01/08/2025
জন হপফিল্ড লোকটা অদ্ভুত। গতবছর যিনি ফিজিক্সে নোবেল পুরস্কার পেলেন।
এই লোক ব্যাচেলর এবং পিএইচডি করেছেন ফিজিক্সে। কিন্তু পরে প্রচুর পড়াশুনা করছেন কেমেস্ট্রি এবং বায়োলজি নিয়ে। প্রিন্সটনের মতো ইউনিভার্সিটিতে “মলিকিউলার বায়োলজির” প্রফেসর ছিলেন।
ফিজিক্স পড়ে মলিকিউলার বায়োলজিতে এক্সপার্ট!
—বুঝেন অবস্থা! এবং ক্যালটেকে “কম্পিউটেশন এন্ড নিউরাল সিস্টেম” নামে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করছেন।
এরা যে কি নিয়ে পড়ে, কি নিয়ে কাজ করে—বুঝাই যায় না। এরা সকালে পড়ে একটা। বিকালে পড়ে আরেকটা। ব্যাচেল করে এক বিষয়ে। পিএইচডি করে আরেক বিষয়ে। পোস্টডক করে আরেক বিষয়ে। নোবেল পায় আরেক বিষয়ে। এমন অনেক উদাহরণ আছে।
রয়েল সোসাইটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং নোবেল বিজয়ী ভেঙ্কট রামাকৃষ্ণন ও এমন ছিলেন। পিএইচডি করেছেন ফিজিক্সে। পরে তার ইচ্ছে হইছে, ফিজিক্স ভালো লাগে না। পড়লেন বায়োলজি নিয়ে। গবেষক হয়ে গেলেন RNA নিয়ে। এবং নোবেলও পেয়েছেন সে বিষয়ে—২০০৯ সালে।
আমার পোস্টডক সুপারভাইজর একবার দুইটা বায়োলজির পিএইচডি’কে পোস্টডক হিসেবে ল্যাবে নিলেন। তারপর এসে আমাদের বললেন, এই দুইজনকে তোমরা অর্গানিক কেমেস্ট্রি শিখাবা। আর ওরা আমাকে বায়োলজি শিখাবে। (মনে মনে কইলাম, তোমার বয়সী মানুষদের বাংলাদেশে বলে “এক পা কবরে চলে গেছে”)
কিছু মানুষ যে ক্যামনে এতো কিছু পড়ে আর ভাবে—সেটাই বুঝি না। আমিও ট্রাই করি। কিন্তু ঘুম চলে আসে।
খোদা দুনিয়াতে এক শ্রেণীর লোকই পাঠায় যারা শুধু পড়বে, ভাববে আর সৃষ্টি করবে। আমরা তাদের কাজ মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি করবো।