30/05/2026
২০১৬ সালে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সহকারী শিক্ষক এবং গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি (অশিক্ষক কর্মী) পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা (SLST) নেয়। পরবর্তীতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক স্তরে আর্থিক লেনদেন এবং জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। সিবিআই (CBI) এবং ইডি (ED)-র তদন্তে মূলত তিনটি প্রধান জালিয়াতি সামনে আসে:
ওএমআর (OMR) শিট কারচুপি: পরীক্ষার্থীদের মূল ওএমআর শিট নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিবিআই তদন্তে গাজিয়াবাদের একটি হার্ডডিস্ক থেকে ওএমআর-এর 'মিরর ইমেজ' বা আসল তথ্য উদ্ধার করে। দেখা যায়, বহু প্রার্থী খাতায় ০ বা ২ পেয়েও সার্ভারে নম্বর বাড়িয়ে চাকরি পেয়েছেন।
র্যাঙ্ক জাম্পিং (Rank Jumping): মেধাতালিকায় পেছনের সারিতে বা তালিকায় নাম না থাকা প্রার্থীদের অবৈধভাবে সুপারিশপত্র (Recommendation Letter) দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্যানেল বহির্ভূত নিয়োগ: কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া বা মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে সরাসরি "অদৃশ্য হাত"-এর নির্দেশে নিয়োগপত্র বিলি করার প্রমাণ মেলে।
এই কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সম্পত্তির খোঁজ পায়।রাজ্যের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ও বিপুল সোনা উদ্ধার হয়, যার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়।এছাড়াও এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা, তৎকালীন সভাপতি সুবীরেশ ভট্টাচার্য সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
এই মামলার আইনি লড়াই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court) পর্যন্ত পৌঁছায়, যার জেরে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে:সময়কালআইনি পদক্ষেপ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ২২ এপ্রিল, ২০২৪কলকাতা হাইকোর্টের রায়: বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়, যার ফলে প্রায় ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারান।৩ এপ্রিল, ২০২৫সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিলমোহর: সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের সেই রায়কে বহাল রাখে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, এই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জালিয়াতি এবং তথ্য গোপনের মাধ্যমে "অপবিত্র এবং কলুষিত" (Tainted and Vitiated) হয়ে গেছে। ফলে ঢালাওভাবে পুরো প্যানেল বাতিল করার সিদ্ধান্তই সঠিক।আগস্ট - সেপ্টেম্বর, ২০২৫সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা ও নতুন পরীক্ষা: সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলে, "অযোগ্যদের ঢুকিয়ে সৎ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হয়েছে।" আদালত নির্দেশ দেয়, যে সমস্ত প্রার্থীরা সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে চাকরি পেয়েছিলেন (Tainted Candidates), তাঁদের নাম এবং রোল নম্বর জনসমক্ষে (Public Domain) প্রকাশ করতে হবে যাতে তাঁরা নতুন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারেন। অন্যদিকে, 'অনিন্দ্য' বা সৎ প্রার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষার আয়োজন করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।জানুয়ারি, ২০২৬বয়স ছাড় নিয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ: সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশিকায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়, যেখানে অনুত্তীর্ণ প্রার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে, কেবলমাত্র যাদের রেকর্ড সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং কোনো জালিয়াতির ছোঁয়া নেই, আইনি স্বস্তি বা ছাড় কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে।
BJP West Bengal Bharatiya Janata Party (BJP) Suvendu Adhikari
Video Courtesy
ABP Ananda