� Short Introduction: A Non governmental organization that starts by some enthusiastic boys from a small town rupnarayanpur to the development and welfare for the rural society around them... starting from villages to block to district want to proving a Helping Hand.
� পরিচিতি:
পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক অঞ্চল রূপনারায়ণপুর। গ্রাম শহর মিলিত ছোট এক জনপদ। এখানে রয়েছে নানা ধর্মের মানুষ । পশ্চিমবঙ্গের
বর্ধমান জেলার প্রান্তিক এই মফস্বলের নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই জড়িত কয়লা শিল্পের সাথে। সেই সব পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দময় শৈশব ফিরিয়ে আনতে শুরু হয়েছিল 'পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন' এর পথ চলা। পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন একটি সামাজিক সংগঠন ২০১০ সালের ৭ই অক্টোবর, পশ্চিমবঙ্গের তদানিন্তন বর্ধমান জেলার রুপনারায়ণপুরে প্রথমে সংগঠন “রূপনারায়ণপুর পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন" নামে আত্মপ্রকাশ করে। সেই অঞ্চলের অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাড়ানো ও শিশুদের শৈশব পুণরুদ্ধার করার লক্ষ্য নিয়েই পথচলা শুরু করেছিল “পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন"। জন্মলগ্নের দিন থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ড বহাল রেখেছে এই অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র। এক স্বপ্নবাজ তরুণের উদ্যোগে কোনরকম সরকারী সাহায্য ছাড়াও এই সংগঠন অনেকটা পথ অতিক্রম করেছে। এছাড়া পাশে ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্যে ছুটে আসা এক ঝাক কলেজ পড়ুয়া তরুন -তরুনী , যারা এসেছিলো সীমান্ত বাংলার শেখ প্রান্ত রুপনারায়নপুরে। সেখানে ছেলে মেয়েদের শিক্ষা, অন, বস্ত্র খাদ্য ও চিকিৎসার সকল সামগ্রী পৌছে দেওয়ায় ছিল এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এ সংগঠনের জনহিতকর কর্মকাণ্ড প্রলিত আছে। এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বর্তমানে ৪০ জন। বর্তমানে এই সংগঠনের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র ও চল্লিশজন বাচ্চার মুখে বৈকালিক আহার তুলে দিতে যে বিপুল ব্যয়ভার হচ্ছে তা প্রতিনিয়ত নিজস্ব আয় ও জনদরদী মানুষের দেয়া তহবিল থেকে উঠে আসছে।
� নিয়মিত কার্যক্রম:
পিসের গঠনমূলক উন্নতি সাধনে নিয়মিতভাবে পিসের ব্যক্তিগত খাত তথা বিভিন্ন পরোপকারী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে দুইটি কার্যক্রম অবিরত আছে। যা হলো “অন্নপূর্ণা প্রকল্প" ও ' #365 ইভ মিল''। আসুন ধারাবাহিকভাবে জেনে নেয়া যাক এই কার্যক্রমগুলো সম্পর্কে।
� অন্নপূর্ণা প্রকল্প:
এটি পিসের একটি সাপ্তাহিক ও মাসিক কার্যক্রম ।
২০১৭ সাল থেকে আজ অবধি এই অন্নপূর্ণা প্রকল্প শুরু হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি দিনের এক বেলা আহারের সম্পূর্ণ ভার একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে থাকে। এই কার্যক্রমে বাচ্চাদের স্বাভাবিক খাদ্য তালিকার পাশাপাশি তুলনামূলক উৎকৃষ্ট আহারের ব্যবস্থা করা হয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ তাদের জাগ্রত বিবেক ও সহমর্মিতায় বাচ্চাদের খাদ্যের সাথে নানা ধরনের উপহার সামগ্রী ও আর্থিক অনুদানে এগিয়ে আসেন। এই আয়োজন হতে পারে কারো জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, প্রয়ান দিবস কিংবা যেকোনো বিশেষ দিনকে স্মৃতিস্বরুপ ধরে স্মরণীয় করে রাখার একটি অতুলনীয় মাধ্যম। কেউবা সরাসরি যুক্ত হতে না পেরে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করে। কারো কারো ক্ষেত্রে সহায়তা করাকে লোকচক্ষু আড়ালে রেখে পালন করার প্রবনতাও দেখা যায়। সর্বোপরি, পিস কার্যালয়ে আগত অতিথিদের সকলেই এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে সময় কাটিয়ে যাওয়াটা জীবনের সেরা মুহূর্তের একটি হয়ে ওঠে।
� :
