে । কিন্তু সে আর হল না । অবাক অবিনাশ হালদার তখন নিজেই এগিয়ে এলো তার অনেকদিনের পুরনো কর্মচারীর দিকে বেশ হনহন করে ।

‘’এই বুঝি আমার শাস্তি ? আমাকেই আসতে হল তোমার কাছে ? এমন তো ভাবিনি কোনোদিন । এও আজ দেখতে হল আমাকে ? এমন সাহস তোমার ?’’
অবিনাশ হালদার বেশ ঝাঁঝের সঙ্গে এমন কথা বললে গণেশ সরকার উত্তর দিলো সহাস্যে,’’তাই তো আমি ভাবি আপনি কেন ঈশ্বরকে এত ডাকেন । কেন তিনি সাড়া দেন না । বুঝলাম আজ । আপনি সময় গেলেও নিজেকে বদলাতে পারেননি । আপনার এতদিনের সূর্য-প্রণামের জলেই অঞ্জলি হল । জীবনে শেষবারের মতো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন । তারপর একদিন আমার বুড়ী-মার মতো আপনাকেও তুলে নিয়ে ঈশ্বর নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করবেন । আসি । আর আসছি না কোনোদিন আপনার সাথে ।‘’

তারপর গণেশ সরকার আনমনে আবার হাঁটতে শুরু করলো । তার চোখে জল দেখা গেলো সহসা । অন্যদিকে অবিনাশ হালদারের চোখে তখনো রাগের আগুন । খুব গজরাচ্ছে সে । তার অবস্থা দেখে অন্য সঙ্গীরা তখন অন্য পথ নিলো ফিকফিক করে হাসতে হাসতে ।

এর দুদিন পরেই অবিনাশ হালদার মারা গেলো হঠাৎ ঘুমের মধ্যে । শুনেই কাঁদতে কাঁদতে ছুটে এলো গণেশ সরকার । তার শিয়রে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে সে অনেকের সামনে বলে উঠলো,’’এখানেও ঈশ্বরের বিভেদ । আমার বুড়ী-মা এত ডেকেও তাকে জাগাতে পারলো না । ঈশ্বর বুঝি ধনবান চেনেন ।‘’
অনেকে তখন গণেশ সরকারের দিকে উস্মার সঙ্গে তাকিয়ে থাকলো ।

17/11/2016

ঘরে্র বাঁশি

নয়ন ঘোষ একজন বিবাহিত তরুণ দুধওয়ালা । সেই কাকভোরে বাড়ি থেকে বেরোয় । নানা বাড়ি আর দোকানে দুধ দিয়ে দুপুর একটার পর বাড়ি ফিরে আসে । তারপরেই নয়নের মুখ-ভার । মুখ দিয়ে আর কথা বেরোতে চায় না । স্বামীকে দেখে খুব অবাক হয় মালতী ।
জিজ্ঞেস করে নয়নকে,''কী হল গো ? অমন করে আছো কেন ?''
নয়ন খুব কষ্টে উত্তর দেয়,''কিছু ভালো লাগে না গো ।''
অথচ সেই সকালে নয়ন যখন বাড়ি থেকে বার হয়,তখন ওর এক-মুখ হাসি থাকে । দেখে খুব খুশী হয় মালতী ।
বলে হেসে,''সারাদিন আমাকে মনে রেখো কিন্তু ।''
নয়ন ওর চিবুক ধরে মিষ্টি হেসে বলে,''আরে,পাগলী । ভুলি কখনো ?''

তারপর নয়ন বলে মালতীকে স্মিত হেসে,''আসলে ঘরটা একটা গণ্ডী । কত আর কথা হয় । কতকিছু জানি বাইরে গেলে । কত মানুষের সাথে পরিচয় হয় । তাই ফিরে এলে মনটা খুব খারাপ লাগে ।''
ওর কথা শুনে মালতী মৃদু হেসে বলে,''তাই বুঝি ? আমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না তোমার ফিরে এলে ? বেশ তো । আমাকেও শুনিয়ো বাইরের কথা । আমিও কিছু শিখতে চাই । জানতে চাই ।''
কিন্তু নয়ন বাইরের কোন কথা কখনো বলেনি মালতীকে । একথা ভেবে মালতী খুব কষ্ট পায় ।
নতন বলে মালতীকে,''সব কথা কি বলার মতো তোমাকে ?''
মালতী তখন বিষণ্ণ-মুখে,''যেদিন বলার মতো হবে,সেদিন বল ।''
কিন্তু সে বলা আর নয়নের হয় না । দিন বয়ে যায় দিনের নিয়মে ।

