22/04/2026
অনেক দীর্ঘ সময় পর আজ কিছু লিখছি। এতদিন লেখার সময় হয়নি এরকম নয়, কিন্তু আমার দেশ যেভাবে ঘটনা বহুল হয়ে উঠেছে বিগত কয়েক বছরে সেসব দেখে শুনে আজ নিজের মনে তিনটি প্রশ্ন আসছে সুশাসন, প্রশাসন, এবং দুঃশাসন। আমি একজন জনপ্রতিনিধি মমতা ব্যানার্জীর মতাদর্শ অথবা ওনার মানুষের প্রতি যে দায়বদ্ধতা তা আমায় ওনার প্রতি শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দেয়। হ্যাঁ আমি ওনার সাথে ওনার দল করি। দীর্ঘ ১৫ বছর ওনার সাথে একই রাজনৈতিক পথে এগিয়ে চলেছি। আমার বারাবনীর মানুষ আমায় বিধান নামেই চেনে ওই নামেই ডাকে আর আমি তখনই বুঝতে পারি মমতা ব্যানার্জীর মতাদর্শ অনুসরণ করে ভুল করিনি। হ্যাঁ আমি মহামানব নই, কিন্তু একজন সাধারণ গৃহস্থ স্ত্রী পুত্র নিয়ে সংসার করা সামাজিক মানুষ। বারাবনীর মানুষের কৃপায় নামের আগে বিধায়ক লেগেছে। তাতে কি বিধান শুধু বিধান বারাবনীর প্রত্যেকটি পাড়ার বিধান, প্রত্যেকটি মানুষের জন্য বিধান।
এই দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ আমার প্রতি মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আস্থা রেখেছেন, তার কর্মপদ্ধতির উপর আস্থা রেখেছেন এরজন্য আমি বারাবনীর প্রত্যেকটি মানুষকে নিজের শ্রদ্ধা জানাই। বলবেন ভুল হয়নি? আমি বলব হ্যাঁ ভুল হয়েছে, প্রচুর ভুল হয়েছে। কাজ করতে করতে অনেক ভুল হয়েছে, ধরতে পেরে ঠিক করেছি, আবার অন্য কোন ভুল হচ্ছে আবার শুধরে নিচ্ছি। এভাবেই পথ চলছি। আর ভুল করলে মানুষ ধরিয়ে দেয়, ফোন করে বলে এটা আমার একটা খুব বড় সুবিধা। সাংগঠনিক ভুল হয় ঠিক হয় আবার হয় আবার ঠিক করা হয় এভাবেই চলতে থাকি। তবুও কিছু প্রশ্ন মানুষের থেকেই যায় আমিও মানুষ তাই আমরাও মনে কিছু প্রশ্ন জমা হয়ে আছে যা আজ আপনাদের বলব, ভেবে দেখবেন একবার আমার প্রশ্নগুলো অমূলক কি না? কারন আমি বারাবনীর মানুষের ভাবনা, কৃষ্টি, রুচি, মননশীলতায় বিশ্বাস করি। আপনাদের উত্তর গুলো লেখার কমেন্টে পাব আশা রাখছি।
দেশ কি ভালো আছে?
আমার মনে হচ্ছে দেশ ভালো নেই। আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার কে সন্মান জানিয়ে বলছি আমার মনেহয় দেশ ভালো নেই।
মনিপুর: মেইতি উপজাতি ও কুকিজো উপজাতির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে 3rd May 2023 থেকে আজ পর্যন্ত। যদিও কোন টিভি মিডিয়া এই খবর দেখাবে না কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু স্বাধীন খবরের চ্যানেলের youtube এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজ দীর্ঘ ৩ বছর ধরে মানুষের মৃত্যু মিছিল চলছে,হাহাকার চলছে, গনধর্ষ* চলছে কিন্তু সরকার নির্বিকার। এটাই কি সুশাসন ?
