Ratibati Colliery

Ratibati Colliery about Ratibati ,kashinathpur ,chapui area. in between Asansol & Raniganj! Buss stop Chanda More!

16/03/2026

পুরোনো কোয়ার্টারগুলো আজো সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে... শুধু চেনা মানুষগুলো নেই। 🏠 পুব দিকের সেই সোনালী রোদ আর উড়িয়াদের মেসের সেই গমগম করা আওয়াজ—সবই আজ স্মৃতি।
​আমাদের শৈশবের সেই "রতিবাটি কলিয়ারী"। 🖤
​এখন তো যান্ত্রিক জীবনে মুখোশের ভিড়ে আমরা সবাই ক্লান্ত। কিন্তু মন আজও পড়ে থাকে সেই কয়লা খাদানের ধুলোমাখা পথে, সেই নয়-দশের সোনালী দিনগুলোতে। যেখানে সুখ ছিল খুব অল্পে, আর আপনজন ছিল প্রতিটা ঘরে।
​আপনারও কি মনে পড়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা? সেই পুরোনো অফিস, মেঠো পথ আর এক চিলতে হারানো সুখ?
​নিচে আমার লেখা একটি গান ও কবিতা শেয়ার করলাম। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন, হয়তো কোনো হারানো বন্ধু এই পোস্টের মাধ্যমেই আবার খুঁজে পাবে তার শৈশবকে। 👇
​ #কলিয়ারীরস্মৃতি #রতিবাটি ゚

12/03/2026

বৃষ্টি শুধু আকাশ থেকে নামে না…
কিছু বৃষ্টি চোখের ভেতরও জমে থাকে।
সেই গল্পের নাম — ‘জমানো জল’ 🌧️”
“এই গানটা প্রেমের নয়, ゚

16/02/2026

হারানো সেই বিয়েবাড়ির গপ্পো 📜✨

​পরদিন সকালের রোদটা যখন আধখোলা প্যান্ডেলের বাঁশ আর ত্রিপলের খাঁজে এসে আলসেমি করে পড়ে, তখন মনটা কেন জানি হু হু করে ওঠে। চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা বাসি রজনীগন্ধার ডাঁটা, তরকারি-হলুদ মাখা এঁটো শালপাতা আর মাটির ভাঁড়ের স্তূপ এরা যেন এক একটা গত হওয়া উৎসবের কঙ্কাল। 🥀
​আমাদের কোলিয়ারির কোয়ার্টারে ৮০/৯০ দশকের সেই দিনগুলো ছিল একদম অকৃত্রিম। আজকালকার এসি 'ব্যাঙ্কোয়েট হল'-এ আভিজাত্য আছে, কিন্তু সেই মাসি-পিসি-দিদিমাদের প্রাণের ছোঁয়া নেই। মনে পড়ে, বিয়ের তিনদিন আগে ছোটো মাসি আর দিদিমা যখন ব্যাগপত্র নিয়ে রিক্সা থেকে নামতেন, মনে হতো বাড়িতে এক বিজয়িনী বাহিনী নামল! তারা এসেই আঁচলটা কোমরে জড়িয়ে সোজা ঢুকে পড়তেন হেঁসেলে। কার হাতে ক্ষীর ভালো হবে কে হবে ক্ষীর রাঁধুনী, কে হেঁসেল সামলাবে সবই ছিল তাঁদের নখদর্পণে। 👵❤️

​আয়োজনের সেই মহাযজ্ঞ: পাড়ার মোড়ে সানাইয়ের সুর আর শাঁখের আওয়াজেই বোঝা যেত বিয়ের ফুল ফুটেছে। গায়েহলুদের সেই শিল-নোড়ায় বাটা টাটকা হলুদের গন্ধ আজও নাকে লেগে আছে। আর ছিল "শুকচিড়ে" খাওয়ানোর সেই ভোরবেলার হুল্লোড়! ভোর পাঁচটায় থালা বাজিয়ে মা-কাকিমাদের ঘুম ভাঙানো আর সবাই মিলে গোল হয়ে বসে দই-চিঁড়ে খাওয়ার সেই স্বাদ কি আজকের ফাইভ স্টার ব্রেকফাস্টে পাওয়া সম্ভব? 🥣☀️