এমন করেই চলছিলো নয়ন-মালতীর দিন । মালতী শান্ত-প্রকৃতির মেয়ে । কখনো ওকে রাগেতে বা উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না কখনো । তাতে নয়ন খুব খুশী ।
প্রায় বলে,’’তোমার মতো বৌ এখন দেখাই যায় না ।‘’
শুনে মৃদু-মৃদু হাসে মালতী । কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায় ও ।

সেদিন দুপুরের পর নয়ন বাড়ি ফিরল । ওর অশ্রু-সজল চোখ সেদিন । দেখে মালতী যারপরনাই বিস্মিত ।
জিজ্ঞেস করলো,’’কী হয়েছে তোমার ? চোখে জল কেন ? এমন তো হয় না ।‘’
শুরুতে নয়ন কিছুই বলতে চাইলো না । কিন্তু মালতী সেই প্রথম ওকে চেপে ধরল ।
বেশ মেজাজের সঙ্গে বলল নয়নকে,’’আমি কিছুই শুনতে চাই না তোমার কাছে । আজ কিন্তু তোমাকে বলতেই হবে ।‘’

তার কিছু পরে নয়ন গামছা দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলতে থাকলো,’’আমি তো রোজ কথা বলি সুনীল চৌধুরীর বৌয়ের সঙ্গে । সেও আমার সাথে হেসে-হেসে কথা বলে অনেক সময় ধরে । কিন্তু আজ সুনীল চৌধুরী তার বৌকে এমন বকে দিলো যে সে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে চলে গেলো । আমার দিকে সুনীল চৌধুরী কটমট করে তাকাতেই আমি দুধ না দিয়েই সাইকেল নিয়ে ছুট দিলাম । বাচ্চাটা আজ দুধও পেলো না । আমি তারপর আর কোথাও যাইনি । একদম তোমার কাছে চলে এলাম ।‘’
নয়নের কথা শুনে মালতী তখন হেসে আর বাঁচে না । হাসিও থামে না ওর । তা দেখে নয়ন ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলে ।

তখন মালতী ওর হাত দুটো ধরে বেশ শান্ত-গলায় এক-মুখ হেসে বলে নয়নকে,’’তুমি বাইরে সবার কাছে দুধওয়ালা । তার বেশী কিছু নিজেকে ভেবো না । আজ থেকে বুঝতে পারলে তো ? শুধু আমার কাছে তুমি প্রেমিক । তুমি ঈশ্বর । তুমি আমার সারাপথের সঙ্গী । এরপর আমার আর কিছু বলার নেই । ঘরে এসো । সব কষ্ট ভুলে নতুনভাবে জেগে ওঠো । আর একটা নতুন সকাল আসুক তোমার জীবনে । একেবারে অন্যরকম হোক সে সকাল ।‘

অভিভূত-আপ্লূত নতন তখন মালতীকে বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোর-ধারে কাঁদতে থাকলো । সে দৃশ্য দেখে বুঝি অন্তরীক্ষ থেকে কে অচিনপুরুষ তখন পুষ্পের মতো বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ঝরাতে শুরু করে দিলো ।

07/11/2016

মেঘলাপাড়ার মেয়ে

মেঘলাপাড়ায় অনেক মেয়ে । কিন্তু দেখলে মনেই হয় না ওরা ওই পাড়ায় থাকে । রঙ মেখে দাঁড়িয়ে থাকে । মুখে হাসি লেগেই আছে । কথাও বলে অনর্গল । মজা করে লোক ডাকে তাদের ফুর্তিতে ভরিয়ে রাখতে । কি ফুর্তি পায় তারাই জানে ।

মেঘলাপাড়ার মেয়েদের বুকে-মুখে শুধু মেঘ জমে ভোরের আলো ফুটতেই । গলির মধ্যে বা বাইরে উবু হয়ে বসে থাকে দেহের কোণে-কোণে রাশ-রাশ যন্ত্রণা নিয়ে । তখন তারা কাউকে ডাকে না । ডাকলেও মনে হয় কেউ সেখানে যাবে না । দিনের আলোতে কে আর ওদের হাতে খুন হতে চায় ?

