Asansol Explorers 2.0

Asansol Explorers 2.0 Now We're Back, with a bang! Asansol Explorers 2.0

 #পশ্চিম_বর্ধমান_জেলার_সেরা_২০টি_দর্শনীয়_স্থান ❤️ ❤️ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিভিন্নতা বিভিন্ন রকমের। ভ্রমণ পিপাসু এ...
15/12/2024

#পশ্চিম_বর্ধমান_জেলার_সেরা_২০টি_দর্শনীয়_স্থান ❤️ ❤️

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিভিন্নতা বিভিন্ন রকমের। ভ্রমণ পিপাসু এই পেজে আমি আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন জেলা গুলো প্রধান প্রধান আকর্ষন গুলো, এবং কি কারণে আমরা সেই জেলাকে চিনি সেগুলো তুলে ধরছি। তাই জেলা সিরিজের আজকের পর্বে আমি আলোচনা করবো শিল্পন্নত, নবগঠিত পশ্চিম বর্ধমান জেলা নিয়ে।

৭ এপ্রিল ২০১৭ সাল থেকে বৃহত্তর বর্ধমান জেলাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি শিল্প প্রধান পশ্চিম বর্ধমান জেলা আর, কৃষি প্রধান পূর্ব বর্ধমান জেলা। আজকের পোস্টটি এই শিল্প প্রধান পশ্চিম বর্ধমান জেলাকে নিয়ে। এই জেলার দুটো মহকুমা আসানসোল ও দুর্গাপুর দুটোই শিল্পের দিক থেকে আমাদের রাজ্যের মধ্যে অগ্রণী জেলা, তার সাথে সাথে খনিজ সম্পদেও সমৃদ্ধ। সেই কারণেই এই জেলায় সাংস্কৃতিক দিক থেকে এবং ভাষাগত ও ধর্মীয় দিক থেকে অনেক বিভিন্নতা করা যায়। সে দিকে আর কথা না বাড়িয়ে মূল বিষয় অর্থাৎ এই প্রধান প্রধান দর্শনীয় স্থান গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই পোস্টে আমি পশ্চিম বর্ধমান জেলার সেরা প্রায় ২০টি দর্শনীয় স্থান নিয়ে আলোচনা করবো, এবং তার সাথে সাথে সে জায়গা গুলো সমন্ধে কিছু ইনফরমেশন এবং আপনারা কেমন করে জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারেন সেটাও উল্লেখ করবো। এই জায়গা গুলোর মধ্যে কিছু কিছু জায়গা একদমই চির পরিচিত এবং কিছু জায়গা আছে একদমই অচেনা, নতুন, অফবিট বলতে পারেন, চলুন তাহলে জায়গা গুলো এক এক তুলে ধরা যাক.....

#চুরুলিয়া_গ্রাম :- পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শহর থেকে প্রায় ২০ কি.মি উত্তরে জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত এই গ্রাম চুরুলিয়া, এই গ্রাম কি জন্য বিখ্যাত সেটা আমরা প্রায় সকলেই জানি। এই গ্রামেই জন্ম নিয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার জন্মভিটে যাকে কবিতীর্থ বলে এখন নজরুল অ্যাকাডেমিতে পরিণত করে দেওয়া হয়েছে, এছাড়াও এখানে দেখতে পাবেন কবির স্ত্রী প্রমিলা দেবার সমাধি। এখানে কবির নামে একটি কলেজ ও খোলা হয়েছে।

সরকারী উদাসীনতার শিকার এই গ্রাম, কবির জন্মদিন উপলক্ষে এখানে ৭ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হলেও সারা বছর সরকারি উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। কবির বাড়ি, নজরুল অ্যাকাডেমিতে কবির জীবনের বাঁক নেয়া বিভিন্ন ঘটনার ইতিহাস সংবলিত বই, ম্যাগাজিন ও পেপার কাটিং এখানের লাইব্রেরিতে রয়েছে। নজরুল একাডেমিতে গবেষণা করার জন্য লাইব্রেরিতে কবির বিভিন্ন বই, তার সম্পাদিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন রয়েছে।

এখানে পৌঁছতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম আসানসোল পৌঁছতে হবে আসানসোল বাস স্ট্যান্ড অজয় ঘাট পর্যন্ত যাওয়ার বাসে এরপর আপনাকে উঠে পড়তে হবে, অজয় ঘাটের কিছু আগে চুরুলিয়া বাজারে আপনাকে নেবে পড়তে হবে, তারপর আপনি পায়ে হেঁটে অথবা টোটো করে চলে আসুন এই জন্মভিটে।

#গড়জঙ্গল :- দুর্গাপুরের খুব কাছেই কাঁকসা ব্লকের অন্তর্গত গড়জঙ্গল ঐতিহাসিক দিক থেকে এবং হিন্দু ধর্মের দিক থেকে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অজয় নদীর দক্ষিণ তীরে শাল গাছের দ্বারা বেস্টিত এই জঙ্গল রার বাংলার প্রাচীন ইতিহাস গচ্ছিত রয়েছে।

এই গড় জঙ্গলের একদম মাঝে অবস্থিত মেধস মুনির আশ্রম এই আশ্রমেই শ্রী শ্রী সপ্তসতী চন্ডীর রচয়িতাস্থল। এই আশ্রমেই রাজা সুরথ এবং সমাধি বৈশ্য দেবীমাহাত্ম্য শিখেছিলেন মেধাস মুনির কাছ থেকে। এরপর রাজা সুরথ বসন্তকালে এখানে দূর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। শ্রী শ্রী চণ্ডী এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে এই দুর্গাপূজা, যা গড় জঙ্গলে আয়োজিত হয়েছিল যা ছিল পৃথিবীর প্রথম দুর্গাপুজো।রাজ সুরথ ছিলেন হিন্দু পুরাণে উল্লিখিত প্রাচীন বঙ্গ রাজ্যের যদুবংশী সম্রাট।মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এ তার উল্লেখ আছে। তিনি হিন্দু ধর্মের একজন প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিও ছিলেন। তার রাজধানী ছিল বলিপুরে যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বোলপুর শহর। তিনি ছিলেন দেবী দুর্গার ভক্ত। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে তিনি মর্ত্যের অধিবাসীদের মধ্যে দেবী মাহাত্ম্য (শ্রী শ্রী চণ্ডী) প্রচার করেছিলেন এবং তিনি বঙ্গে দূর্গাপূজার প্রথম আয়োজক ছিলেন। যা পরে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

রাজা সুরথ এখানে ত্রিদেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাদের মধ্যে মহাকালী, মহাসরস্বতী, মহালক্ষী মেধস মুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় এই মন্দির গুলো তৈরি করা হয়েছিলো।

