15/02/2026
Deep state এর নির্দেশেই ভোটে জয়ী হলেও মামুনুল হকের আসন ববি হাজ্জাজকে দেওয়া হয়েছে।
এটা বুঝতে হলে আগে,
আগে Deep state কি?
এর উদ্দেশ্য কি?
এটা কিভাবে কাজ করে?
এই তিনটা বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
Deep state এর পরিচয়ঃ ছায়া রাষ্ট্র নিজে কোন রাষ্ট্র নয় কিন্তু রাষ্ট্রীয় সীদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে। এর অংশ হচ্ছে মিডিয়া, সামরিক এবং প্রশাসনিক মূল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারীরা, স্থানীয় এবং আন্তরজাতিক মাফিয়া চক্র, আধিপত্যবাদী দেশ ইত্যাদি ।
এদের পছন্দের বাহিরে কোন দল বা ব্যাক্তি নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। হলেও ক্ষমতা ঠিকবে না।
Deep state এর উদ্দেশ্য : আমেরিকাসহ সকল দেশেই এই ছায়া রাষ্ট্র আছে কিন্তু বিভিন্ন দেশে এদের উদ্দেশ্যে ভিন্নতা আছে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে এদের প্রাধান উদ্দেশ্য ইসলাম পন্থীদের দমিয়ে রাখা। এদের ক্ষমতায় যেতে বাধার সৃষ্টি করা এবং প্রভুদেশ ও মাফিয়া চক্রের স্বার্থ রক্ষা করা।
Deep state যেভাবে কাজ করে : ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে দুইটা প্রধান উপায় হচ্ছে সামরিক এবং নির্বাচনের মাধ্যমে। এই দুইটা উপায়ে আলাদাভাবে ছায়া রাষ্ট্র কাজ করে থাকে।
সামরিক : সামরিক ভাবে যেন ইসলাম পন্থীরা ক্ষমতায় যেতে না পারে সেজন্য অপপ্রচার এবং সঃন্ত্রাঃসের নাটক তৈরী করে। অর্থাৎ মুসলিম দেশগুলোতে যেন ইসলাম পন্থীরা সামরিক দিক চিন্তা না করে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চিন্তা করতে বাধ্য হয় সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে, কোন অপরাধের প্রমাণ ছাড়াই জনগণের চোখে ইসলাম পন্থীদের সঃঃন্ত্রাঃঃসী হিসেবে প্রচার করে। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাদের আন্তর্জাতিক প্রক্সি রয়েছে যেমন আইঃঃএস।
মুসলিম দেশগুলোতে এদের মাধ্যমে অপরাধ করিয়ে দায় স্বীকার করাবে এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করতে দেশে আন্তর্জাতিক সঃঃন্ত্রাঃঃসী আছে। তাছাড়া স্থানীয় ভাবেই কিছু ছোট ছোট গ্রুপ তৈরী করে এদের মাধ্যমে সঃঃন্ত্রাঃঃসী কাজ করিয়ে তার দায় ইসলাম পন্থীদের ওপর দেবে।
তাছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থের বিরুদ্ধে বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যদি ইসলাম পন্থীরা সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় তখন তাদের দমাতে সঃঃন্ত্রাঃঃসী হিসেবে প্রচার করবে এবং প্রয়োজনে তাদের প্রক্সিদের দমনের নামে হাঃমঃলা করবে। যেমন ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান আইঃঃএস দমনের নামে বিভিন্ন জায়গায় হাঃঃমঃঃলা যদিও এই সংগঠন তাদেরই প্রক্সি।
এর পরও যদি সামরিক ভাবে ক্ষমতায় যায় তাহলে নিষেধাজ্ঞা, অপপ্রচার, মিডিয়া ট্রায়াল তো আছেই। যেমন আফগানিস্তান।
আর বাংলাদেশে দিল্লির স্টার এবং দিল্লির আলোর মতো মিডিয়ার মাধ্যমে বিগত সরকার জঃঃঙ্গী নাটকের মহড়া দিয়েছিলো। আলেমদের ধরে নিয়ে সঃঃন্ত্রাঃঃসী সংগঠনের (অস্তিত্বহীন) নেতা বলে প্রচারও করা হয়েছিলো। মাদরাসায় এন আছে তেন আছে কত কি!! এমন কি আভিধানিক ভাবে জঃঃঙ্গী শব্দটি ফারসি থেকে বাংলায় এসেছে যার বাংলা অর্থ যু্ঃঃদ্ধা। যেন জঃঃঙ্গি বিমন।
ঐই শব্দটি ভুল অর্থে ব্যবহার করা হয় শুধু মুসলমানদের সঃঃন্ত্রাঃঃসী বুঝাতে। নতুন প্রজন্ম এই শব্দটির সঠিক অর্থটাও পর্যন্ত জানে না।
নির্বাচন : রাজনৈতিক দল গঠন এবং পরিচালনা করতে দেবে কিন্তু নির্বাচিত হবে দেবে না। যদিও দেয় তবে কয়েটি আসন দিতে পারে।