বেলা বাড়তেই মেয়েরা আবার সবল । মুখে হাসি ফিরে আসে । সেই আগের ছটফটানি । বাবুদল আসে একে-একে । তখন আর তাদের খুন হওয়ার ভয় নেই । তাই হেসে-হেসে দড়-দাম করে তাদের ঘরে সেঁধিয়ে যায় ।

শুধু ওই সকালটা । কেউ এলে নির্ঘাত মেঘলা পাড়ায় তাদের হাতে খুন হয়ে যেতো । তখুনি বুঝি পাড়ার নাম ঘুচে নতুন নাম হতো রোদেলাপাড়া । সে আর হওয়ার নয় । এমন করেই চলেছে মেঘলাপাড়া আর তার মেয়েরা ।

সে আজকে নয় । সে তো আজকে নয় । কবে ? কেউ হিসাব রাখেনি তার । ইতিহাস নির্বাক ।

03/11/2016

পুব হাওয়ার কান্না



পিওন তখন বাড়ি-বাড়ি চিঠি দিতো । নিজের অজান্তে কত না খবর পৌঁছে দিতো সে এর-ওর কাছে । সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,আননদ-বেদনার । আরও কত কি । সে সময় চলে গেছে । এখন দু'টাকা খরচ করে প্রিয়জনের সঙ্গে চার মিনিটও কথা বলে নেওয়া যায় ।



রাইমোহন প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে । সে তখন সীমান্ত-রক্ষীর কাজ করে । দূরে । অনেকদূরে ।অনেক-অনেকদূরে । হরিয়ানায় । রাইমোহন প্রায় চিঠি লিখত বাড়িতে । বাবার কাছে একটা আর একটা স্ত্রী লক্ষ্মীর কাছে । চিঠির অপেক্ষায় থেকে থেকে যেদিন ওর স্ত্রী পিওন মহাদবের হাত থেকে চিঠি নিতো,সেদিন ওর আনন্দের সীমা নেই । মহাদেবকে ওর সাক্ষাৎ দেবতা বলেই মনে হতো সেদিন ।



লক্ষ্মীর অপেক্ষা ছিল শুধু মহাদেবের জন্য । ওর প্রায় মনে হত,মহাদেব বুঝি জেনেও খবর দিচ্ছে না । খবর সে লুকিয়ে রাখছে । তাই লক্ষ্মী মহাদেবের সঙ্গে ভাব জমাতে চাইতো খুব । বাড়ির সামনে দিয়ে গেলেই হাসি-মুখে তাকে ডাকতো । তারপর নানা কথা বলা শুরু করতো লক্ষ্মী তার সঙ্গে । কথা বলতে বলতে ভাবতো,এই বুঝি সে রাইমোহনের খবর দেবে ওকে । নিজের কাছে বুঝি লুকিয়ে রেখেছে । কিন্তু মহাদেব যখন ব্যস্ততা দেখিয়ে ম্লান হেসে বলে যেতো,তখন লক্ষ্মীর সরল-প্রাণে খুব ব্যথা বেজে উঠত ।



এমন করেই লক্ষ্মীর দিন কাটতো স্বামী রাইমোহনের নিরন্তর অপেক্ষায় । কিন্তু একদিন সেই অপেক্ষাতে ছেদ পড়লো ।
মহাদেব যেদিন ওকে খবর এনে দিলো,তুমি অমন করে বাইরে দাঁড়িয়ে কার সঙ্গে কথা বল ? আমি সব জেনেছি । এবার বাড়ি ফিরলে তোমার ঠ্যাং ভেঙে দেবে ।
সে খবরে লক্ষ্মী খুব কাঁদল । সারাদিন কাঁদল । কেউ বোঝাতে এলো না ওকে ।
পরেরদিন মহাদেবের সঙ্গে আবার দেখা হলে লক্ষ্মী অঝোর-ধারায় কাঁদতে কাঁদতে তাকে বলল,''আমার সব অপেক্ষার শেষ গো । আমার সঙ্গে দেখা হলেও কথা বল না । আমি একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই ।''