​ভিয়েন আর সেই গামছাধারী সেনাপতিরা: ক্যাটারিং প্রথা তখনো আসেনি, আসানসোলের 'নাগ সুইটস' আর রানিগঞ্জের বাজার নিয়ে চলত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক। দেবুকাকু, রহিতদা বা খোকনদারা কোমরে গামছা বেঁধে যখন মাঠে নামতেন, ওই গামছাটাই ছিল তাঁদের ‘ভলান্টিয়ার ব্যাজ’।
পাশে 'গুলি মাটির ঘর' বা মেসে বসত ভিয়েনের আসর। কয়লার আঁচে তৈরি লেডিকেনি আর বোঁদের গন্ধে ম ম করত আকাশ। আর সম্রাট হয়ে ফোল্ডিং চেয়ারে বসে থাকতেন সেই রান্নার তদারককারী বৃদ্ধ মাছের পিস ছোট করা থেকে খাস অনুচরদের মাংসের চর্বির বড়া বিলি করা, সবটাই ছিল তাঁর ইশারা। 🍖🔥
​কলাপাতা আর মাটির গেলাসের মহোৎসব: রাতের ভোজ মানেই কাঠের টেবিল আর কলাপাতার কোণে নুন-লেবু-শাক ভাজা। পরিবেশন শুরু হতেই চারিদিকে রব উঠত “গেলো গেলো!” ফুটো মাটির গেলাস দিয়ে জল গড়িয়ে কারোর ধুতি বা শাড়ি ভিজে একসা! এর মাঝেই আসত সেই রাজকীয় কচি পাঁঠার মাংস আর বাসন্তী পোলাও। রসগোল্লার রস আর মাংসের ঝোলের সেই অদ্ভুত মিলনমেলার স্বাদ আজও জিভে লেগে আছে। খাওয়া শেষে লবঙ্গ গাঁথা পান মুখে দিতে দিতে কর্তার সেই চিরচেনা প্রশ্ন “ঠিক করে খেয়েছেন তো?” 🥘🍃

​বিদায়ের সেই সুর: সারারাত বাসর জাগিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটত, তখন শুরু হতো 'কুসুমডিঙ্গা' আর যজ্ঞের আগুনে ভাই-বোনের ভালোবাসার সেই শেষ অর্ঘ্য আগুনের সামনে বর-কনের সেই ধ্রুপদী মুহূর্তটি এক অদ্ভুত আবেগময় কনে কুলা হাতে যজ্ঞের আগুনের সামনে দাঁড়ায় আর ভাই সেই কূলোয় খৈ দেয় বর তার পেছনে থেকে কনের হাত ধরে খৈ যজ্ঞের আগুনে অর্পণ করেন
আর তার পরেই শুরু হতো বিচ্ছেদের করুণ সুর। কনের সেই ডুকরে কান্না আর বাবার আড়ালে গিয়ে চোখ মোছা কোলিয়ারির সেই শক্ত পাথুরে মাটিও যেন সেদিন ভিজে যেত। 🌸💧
​আজকাল বিয়ের নিমন্ত্রণে গেলে নিজেকে কয়েদি মনে হয়। কাঁচের ভারী প্লেট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যেন রেশন দোকানের সারি। রোবটের মতো ড্রেস পরা পরিবেশনকারীদের মুখে হাসি নেই, আন্তরিকতা নেই। খাবার হয়তো গরম থাকে, কিন্তু মানুষের মনটা থাকে হিমশীতল। ❄️

​অবুঝ মন আজও খুঁজে বেড়ায় সেই স্যান্ডো গেঞ্জি পরা এক ঝাঁক তরুণকে, যারা জোর করে পাতে আরও দুটো রসগোল্লা ফেলে দিয়ে বলবে “আরে একটা খান না কাকু, কিচ্ছু হবে না!” কোলিয়ারির সেই ধুলোমাখা রাস্তায় আজ আর কেউ দাঁড়িয়ে থাকে না জিজ্ঞাসু মুখে “ঠিক করে খেয়েছেন তো?” 💔

