06/07/2023
প্রেমের শহর হিসেবে খ্যাত প্যারিস মোটামুটি জ্বলছে বলা যায় যা দেখে একশ্রেণির ধর্মান্ধ উন্মাদ গোষ্ঠীর সমর্থক বকরিকুল খুব খুশি কেননা দুদিন আগে বয়কট ফ্রান্স আন্দোলনের সফল পরিণতি না দেখলেও এবার ফ্রান্স জ্বলছে খবর পাচ্ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের উল্লাস প্রকাশ করছে। মূলত ফ্রান্স জ্বলছে কিন্তু কারা এজন্য দায়ী?
অবশ্যই তাদেরই উত্তরসূরি মুসলিম অভিবাসীরা যারা ফ্রান্সের খেয়ে-পরে গায়েগতরেই বেড়েছেন কিন্তু এ-ই সমাজকে ধর্মের নামে ঘৃণা করে। সরকারের বিভিন্ন সোশ্যাল ফেয়ার এ-র ভাতা খেয়ে গণ্ডায় গন্ডায় জন্ম দিয়ে কাজ ছাড়া বহালতবিয়তে জীবনধারণের পরে-ও সেই গণ্ডায় গন্ডায় জন্ম দেওয়া ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত না করে এমনভাবে বেড়ে উঠতে দিয়েছে, যেখানে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে কিভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আকাম-কুকাম করিয়া নিজেদের মহত্ত্ব প্রচার করা যায়।
নেহাল নামের আইন না মানা ছেলেটা মুসলিম হওয়ায় আন্দোলনের মাত্রায় যোগ হয়েছে মুসলিম বিদ্বেষের নতুন অনুযোগ যা বাংলাদেশের প্রথম আলো থেকে শুরু করে মূলধারার গণমাধ্যমে যেমন উঠে এসেছে তেমনই ফ্রান্সে বসবাসরত বিশেষ শ্রেণির মুসলিম সম্প্রদায়ও এটাকে মুসলিম বিদ্বেষী তকমা দিয়ে দাঙ্গা-মারামারি শুরু করেছে যেন নিজেদের শান্তির ধর্মের মানুষ প্রমাণ করতে পারেন তাতে তৌহিদের গল্প প্রচারও হলো আবার নিজেদেরকে শান্তিবাদি মানুষও দাবি করা গেল।
মরক্কান-আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূতরা আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ছিনতাই যেমন করছে তেমনই ৮০ বছরের বৃদ্ধ গীর্জার ফাদারকে আক্রমন, একজন মেয়রের দাবি মতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান আছে জেনেও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্ত্রীপুত্র আহত, মার্সেই শহরের লাইব্রেরিতে আগুন, ভাংচুর ও লুটপাটসহ মুসলিম অধ্যুসিত ফ্রান্সের বিভিন্ন বড় শহরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এ-ই মুহূর্তে ফ্রান্স টক অব দ্য স্টোরিতে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিধায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়া মার্কিন স্টেটস ডিপার্টমেন্ট নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। হয়তো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পূর্বক জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ রাখলেও দাঁড়িয়ে থাকা বাস, ট্রামে আগুন এবং বিভিন্ন নামি-দামি গাড়ির শোরুমে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করতেও এদের লজ্জিত হতে দেখা যাচ্ছে না বরং নিজেদের জাত চেনাতে মহল্লার ভেতরের পাবলিকের পার্কিংকৃত গাড়ি, মোটরসাইকেল চুরি ও অগ্নিসংযোগ করছে। তাছাড়া নামি-দামি ব্রান্ডের দোকান, ইলেকট্রনিকস শপ, মোবাইল শপে লুটপাট তো নিজেদের প্রাপ্তি হিসেবে মহাসমারোহে চালিয়ে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন যদি করেন, কারা এসব লুটপাটে ও চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত তাহলে একবাক্যে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষের উত্তর হবে- মেইনলি মুসলিমরা, স্পেসিফিকভাবে বললে মরক্কান-আলজেরিয়ান-অফ্রিকান মুসলিম।
ফ্রান্স বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী বিধায় আপনার যেকোনো অভিযোগ, অনুযোগ শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ এ-র মাধ্যমে জানাতে কেউ আপত্তি করবেনা কেননা এটা আপনার সাংবিধানিক অধিকার। এদেশে আপনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন তাতে জেল-জুলুম নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে না বরং আপনার কথায় কেউ মনঃক্ষুণ্ন হলে রাষ্ট্র আপনাকে প্রটোকল দিতে বাধ্য যা সংবিধানের মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে বিধায় শার্লি হেবদু কিংবা প্রফেসর শ্যামুয়েল ইতো যখন নবী মোহাম্মদ এ-র ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ বা বাকস্বাধীনতা রক্ষায় ছাত্রদের মধ্যে পড়ায় তখন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই বরং কেউ বিরোধিতা করলে তা নিবৃত্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এখন আপনি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল আচরণে আপনি বয়কট ফ্রান্স আন্দোলনের সফল পরিণতিতে ঢেঁড়স চাষের ফরমুলা খুঁজতে পারেন তাতে আপত্তি নেই কিন্তু আপনি যাদের বয়কট করতে উঠেপড়ে লেগেছেন সেই তারাই নিজেদের সৈন্য পাঠিয়ে আপনার সবচেয়ে পবিত্র স্থান কা'বা শরীফকে দখলমুক্ত করেছিল। যদিও বিশ্বের তামাম মুসলিম দে-শ সেসময় কিভাবে ঢেঁড়স চাষের ফরমুলা আবিষ্কার করা যায় নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।
