03/11/2023
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক যে জেলা থেকে নির্বাচিত, যেখানে তিনি দলের সর্বময় কর্তা হিসাবে ছিলেন দীর্ঘদিন, সেই উত্তর ২৪ পরগনায় কার্ড কমেছে ১২লক্ষের বেশি। সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কমেছে ১৫ লক্ষের বেশি। আর যেখানে রেশন দুর্নীতির এফআইআর হয়েছিল, সেই নদীয়ায় কমেছে প্রায় ৮লক্ষ কার্ড। এছাড়া প্রতিটি জেলাতেই রেশন কার্ড কমেছে। যদিও এই নিয়ে বিজেপি কখনও চিৎকার-চেঁচামেচি করেনি। অথচ রাজ্যে বিজেপি'র প্রধান মুখ, শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরেও প্রায় ৬লক্ষ কার্ড কমেছে। যখন এই কার্ডগুলিতে চাল, আটা তোলা হয়েছে, যখন এই কার্ডগুলি হয়েছে, তখন শুভেন্দু তৃণমূলেই ছিলেন। কার্ড হওয়ার সময় এবং কার্ড বাতিল হওয়ার সময় কখনোই বিজেপি-কে মুখর হতে দেখা যায়নি।।
রাজ্যে রেশনে দু' ধরনের প্রকল্প আছে। প্রথমত, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা (এনএফএসএ)। দ্বিতীয়ত, রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা (আরকেএসওয়াই)। আরকেএসওয়াই-এ দু' ধরনের কার্ড - আরকেএসওয়াই-১ এবং আরকেএসওয়াই-২। উধাও হয়ে গেছে মূলত এই রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার কার্ডধারীরা। কারণ জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনার কার্ডের সংখ্যা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ধারিত। তা কিছুতেই ৬কোটি ১ লক্ষের বেশি হবে না আগামী জনগণনার রিপোর্ট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত। তাই যা 'বাতিল' হয়েছে, তার বেশিরভাগই এই আরকেএসওয়াই- ১,২-র কার্ড।
রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের এক আধিকারিক দাবি করেছেন, “এই প্রায় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ কার্ডকে আমরা বাতিল বলছি না। আমরা এই গুলিকে ব্লক করে রাখছি। যাদের বায়োমেট্রিক মিলছে না, কিংবা যারা বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর পরে আর রেশন নিতে আসছেন না, এই কার্ডগুলি তাদেরই।” কিন্তু প্রশ্ন থাকছেই যে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাদের রেশন কার্ড আটকে যাচ্ছে, তাঁরা বেশিরভাগই কেন রাজ্য সরকারের দুটি প্রকল্পের আওতায় ছিলেন?
অভিযোগ, কারচুপি এখানেই বেশি হয়েছে। হয়েছে যখন রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষা যোজনা শুরু হয়েছে, সেই ২০১৬ থেকে। যে প্রকল্পকে মমতা ব্যানার্জি 'খাদ্যসাথী' বলে চালিয়ে এসেছেন।
এই কার্ডগুলির ভিত্তিতে চাল, আটা তোলা হয়েছে দীর্ঘদিন। সেই চাল, আটা কোথায় গেছে- জ্যোতিপ্রিয় এবং তার সহযোগী বাকিবুর গ্রেপ্তার
হওয়ার পর সেই প্রশ্ন উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, এই কার্ডগুলি বাতিল হওয়ার পর মাসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বছরে এর পরিমাণ প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা।।
খবর সূত্র:- গণশক্তি পত্রিকা
৩০/১০/২০২৩