20/11/2024
বাংলাদেশে সামনে কী হতে যাচ্ছে?
ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব- সবার মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা কাজ করছে। সবাই আশ্বস্ত হতে চান, ইতিবাচক কিছু হোক চান...
বাস্তবতা হলো- এমন ভয়ের রাজত্বে বাস করতাম যে আল্লাহর কাছে জালিমের বিরুদ্ধে দোয়া করা ছাড়া আর কোন রাস্তা ছিল না। বেশিরভাগ মানুষ নিপীড়িত হয়ে আল্লাহর দিকে চেয়ে ছিল জালিমের পতনের জন্য। মাত্র ৩ সপ্তাহের অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেল যা মিরাকল ছিল এবং এই পরিবর্তন আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ছিল উছিলা মাত্র। .
সবাই আশাবাদী হয়ে উঠল, প্রফেসর ইউনুসকে ঘিরে স্বপের জাল বুনতে লাগল। কিন্তু দেখা গেল, উপদেষ্টার নির্বাচনে তিনি বড় ভুল করে ফেললেন।
বয়স্ক এবং এনজিও কেন্দ্রিক লোকজন টিমে নিলেন, যাদের বাংলাদেশের মানুষের সাথে তেমন কানেকশন নেই... সারা জীবন এনজিও ফান্ডিংয়ের ছকে বাধা কাজ করেছেন, দেশের মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া তাদের রাডারে ধরা পড়েনি।
অর্থাৎ, এনজিও উপদেষ্টারা কাজের ফোকাস ঠিক করতে পারেননি, অন্যের পরামর্শও নেননি।
তারা ভাবতে লাগলেন, দেশটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করে ফেলবেন। সমাজ কল্যাণ উপদেষ্টা ১৭ আগস্ট মিছিলও করলেন সম*আ*কামী অধিকারের জন্য!! ভাবা যায়! এটা কি বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া?
আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে, কিন্তু উপদেষ্টারা কপচাচ্ছেন আইডিওলজি নিয়ে...
প্রফেসর ইউনুস রাষ্ট্র পরিচালনায় অযোগ্য মানুষ, দেশ সম্পর্কেও তাঁর তেমন ধারণা নেই... মোটিভেশন দিয়ে একটা দেশ চলে না...
আমাদের দেশের সব সেক্টরেই পিছিয়ে, পড়াশোনা তেমন হয় না, যোগ্য লোকের বড় অভাব।
প্রফেসর আসিফ নজরুলের টক শো দেখে মনে হতো লোকটা যোগ্য। কিন্তু তিনি একজন ব্যর্থ ম্যানেজার। নিজের পরিচিত সার্কেল উপরে নির্ভর করতে গিয়েছেন, যোগ্য লোক খোঁজায় প্রাধান্য দেননি। তার দায় প্রফেসর ইউনুসের চেয়ে বেশি...
হাতে-পায়ে ধরে বুঝাতে চেষ্টা করেছিলাম যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য অটুট থাকে, পাবলিক-প্রাইভেট-মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এক থাকে। যদিও বন্ধন কমে গেছে, তবে এখনো চেষ্টা করলে ঐক্য গড়ে উঠবে।
শিক্ষার্থীদের চাপ ছাড়া এই দেশে আগামী ২০-৩০ বছরেও পরিবর্তন হবে না। পিরিয়ড।
এখন কিছু পজিটিভ কথা বলছি...
১। আমরা আর হাসিনার যুগে ফিরে যাবো না...
২। আমাদের কষ্টার্জিত কথা বলার স্বাধীনতা সহজে কেড়ে নিতে পারবে না, কেননা ৫ আগস্ট আমাদের অনুপ্রেরণা।
৩। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগের মত চিন্তা-চেতনা পরিহার করতে বাধ্য হবে। ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়াবে না,
৪। ইসলামপন্থীরা আগের চেয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে। ইয়াং জেনারেশনের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ইসলাম ঠিকমতো পালন না করলেও ইসলামি স্পিরিট ধারণ করে।
বাংলাদেশে ইসলামকে দমিয়ে রাখা কঠিন হবে। ইসলামিক আইডেন্টিটি ধারণ করার সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব, প্রকৃত স্বাধীনতা।
লেখাঃ সারোয়ার হোসেইন