02/25/2024
আজ শবেবরাত |
ছোটবেলার সেই মধুর একটা হৈচৈ আনন্দঘন দিন|
**** সকাল থেকেই বাড়ি বাড়ি একটা গমগম ভাব শুরু হয়ে গেছে | কারো বাড়ির পাশ দিয়ে হেটে যেতেই ,নাকে আছড়ে পড়ছে ঘিয়ে ভাজা বুটের হালুয়ার ঘ্রান
বাতাসে কেমন যেন একটা সুখ সুখ অনুভুতি ভেসে আসছে|
ক্ষনে ক্ষনে শোনা যাচ্ছে মা খালাদের গলা ছেড়ে চিৎকার কাজের মেয়ের সাথে ,হালুয়াটা একটু নাড়া দে যেন পাতিলে লেগে না যায়, ভালো করে নাড়তে থাক,
বাড়ির কাজের ছেলে ,ড্রাইভার ,বড় ভাই কিংবা বাবাদের যেনো আজ কাজ বেড়ে গেলো আরো দ্বিগুন | ক্ষনে ক্ষনে বাজার যেতে হচ্ছে এইটা লাগবে ঐটা কম পড়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি.
দুপুর শেষ হবার আগেই ,দরজায় এসে কড়া নাড়ানোর আওয়াজ “আম্মা হালুয়া রুটি দিবেন না ? “ভিক্ষুকদের দলগুলোর একটাই উদ্দেশ্য ,যে যত বাসা যেতে পারবে ততগুলো হালুয়া রুটি সে পাবে |
ছোটোবড়ো মাঝারি সব ছেলেগুলো খানিক পর পর জড়োসড়ো হয়ে দল বেঁধে সাইকেলর স্পোক দিয়ে বারুদ ঢুকিয়ে টুশ টাশ আওয়াজ করছে আর চোখের পলকে কেউ দেখার আগেই উধাও হয়ে যাচ্ছে | ছেলেগুলোর পকেট ভর্তি পটাকা ,বারুদ ,বোমা অপেক্ষা শুধু কখন সন্ধ্যা হবে | সাঁঝের বাতি টিম টিম হওয়া মাত্রই শুরু হবে আতশ বাজি, ফুলঝুরি,বোমাবাজি আর হৈ হল্লুর |
আর মেয়েগুলো হাতে মেহেন্দী দিয়ে হাত লাল করে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছুক্ষন পর পর হাতে ট্রে করে সবার বাড়ি হালুয়া রুটি দিয়ে আসছে |
আমার মনে আছে এমন অনেক শবেবরাতের রাতে পায়ে ঠোসা পরে গিয়েছিল ফুলঝুরির গরম পাতে |
আজ বিদেশের বাড়িতে বসে তারই একটা অনুভুতি নিয়ে
চলছি |
সকাল থেকেই মনে হচ্ছে আজ সবাই এইটা করছে ওটা করছে ,ভাবতে ভাবতেই মনের অজান্তেই মুহূর্তে চলে গেলাম সেই ছোট্টবেলার দিনগুলোতে |
খানিক পর ফেবু পাতা খুলতেই নজরে পড়লো এই হালুয়া রুটি বলে বিদ্দাত !! বলি আমরা কি তাহলে নিজস্বতা সত্যি হারিয়ে ফেললাম?আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য কি ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে গেলো?
আমরা যারা আজ দেশ ছেড়েছি ,তারা কিন্তু এখনো সেই ছোটো ছোটো আনন্দগুলো নিয়েই বেঁচে আছি.
এই সেই আমাদের বিলুপ্ত শবেবরাত
সেই আমি আজও আছি ,শুধু নেই সেই হৈহৈরৈরৈ দিনগুলো
আমার মনে হয় আবার একটা ভাষা আন্দোলন হোক ,
না এইবার ভাষা না এইবার নিজের ঐতিহ্যটকে অটুট রাখার আন্দোলন হোক
At my Rongkutir