(১) ইসলামি দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাবে। যেমন বাংলাদেশে রাজাকার, জঃঃঙ্গি, নারী বিদ্বেষী ইত্যাদি । কিছু ধর্মীয় লোকদের দিয়ে নির্বাচন মুহুর্তে ফতোয়াও দেওয়াবে যেন মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ইসলামি দলকে ভোট না দেয়। রাস্তায় পথভ্রঃঃষ্ট কিছু নারীকে টাকার বিনিময়ে চেচামেচি করাবে।
(২) আবার নির্দিষ্টভাবে কোন জনপ্রিয় ব্যাক্তির বিরুদ্ধেও অপপ্রচার করতে পারে, চরিত্র হনন করতে পারে ( যেমন মামুনুল হক)
ভূয়া নিউজ, হাঃমঃলা, মামলা, চরিত্র হনন ইত্যাদি সকল পথ অবলম্বন করার পরেও যদি ঐ ব্যাক্তি বা দল নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে ,
(৩) টার্গেট করা ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেবে। ( আপনার ভোট হয়ে গেছে), কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেবে, ব্যালট বাক্স চুরি করবে তারপরও যদি টার্গেট করা ব্যাক্তি বা দল পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে
(৪) পুলিং এজেন্টকে মাঃঃরধর করবে, কেন্দ্র থেকে বাহির করে দেবে, রেজাল্ট সিটে আগেই স্বাক্ষর করাবে, প্রয়োজনে রেজাল্ট সিটে কাটাকাটি করে পরাজিত ঘোষণা করবে।
এই সমস্ত কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে সামরিক বাহিনী, প্রশাসন এবং মিডিয়া। জনগণের চোখের সামনে এসব হবে কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে না।
(৫) এটা সর্বশেষ ধাপ। যদি অপপ্রচার, হাঃমঃলা, মামলা, মিডিয়া ট্রায়াল, জাল ভোটসহ সকল ধাপ পার হয়ে কোন ইসলামি দল ক্ষমতায় এসেই যায় তাহলে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হবে।
মামুনুল হকের ক্ষেত্রে এই ৫ নাম্বার কাজটা ছাড়া অন্য সবগুলোই করা হয়েছে।
অনলাইনে ট্রল করা হয়েছে, চরিত্র হনন করা হয়েছে, ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ানো হয়েছে, এই নির্বাচনে টাকা দিয়ে নারীদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এতো কিছুর পরও জনগণ বিপুলভাবে ভোট দিয়েছে। Deep state জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে নাই।
যখন দেখল নির্বাচনে ভোট চুরা ববি হাজ্জাজের থেকে প্রায় প্রতি কেন্দ্রেই মামুনুল হকের এগিয়ে আছে তখন হটাৎ করে রেজাল্ট আসা বন্ধ হয়ে গেল।
দেশের সকল মানুষের দৃষ্টি যখন ঢাকা ১৩ আসনে তখন মধ্য রাতে মিডিয়া চক্র মামুনুল হককে জয়ী ঘোষণা করলো। এতে কেন্দ্র থেকে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে সরে গেল। তারপর এজেন্টদের বের করে দিয়ে রেজাল্ট কাটাকাটি করে ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হল। সাথে সাথে মিডিয়া মামুনুল হকের প্লে কার্ড সরিয়ে ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণা করে।
ঢাকা ৮ আসলে মির্জা আব্বাসের ভোট যে কারণে গণনা করা হলো সেই একই কারণ থাকা সত্বেও মামুনুল হকের ভোট বাতিল করা হল।
কাটছাট না করলেও মামুনুল হক জয়ী হতো। আর কাটছাট করার পরও যদি ভোট বাতিল করা না হতো তাহলেও মামুনুল হক জয়ী হতো। একই দেশে, একই শহরে দুই আইন। মির্জা আব্বাসের ভোট গণনা হবে আর মামুনুল হকের ভোট বাতিল করা হবে।
তারা জানে মামুনুল হক সাংসদে গেলে প্রভু দেশগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। আর তার কথা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।।
তাই সম্পূর্ণ Deep state তার বিরুদ্ধে লেগে ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। চুরির স্পষ্ট প্রমাণ। একই শহরে দুই আইনের স্পষ্ট প্রমাণ তারপরও নির্লজ্জ ইসি তার অন্যায়ে অটল। কারণ তার পেছনে বড় শক্তি কাজ করছে।
অনুরূপ ১১ দলীয় জোটের একের পর এক সাফল্য আসছিলে হটাৎ সব বন্ধ হয়ে যায়। আর রাতের আঁধারে ১১ দলীয় জোটেকে পরাজিত করা হয় ভোট চুরির মাধ্যমে।
সূত্র ইলিয়াস হোসাইন