#শ্যামরুপা_মন্দির :- গড়জঙ্গলের কথা তো আপনারা আগের পয়েন্টেই বলেছি। সামন্তরাজা ইছাই ঘোষের গড় ছিল এই এলাকা তা থেকেই এই জায়গাটিকে গড় জঙ্গল বলা হয়ে থাকে। শালগাছ দিয়ে ঘেরা এই পুরো এলাকাটিতে এক শান্ত নিঝুম পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে আসলে কিন্তু আপনাদের একটা আলাদা ফিল হবে। এই জঙ্গলের মাঝেই আছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির সেরকমই একটি মন্দির হল শ্যামরূপা মন্দির। ইছাই ঘোষের আরাধ্যা দেবী ছিলেন এই শ্যামারূপা কালী মা । জনশ্রুতি যে রাজা লক্ষণ সেনও এই মায়ের মন্দির নিয়মিত পুজো দিতে আসতেন। পূজারীর কথা অনুসারে, অতীতের জীর্ণ মন্দিরের উপর এই নতুন মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে। কালী পূজাতে অসংখ্য ভক্ত সমাগম হয়। মা শ্যামরুপা স্বপ্নাদেশ দেন ইচ্ছাই ঘোষকে যুদ্ধে যেতে অষ্টমীর দিন,লাউসেনের সাথে তার যুদ্ধ হয়েছিলো, রাজা দেবীর কথা না শুনে সপ্তমীর দিন যুদ্ধে চলে যায়।দেবীর কথা অমান্য করার ফলে তিনি পরাজিত হয় এবং নিহত হন।

সেন আমলে এই মন্দিরের নিয়মিত নরবলি হতো, শোনা যায় এই নরবলি বন্ধ করার জন্য মা কালি এখানে কৃষ্ণ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন বা করা হয়েছিলো, যার পেছনে অবদান ছিল কবি জয়দেবের, তিনি ঠিক অজয় নদীর উল্টো দিকে বসবাস করতেন যেই জায়গাটিকে এখন জয়দেব কেঁদুলি বলা হয় ।

এই মন্দিরের আসে পাশে আরো কিছু প্রত্নতত্ত্ব সামগ্রী ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। দুর্গাপুর থেকে জয়দেব যাওয়ার রাস্তা ধরে এই গড়জঙ্গলে পৌঁছতে হবে। বাসে ও আসতে পারেন বাস আপনাকে মেন রোডে নামিয়ে দেবে গড়জঙ্গল নামবো বললেই, এরপর আপনাকে ডানদিকে যেতে হবে পুরো শাল গাছের জঙ্গল। নিজস্ব গাড়ি, ভাড়া গাড়ি বা বাইক নিয়ে আসলে বেটার কারণ জঙ্গলের ভেতর যানবাহন খুবই কম চলে, মন্দিরের পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ার ও আছে। আছে আরো কিছু প্রাচীন মন্দির। এখানে আসতে হলে আপনি দুর্গাপূজা, কালী পূজা বা বাসন্তী পূজার সময়ে এখানে আসার চেষ্টা করবেন।

#মাইথন_ড্যাম :- পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমানায় বরাকরের কাছে দামোদর ও বরাকর নদীর সঙ্গমস্থলে এই ড্যামটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন একটি প্রকল্প। ডিভিসি নির্মিত এই মাইথন বাঁধ ও সংলগ্ন জলাধারের চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যে আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এই জলাধারে নৌকা বিহারের দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে শীতের রোদ গায়ে মেখে দিগন্ত বিস্তৃত জলে ভেসে বেড়ানো আর নৌকা বিহার উপভোগ করার মজাই আলাদা। আশেপাশে নাই বা থাকলো হিমালয়, কিন্তু ছোটনাগপুর মালভূমির ছোট ছোট টিলা এই জলাধারের সৌন্দর্য্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই ড্যামটির অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, এটি নদীর বামতীরে ভূগর্ভে অবস্থিত এবং এই ধরনের ভূগর্ভস্থ পাওয়ার স্টেশন ভারতে প্রথম। পাওয়ার স্টেশনএর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াট। এই মাইথনে ড্যাম ছাড়াও আরো কিছু দেখার জায়গা আছে, আমি নিচে সেই জায়গা গুলো উল্লেখ করে দেবো। তাছাড়া মাইথনকে কেন্দ্র করে এখানে কতগুলো নতুন স্পট, পিকনিকের জায়গা ও তৈরি হয়েছে, এবং জায়গা গুলোও যথেষ্ট সুন্দর। সেগুলো ও আমি নিচে উল্লেখ করে দেবো।

#কল্যাণেশ্বরী_মন্দির :- আসানসোল শহর থেকে প্রায় ২০ কি.মি দূরে বরাবর শহর ও বরাকর নদীর একদম পাশেই বাংলা - ঝাড়খণ্ড বর্ডারে অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই কল্যাণেশ্বরী মন্দির। যা আসানসোলের আরো একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল।

অতীত কালে এই মন্দিরে মানুষবলির কথাও জানতে পারা যায়। তবে বর্তমান মন্দির, খুব বেশি পুরোনো নয়। এটি পঞ্চকোট রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয়। কল্যাণেশ্বরী খুবই জাগ্রত দেবী বলে ভক্তদের কাছে পূজিত হন।

এই মন্দিরে আসলে আপনারা আসে পাশের আরো কয়েকটি জায়গা ও সাথে ঘুরে নিতে পারবেন। যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হল মাইথন ড্যাম যা মাত্র ৫ কি.মি দূরেই অবস্থিত। আপনি এখানে যদি আসতে চান তাহলে ট্রেনে বরাকর স্টেশনে নেমে সবাই বরাকর স্টেশন থেকে এর দুরত্ব মাত্র ৭ কিমি । এ ছাড়াও আপনারা সড়কপথে এখানে আসতে চাইলে কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ধরে আসানসোল বা বরাকর এসে চলে আসুন এই মন্দিরে।

#পাহাড়ি_বাবার_মন্দির :- কল্যাণেশ্বরী মন্দির দেখে পাশেই অবস্থিত পাহাড়ি বাবার মন্দির থেকে ঘুরে আসতে পারেন। পাহাড়টিকে বলা ভান্ডার পাহাড়, এই পাহাড়ের ওপরেই অবস্থিত অমরনাথ মন্দির যার প্রতিষ্ঠাতা শ্রী কালিকানন্দ মহারাজ। অনেক গুলো সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়, যারা সক্ষম না তারা না ও যেতে পারেন, ওপরে মন্দিরটি ছাড়াও তেমন আর কিছুই নেই, ওপর থেকে চারদিকের ভিউটা আপনাদের ভালো লাগতে পারে।

#সুশান্ত_রায়_Wax_মিউজিয়াম & শিশমহল :- আসানসোল শহরের মাঝে একমাত্র মিউজিয়াম বলতে পারেন এই মিউজিয়ামটিকে। এর পেছনে যার হাত আছে তিনি হলেন সুশান্ত রায়, একজন ভাস্কর্য শিল্পী, তিনি তার বাড়িটিকেই বর্তমানে মিউজিয়াম রূপান্তরিত করে দিয়েছেন। এখানে তার হাতে তৈরি বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষদের মূর্তি খুব সযত্নে রাখা আছে, কলকাতার নিউ টাউনের যে Wax Museum আছে তার তুলনায় কোনো অংশে কম না আসানসোলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি এই মিউজিয়াম।

এখানে আপনি Wax Meuseum এর পাশাপাশি আরো একই সুন্দর জিনিস পেয়ে যাবেন সেটা হলো শিশমহল, কাচের তৈরি মহল। এই শিশমহলের নাম আমরা প্রথম শুনতে পাই মোঘল আমলে, সম্রাট শাহজাহান এক অসাধারন সুন্দর শিশমহল তৈরি করেছিলেন। গোটা পূর্ব ভারতে এরকম লোক শিশমহল কিন্তু আপনারা পাবেন তা, তাও আবার কারো ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি।

