13/05/2026
নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক
হচ্ছেন অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান!
* আলোচনায় স্বাধীন-হিরু-জাহাঙ্গীসহ কয়েকজন নেতার নাম
মাহফুজ মণ্ডল, বগুড়া:
দীর্ঘদিনের দাবি, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং প্রশাসনিক প্রত্যাশার বাস্তব রূপ হিসেবে অবশেষে দেশের নতুন সিটি কর্পোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন| জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে অনুমোদনের পর থেকেই পুরো উত্তরাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে| তবে নতুন এই সিটি ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়, এর প্রথম প্রশাসক কে হচ্ছেন|
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় মতামত অনুযায়ী, খুব শিগগিরই প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হতে পারে| স্থানীয় সিনিয়র নাগরিক, ব্যবসায়ী মহল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সিটি এলাকার সুবিধাভোগীদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান|
বগুড়া বারের একাধিক সিনিয়র আইনজীবী বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমানকে নব গঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি নবগঠিত সিটি কর্পোরেশন দ্রুত এবং পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন| বিশেষ করে প্রশাসনিক দক্ষতা, সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে প্রশাসক পদে এগিয়ে রাখছে বলে বগুড়ার সিনিয়র আইজনজীবীরা মনে করছেন|
বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম| বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত এই নেতা ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বগুড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন| পরবর্তীতে বগুড়া পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে তাঁর অবদান ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়|
বিশেষ করে বিগত প্রায় ১৭ বছরে রাজনৈতিক মামলায় জর্জরিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা, আদালতে মামলা পরিচালনা এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন| দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, “দুর্দিনে তিনি শুধু নেতা ছিলেন না, ছিলেন ভরসার আশ্রয়|”
এদিকে প্রশাসক পদের আলোচনায় আরও গুরুত্ব পাচ্ছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাড. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু এবং জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম| রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার কারণে এই তিন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে|
এম আর ইসলাম স্বাধীন ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন| তরুণ কর্মীদের সংগঠিত করা এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়|
এছাড়াও প্রশাসক পদে আলোচনায় এসেছে বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু-এর নাম| দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে মহানগর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনিও সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন| বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা বগুড়ার নগর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন|
অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থেকে একাধিক মামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেছেন এবং যুবদলকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন|
এছাড়াও বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন ও আলী আজগর তালুকদার হেনা, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম খায়রুল বাশার রয়েছেন আলোচনায়|
বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণআন্দোলন ঘিরে বগুড়ায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে| ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এইসব নেতারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করছে|
বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে. নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের সামনে এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে| পরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ডিজিটাল নাগরিক সেবা এবং বিনিয়োগবান্ধব নগর গড়ে তোলা এসব ক্ষেত্রে দক্ষ নেতৃত্ব অপরিহার্য|
তারা মনে করছেন, প্রশাসক নিয়োগ শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে| ফলে অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য এবং প্রশাসনিক সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে|
তবে এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি| ফলে সম্ভাব্য নামগুলো ঘিরে আলোচনা, প্রত্যাশাঢ় এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ক্রমেই বাড়ছে বগুড়া শহরজুড়ে|