অবাক মহাদেব জিজ্ঞেস করলো লক্ষ্মীকে,''কী হয়েছে গো ?''
লক্ষ্মী অস্ফুটে উত্তর দিয়ে ঘরে চলে গেলো,''তুমি শুধু খবরই দাও না । তুমি খবর করেও দাও । আমি এখন ভয়ে মরি ।''
তারপর থেকে লক্ষ্মীকে আর কোনোদিন বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি ।

29/10/2016

মিছে ভাব

কবি বিশাখ সেনের বাড়ি দেখে তার ভক্ত-পাঠক দোদুল যারপরনাই অবাক । হাঁ করে বাড়ির একেবারে নীচ থেকে ওপর পর্যন্ত দেখতে থাকলো । দোদুলের অবস্থা দেখে খুব গর্ব হচ্ছিলো মনে হয় কবির ।
চোখেমুখে খুশীর ঝিলিক তুলে সে জিজ্ঞাসা করলো দোদুলকে,''তা কেমন ? খুব খরচ হয়ে গেলো গো । তবে সব মিস্ত্রীর মতো মিস্ত্রী । আরও কত খরচ ।''
দোদুল কিছুক্ষণ চুপ থেকে স্মিত হেসে উত্তর দিলো,''ভালো । তবে আমি এখন মনে-মনে কাটাকুটি খেলছি । পরে জানাবো আমার বাকি অনুভূতি ।''
শুনে অবাক কবি বিশাখ সেন ।
তবে বললেন,''তুমিও তো কবিতা লেখো । বেশ শব্দের কারুকাজ দিয়ে আমাকে জানিও কিন্তু । তোমার বৌদিও খুব খুশী হবে ।''
''বেশ'' বলে দোদুল একটা ছোটো দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্টেশনের দিকে পা বাড়াল ।

কিন্তু দোদুলের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বারবার লম্বা দীর্ঘশ্বাস পড়তে থাকলো । তাই আর লিখলই না ।
শেষে কবি বিশাখ সেনকে ফোন করে বলল,''যাচ্ছেতাই । এত মিথ্যা কথা বলে গেলেন আপনার কবিতায় ? কোন এক কবিতায় লিখছেন,কাঙালের জন্য হৃদয়ে ঝরে রক্ত । তাই কি ? নাকি বাগের দুধ ঝরে ? বৌদিকে বলবেন । তিনি মানুষ হলে আমার কথায় খুশী হবেন ।''
কথাগুলো একনাগাড়ে বলে ফোন কেটে দিয়ে দোদুল হা-হা করে হেসে উঠলো ।
ওর মা অবাক হল ওর হাসি দেখে ।
জিজ্ঞেস করলো,''কী হল রে ?''
দোদুল হাসি সামলে উত্তর দিলো,''তেমন কিছু না গো । এক মানবাতাবাদীর অভিনয় দেখছিলাম চোখ বুজে ।''
মা কিছুই না বুঝে দোদুলের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকলো ।

দুদিন পরে বিশাখ সেনের সঙ্গে ট্রেনে দেখা দোদুলের ওকে দেখে সে ভিড় ঠেলে অন্য কামরায় গিয়ে উঠলো । তাকে অমন দেখে দোদুলের পাটা উঁচু হয়ে গিয়েছিলো ।
এক যাত্রী বেশ রেগে ওকে বলে উঠলো,''ও দাদা,এটা কী হচ্ছে ?''
দোদুল তাকে হেসে উত্তর দিলো,''কালকের কবাডি খেলার রেশটা এখনো যায়নি তাই । সরি ।''

27/10/2016

সত্যের সবুর

‘’কীসে অনার্স নিলি রে ?’’
পাড়ার এক কাকু জিজ্ঞেস করলো পান্তুকে ।
পান্তু বেশ গর্বের সঙ্গে উত্তর দিলো,’’দর্শন,কাকু । ভালো না ?’’
শুনে কাকুর মুখ ভেদরিয়ে গেলো ।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল,’’দর্শন ? পড়ে কী হবে,শুনি ? আমার সন্তু তো ইংরেজি নিলো । একটু ঠিকঠাক পড়লে কে ওর চাকরী ঠেকায় ?’’
কাকুর কথা শুনে পান্তু খুব বিষণ্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকলো ।
তারপর অস্ফুট-স্বরে বলল,’’আর আমার ?’’
কাকু কোন উত্তর না দিয়ে ঘরে চলে গেলো ।