তাই আসানসোল আসলে অবশ্যই সুশান্ত রায়ের এই মিউজিয়াম থেকে অবশ্যই ঘুরে যেতে পারেন। আসানসোল শহরের হামিদনগরের মহিশিলা কলোনীর একদম রাস্তার ধারেই এই মিউজিয়াম টি। প্রবেশমুল্য - ১০০ টাকা এবং ছাত্রদের - ৫০ টাকা।

#রাড়েশ্বর_শিব_মন্দির :- দুর্গাপুরের আড়া, শিবতলাতে অবস্থিত প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো এই রাড়েশ্বর শিব মন্দির। সেন বংশের আমলে সম্রাট বল্লাল সেন রাঢ়েশ্বর শিবমন্দির দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি করেন। প্রতি বছর মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে কাঁকসা ব্লকের এই রাঢ়েশ্বর শিব মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে । শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা উৎসবের চেহারা নেয়। সকাল থেকেই দূরদূরান্তের ভক্তরা মন্দিরে আসতে থাকেন। সন্ধ্যা নামতেই রাঢ়েশ্বর শিব মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ঢল নামে।

নগর শৈলীতে মাকড়াপাথর ও বেলেপাথরে নির্মিত এই রাড়েশ্বর শিবমন্দির গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত বিশাল শিবলিঙ্গের জন্য বিখ্যাত, প্রথম দিকে চুন সুরকির কাজে আবৃত আনুমানিক দ্বাদশ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটির বহির্ভাগে বর্তমানে অনেকে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, সপ্তরথ মন্দিরটির মূল বৈশিষ্ট হইল এর শিখর ভাগ যার বহির্ভাগ এই অঞ্চলের সমসাময়িক মন্দিরগুলির ন্যায় গোলাকার না হইয়া তীক্ষ্ণ। এই মন্দিরে আসা খুবই সহজ দুর্গাপুর বা কাঁকসা থেকে চলে আসুন মুচিপাড়া বাস স্ট্যান্ডে এখান থেকে মন্দিরের দূরত্ব মাত্র ৩ কি.মি, বাস স্ট্যান্ড থেকে টোটো ধরে নাহলে দুর্গাপুর থেকেও এখানে সরাসরি চলে আসতে পারবেন। কলকাতা থেকে এখানে আসতে হলে দুর্গাপুর বা কাঁকসা স্টেশনে নামতে হবে, আর বাই রোড আসলে GT রোড ধরলে, মুচিপাড়া স্টেপেজে।

দুর্গাপুর ব্যারেজ :- পশ্চিম বর্ধমান জেলার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দুর্গাপুরে দামোদর নদের ওপরে এই ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছে। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা DVC এর একটি প্রকল্পে এই ব্যারেজটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৫৫ সালে যার প্রধান উদ্দেশ্য জলসেচ ব্যাবস্থা। এই ব্যারেজের দ্বারা দামোদর নদ ও তার উপনদী গুলির বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ব্যারেজ থেকে কৃষি জমিতে জল সেচের জন্য সেচ খাল খনন করা হয়েছে যার দ্বারা বর্ধমান জেলা ও বাঁকুড়া জেলার কৃষি জমিতে জল সেচ করা হয়।

এই ব্যারেজের উচ্চতা ৪০ ফুট এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ২২৭১ ফুট। এতে ৩৪টি গেট রয়েছে এবং ব্যারেজের বাম ও ডান দিকে রয়েছে দুটি সেচখাল। বিকেল বা সন্ধ্যার টাইমে আসলে ভালো দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

#ইছাই_ঘোষের_দেউল :- পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের অন্তর্গত অজয় নদের একদম দক্ষিণপাশে গৌরাঙ্গপুরের দেউল পার্কের মধ্যে অবস্থিত এই ইছাই ঘোষের দেউল। এই দেউল মন্দিরটি ঠিক কবে কাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সে ব্যাপারে সঠিকভাবে কিছু বলা যায় না। উড়িষ্যার রেখ দেউল শিল্পরীতিতে এই মন্দিরটি নির্মিত করা হয়েছে। এই মন্দিরটি যে স্থানে নির্মিত সেখানে রারেশ্বর, গোপ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ইছাই ঘোষ তার আরাধ্য দেবী ভগবতী দেবীর আরাধনা করতেন।

ইছাই ঘোষ সম্বন্ধে আমাদের একটু জেনে রাখা দরকার। মঙ্গলকাব্য ধর্মমঙ্গলের এক প্রধান চরিত্র হলেন এই ইছাই ঘোষ। ঐতিহাসিক দিক থেকে দেখলে রার বঙ্গের এই অঞ্চলে সেন রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে তিনি একটি স্বাধীন গোপ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। কর্ণসেন নামক এই অঞ্চলের এক সামন্তকে পরাজিত করে তিনি নিজেকে স্বাধীন বলে ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে কর্ণসেনের পুত্র লাউসেনের কাছে তিনি পরাজিত হোন। অজয় নদের দক্ষিণ পাশে এই যুদ্ধ হয়েছিলো। এই যুদ্ধ সমন্ধে ধর্মমঙ্গল কাব্যে বর্ণিত আছে।

তবে এই দেউল এর প্রতিষ্ঠাতা কে সেটা সমন্ধে সঠিকভাবে কিছুই জানা যায়নি। পুরাতত্ত্ববিদ্ দের মতে এই মন্দিরটি সম্ভবত ১১ শতকে নির্মাণ হয়ে থাকতে পারে। ইছাই ঘোষের পরবর্তী গোপ রাজারা তাদের পূর্ব পুরুষের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে এই মন্দিরটা নির্মাণ করে থাকতে পারেন। দুর্গাপুর শহর থেকে এই মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৩০ কি.মি। দুর্গাপুর পৌঁছে দুর্গাপুর থেকে বাসে আপনাকে এই দেউল পার্ক পৌঁছতে হবে।

#পাঞ্চেত_ড্যাম :- পাঞ্চেত ড্যাম হলো দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন দ্বারা নির্মিত DVC এর প্রধান চারটি ড্যামের মধ্যে একটি। এটি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার পাঞ্চেত পাহাড়ের কোলে দামোদর নদীর ওপরে অবস্থিত। এই ড্যামটি ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত হলেও আপনি খুবই সহজে আসানসোল থেকে বরাকর হয়ে এই ড্যামটি দেখে আসতে পারেন, পুরুলিয়া থেকেও এখানে আসা যায়। আসানসোল থেকে এর দুরত্ব প্রায় ৩০ কি.মি ।আপনি আসানসোল থেকে একটি গাড়ি রিজার্ভ করে নিয়ে মাইথন ও পাঞ্চেত ড্যাম একসাথে একদিনে দেখে নিতে পারবেন। আসলে শীতে অথবা বর্ষার সিজনে এখানে আসার চেষ্টা করবেন।।

