02/04/2026
⚠️ “নামের আগে ‘সাংবাদিক’ লিখলেই কি কেউ সাংবাদিক হয়ে যায়?”
“হাট ফতেপুর” ইউনিয়নের একজন বাসিন্দাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুকে—নিজের নামের আগে “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে অনেকেই বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
মির্জাপুর উপজেলায় এমন তথাকথিত ‘মাল্টিমিডিয়া সাংঘাতিকের’-এর অভাব নেই বললেই চলে।
সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশা। একজন প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের আয়না—তিনি সত্য তুলে ধরেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা নৈতিকতার বোধ ছাড়াই কিছু ব্যক্তি শুধুমাত্র একটি বেনামি বা অপ্রচলিত সংবাদমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এমনকি ফেসবুকে নামের আগে স্ব-স্বীকৃত "সাংবাদিক অমুক" লিখে একাউন্ট চালান৷
বাস্তবতা হলো, এদের পরিচয় দেওয়া অনেক সংবাদমাধ্যম খুঁজে দেখলে দেখা যায়—সেগুলোর নিয়মিত কোনো প্রকাশনা নেই; সাপ্তাহিক তো দূরের কথা মাসিক সংখ্যাও অনেক সময় প্রকাশিত হয় না। কদাচিৎ প্রকাশিত হলেও এর প্রচার সংখ্যা খুবই সীমিত।
অথচ গ্রামের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের বড় মাপের সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি /বেসরকারি অফিসে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয় প্রদান করে বিভিন্ন ঘটনাকে প্রভাবিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন৷
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা আইডি কার্ড, হাতে একটি বুম, আর মোটরসাইকেলে “প্রেস” স্টিকার লাগিয়ে তারা এমনভাবে চলাফেরা করেন যেন তারা কোনো আন্তর্জাতিক বা জাতীয় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—এদের অনেকেরই নির্দিষ্ট কোনো মাসিক আয় নেই অথবা থাকলেও তা অত্যন্ত সামান্য।
ফলে প্রশ্ন থেকে যায়—কীভাবে তারা সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন, খরচ চালান, কিংবা মোটরসাইকেলের জ্বালানি জোগান দেন?
যদি ফটোকার্ড বা এ ধরনের অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাওয়া জরুরি। এমন ‘রিহান’-এর মতো অসংখ্য ব্যক্তি, যাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা নৈতিক ভিত্তি নেই, তারা একটি আইডি কার্ড ও বুম হাতে নিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে সমাজে সক্রিয় হয়ে উঠছেন—যা প্রকৃত সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।
⏩এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন
সচেতনতা, যাচাই-বাছাই এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা।
ফুটনোটঃ
জুলাই বিপ্লব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকেরা অনেক দূর্নীতি এবং অপরাধ তুলে ধরেছে৷ যার ফলে সকলের নজরে এসেছে ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে৷ প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি সম্মান রইল৷ তবে নামধারী এইসব ধান্দাবাজদের কারনে সমাজ হুমকির মুখে৷