© নরকিচাক্ষ
​ #নস্টালজিয়া #কোলিয়ারি_স্মৃতি #পুরানো_সেই_দিনের_কথা #বিয়েবাড়ি #আশির_দশক #আবেগ #স্মৃতিচারণ

অন্তরালে: ​শীতের সন্ধ্যা। নবপল্লীর নতুন ফ্ল্যাটবাড়ির দোতলায় তখন তারুণ্যের কল্লোল। ঘরের দেয়ালে দামী প্লাস্টিক ইমালশন, মেঝ...
29/01/2026

অন্তরালে:

​শীতের সন্ধ্যা। নবপল্লীর নতুন ফ্ল্যাটবাড়ির দোতলায় তখন তারুণ্যের কল্লোল। ঘরের দেয়ালে দামী প্লাস্টিক ইমালশন, মেঝেতে শ্বেতপাথরের শীতল জেল্লা। নীলার বন্ধুদের আড্ডায় ঘর ম-ম করছে কফি আর দামি পারফিউমের গন্ধে।
​নীলা এ বাড়ির গিন্নী, সদ্য বিবাহিতা। তার স্বামী বাবুল এই এলাকার উদীয়মান ডাক্তার। রোগীদের ভিড় সামলে তার ফিরতে দেরি। বন্ধুদের মাঝখানে বসে নীলা যখন খিলখিল করে হাসছিল, তখনই পর্দার ওপাশে একটা ছায়া থমকে দাঁড়াল।
​লাঠি হাতে এক বৃদ্ধ। পরনে একটা পুরনো খদ্দরের চাদর, যা সময়ের ঘষায় অনেকটা বিবর্ণ। তিনি অবিনাশবাবু, বাবুলের বাবা। কাঁপা গলায় ঘরের দরজার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, বলি, ও বৌমা, বাবুল কি ফিরল?
​নীলার ভ্রু কুঁচকে গেল। বন্ধুদের সামনে এই পুরনো মানুষটার উপস্থিতি যেন তার রুচিতে লাগল। সে উত্তর দেওয়ার আগেই সত্যব্রত বলে উঠল, "আসুন মেসোমশাই, ভেতরে আসুন।
​অবিনাশবাবু ইতস্তত করে ঢুকলেন। সত্যব্রতের পাশে বসতে বসতে বললেন, তোমরা সব বাবুলের বন্ধু? ও খুব মেধাবী ছিল ছোট থেকে, বুঝলে? হ্যারিকেন জ্বালিয়ে রাত জেগে পড়ত আর মনোরমা (বাবুলের মা) পাশে বসে তালপাতার পাখা দিয়ে হাওয়া করে করে ঘুমে ঢুলে পড়তো!
​নীলা আর সহ্য করতে পারল না। গম্ভীর মুখে শাসনের সুরে বলল, বাবা, আপনি ওঘরে যান। অনেক রাত হয়েছে, শুয়ে পড়ুন গিয়ে। আমরা একটু জরুরি গল্প করছি।
​বৃদ্ধের মুখের উজ্জ্বলতা নিমেষে নিভে গেল। তিনি তড়িঘড়ি উঠতে গেলেন, কিন্তু সত্যব্রত তাঁর হাতটা চেপে ধরল। শান্ত কিন্তু কঠিন স্বরে সে নীলাকে বলল, বসুন জেঠু। নীলা, ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। জরুরি গল্প তো ওনার সঙ্গেই হতে পারে।
​বাকি বন্ধুরা আড়ষ্ট হয়ে উঠল। নীলা বিরক্তিভরা গলায় বলল, "সত্য, তুই সব ব্যাপারেই একটু বেশি করিস। বাবার শরীর ভালো না, ওঘরে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো।
​অবিনাশবাবু ম্লান হেসে বললেন, "ঠিকই তো মা, আমার বসার ক্ষমতা কমেছে। একটানা বসলে মাজাটা টনটন করে। তা তোমরা রাতে খেয়ে যেও বাবা।" তিনি ধীর পায়ে পাশের অন্ধকার ঘরের দিকে চলে গেলেন।
​নীলার এক বন্ধু উপহাসের সুরে বলল, কিরে সত্য, তুই তো দেখছি 'আইডিয়াল সুপুত্র' হওয়ার প্র্যাকটিস করছিস! তা বুড়োটার জীবনকাহিনী আর কতটা বাকি?