খুব মন ভেঙে গেলো পান্তুর । বাড়ি এসে ওর পড়ার ঘরে থম মেরে বসে থাকলো । চোখে ওর জল আসছিলো তখন কাকুর কথাগুলো ভেবে । একটু পরেই ওর মা এলো ঘরে । পান্তুর চোখমুখ দেখে সে অবাক ।
জিজ্ঞেস করলো,’’কী হল রে তোর ? এমন করে বসে আছিস কেন ? বন্ধুদের সঙ্গে...’’
‘’নাহ,মা । তা কিছু না । আমার কিছু হবে না । আমার পড়াই বৃথা ।‘’
মা শুনে চমকে উঠলো । পান্তুর পাশে বসে ওর গালে হাত দিয়ে মুখটা সামনে এনে বলল,’’এমন কথা বলছিস কেন ? এমন কথা বলতে নেই,সোনা । কে কী বলেছে তোকে,শুনি ?’’

তারপর পান্তু চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলতে থাকলো পাড়ার সেই কাকুর কথাগুলো । মা সব শুনে কষ্টের হাসি হাসল তখন ।
তারপর পান্তুর পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে বলল,’’কে একে বলে দিলো আর তুই বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেললি ? ও বুঝি একটা মানুষ ? মানুষ হলে ছেলের বয়সীকে এমন ব্যথা দিতে পারে ? তুই ওনার কথায় ভেঙে পড়িস না । দর্শন তো ঐশ্বরিক ব্যাপার । আর তুই তো ঈশ্বর মানিস । তাই আমাদের আশীর্বাদে পড়তে থাক । চাকরী হবে কিনা জানি না । কিন্তু মানুষ হয়ে ওনার সন্তুকে ছাড়িয়ে দেখিয়ে দিস । দর্শন সত্যের পথ দেখায় । ইংরাজি নিজের দেশ আর দেশের মানুষকে ভুলিয়ে দেয় । বুঝলি তো ?’’

তারপর পান্তুর চোখের জল থেমে গেলো । মাকে জড়িয়ে ধরে প্রবল উচ্ছ্বাসে বলে উঠলো,’’আমার লক্ষ্য থাক তবে মানুষ হওয়া । তাই না,মা ? তারপর অন্যকিছু ।‘’
পান্তুর কথায় মা এবার চোখের জল ধরে রাখতে পারলো না ।

19/10/2016

অভিযান

মাধব রায় । শ্রীপুরের এক দাপুটে বামপন্থী নেতা । সে একদিন সস্ত্রীক স্থানীয় শিবমন্দির থেকে পুজো দিয়ে ফিরে আসছে । তাকে দেখে ছুটে এলো এলাকার দক্ষিণপন্থী নেতা নিতাই কবিরাজের ছেলে নির্মল । সে তাকে খুব অবাক ।

মাধব রায়ের কাছে এসে সবিস্ময়ে নির্মল তাকে জিজ্ঞেস করলো,’’কাকু,এ কেমন অবস্থা আপনার ? আপনি মন্দিরে এসেছেন ! আবার পুজো দিয়েছেন দেখছি !’’
নির্মলের কথা শুনে মাধব রায়ের স্ত্রী মিটমিট করে হাসতে থাকলো । স্বামীর দিকে তাকাল ‘কেমন দিলো ?’ গোছের প্রশ্নসূচক হাসি হেসে ।
মাধব রায় নির্মলের কথা শুনে একটু চুপ করে থাকলো ।
তারপর স্মিত হেসে জবাব দিলো,’’তুমি কি বলতে চাও,আমি বেশ বুঝেছি । ভুল কিছু ভাবোনি তুমি । আসলে আমার এতদিন কিছু ভুলছিল ।‘’