অবৈধ সম্পত্তি তিন দেশের নাগরিক: আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার আজ একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগের সম্মুখীন। রিঙ্কি ভূঁইয়া হিমান্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রীর চারটি দেশের নাগরিকত্ব আছে। কে বলেছে পবন খেরা, এবং সর্বসমক্ষে প্রমান দেখাচ্ছে। কোথাকার পাসপোর্ট আছে; আরব এমিরেটস, এনটিগুয়া, ইজিপ্ট, বার্বুদা। দরকার পড়লে google করে নিন। সঙ্গে এটাও বলছেন আমেরিকার Wyoming নামক সংস্থায় 52,000 কোটি টাকার মালিকানা আছে। দুবাইয়ের গোল্ড কার্ড আছে। এগুলো কিছুদিন আগে টিভিতে আসে। এইসমস্ত অভিযোগ একপ্রকার গায়ের জোরে মিথ্যা বলে তদন্ত ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে এরকমটা কংগ্রেসের তরফ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী যিনি বিপক্ষের বাথরুমে ED CBI পাঠানোয় সিদ্ধহস্ত তিনি চুপ কেন? আমাদের সরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি কথায় কথায় NRC করেন, ডিপোর্ট করেন তিনি চারখানি দেশের পাসপোর্ট ধারনকারী মানুষকে একটাও প্রশ্ন করবেন না? ঘুসপেটিয়া আর রোহিঙ্গা শুধু বাঙালীদের জন্য? কুলদীপ সিং সেনগার: 2017 সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও নাবালিকা ধর্ষ* কাণ্ডে জড়ায়, 2019 সালে সাজা পায়। নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিপীড়িতার বাবা কে পুলিশি হেফাজতে মেরে ফেলে। পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষ কে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। নিপীড়িতার লাশ সকলের অন্তরালে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরাষ্ট্র মন্ত্রী একটি কথা বলেন না। কিন্তু দেশের অন্যপ্রান্তে বাংলার সুশাসন প্রশাসন নিয়ে খুবই চিন্তিত থাকেন। নারীদের সুরক্ষা নিয়ে খুবই চিন্তিত থাকেন। এটা কি ঠিক ?
ভোট কা পহেলে 10 হাজার ভোটকে বাদ বুলডোজার: হঠাৎ সেদিন ফেসবুকে দেখলাম সম্রাট চৌধুরী বিধানসভায় বসে খৈনি খেলেন। তারপর দেখলাম প্রশান্ত কিশোর ওনার 1995 সালের খুনের সাজাপ্রাপ্ত ঘটনার কথা বলছেন। বললেন 7 খানা খুনের আসামী। যদিও BJP ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার হয়েগেছেন। আমার দেখলাম এক সাংবাদিক ওনার পড়াশোনার সার্টিফিকেট নিয়ে ধন্দে আছেন। PFC কোন ডিগ্রী জিজ্ঞেস করছেন। যদিও শপথবাক্য বলতে গিয়ে কি হয়েছে সবাই জানেন। কিন্তু ভোটের আগে ভোট নেওয়ার জন্য 10,000 টাকা দিয়ে আবার ফেরত নিয়ে নেওয়া এটা ঠিক কি হলো? আবার বুলডোজার চালালেন সেটাও একটা ইতিহাস।
2014 সাল থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একের পর এক জনদরদী প্রকল্প এনেছেন,
নোটবন্দী
আধার কার্ডের সাথে প্যান লিঙ্ক
ব্যাঙ্কের খাতার সাথে আধার লিঙ্ক
মোবাইলের সাথে আধার লিঙ্ক
রেশন কার্ডের সাথে আধার লিঙ্ক
NRC
CAA
SIR
শেষ পর্যায়ে প্রকল্পে মানুষ বুঝতেই পারছেন কি করতে চাইছেন সরাষ্ট্রমন্ত্রী । ঘুসপেটিয়া আর রোহিঙ্গার নামে বাংলা থেকে বাঙালি হাটাও অভিযান চলছে। নতুন একটি স্লোগান বানিয়েছে "বাংলা বোলনা হ্যায় তো বাংলাদেশ যাও। বাঙালী বাংলাদেশি।"
ভালো থাকবেন সবাই, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ আমাদেরই থাকবে। আমাদের রবীন্দ্রনাথ আমাদের নজরুল আমাদের জীবনানন্দ আমাদেরই থাকবেন। আমাদের শিক্ষা,সস্কৃতি, কৃষ্টি আমরা বহিরাগতদের হাতে কখনোই দেব না। আমরা আমাদের শাসন প্রশাসন যবনদের হাতে দেব না। আমাদের ঘর আমরাই সামলাব।