​সত্যব্রত এবার উঠে দাঁড়াল। জানালার ওপাশে তাকিয়ে সে শান্ত গলায় বলল, জানিস নীলা, এই ফ্ল্যাটের পাথুরে মেঝেতে যে আরাম আজ তোরা পাচ্ছিস, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে এই বৃদ্ধের পঁচিশ বছরের উপবাসে। বাবুল আজ ডাক্তার, কারণ ওর বাবা পুজোর নতুন জামা কেনেননি, নিজের চিকিৎসার টাকা বাঁচিয়ে ছেলের টিউশন ফি দিয়েছেন। আজ তোরা যখন আড্ডা দিচ্ছিস, তখন একবার ভেবে দেখেছিস এই ঘরে তোদের আসার অধিকার তৈরি করে দিয়েছেন ওই মানুষটাই?
​ঠিক এই সময় সদর দরজার চাবি ঘোরার শব্দ হলো। বাবুল ঘরে ঢুকেছে। তার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। সত্যব্রত তার দিকে তাকিয়ে বলল, বাবুল, বাইরে থেকে রোগী দেখে আসছিস তো ঠিক আছে, কিন্তু ঘরের সবচেয়ে বড় পেশেন্ট যে একাকীত্বে ভুগছে, তাকে কি একবার দেখেছিস? উনি তোদের কাছে টাকা চান না রে, শুধু একটু মানুষের সঙ্গ চান।
​বাবুল স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নীলাও মাথা নিচু করে সোফার কোণায় বসে রইল। সত্যব্রত তার ব্যাগটা তুলে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। যাওয়ার আগে শুধু বলে গেল: "তুই আজ মোহনায় দাঁড়িয়ে সমুদ্রের গর্জন শুনছিস নীলা, বড় সুন্দর সেই শব্দ। কিন্তু মনে রাখিস, পাহাড়ের কোনো এক নির্জন কোণে পাথর খুঁড়ে যে ঝর্ণাটা বেরিয়েছিল, সে নিজের অস্তিত্ব ক্ষয় করে জল দিয়েছিল বলেই আজ তুই মোহনায় দাঁড়িয়ে ঢেউ গুনতে পারছিস। পাহাড়কে অস্বীকার করে সমুদ্রের পূজা করা যায় না। নদীর উৎসে যদি টান পড়ে, তবে মোহনাও একদিন ধূ ধূ মরুভূমি হয়ে যাবে।"

©নরকিচাক্ষ

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Arijit Roy, Sudip Prasad Sinha, Mahabir Swami, Sourav Mon...
14/01/2026

Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Arijit Roy, Sudip Prasad Sinha, Mahabir Swami, Sourav Mondal, Biswajit Roy, Papan Samanta

10/01/2026

"সরস্বতী বানান বল তো দেখি?"—কাকু বললেই হলো? আমাদের লক্ষ্য তো তখন প্যান্ডেল আর রাত জেগে রঙিন কাগজ কাটা! ✂️
​কয়লার আগুন, আদা-চা আর সেই গোপন বিড়ির অভিযান... কোলিয়ারির কোয়ার্টারে কাটানো সেই কৈশোরের দিনগুলো কি ফিরে পাওয়া যাবে না আর? রতিবাটীর তিন নম্বরের সেই ‘বালক সংঘ’ আজও আমাদের হৃদয়ে আদি ও অকৃত্রিম।
​কার কার ছোটবেলায় এমন ‘গোপন অভিযান’ চলত? কমেন্টে জানান!
#বন্ধুত্ব #সরস্বতীপূজা #স্মৃতিচারণ

Address

Chanda To Ratibati
Asansol

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ratibati Colliery posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share