এখানে যারা এক বেলা পুষ্টিকর খাবারের আশায় শুধু নয় বরং লেখাপড়ার যাবতীয় সামগ্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত থাকার সুযোগ পায়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ৪ বছর আগে পিসের দুস্থ বাচ্চাদের শারীরিক অবনতির থেকে আসন্ন রোগ বালাই অবলোকন করে উক্ত দিনে এক অসম্ভব প্রয়াসকে বাস্তবে রুপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো পিস। ২০১৮ সালে পিসের বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুষ্টিগুন বজায় রাখার লক্ষে এই প্রকল্পটি নিয়মিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রত্যহ বিকেলে ছুটির পর অল্প টিফিনের পরিবর্তে ওদের জন্য শুরু হলো পুষ্টিকর বৈকালিক আহার। কোনো ধরনের সরকারি বা বেসরকারি অনুদান ছাড়াই যার সম্পূর্ণ খরচ পিস বহন করে চলেছে প্রতিদিন সান্ধ্যকালীন আহারে তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। যা মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর।
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য ও পুষ্টিকর উপকরণের অভাবে তাদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করাও দুর্বোধ্য তা বারবার প্রমানিত হয়েছিলো। প্রকল্পের প্রচারের ভিত্তিতে মাঝে মধ্যে নানাধর্মী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গ তাদের বিশেষ দিনগুলো (জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, মৃত্যু বার্ষিকী) উপলক্ষ করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় বাচ্চাদের আহারের ব্যবস্থা করে । যা কখনো কখনো আর্থিক অনুদানেরও রূপ নেয়। চলতি বছরের।
� শিক্ষামূলক কার্যক্রম:
২০১০ সালে শুধু মাত্র দশ জন দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে" “পিস অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র যাত্রা শুরু করে, যার সংখ্যা বর্তমানে ৩৫ জন। এই ছাত্র -
ছাত্রীদের অনেকেই First Generation Learner যাদের এই সফলতা ধরে রাখতে পাঁচজন অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকার নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে পিসেরই কার্যালয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল দুবেলা শ্রেনীভিত্তিক পাঠদান করে চলেছে। এছাড়া ২০১০ সাল থেকে আজ অব্দি পিস বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের বই বিতরণসহ নানাবিধ শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে।
� শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য:
#২০১৩ সালে মাধ্যমিক পাশ দ্বিতীয় বিভাগে
#২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ ৬২ শতাংশ নম্বর নিয়ে লেটার ও প্রথম বিভাগে করলো
#আসানসোল বি.সি. কলেজ এ ভর্তি পলিটিক্যাল সায়েন্স অর্নাস নিয়ে। ৫৪ শতাংশ নম্বর নিয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্স অর্নাস পাশ। এছাড়া ২০১৮ ও ২০১৯ এ মোট ৭জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিকে সন্তোষজনক নম্বর নিয়ে পাশ করলো।
২০১০ সাল থেকে আজ অব্দি ২০০০ জনেরও অধিক ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং পরিবার থেকে প্রথম শিক্ষার আলো দেখেছে দুই হাজারেরও বেশি ছেলেমেয়ে শিক্ষাসামগ্রীর সহায়তা পেয়েছে।
� সাংস্কৃতিক কার্যক্রম:
পিসের এই ক্ষুদ্র বাচ্চার শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই পারদর্শী তা নয় বরং তারা ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক ধারা যেমন নাচ, গান , আবৃত্তি ও উপস্থাপনা,
চিত্রাঙ্কান ও অভিনয়েও পারদর্শী। পিসের বাচ্চাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পারদর্শী করতে নানামুখী আমন্ত্রনী অনুষ্ঠান, টেলিভিশনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, সাংগঠনিক অনুষ্ঠান তথা
দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়। প্রতিবছর তারা বাৎসরিক আয়োজনগুলোতে ধারাবাহিকতার সাথে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রযোজনাভিত্তিক নাচ ও আবৃত্তি পরিবেশনা করে থাকে। যে চর্চার গুলোর মাধ্যমে তারা তাদের স্কুল পর্যায়ের এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে সাফল্য অর্জন করে থাকে।
� ঘরোয়া আয়োজন:
পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন অন্যান্য দিবসগুলোর পাশাপাশি যেসব দিবসে নিজেদের অংশগ্রহণে নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেগুলো হলো #আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস #বসন্ত কথা #শিক্ষক দিবস #রাখিপূর্ণিমা #মনুষ্য চেতনা #ভ্রাতৃবন্ধন #নববর্ষ #স্বাধীনতা দিবস। এছাড়াও বাংলা সাহিত্য সথা পূর্বকালীন সমাজের পথিকৃত যেমন কাজী নজরুন ইসলাম, স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, মাদার তেরেজার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা নিবেদন করাও পিসের চিরচেনা রীতি।