#ভবানী_পাঠকের_কালি_মন্দির :- দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের খুব কাছে, দুর্গাপুর অম্বুজা কালি বাড়ি ও কালি মন্দির। যা ইতিহাস প্রসিদ্ধ সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী পাঠকের মন্দির হিসেবে পরিচিত।

এই মন্দিরটি ভবানী পাঠকের মন্দির হিসেবে পরিচিত হলেও এই মন্দির কিন্তু আরো প্রাচীন। সেন যুগের সময়কার এই মন্দির, গোপরাজা ইছাই ঘোষের সমসাময়িক। ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী এই মন্দিরে এসে পুজো দিতেন, তারপর তারা তাদের কাজে বের হতেন। জলপাইগুড়িতেও এরকম একটি দেবী চৌধুরানী মন্দির আছে। দুর্গাপরের এই এলাকা তখন ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহের সময়ে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী এখানে মায়ের আরাধনা করতেন । দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে নেমে খুবই সহজে এখানে চলে আসতে পারেন।

#রনডিহা_ড্যাম :- দুর্গাপুর মহকুমার পানাগড়ের কাছে দামোদর নদের ওপরে অবস্থিত এই রনডিহা ড্যাম, যা ১৯৩২ সালে অ্যান্ডারসন ওয়ারের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল। পানাগড় থেকে মাত্র ১০ কি.মি দক্ষিণে রনডিহাতে এই ড্যামটি অবস্থিত। নদীর উল্টো দিকেই আছে বাঁকুড়ার জেলার সোনামুখী।

জায়গাটি যথেষ্টই সুন্দর। পিকনিক স্পট হিসেবে ও খুবই আদর্শ একটি জায়গা, সেই কারনে জনপ্রিয়তাও পেয়েছে জায়গাটি। ড্যামে জলের ধারাটি খুবই সুন্দর ভাবে নিচে নেমে আসছে যা দেখতে ভারী সুন্দর লাগে, যার টানে পর্যটকেরা এই জায়গাটিতে ছুটে আসে।

#ঘাঘর_বুড়ি_মন্দির :- ঘাঘর বুড়ি হলেন বাংলার লৌকিক দেবী। আসানসোলের সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম এই মন্দির ।আসানসোল শহরের উত্তরে ক্লেদবাহী শীর্ণকায় নুনীয়া নদীর তীরে অধিষ্টিতা রাঢ় বাংলার জাগ্রত দেবী মা শ্রীশ্রী ঘাঘর বুড়ি। ঘাঘর শব্দের অর্থ হল – ঝাঁজ বাদ্য ও ঘুঙুর। অনেকে তাকে ষষ্ঠ‌ীর আরেক রুপ ও বলেন। মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ১৬২০ সালে। ১৬২০ সালের ১লা মাঘকে স্মরণ করে প্রতি বছর মন্দিরের সামনের মাঠে বসে ঘাগরবুড়ি চণ্ডীমাতার মেলা।

প্রমাণ্য তথ্য থেকে জানা যায় বহু প্রাচীন কাল থেকে অনাচ্ছাদিত মন্দিরে, গাছ তলায় পূজা হয়ে আসছে মা ঘাঘর বুড়ির। ইনি দেবী শ্রীশ্রী চন্ডী। কোন মূর্তি নেই। শুধু তিনটি শীলা রয়েছে। পুরানে দেব-দেবীর বিভিন্ন পূজা পদ্ধতির উল্লেখ আছে- তার মধ্যে নৃত্য গীত-বাদ্য সহকারে বহু দেবীর পূজার প্রচলন ছিল। রাস পূর্ণিমায় এখানে হোম যজ্ঞ করা হয়। আসানসোল শহর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বে এই মন্দিরটি অবস্থিত। বাসে আসলে কালি পাহাড়ি বাস স্ট্যান্ডে নেমে খুব কাছেই এই মন্দিরটি।

#শিবশক্তি_ধাম :- দুর্গাপুরের অন্যতম প্রসিদ্ধ এবং বড়ো মন্দির এই শিবশক্তি ধাম। নাম দেখেই সকলেই বুঝে গিয়েছেন এই দেবাধিদেব মহাদেবকে সমর্পিত করা। দুর্গাপরের আসলে অবশ্যই এই মন্দির থেকে ঘুরে যাবেন,মন্দিরটির অসাধারণ স্থাপত্য ও কারুকাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে, এটিই দুর্গাপুরের সবচেয়ে বড় মন্দির। এখানে আসা খুব সহজ একদম GT রোডের ধারে অবস্থিত, গোপালপুর মাঠের সামনে নেমে পায়ে হেঁটেই চলে যেতে পারবেন।

#সিধাবাড়ি_পিকনিক_স্পট :- আসানসোল শহর থেকে প্রায় ২৫ কি.মি দূরে মাইথন জলাধারের একদম ধারেই খুবই সুন্দর একটি জায়গা এই সিধাবাড়ি। বর্তমানে পিকনিক স্পট হিসেবে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আসানসোল মানুষের কাছে এই জায়গাটি পরিচিত হলেও বাইরেও মানুষের কাছে এই জায়গাটি একদমই অচেনা। সকলেই আসে মাইথন ড্যাম দেখতে, কিন্তু ড্যামের এতো কাছে এত সুন্দর একটি জায়গা আছে, সেটাতে কেউই প্রায় যায় না।

এই সিধাবাড়িতে মানুষের ঢল নামে বিশেষ করে শীতকালে, কিন্তু আপনি বর্ষাতে এখানে আসতে পারবেন, দু সময়ে, দু ধরনের রূপ দেখতে পাবেন। এবং দুটো রূপই আপনাদের দারুণ লাগবে। বাইক থাকলে খুবই ভালো, আর না থাকলে কয়েকজন মিলে একটা গাড়ি ভাড়া করে এই জায়গাটি ছাড়াও আসে পাশে আরো কয়েকটি জায়গা একবারে ঘুরে নিতে পারেন, সবকটি জায়গায় আমি এই পয়েন্টে উল্লেখ করেছি ।

#বাথানবাড়ি_ও_সুলেমান_উদ্যান :- সিধাবাড়ির পাশেই আরো একটি সুন্দর জায়গা গড়ে উঠছে এই মাইথন জলাধারের একদম পাশে সেটা হলো বাথানবাড়ি, এই বাথানবাড়ি জায়গাটিও যথেষ্ট সুন্দর, শীতকালে প্রচুর মানুষ আসে এখানে পিকনিক করতে। এখানে মাইথন ড্যাম তৈরির ফলে যে বিশাল লেকটি তৈরি হয়েছে তাতেই ছোট বড় কিছু দ্বীপ তৈরি হয়েছে যেমন আছে, আনন্দ দ্বীপ, সবুজ দ্বীপ, সাদা দ্বীপ সেগুলো বাথানবাড়িতে আসলে দেখতে পাবেন, এবং এখান থেকে নৌকা ভাড়া করে ওই দ্বীপ গুলোকে যেতেও পারবেন। এই মাথানবাড়ি থেকেই আরো একটি জায়গা ঘুরে নিতে পারেন সেটা হলো মাইথন লেকের একদম ধারেই সুলেমান উদ্যান।