‘’কেমন ?’’
খুব আগ্রহের সঙ্গে নির্মল মাধব রায়ের কাছে জানতে চাইলো ।
তখন মাধব রায় উত্তর দিলো সখেদে,’’মন্দিরে কতদিক থেকে কত মানুষ আসে । তাই না ? তাদের অনেকেই ভোটার । আমার মনে হয় এখানেই ভুল আমাদের । বাম-নেতারা যদি মন্দিরে এসে তাদের সঙ্গে মিশতে পারতো,তবে আমাদের চৌত্রিশ বছরের নানা যুদ্ধের পর পাওয়া সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তো না । ইশ,কি যে ভুল আমাদের !’’
তার কথা শুনে বেশ লাগলো নির্মলের ।
সহাস্যে তাকে বলল,’’আপনি তো বেশ ভেবেছেন,কাকু । ভালো লাগলো কথাগুলো শুনে । কিন্তু এখনো কি নেতাদের ঘুম ভাঙবে ?’’
সাথে-সাথে মাধব রায়ের স্ত্রী ব্যঙ্গের সুরে বলে উঠলো,’’এদের ঘুম সহসা ভাঙে নারে,বাবু । তাই ওরা এখনো ৩৪-এর পর একটা ০ বসিয়ে ৩৪০ বছর অপেক্ষা করুক ওরা ।‘’

স্ত্রীর কথা শুনে মাধব রায় এক-মুখ হেসে ফেলে বলল,’’ঠিক বলেছ । তোমার কথা শুনে বুঝি ডেঙ্গুর মশা কামড়াল আমার পায়ে । আর এখানে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না । আমি ডেঙ্গুতে পড়লে নিতাই কবিরাজের দিদি আবার সমস্যা বাড়বে । এক ডেঙ্গুই আমাদের ৩৪০বছরের অপেক্ষাকে কেটেকুটে ছোটো করে দেবে ।‘’
তারপর মাসধব রায় আর তার স্ত্রী হাসতে হাসতে তাদের বাড়ির দিকে পা বাড়াল ।
পিছন থেকে তখন নির্মল বেশ জোরের সঙ্গে বলে উঠলো মাধব রায়ের উদ্দেশ্যে,’’কাকু,এবার আমাদের ক্লাবের সরস্বতীপুজোয় আপনাকে সব দায়িত্ব নিতে হবে । নেবেন তো ?’’

নির্মলের কথা শুনে মাধব রায় ক্ষণিক দাঁড়িয়ে মুখ-ভরা হাসি হেসে বলে বসলো,’’আমাকে দিয়েই ঘুমভঙ্গের ব্যাপারটা শুরু করেছি আজ । আমি তোমাদের সব তাতেই থাকতে চাই । কি বুঝলে তো ?’’

08/09/2016

মাতৃ-সায়র

বছর সত্তরের এক বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে এলো হরিপুর থানায় । থানায় তখন ডিউটিতে ছিলেন থানার হোমরাচোমরা মেজোবাবু নাসির মোল্লা । তিনি তাকে দেখে যারপরনাই অবাক । বসতে দিয়ে খুব আগ্রহের সঙ্গে মেজোবাবু বৃদ্ধার কাছে জানতে চাইলেন,’’কী হয়েছে আপনার,মা ? অমন করে কাঁদছেন কেন ? সব খুলে বলুন । আমরা ব্যবস্থা নেবো ।‘’

বৃদ্ধা কোন উত্তর দিতে পারলো না । কেঁদেই গেলো শুধু । ততক্ষণে থানার অনেকেই সেখানে এসে উপস্থিত হল । সবার চোখ ছানাবড়া বৃদ্ধাকে দেখে । একে-একে অনেকেই তার কাছে কান্নার কারণ জানতে চাইলো । বৃদ্ধা সবার দিকে তাকাল চোখের জল ফেলতে ফেলতে ।

তার অনেকক্ষণ পরে বৃদ্ধা করজোড়ে মেজোবাবুকে বলল,’’আমার একমাত্র পোলা নিবারণ । তার কাছে আমি থাহি । অর বাপের মৃত্যুর পর অ আমার থেইক্যা বাড়ি-জমি হগলডা লিইখ্যা নেয় । এহন আমারে দেহে না । আমি এর-অর বাড়ি থেইক্যা চাইয়া খাই । খুব কষ্ট গো,বাবু । বাড়ির এককোণে পইড়া থাহি । চাইয়াও দেহে না আমারে । পোলা আর অর বৌ আমারে দ্যাখতি পারে না।একেবারে । আইজ পোলা আমার গায়ে হাত তুলছে । বৌ দেইখ্যা হাততালি দিছে ।‘’

