25/08/2024
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের কেন এ পরিণতি হলো? বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টার জন্য দায়ী কে?
গোপালগঞ্জের আন্দোলন ঝিমিয়ে গেছে। সারা দেশের আওয়ামী লীগের চেটে খাওয়া নেতা কর্মীরা পালিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন হুংকার দেয়া আওয়ামী লীগ পালিত বিচারপতি মানিক এখন কলাপাতায় শুয়ে রত্নের সন্ধান করছেন। ’খেলা হবে‘ শ্লোগানের স্রষ্টা আবার বোরকা পড়েছেন। ২০০৯ সালে ৩৯% ভোট পাওয়া আওয়ামী লীগের কেন এমন করুন পরিণতি হলো? এটার বিশ্লেষণ কি কখনো হবে? উত্তর: না, কখনো হবে না। কারণ, যারা বিশ্লেষণ করার কথা তারাইতো দেশকে চেটে খেয়েছেন। যার নেতৃত্বে দেশ হলো তাকে কেন ইতিহাস থেকে মুছে দেয়া হচ্ছে? এর দায় কার?
এরকম হাজারটা প্রশ্ন আছে। উত্তর একটাও নাই। ১৬ বছরে উত্তর না দিলেও গোঁজামিল দেয়ার অনেক চেষ্টা ছিল। সাংবাদিকরা কি প্রশ্ন করবেন তার উপদেশ দিয়েছেন মন্ত্রীরা। মন্ত্রীরা ভুলেই গিয়েছিলেন তাদের দায়িত্ব কী! সাংবাদিকদের কাজ নিয়ে তারা বেশী আগ্রহ ছিল।
২০০ টাকার বালিশ ৭০০০ টাকা হলো, ভারতের ইশারা দেয়ার আগেই সব দিয়ে দেবার জন্য দিল্লী গিয়ে হাজির হলেন, বিচার বিভাগে খাইরুল হক আর মানিকদের তৈরি করলেন, এস আলমের ৯৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেল কিন্তু মানিকদের দিয়ে মানুষের প্রশ্ন তোলার সুযোগ রহিত করলেন। বেনজীরের মতো দুর্নীতিবাজকে দিলেন জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার। দিনের ভোট রাতে দেয়ার নজির স্থাপন করলেন। গ্রামে গঞ্জে আওয়ামী দস্যুতা ছড়িয়ে দিলেন। চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালুমহল দখল আরো কত কী!!!!
বিদেশ ঘুরার অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি ইতিহাস স্রষ্ঠাদের মূর্তি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্যই স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশে? চাটুকাররা একটা মূর্তি স্থাপন করতে পারলেই কোন বনেগা ক্রোড়পতি হয়ে যায়। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি এমন জায়গায়ও স্থাপন করা হয়েছে যেখানে মানুষ প্রস্রাব করতে যায়। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে একেবারে সস্তা করে তুললেন। মানুষ সস্তা কোন কিছুই রাখতে চায় না। তাই সস্তা হয়ে ওঠা বঙ্গবন্ধুর মূর্তিগুলো গণহারে ভেঙে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এই বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং বঙ্গবন্ধুকে এখন মুছে দেয়ার যে চেষ্টা হচ্ছে সেটার দায় কিন্তু আওয়ামী লীগেরই।
আওয়ামী লীগ যখন বাংলাদেশকে অপকর্মের স্বর্গ বানিয়েছে তখন টিউলিপ যে দেশের এমপি সে দেশে ঋষি সুনকের সরকারকে লাথি দিয়ে বিদায় করেছে। কারণ, তারা জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি। ( ব্রিটেনে রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ দেখানোর জন্য প্রায়ই বলে থানে ‘‘কিক দেম আউট‘‘। ) তারা সেটা ভোটের মাধ্যমেই করে। বাংলাদেশে যেহেতু ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে তাই দেশটি সত্যিকারের লাথি দিয়েই বিদায় করেছে। এক লাথিতেই নাকি একজনের অন্ডকোষে গন্ডগোল হয়েছে। এত কিছুর পরও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতে হবে? এক সময় ছাত্রলীগকে সমর্থক আমি। তাই প্রশ্নটা নিজেকেই করছি।