14/08/2026
এইমাত্র ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগে একটি লেখা শেষ করলাম 👇🏽
জাতীয় বীর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে মিত্রশক্তির কোনো "যুদ্ধাপরাধী" তালিকায় কখনও রাখা হয়নি।
স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর প্রাথমিক প্রতিরোধ থেকে শুরু করে আজাদ হিন্দ ফৌজ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি) সংগঠিত করা পর্যন্ত—ভারতের স্বাধীনতার প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজীবন উৎসর্গ আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
তবে, ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাঁর আইনি অবস্থান সম্পর্কে:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে "যুদ্ধাপরাধী" হিসাবে ঘোষণা বা শ্রেণীবদ্ধ করা হয়নি।
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক তাঁর এই শ্রেণীবদ্ধকরণের পেছনের সত্য এবং এই সাধারণ ভুল ধারণাটি কোথা থেকে এসেছে, তা কয়েকটি মূল তথ্যের উপর নির্ভর করে:
১. ব্রিটিশদের আনুষ্ঠানিক আইনি শ্রেণিবিন্যাস:
"বিশ্বাসঘাতক," "যুদ্ধাপরাধী" নয়
ভারত সরকার কর্তৃক অবমুক্তকৃত এবং ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল ওয়ার মিউজিয়াম দ্বারা নিশ্চিতকৃত সরকারি নথি থেকে এটা স্পষ্ট যে, নেতাজিকে কখনোই মিত্রশক্তির কোনো যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় রাখা হয়নি।
রাজনৈতিক বিদ্রোহী বনাম যুদ্ধাপরাধী:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, একজন "যুদ্ধাপরাধী"-কে এমন ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল যিনি গুরুতর নৃশংসতা বা যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন (যেমন গণহত্যা বা বন্দীদের উপর নির্যাতন) করেছেন।
ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গি:
আগস্ট ১৯৪৫ থেকে ব্রিটিশদের অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র (যেমন স্যার হোম সেক্রেটারি ফ্রান্সিস মুডি এবং স্যার ইভান জেনকিন্সের মধ্যে আদান-প্রদান করা চিঠি) থেকে স্পষ্টভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বোস কোনো অর্থেই যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না। বরং, যেহেতু তিনি একজন ব্রিটিশ ভারতীয় প্রজা হিসেবে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তাই ব্রিটিশরা তাকে আইনত একজন বিদ্রোহী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখত।
২. "যুদ্ধাপরাধী" তকমা নিয়ে বিতর্কটি কোথা থেকে এলো?
তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল—এই ব্যাপক বিশ্বাসটির উৎস মূলত দুটি:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিভাষা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা: যেহেতু নেতাজি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য কঠোরভাবে অক্ষশক্তির (জাপান ও জার্মানি) সঙ্গে মিত্রতা করেছিলেন, তাই অনেকেই ভুল করে ধরে নিয়েছিলেন যে মিত্রশক্তি তাকে অক্ষশক্তির সামরিক নেতাদের মতোই একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গণ্য করেছিল।
একটি জাল চিঠির বিতর্ক:
২০১৬ সালে, ভারতের জাতীয় আর্কাইভ কর্তৃক "নেতাজি ফাইলস"-এর গোপনীয়তা উন্মোচনের সময়, একটি ভাইরাল দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে জওহরলাল নেহেরু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট অ্যাটলিকে একটি চিঠি লিখে বোসকে "যুদ্ধাপরাধী" আখ্যা দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং সরকারি আর্কাইভ দ্রুত এই নথিটিকে একটি জালিয়াতি হিসেবে খণ্ডন করে, যেখানে অসংখ্য তথ্যগত এবং ব্যাকরণগত ভুল ছিল।
সারসংক্ষেপ
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছিল যে, নেতাজীকে একজন সাধারণ অপরাধী হিসেবে বিচার বা শাস্তি দিলে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিদ্রোহের সূত্রপাত হবে—যার প্রমাণ মেলে লালকেল্লায় ১৯৪৫-৪৬ সালের আইএনএ বিচারের সময় সৃষ্ট ব্যাপক জনরোষ থেকে।
ব্রিটিশ রাজের চোখে নেতাজী ছিলেন একজন রাজনৈতিক বিপ্লবী, যিনি তাদের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের জন্য সরাসরি সামরিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন; অন্যদিকে, ভারতের জনগণের কাছে তিনি একজন অটল দেশপ্রেমিক এবং জাতীয় বীর হিসেবেই রয়ে গেছেন।
লিখেছেন এস.এম.জি. - একজন গর্বিত ভারতীয়