সব কথা শুনে মেজোবাবু সহ অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল । কারো-কারো চোখ জলে ঝাপসা হল । অনেকেই বলতে থাকলো,’’ছেলেটাকে থানায় ধরে এনে রাম-ক্যালান দিলেই টাইট হবে ।‘’ মেজোবাবু বললেন বৃদ্ধাকে,’’বুঝলাম সব । তা পাড়ার লোক আপনার ছেলেকে কিছু বলে না ?’’ সেকথা শুনে বৃদ্ধা তার ময়লা কাপড়ের আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে বলে,’’পোলা আমার পার্টির মেম্বার ।‘’ একথা শুনে মেজোবাবু যেন একটু থমকে গেলেন । কিছুক্ষণ কীসব ভাবলেন । তারপর বললেন বৃদ্ধাকে,’’আপনার ছেলে যাই হোক,থানায় এনে যা করার আমি করছি । পিঠের ছাল-চামড়া খুলে নেবো ওর ।‘’

কিন্তু বৃদ্ধা মেজোবাবুর কথা শুনে সঙ্গে-সঙ্গে উঠে দাঁড়ালো । এগিয়ে গিয়ে তার পা চেপে ধরে খুব জোরে কেঁদে উঠে বলতে থাকলো,’’আমার পোলা রে মারবেন না,বাবু । আমি আর অর বাবায় কুনুদিন অর গায়ে হাত তুলে দেখি নাই । অ কষ্ট পাইলে আমি সইতে পারুম না ।‘’

বৃদ্ধাকে তুলে ধরে হা-হা করে হেসে উঠলেন মেজোবাবু নাসির মোল্লা । তারপর সবার উদ্দেশ্যে বললেন,’’মাই যখন ছেলেকে ছাড়তে চায় না,তখন আমরা আর কি করি । তার চেয়ে ভালো আমাদের অন্যকিছু নিয়ে ভাবা । উনি আর একদিন আসুন । দেখি সেদিন কি বলে । তারপর একটা ব্যবস্থা করা যাবে ।‘’

তারপরেই দেখা গেলো বৃদ্ধা সেই আগের মতো কাঁদতে কাঁদতে থানা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে । থানার ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণ । তাকে দেখে এক হোম-গার্ড বলে উঠলো,’’ওই তো তার ছেলে । খুব চিনি ওকে । মাকে বোধহয় নিতে এসেছে ।‘’ তার কথা শুনে উত্তেজিত মেজোবাবু ‘হারামির বাচ্চা’ বলতে গিয়ে ঢোঁক গিলে নিলেন ।

01/09/2016

বিষ্ঠার মঞ্চ

একের পর এক বুদ্ধিজীবী মঞ্চ থেকে তাদের মহা ভাষণ দিয়ে নেমে আসছে । তাদের মুখোমুখি বসে আছে এক তরুণ । এক-একজন নামার সাথে-সাথে সে উঠে দাঁড়িয়ে কি যেন বলতে চাইছে । খুব হাত নাড়ছে অস্থিরভাবে ।

উদ্যোক্তাদের একজন তরুণটির কাছে এগিয়ে গেলো ।
বেশ বিরক্তির সঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করলো,’’কী হয়েছে ? অমন করছ কেন তুমি ?’’
তরুণটি তখন মুখটা তার কানের মধ্যে প্রায় ঠেসে দিয়ে ফিসফিস করে বলল,’’সে আপনারা কেউ বুঝবেন না । আমি বললে আবার আমাকে মারতেও আসবেন ।‘’

তার কথা শুনে সেই উদ্যোক্তা সরোষে তাকে বলল,’’তবু তোমাকে বলতে হবে । মারার কোন প্রশ্নই নেই ।‘’ তখন তরুণটি একচোট হেসে ফেলল । তারপর মুখ খুলল সে ।

বলল,’’এমন কিছু না । বুদ্ধিজীবী মঞ্চে বিষ্ঠা ছড়িয়ে আসে । আমি বলতে চাইছিলাম ওটা প্রতিবার পরিষ্কার করা হোক । কীভাবে ? সে আমি তো বলতে পারবো না ।‘’

যারপরনাই অবাক উদ্যোক্তা মুচকি হেসে তাকে বলল,’’আর অমন কর না । আমি তোমার কথাটা একটু বোঝবার চেষ্টা করি । কেমন ?’’

তরুণটি পরে আর কোন ঝামেলা করেনি ।

27/08/2016

মা সর্বংসহা

কেয়া বাড়িতে যেই আসে,তাকে দাঁড়িয়ে করিয়ে রেখে শুধু কথা বলে যায় । সেও মুগ্ধ হয় ওর সুললিত কণ্ঠে । সবাই তাই কেয়াকে বলে,’’আপনি খুব মিশুকে ।‘’ কেয়ার বর প্লাবনকে সামলে পেলেও সেকথা শোনায় তারা তাকে । কিন্তু প্লাবন মোটেও খুশী নয় কেয়ার বেশী কথায় ।
প্রায় বলে ওকে,’’তুমি একজন স্কুল-শিক্ষকের স্ত্রী । একথা মনে রাখবে সবসময় ।‘’
শুনে কেয়া হেসে একটাই কথা বলে বারবার,’’আমার বাবা-মা কিন্তু এমনটি আমাকে শেখায়নি । আমি বা তুমি আগে মানুষ,তারপর অন্যকিছু ।‘’

কেয়াকে থামাতে পারে না প্লাবন । দরজায় মানুষ দেখলে তার সঙ্গে অনর্গল কথা বল । সেদিন প্লাবন বাড়ি ছিল । নিজের ঘরে কি একটা কাজ করছিলো । একবার দেখে গিয়েছিলো কেয়া তরুণ দুধওয়ালার সঙ্গে কথা বলছে । প্রায় আধঘণ্টা পরে গিয়েও প্লাবন দেখল কেয়া তার সাথে কথা বলেই চলেছে । সাথে-সাথে ঘর থেকে বাইরে এলো ও । দরজার কাছে নিমেষে পৌঁছে গেলো । তারপর প্লাবন শুরু করলো চড়া মেজাজে কথা ।

‘’এত কথার কী আছে,শুনি ? কথা বুঝি ফুরায় না তোমার ? এ কিন্তু একদম সয় না আমার । ঘরে চলে এসো ।‘’
প্লাবন একথা বললে দুধওয়ালা সাথে-সাথে সাইকেল হাঁকিয়ে চলে গেলো । মুখ তার ফ্যাকাসে । চমকে উঠে কেয়া প্লাবনের দিকে তাকাল । সজন চোখ ।
কোনোরকমে চোখের জলে বাঁধন দিয়ে কেয়া বলল প্লাবনকে,’’এত নীচ মন কেন তোমার ? কীসের শিক্ষক তুমি ? মানুষকে এত অসম্মান কর কেন ? ও বলছিল ওর আট বছরের ছেলের কথা । ব্লাড-ক্যান্সার হয়েছে । দুদিন আগে জেনেছে বেচারা । বাচ্চাটা বাঁচবে না । সেকথাই বলছিল বারবার । আর কেঁদেই যাচ্ছিলো । আমি মা তো । তাই ওকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম বারবার । তুমি ভাবলে অন্যকিছু ? ছিঃ... ও কিন্তু তোমার ছেলের জন্য আজও দুধ নিয়ে এসেছে । ও বাবা তো ।‘’

কেয়ার কথা শুনে প্লাবন হরভম্ব । মুখে কথা নেই । অবাক-দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কেয়ার দিকে ।
এবার কেয়া চোখের জলের সঙ্গে আগুন মিশিয়ে বলে উঠলো,’’ছাড়ো । আর অভিনয় করতে হবে না ।‘’
লজ্জায় একেবারে নুয়ে গিয়ে প্লাবন তখন । আবার ঘরের ভিতর ঢুকে গেলো । আর কেয়া চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এলো । ওর অপেক্ষা বুঝি সেই দুধওয়ালার জন্য । যদি তার কাছে প্লাবনের হয়ে একবার ক্ষমা চেয়ে নেওয়া যায় ।

Address

Bethuadahari
Bethuadahari
741126

Telephone

8436536593

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নীহার চক্রবর্তীর গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category