01/12/2024
কল্পগল্প
=====
কাকটা বোকাসোকা, হিসাব নিকাশ তেমন করে বুঝে না। প্রথমে একটু একটু সন্দেহ হয়েছিল যে ডিম যতগুলো পেড়েছে, কাকের নীড়ে তার থেকে বেশি ডিম আছে। কিন্তু পালের বাকি কাকরা কখনোই সেটা বিশ্বাস করেনি। বলেছে, তোর ডিম, তোর দায়িত্ব।
বোকা কাক তাই মনের সুখে ডিমে তা দেয়। একদিন ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে, সে ওদেরকে নিয়ে সারা আকাশ জুড়ে উড়ে বেড়াবে। কী মজাই না হবে।
তারপর একদিন ডিম ভেঙে বাচ্চা বের হয়। মা কাক সারা এলাকা তন্নতন্ন করে খাবার খুঁজে এনে বাচ্চাদের মুখে দেয়। বাচ্চারা আলগোছে বসে বসে খায়। তারপর একদিন মা কাক তার ছানাদেরকে উড়তে শেখায়। একটু একটু করে বাচ্চারা ডানা মেলে দুইফুট, তিনফুট করে উড়তে শিখে।
পালের বাকি কাকরাও খুব আনন্দের সাথে এসব দেখে। নতুন বাচ্চা মানেই কাকের পালে নতুন শক্তি। আহা, কী আনন্দ।
তারপর সব কষ্ট যখন শেষের দিকে, এখন কথা শেখানোর পালা। কাক বলে, 'বলো, কা, কা কা!' সব বাচ্চারা বলে 'কা, কা, কা'। শুধু একটা ছানা চুপ করে থাকে, কিছু বলে না। সবাই ভাবে, নিশ্চয়ই অনেক জ্ঞানী বাচ্চা, বড় হয়ে জ্ঞানী কাক হবে, সে কি আর বাচালের মতো ফটফট করবে নাকি!'
তারপর একদিন বসন্ত এসে যায়... চারপাশে পরিবর্তনের ছোঁয়া।
সেই জ্ঞানী কাকের বাচ্চাটাও একটা চেয়ার পায়। সবাই খুব খুশি। একজন জ্ঞানীর মূল্যায়ন হলো।
তারপর, কয়েকসপ্তাহ পরে, এক বসন্তের সন্ধ্যায়, রমনা পার্কের মৃদু হাওয়া যখন পশ্চিম থেকে পূবে সেগুনবাগিচার দিকে বয়ে যায়,
সেই জ্ঞানী কাকটা উসখুশ করতে করতে তারপর মুখ খুলে বলে, 'কূ...কূ...কূ...কূ! আমি তো কোকিল ছানাই ছিলাম, োতাতোদা কাকরা আমাকে তাদের একজন ভেবে পেলেপুষে বড় করেছে, আমার নিয়োগে খুশি হয়েছে, সেটা তো আমার দোষ না। বসন্ত এসে গেছে, এখন আমার আসল রূপ দেখো, আসল কথা শোনো। কূ...কূ...কূ..।'
Copy from Arif Jebtik