#গারুই_বিষ্ণু_মন্দির :- আসানসোল প্রাচীন মন্দির গুলোর মধ্যে অন্যতম এই বিষ্ণু মন্দির। আনুমানিক চতুর্দশ শতকে প্রস্তর দ্বারা নির্মিত এই মন্দিরটি। আসানসোল শহর থেকে প্রায় ৭ কি.মি দূরে GT রোডের একদম ধারে অবস্থিত এই গারুই। এখানে এই প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরটি ছাড়াও একটি আরো কিছু দর্শনীয় মন্দির আছে যেমন - জগন্নাথ মন্দির, ইস্কন মন্দির, বাবা চন্দ্রচূড় মন্দির প্রভৃতি, সবগুলো প্রায় GT রোডের ধার বরাবরই অবস্থিত।

#বেগুনিয়া_দেউল_মন্দির_কমপ্লেক্স :- পশ্চিম বর্ধমান জেলার বরাবর শহরের পাশেই বরাকর নদীর ধারে অবস্থিত বেগুনিয়া। এই বেগুনিয়াতেই অষ্টম ও নবম শতকের চারটি পাথরের মন্দির অবস্থিত। এই মন্দির গুলো কারা বা কাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সে ব্যাপারে সঠিক ভাবে কিছু না জানা গেলেও মন্দির গুলো যথেষ্টই প্রাচীন, এবং মন্দির গুলো উড়িষ্যার রেখ দেউল শিল্পরীতি তৈরি।

এই মন্দির কমপ্লেক্সে সর্বমোট চারটি মন্দির আছে তার মধ্যে একটি দেবাধিদেব মহাদেবের, একটি গণেশ, একটি দেবী দুর্গা এবং শেষ মন্দিরটি মা সিদ্ধেশ্বরীকে সম্পর্কিত। এখানে আসতে হলে বরাকরের নেমে বা বরাকর স্টেশনে নেমে টোটো ধরে চলে আসতে পারবেন।

#শ্রী_শ্যাম_মন্দির :- দুর্গাপুর শহরের মাঝেই আরো একটি সুন্দর মন্দির হল শ্যাম মন্দির। দুর্গাপুরের সাগরভাঙা HP পেট্রোল পাম্পের একদম পাশেই এই মন্দিরটি। GT রোড ধরে আসলে মুচিপাড়া মোড় হয়ে এখানে আসা খুবই সহজ। রাতের বেলায় আলোয় সেজে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ, তখন অপূর্ব লাগে এই মন্দিরটি আসলে অবশ্যই বিকেলের দিকে এখানে আসবেন।

#গোপিনাথপুর_কালিবাড়ি :- দুর্গাপুর শহরেই একদম অবস্থিত এই গোপিনাথপুর কালিবাড়ি কালি বাড়ি। খুব প্রাচীন মন্দির এটি। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের গোপিনাথ চট্টোপাধ্যায় এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। এখানে কালী মন্দির ছাড়াও একসাথে আরো কিছু মন্দির আছে।

#প্রাচীন_শিব_মন্দির_রাজকুসুম :- পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের অন্তর্গত রাজকুসুম গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন শিব মন্দির। মন্দিরটি দেউল শৈলীতে নির্মিত এবং মন্দিরে টেরাকোটার কাজ ও লক্ষ্য করা যায়। কাঁকসাতে এসে বা কাঁকসা স্টেশনে নেমে এখানে চলে আসতে পারেন। এই মন্দিরটি সম্পর্কে অনেকেই প্রায় জানেন না।

আসানসোলের কিছু পিকনিক স্পট :- আসানসোল শহর থেকে খুব কম দূরত্বে কিছু পিকনিক স্পট, যেগুলো থেকে আপনারা একদিনের জন্য ঘুরে আসার পাশাপাশি পিকনিকও করতে পারবেন। জায়গা গুলো কিন্তু পিকনিক করার জন্য একদমই আদর্শ, সেরকমই কিছু জায়গা তুলে ধরছি -

১. সিধাবাড়ি পিকনিক স্পট
২. খাসিডাঙ্গা পিকনিক স্পট।
৩. বৃন্দাবন পিকনিক স্পট।
৪. গাঙ্গটিকুলী দ্বীপ।
৫. কাঁশকুলী পিকনিক স্পট।







আজকে কাজের ফাঁকে ঘুরে এলাম বীরভূমের একটি ঐতিহাসিক জায়গা থেকে, যার সম্পর্ক সোজাসুজি মহাভারতের যুগ থেকে আছে।তাহলে সেই ইতি...
21/02/2024

আজকে কাজের ফাঁকে ঘুরে এলাম বীরভূমের একটি ঐতিহাসিক জায়গা থেকে, যার সম্পর্ক সোজাসুজি মহাভারতের যুগ থেকে আছে।