ফ্রান্সের রাস্তার মোড়ে বা স্টেশনের আশেপাশে খ্রিস্টানধর্ম প্রচারকদের দেখা যায় যারা আপনাকে গ্রাহক মনে করে ধর্মীয় পাঠ বিতরণ শুরু করতে পারে কিন্তু প্রতিত্তোরে যদি বলেন তুমি যারে আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করছো সে যে সত্যি সত্যিই আল্লাহর পুত্র তা কিভাবে বিশ্বাস করি? সেসময় ডিএনএ-র টেস্ট থাকলে নিশ্চিত এ-সব ভণ্ডামি প্রকাশ হয়ে যেতো। আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেও এরা লাঠি নিয়ে তেড়ে আসবেনা কিংবা ছুরি দিয়ে গলা বিচ্ছেদের জন্যও ছুটে আসবেনা বরং আপনার থেকে পালাতে আমাদের অন্য কাজ আছে বলে বিদায় নেবে এবং যাবার আগে দুঃখিত বলতেও শরম পাবেনা কিন্তু একই কথা কোনো মুসলিম ইমাম কেন বরং কোনো ধর্মান্ধ উন্মাদ উগ্র মুসলমানকে বললে নিশ্চিত ধঁড়ে মাথা থাকবেনা।
ফ্রান্স বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করলেও অভিবাসী নাগরিকদের একটা বিরাট অংশ যাদের ধর্মবিশ্বাস ইসলাম তারা মোটেও এইসবে বিশ্বাস করে না তা তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতিনিয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছে। এখন আপনি বলতে পারেন যে ফ্রান্সে রেসিজম অনেক, আপনার কথার সঙ্গে একমত হলেও পুরোপুরি একমত হতে পারছিনা এজন্য যে ব্যক্তিগতভাবে কেউ রেসিজম করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে রেসিজমের সুযোগ নেই অর্থাৎ কেউ আপনার সঙ্গে রেসিজম করলে এবং সেটা প্রমাণিত হলে সে কোনভাবেই ছাড় পাবেনা। তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে অনেকটা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ভাবতে বাধ্য করা হবে বিধায় নির্দিষ্ট সময় পাসপোর্ট নিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ভ্রমণ করতে পারবেনা।
যাহোক, গত কিছুদিন ধরে ফ্রান্সের উগ্র মুসলমান দাঙ্গাবাজদের ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চুরি-ছিনতাই হয়তো অচিরেই থেমে যাবে কিংবা দমন করা হবে। ঠিক পূর্বে সম্ভবত ১৯৬১ সালে একবার থামিয়েছিল যখন আলজেরিয়ার স্বাধীনতার আন্দোলনে ফ্রান্সের মধ্যে উগ্রবাদী আচরণে এরকমই পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এদের উগ্রবাদী আচরণ আর যাইহোক সামগ্রিকভাবে মুসলিম কিংবা অভিবাসীদের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না বরং এ-ই সমাজে ঘৃণাকে উস্কে দেবার প্রাথমিক ধাপ বলা যায়। একসময় যেসব সাধারণ ফরাসিরা অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল তারা-ও এ-ই ঘটনায় আশংকিত।
আমার ফরাসি কলিগ তো কথাচ্ছলে বলেই ফেললো যে, আগামী নির্বাচনে নিশ্চিত ম্যারি লেপেন আসবে আর আমি দে-শ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাবো কেননা সে আসলে আরও বিভক্তি বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে। আপনি প্যারিস বা বড়সড় শহরগুলোতে মুল ফরাসিদের খুব একটা দেখবেন না, এরা কাজের জন্য প্যারিসে আসলেও কয়েকশো মাইল দূরে গিয়ে বসবাস করে শুধুমাত্র আইন না মানা উগ্র মুসলমান চোরছ্যাঁচড় জাতির জন্য। আপনি আপনার মুসলিম ভাইকে চোরছ্যাঁচড় জাতি বলাই হয়তো ইতিমধ্যে মনেমনে আমার পিণ্ডি চটকাচ্ছেন কিন্তু স্বগোত্রীয় এবং স্বধর্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুনির্দিষ্টভাবে জিগ্যেস করলে ঈমান দুর্বল হয়ে যাবে বিধায় আমার কথাই দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নিতে পারবেন না।
"আপনার কথায় আমি মনঃক্ষুণ্ন হতে পারি কিন্তু আপনার বাক স্বাধীনতা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।"
ফ্রান্স বাকস্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছপা হয়নি বিধায় এদেশের প্রেসিডেন্ট বলতে বাধ্য হয়- আপনার রাগের যথেষ্ট কারণ থাকতে পারে এবং আমাদের কুটনৈতিক বোঝাপড়াটা নষ্ট হলেও আমার কিছু করার নেই বরং আমি বাকস্বাধীনতাকে রক্ষার শপথ নিয়েছি এবং প্রত্যেকের বাকস্বাধীনতা রয়েছে নিজের মনোভাব প্রকাশ করার।।
#গাজাতুলধর্ম