09/07/2025
গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার আগে শেষ গান লিখলেন,
" আমায় একটু জায়গা দাও, মায়ের মন্দিরে বসি!"
সাথে সাথেই শেষ হয়ে গেল স্বর্ণ যুগের এক গীতিকারের জীবন!
তিনি হলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৩১- ১৯৯৯)
ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা,গান লেখার নেশা। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত গান লিখতে পারতেন।
অনেকদিন পর একদিন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে এলেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বেশ কিছুক্ষণ পরে বাথরুম থেকে স্নান করে বেরোলেন। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে বললেন: হেমন্ত, কতদিন পরে এলে, একটু বসো। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়েরি বার করে বসে বসে একটা গান লিখে ফেললেন,
" কতদিন পরে এলে একটু বোসো, তোমায় অনেক কথা বলার ছিল, যদি শোন।"
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইলেন সেই গান।
তারপর আরো কত গান,
"একগোছা রজনীগন্ধা হাতে দিয়ে বললাম চললাম।"
একবার প্লেনে এক সুন্দরী বিমানবালাকে দেখে লিখে ফেললেন,
"ও চাঁদ সামলে রেখো জোছনাকে/ কারো নজর লাগতে পারে। "
এক সুন্দরী ভদ্রমহিলার কান থেকে একটা ঝুমকো পড়ে যেতে দেখে লিখলেন একটি গান,
"জড়োয়ার ঝুমকো থেকে একটি মতি খসে পড়েছে, আমি কুড়িয়ে নিয়েছি।"
তারপর,
" মা, মাগো মা, মা গো মা, আমি তোমার কোলে... "
" ক ফোঁটা চোখের জল ফেলেছো যে তুমি ভালবাসবে। "
এই বর্ষা দিনে,
" রিমঝিম বৃষ্টি... "
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় মান্না দের জন্যে সবথেকে বেশি গান লিখেছেন।
আরতী মুখার্জি গাইলেন,
" এক বৈশাখে দেখা হল দুজনার।"
" যদি আকাশ হতো আঁখি।"
শ্যামল মিত্র গাইলেন,
" আমি তোমার কাছে ফিরে আসব।"
" ধরো কোন এক গানের পাখি। "
তারপর লতা মঙ্গেশকারের কণ্ঠে,
" আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো, হারিয়ে যাবো।"
" নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা। "
কিশোর কুমার গাইলেন,
আজ মিলনতিথির পূর্ণিমা চাঁদ মোছায়। "
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি গানের জন্যে কেরিয়ারের শুরুতে কুমার শানুর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল,
" অমরশিল্পী তুমি কিশোরকুমার, তোমায় জানাই প্রণাম।"
হৈমন্তী শুক্লার তখন বাজার খুব খারাপ। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এসে ধরলেন।পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় মান্না দে-র জন্য রেখে দেওয়া দুটো গান হৈমন্তীকে দিলেন। হৈমন্তী শুক্লা আবার গানের জগতে ফিরে এলেন। সেই গান দুটি হল,
" আমার বলার কিছু ছিল না।"
" ঠিকানা না রেখেই ভালোই করেছ বন্ধু।"
জীবনের শেষদিকে প্রায়ই গঙ্গার ঘাটে একা বসে থাকতেন।
মৃত্যুর দু'দিন আগে ৫ সেপ্টেম্বর শেষগান লিখলেন,
" আমায় একটু জায়গা দাও, মায়ের মন্দিরে বসি।"
এর দু'দিন পর গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন।
মান্না দে সেই গান পরে রেকর্ড করলেন।
শোনা যায়, এই গান রেকর্ড করার মান্না দের চোখ জলে ভরে গেছিল!
স্বর্ণ যুগের বাংলা গানের এক হীরে চিরতরে হারিয়ে গেলেন!
An Animesh
✍️ পীযূষ দত্ত