তাহলে সেই ইতিহাস আপনাদের সামনে তুলে ধরছি -

প্রচলিত আছে সেই মহাভারতের সময়কাল মগধের প্রবল পরাক্রমশালী রাজা জরাসন্ধু তিনি মূর্টিতিকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করতেন।বলা হয় এই মূর্তিটি নাকি বিশ্বের এক এবং অদ্বিতীয়।
কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে সেই মগধ থেকে বীরভূমের এই প্রত্যন্ত গ্রামে এসে পৌঁছাল কিভাবে??তাহলে আসুন আমরা জানি কিভাবে এলো!
সেই মহাভারতের সময় রাজা জরাসন্ধ এই মূর্তিটি গোপনে পুজো করতে থাকেন এবং পরে তার মৃত্যুর পর হাজার বছর ধরেই গুজ্য মা সেই স্থানেই পড়ে থাকেন, পরে এক বন্যায় মা ধরিত্রীর কোলে চলে যায়।আনুমানিক আজ থেকে ২৫০ পূর্বে রানী অহল্যাবাই স্বপ্নাদেশ পাবার পর নির্দেশিত স্থানে শিবলিঙ্গ অন্বেষণ করার সময় মাটির তল থেকে সেই জরাসন্ধ পূজিত গুজ্য কালী মূর্তিটি পান।কিন্তু রানীর উদ্দেশ্য ছিল শিবলিঙ্গ খোঁজার তাই তিনি এই মূর্তিটি কাশীর রাজা চৈত সিংহ কে দিয়ে দেন,এর পর রাজা চৈত সিংহ মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করতে থাকেন কিন্তু,কোনো এক গুপ্ত চর মারফত খবর যায় তৎকালীন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এর কাছে কাশীর রাজার কাছে একটি মহা মূল্যবান কস্টি পাথরের তৈরি মূর্তি।কথাটা শোনা মাত্রই ওয়ারেন হেস্টিংস মূর্তিটি লুণ্ঠন করার একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেন,উদ্দেশ্য ছিল মূর্তিটি যেকোনও ভাবে লুণ্ঠন করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে ইংল্যান্ডের মিউজিয়াম এ।
কিন্তু এদিকে রাজা চৈত সিংহের কাছেও খবর চলে যায় এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই মূর্তিটি তিনি অনির্দিষ্ট কালের জন্য গঙ্গা বক্ষে লুকিয়ে রাখবেন।
এদিকে তৎকালীন বর্ধমানের দেওয়ান নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পান মা যেনো তাকে বলছে তিনি গঙ্গা বক্ষে লুকিয়ে আছেন,তুই আমাকে এখান থেকে তুলে তোর আদি নিবাস এর কাছে আমাকে প্রতিষ্ঠা কর।
এর পরেই তিনি কাশীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন এবং রাজা চৈত সিংহ কে তার অলৌকিক স্বপ্নাদেশ এর কথা বললেন।
এর পরে রাজা চৈত সিংহ নিজ দায়িত্ব নিয়ে নন্দকুমার এর সাথে মা কে পাঠিয়ে দিলেন বীরভূমের ভদ্রপুরে।
কিন্তু নন্দকুমার ভেবেছিলেন মা কে তিনি তার বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করবেন তাই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন এবং তার পরেই আবার স্বপ্নাদেশ পান মা যেনো বলছেন "আমার স্থান তোর বাড়িতে নয়,আমার স্থান ওই ব্রাহ্মণী নদীর তীরে, বট বৃক্ষের তলায় আমাকে প্রতিষ্ঠা কর"
১৭৭২ খ্রিস্টাব্দ বাংলায় ১১৭৮ বঙ্গাব্দের ১১ই মাঘ রটন্টি কালী পুজোর দিন প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মা কে প্রতিষ্ঠার দিন ব্রাহ্মণী নদীর তীরে বট গাছের তলায় মায়ের যে আদি আসনটি আছে ওই খান থেকে মূল মন্দির অবধি মা কে ১০৮ বার ধাপে ধাপে আনা হয়েছিল,আর প্রতিটা ধাপে একটি করে বলি দেওয়া হয়েছিল। মোট ১০৮টি বলি দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিলো পায়রা, ছাগ,মেশ,ইক্ষু,চালকুমড়া ইত্যাদি।
কথিত আছে শেষে দেওয়া হয়েছিল একটা #নর বলি।
সেই দিন এখানে বসেছিল একটি বিশাল মেলা,সেই মেলা থেকে একটি বাচ্চা ছেলেকে ধরে এনে মায়ের সামনে #বলি দেওয়া হয়েছিল।
এর পর ওই সন্তানের মা যখন জানতে পারলো তার সন্তান কে মায়ের উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া হয়েছে ।
তখন সেই মা বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন ও মায়ের মূর্তির সামনে মাথা ঠুকতে থাকেন,তখন হঠাৎ দেখা গেলো ওই বালক জীবন্ত অবস্থায় নদীর ঘাট থেকে উঠে আসছে।সেই দিন এই ঘটনার পর থেকে সকল গ্রামবাসী বিশ্বাস করেন এই কালী ভয়ংকর রকমের জাগ্রত।এখানে মায়ের কাছে মন থেকে যদি কেউ কিছু প্রার্থনা করে,তাহলে তার মনস্কামনা অবশ্যই মা পূরণ করে দেন।
মায়ের মূর্তিটি যদি ভালো করে দেখেন দেখবেন মায়ের মুকুটে ১০০০ সাপ বিরাজ করছেন,মায়ের কানের দুল দুটো বাচ্চার আকারে দুল পরে আছেন,আমাদের সনাতন ধর্মে নাগ দেবতা বলা হয় অষ্ট নাগ কে,সেই অষ্ট নাগের ওপরে মা বিরাজমান আছেন।
মন্দিরের পাশেই রয়েছে কয়েকশো বছরের প্রাচীন একটি মহা শ্মশান।প্রতি রাতে এখানে বসে গীতা পাঠের আয়োজন।
যেই মা কে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস লন্ডনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সেই মা কেই এখনও অনেক সনাতনী চেনেই না।এটা আমাদের সনাতনীদের কাছে খুবই দুঃখের কথা।
বীরভূম মানেই শুধুমাত্র তারাপীঠ বা শান্তিনিকেতন নয়,বীরভূমের অনেক অনেক ইতিহাস আছে।
এর আগে আমরা মা ফুল্লোরা দেবীর ইতিহাস আপনাদের কাছে প্রতিবেদন করেছি,আজকে অকালিপুর এর মায়ের ইতিহাস আপনাদের কাছে প্রতিবেদন করলাম।
আমাদের এই প্রতিবেদন দেখে যদি কেউ একজন ও যান ও দর্শন করে আসেন তাহলে আমরা আমাদের প্রতিবেদন কে সার্থক মনে করবো।
✍️কাজল নন্দী(এডমিন)
Kajal Nandi (Admin)
Location - https://maps.app.goo.gl/dBqNtkNXKR3DUp25A

#আমাদের আগের পেজটি হ্যাক হয়ে যাবার ফলে আমরা আবার নতুন করে শুরু করেছি,তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা আগের মতোই আমাদের ভালোবাসা দিন,আমাদের আজকের প্রতিবেদন টি যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই পেজটি লাইক ও শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ🙏

এই মূর্তিটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ৩০০০ বছরের ইতিহাস।কোথাকার,কি ঘটনা,কেনোই বা ৩০০০ বছর বললাম সব ঘটনা জানবো কাল।
20/02/2024

এই মূর্তিটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ৩০০০ বছরের ইতিহাস।
কোথাকার,কি ঘটনা,কেনোই বা ৩০০০ বছর বললাম সব ঘটনা জানবো কাল।

কাজের ফাঁকে আজকে ঘুরে এলাম পূর্ব বর্ধমানের "অরণ্য সুন্দরী" ভালকী মাচান থেকে।অনেকদিন ধরেই আমি এর কাছাকাছি যাওয়া আসা করি ...
10/02/2024

কাজের ফাঁকে আজকে ঘুরে এলাম পূর্ব বর্ধমানের "অরণ্য সুন্দরী" ভালকী মাচান থেকে।
অনেকদিন ধরেই আমি এর কাছাকাছি যাওয়া আসা করি কিন্তু সময়ের অভাবে কোনোদিন ঘুরতে আসতে পারিনি এদিকে।
আজকে সময় হল তাই ঘুরে এলাম "অরণ্য সুন্দরী"থেকে।
জায়গাটা অত্যন্ত নিরিবিলি এবং শহরের কোলাহল থেকে একদম নির্জন জায়গা।
এখানে একটি সরকারি হোম স্টে আছে চাইলে আপনারা এখানে এসে রাত কাটিয়ে যেতে পারেন,খুব ভালো লাগবে।
আর যারা আমার মতন বাইকার আছেন তাদের জন্য অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা হল এটা।
চাইলে খুবই সহজে এখানে আসতে পারেন।

পথনির্দেশ - আসানসোল থেকে মানকর এসে গুসকরা রোডে উঠতে হবে,গুসকরা যাবার পথে অভিরামপুর মোড়ের ঠিক খানিকটা আগেই বাম দিকে বেকে যেতে হবে।তারপর সোজা রাস্তা যেমন যাচ্ছে তেমনই যাবেন,৫কিলোমিটার যাবার পরেই পেয়ে যাবেন "অরণ্য সুন্দরী" ভালকী মাচান।

আজকে কাজের ফাঁকে ঘুরে এলাম মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার ড্যাম এর কাছ থেকে।গঙ্গা নদী এখানে বিশাল চওড়া এবং ওই পাড়ে দূরে বাংলা...
07/02/2024