� বিশেষ আয়োজন:
প্রতি বছর মা দিবসে, পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি ভক্তি রেখে কোনো মায়ের স্থান যেন বৃদ্ধাশ্রম না হয় , শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,
যাতে কমপক্ষে ৮০ জন মায়ের পায়ে জল ঢেলে পদধুলি নিয়ে এবং স্মৃতি স্বরুপ পত্র উৎ সর্গ করে তাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেই সাথে উক্ত দিনে "বৃদ্ধাশ্রম যেন না হয় কারোর শেষ ঠিকানা" নামক সারাদিনের আহার ও প্রনোদনামূলক আয়োজন করা হয় প্রান্তিক বৃদ্ধাশ্রমে।
� সচেতনতামূলক কার্যক্রম:
পিসের সকল বাচ্চা ও তাদের অভিভাবকদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্রবান করতে নিয়মিত রক্তদান শিবির, রক্ত পরীক্ষা শিবির, চক্ষু পরীক্ষা শিবির ও মরনব্যাধী থ্যালাসেমিয়া সহ অন্যান্য রোগের প্রতি সচেতন করা ও বিভিন্ন সমস্যা গুলো নিয়ে বিভিন্ন সচেতনামূলক সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া
#শিশুদিবস #বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
� করোনাকালীন বিশেষ কার্যক্রম:
#'রেডলাইট অঞ্চল' পরিচিত দিশা জনকল্যাণ কেন্দ্র কার্যালয়, রুপনারায়নপুর অঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩০০০ জনেরও বেশি মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ।
#পিসের ব্যানারে রক্তদাব শিবিরের আয়োজন,যেখানে মোট ২১ জন রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেয়
#ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে অরন্যে ঢাকা অঞ্চলের দুর্গম নদী বেষ্টিত গ্রামগুলোতে দুই দফায় প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের মাসিক ম্যাগাজিন:
রূপনারায়ণপুর পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের মাসিক মুখপত্র “শাশ্বত বার্তা'। শাশ্বত বার্তা একটি পূর্ণাঙ্গ । একজন পাঠক এখানে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, রম্য, চিকিৎসা, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, খেলাধূলা, রাশিফল, রান্না, অভিমত ইত্যাদি সব কিছুই থাকে। সেই সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শ, পরামর্শ ও কলাম প্রচণ্ডভাবেই বর্জিত থাকে। 'শাশ্বত বার্তা' ম্যাগাজিন ক্রয়ের অর্থ পৌঁছে যায় সরাসরি পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন-এর অসহায় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র ও স্বাস্থ্যের তহবিলে ।
� স্বীকৃতি:
২০১০ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের নানামুখী আমন্ত্রণী অনুষ্ঠানে পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন সামাজিক সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি গ্রহণ করেছে। তন্মধ্যে, অঞ্চলকেন্দ্রিক সম্মাননাগুলো হলো #রুপনারায়নপুর বাজার ব্যবসায়ী ও ওয়েলফেয়ার সমিতি-২০১৯ #নিখিল ভারত-২০২২
#কিশোর বাহিনী, রুপনারায়নপুর #শোভারানী সম্মান,সালানপুর #শতাব্দী ও অরুনাঞ্জলি
#লায়ন্স ক্লাব,রুপনারায়নপুর #দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয় সোস্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন,রুপনারায়নপুর # ইর্ষ্টান কোলফিল্ড লিমিটেড সালানপুর এরিয়া #ত্রিশক্তি মহিলা মন্ডল #জাগো রক্তদাতা জাগো #প্রিয়া আকাশ ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্তি গুলো হলো,
#এসোসিয়েশন ফর সাউথ এশিয়ান কালচার এন্ড লিটারেচার (এ্যাফসাকল) #চারুতা ড্যান্স একাডেমি #চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র #তারুণ্যের উচ্ছাস #ত্রিলোক বাচিক পাঠশালা #প্রতিধ্বনি সাংস্কৃতিক সংসদ #মানবাধিকার খবর
� বিশেষ স্বীকৃতি:
আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে "সামাজিক প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের ভূমিকা" নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রেজেন্টেশনের সুযোগ পায় রুপনারায়নপুর পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন।