26/09/2026
৭১ বেলডাঙ্গা বিধানসভার মন্ডল ৪ সভাপতি মলয় মুখার্জি ও তার টিমের পক্ষ হইতে জানাই বিদ্যাসাগর মহোদয়কে জন্মদিনের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় দিন। প্রতি বছর ২৬শে সেপ্টেম্বর এই মহান মনীষীর জন্মবার্ষিকী শ্রদ্ধা ও স্মরণের সাথে উদযাপিত হয়।
১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মেদিনীপুর জেলার (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর) বীরসিংহ গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ভগবতী দেবী।
তাঁর জন্ম দিবস উপলক্ষে যে বিশেষ দিকগুলো মনে রাখা প্রয়োজন, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
বাঙালি নবজাগরণের প্রতীক: বিদ্যাসাগরের জন্ম কেবল একটি শিশুর জন্ম ছিল না, বরং তা ছিল বাংলার সমাজ সংস্কার ও আধুনিকতার এক নতুন যুগের সূচনা। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বাংলা গদ্যের জনক ও বর্ণপরিচয়: তিনি বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে সহজপাঠ্য করে তোলেন। তাঁর লেখা ‘বর্ণপরিচয়’ বইটির মাধ্যমে আজও আপামর বাঙালি শিশুর অক্ষরের সাথে প্রথম পরিচয় ঘটে। বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকারও ছিলেন তিন সংস্কারক: তাঁর জন্মদিবসে সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদানকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয়। তিনি হিন্দু বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করতে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, যা ১৮৫৬ সালে ‘বিধবা বিবাহ আইন’ পাসের মাধ্যমে স্বীকৃতি পায়। এ ছাড়া বহুবিবাহ রদ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও তিনি আজীবন লড়াই করেছেন।
নারী শিক্ষার প্রসার: নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়。 তিনি নিজ উদ্যোগে বাংলায় মেয়েদের জন্য বহু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সমাজকে বুঝিয়েছিলেন যে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নতি অসম্ভব।
দয়ার সাগর ও মানবিকতা: অসামান্য পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি যেমন 'বিদ্যাসাগর' উপাধি পেয়েছিলেন, তেমনই দরিদ্র, অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির জন্য মানুষ তাঁকে 'দয়ার সাগর' হিসেবেও স্মরণ করে।
প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জীবনী ও কাজের ওপর আলোচনা সভা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা ও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমান সমাজেও তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।