আজকে কাজের ফাঁকে ঘুরে এলাম মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার ড্যাম এর কাছ থেকে।
গঙ্গা নদী এখানে বিশাল চওড়া এবং ওই পাড়ে দূরে বাংলাদেশ।
📸Kajal Nandi(Admin)

 #হোবাপৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত উল্কা পিন্ডটির নাম হোবা (HOBA)। হোবার ওজন প্রায় ৬৬ টন যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম...
03/02/2024

#হোবা
পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত উল্কা পিন্ডটির নাম হোবা (HOBA)। হোবার ওজন প্রায় ৬৬ টন যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম উল্কাপিণ্ড অহনিগিটোর (Ahnighito) প্রায় দ্বিগুণ।

১৯২০ সালে উত্তর নামিবিয়ার গ্রুটফন্টেইন থেকে ১৯ কি:মি: (১২ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত হোবা ওয়েস্ট নামক একটি খামারে এটি আবিষ্কৃত হয়েছিল, যার কারনে এর নাম দেওয়া হয়েছিলো "হোবা" । উল্কাটি আবিষ্কার করেছিলেন কৃষক জ্যাকবাস হারমানাস ব্রিটস।


ব্রিটিশরা এটার একটি টুকরো পরীক্ষা করার জন্য সাথে করে নিয়ে যায় এবং পরীক্ষার পরে এটি একটি উল্কাপিণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়।

পাথরের চারপাশে খনন করে দেখা গেছে যে এটির একটি ছোট অংশ মাটির উপরে ছিল। আরো মাটি অপসারণ করা হলে, পাথরের বিশাল আকার বের হয়ে আসে।

১৯২৯ সাল পর্যন্ত এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তেমনভাবে ছড়িয়ে পড়েনি পরবর্তীতে যখন ডাচ আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলেম লুয়েটেন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি সংবাদপত্রের জন্য এই সম্পর্কে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। এরপরে এর খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পরে।

হোবা উল্কা আকৃতিতে মোটামুটি আয়তাকার এবং সমতল শীর্ষ। এটি প্রায় প্রায় নয় ফুট (২.৭ মিটার) লম্বা, নয় ফুট চওড়া এবং প্রায় তিন ফুট পুরু। সম্ভবত হোবা উল্কাটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অগভীর কোণে প্রবেশ করেছে এবং সেকেন্ডে কয়েকশ মিটারেরও কম গতিতে মাটিতে আঘাত করেছে।

প্রভাবটি সম্ভবত শুধুমাত্র একটি ছোট গর্ত তৈরি করেছিল, যা প্রায় ২০ মিটার (৬৬ ফুট) ব্যাস এবং প্রায় ৫ মিটার (১৬ ফুট) গভীর। হোবা উল্কাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক লোহা বলে মনে করা হয়।

এর প্রায় ৮২.৩ শতাংশ লোহা, ১৬.৪ শতাংশ নিকেল এবং ০.৮শতাংশ কোবাল্ট, আর রয়েছে কার্বন, সিলভার, জিঙ্ক এবং কপার।

এক সময় উল্কাপিণ্ডটির ওজন ছিল ৬৬ টন। উল্কাপিণ্ডের চারপাশের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড থেকে বোঝা যায় যে এটি পতিত হওয়ার সময় এটি ৬৬ টনের চেয়ে অনেক বড় ছিল, এবং জারন (oxidation) প্রক্রিয়ার কারনে এটি বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এছাড়া ও বিজ্ঞানী এবং স্যুভেনির শিকারীরা বছরের পর বছর ধরে এর কিছু অংশ কেটে ফেলেছে।

হোবা উল্কা ৮০,০০০ বছর আগে আকাশ থেকে পড়েছিল এবং হোবাকে কখনও তার স্থান থেকে সরানো হয়নি।

১৯৫৫ সালে হোবা উল্কাকে একটি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নামিবিয়া তখন দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা নামে পরিচিত ছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা শাসন করত।

১৯৮৭ সালে খামারের মালিক উল্কাপাতের জায়গাটি সরকারকে দান করে দেন। উল্কাপিণ্ডের চারপাশে একটি পাথরের অ্যাম্ফিথিয়েটার তৈরি করা হয়েছে এবং কাছাকাছি একটি দর্শনার্থী কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই স্থান পরিদর্শন করতে আসে।

।। এক বাঙালী ধনকুবের যার বদান্যতায় তৈরী হল কলকাতা মেডিকেল কলেজ।।তাঁকে বলা হতো ‘রথসচাইল্ড অফ ক্যালকাটা‘। স্বয়ং শিবনাথ শা...
02/02/2024

।। এক বাঙালী ধনকুবের যার বদান্যতায় তৈরী হল কলকাতা মেডিকেল কলেজ।।
তাঁকে বলা হতো ‘রথসচাইল্ড অফ ক্যালকাটা‘। স্বয়ং শিবনাথ শাস্ত্রী দরাজ শংসাপত্র দিয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর মতো সত্‍ ও বিনয়ী ব্যবসায়ী ছিলেন বিরল। অথচ বিত্তে তিনি ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এবং রুস্তমজি কাউয়াসজির সমকক্ষ। তিনি মতিলাল শীল। ১৭৯২ সালে, কলকাতায়, এক সুবর্ণবণিক পরিবারে জন্ম তাঁর। পিতা চৈতন্যচরণ শীল ছিলেন চীনাবাজারে কাপড়ের ব্যবসায়ী। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরে পিতৃহীন হয়ে পড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশীদূর লাভ করতে পারেননি মতিলাল। কিন্তু তাঁর ব্যবসায়িক বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা ছিল প্রখর। ইংরেজ কোম্পানির অধীনে সামান্য বেতনে কিছুকাল তিনি চাকরি করেন। ইতিমধ্যে সতেরো বছর বয়সে ১৮০৯ সালে সুরতী বাগানের মোহন চাঁদ দে-র কন্যা নাগরী দাসীর সঙ্গে মতিলালের বিয়ে হয়। ১৮১৫ সালে ফোর্ট উইলিয়ামে কর্মচারী হয়ে যোগ দেন। পরে গুদাম-সরকার হন। কিন্তু শ্বশুরের পরামর্শে এখানে তিনি দৈনন্দিন দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করেও কিছু বাড়তি রোজগার করতেন। এরপরে ফোর্ট উইলিয়ামের কাজে ইস্তফা দিয়ে তিনি কিছুদিনের জন্য বালিখালের কাস্টমস দারোগার চাকরি করেন।

কিন্তু বাণিজ্য তাঁর রক্তে। ১৮১৯ সালে সামান্য মূলধন নিয়ে শুরু করলেন উদ্যোগ। মতিলালের প্রথম কারবার ছিল বোতল-ছিপির। যোগান দিতেন বিয়ার রপ্তানীকারী হাডসন সাহেবকে। এছাড়াও ব্রিটিশদের নীল ব্যবসায় অন্যতম সহযোগী ছিলেন মতিলাল। উচ্চমানের নীল, চিনি, রেশম, চাল, নুন রপ্তানী করতেন ব্রিটিশদের। পরিবর্তে আমদানী করতেন সুতির কাপড় আর লোহা। এইভাবে মতিলাল এদেশীয় ও বিদেশীয় বাণিজ্যিক লেনদেনে একটা যোগসূত্রের কাজ করে অর্থ রোজগার করেছিলেন প্রচুর। তাঁর দক্ষতার কারণে ব্রিটিশরা তাঁকে 'বানিয়ান' পদে নিয়োগ করল। স্বোপার্জিত অর্থে কিনে ফেললেন প্রায় বারো-তেরোটা কার্গো জাহাজ। সেই জাহাজ নিয়ে তৎকালীন বাংলার বহির্বাণিজ্যে নেতৃত্ব দিতেন মতিলাল। তাঁর জাহাজ পাড়ি দিত সূদুর অস্ট্রেলিয়ার উপকূল পর্যন্ত। তৈরি করলেন বাষ্পীয় পোত বা জাহাজ, যা এদেশে প্রথম এবং পথিকৃৎ মতিলাল শীল।

মতি শীল এক হাতে যেমন উপার্জন করেছেন,তেমন দরাজ হয়ে অন্য হাতে ব্যয়ও করেছেন সমাজকল্যাণে। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে বেলঘরিয়ায় তৈরি করেছিলেন ভিক্ষাজীবীদের জন্য আশ্রম।দৈনিক পাত পড়ত অন্তত পাঁচশো জনের। এখনও আছে সেই আশ্রম, যেমন আছে হুগলীর গঙ্গাপাড়ে বাবু মতিলাল শীল ঘাট। আবার অন্যদিকে শেয়ার কেনাবেচা, নগদ ও সুদের কারবারও করতেন কিন্তু তা মোটেও সমকালীন সুদখোরদের বাণিজ্যের মতো ছিল না। বরং মতিলালের টাকা ধার দেওয়ার পদ্ধতিটি ছিল অনেকটাই আজকের ব্যাঙ্কিং ও বিমা ব্যবস্থার পূর্বসূরী। ব্যাঙ্ক অফ ইণ্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যেও মতিলাল ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা।

মিশনারী-বিমুখ হিন্দু ছাত্ররা যাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, তাই স্বনির্ভর উদ্যোগ নিলেন বাবু মতিলাল শীল। ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে পথ চলা শুরু করল বাবু মতিলাল শীল ফ্রি কলেজ। পরে এর সঙ্গে যোগ হয় স্কুলও। তবে শিক্ষাদান ও পাঠ্যক্রম ছিল আধুনিক। প্রথমে ফাদার ফ্রান্সিস জেভিয়ারের (আজকের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ) প্রতিষ্ঠান দেখত এর পঠন-পাঠন। কিন্তু নির্দেশ ছিল ধর্মের দিক দিয়ে ছাত্রদের প্রভাবিত করা যাবে না। কাজেই পরে যখন অভিযোগ ওঠে যে জেসুইট পাদ্রীরা সে নিয়ম মানছেন না তখন মতিলাল শীল পরিচালনার দায়িত্ব দেন রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জিকে। কলেজের ব্যয় তখনকার দিনে বার্ষিক ১২ হাজার টাকা আসত মতিলাল শীলের ট্রাস্ট থেকে। পড়ুয়া পিছু নেওয়া হতো বার্ষিক এক টাকা সাম্মানিক ব্যয়।

বাংলার নবজাগরণের মঞ্চে সমাজসংস্কারক বিদ্যাসাগরের আবির্ভাবের পূর্বেই মতিলাল শীল নিজের মতো করে বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সমাজের সর্বস্তরে বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য প্রথম বিধবা বিবাহকারীকে বিশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সালটা ছিল ১৮৩৭। সোচ্চার হয়েছিলেন বাল্যবিবাহ রোধে। ছিলেন সতীদাহ প্রথার ঘোরতর বিরোধী। নারীকল্যাণ ও নারীশিক্ষার সমর্থক ছিলেন প্রবলভাবে। হীরা বুলবুল নামে এক পতিতার পুত্রের হিন্দু কলেজে ভর্তি হওয়াকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সমাজে বেশ আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল। তখন মতিলাল শীল বউবাজারের রাজা রাজেন্দ্র দত্তের সঙ্গে পরামর্শ করে গড়ে তুললেন হিন্দু মেট্রোপলিটান কলেজ। সামাজিক কালিমার তোয়াক্কাও করেননি। কতটা ব্যতিক্রমী ও নিজের সময়ের থেকে এগিয়ে থাকলে একজন মানুষ এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিতে পারেন!

মতি শীলের বিত্তে সেজে উঠেছিল কলকাতা। তার জ্বলন্ত প্রমাণ কলকাতা মেডিকেল কলেজ। যে জমির ওপর বর্তমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল অবস্থিত, সেই পুরো ভূখণ্ডটাই এবং সঙ্গে এককালীন ১২ হাজার টাকা দান করেছিলেন মতিলাল শীল। পরিবর্তে তাঁর নামাঙ্কিত ওয়ার্ডে দেশীয় লোকজনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল ব্রিটিশ সরকার। পরে ফিমেল ওয়ার্ড শুরু করার জন্য আবারও দিয়েছিলেন এক লক্ষ টাকা।
১৮৫৪ সালের ২০ মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বঙ্গসন্তান। তাঁর অবস্থান ছিল রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের মধ্যবর্তী সময়ে। তৎকালীন সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনেকটাই। সমাজকল্যাণ থেকে চিকিৎসার উন্নতি, নারীকল্যাণ থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বনির্ভর উদ্যোগ - বঙ্গজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল মতিশীলের অবদান। আর তাঁর এই ব্যয়িত অর্থের উৎস ছিল দাপুটে বাণিজ্য। ব্রিটিশ বণিকদের সাথে আপন বুদ্ধির জোরে সমানে সমানে পাল্লা লড়িয়েছিলেন এই বাঙালী। ব্যবসাকে দিয়েছিলেন সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা। প্রমাণ করেছিলেন, ব্যবসা পূর্ণ সততার সাথে মানবিকতা না খুইয়েও করা যায়। তবুও যেহেতু বাঙালীর নিত্যদিনের চর্চায় গুরুত্ব পায়না অর্থকরী আলাপ-আলোচনা তাই আত্মবিস্মৃত বাঙালি তার আত্মঘাতী প্রবণতায় একদিন ভুলেও গেছে দানশীল ব্যবসায়ী মতিলাল শীলকে।

এই মহদাশয় হৃদয়বান বাঙালীকে আন্তরিক প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানাই। 🙏

~ শ্রেয়সী সেন
তথ্যসূত্র - ক্যালকাটা, দ্য লিভিং সিটি; সুকান্ত চৌধুরী (সংকলিত)
হিস্ট্রি অফ দি বৈশ্যজ অফ বেঙ্গল, প্রমথনাথ মল্লিক, উইকিপিডিয়া

বাংলার ইতিহাস জানতে চান ? যদি প্রকৃত ইতিহাস জানতে চান তাহলে অবশ্যই পড়ুন ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই "বাঙ্গালার ইতিহাস" । বাংলার ইতিহাস নিয়ে এইরকম গবেষণামূলক বই একটিও নেই ।
আমাজন লিংক : https://amzn.to/3MP7d4v

Address

Kalyanpur Housing
Asansol
713305

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Asansol Explorers 2.0 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Asansol Explorers 2.0:

Share

Category