26/08/2025
#আমাদের_টুলটিকর ( ১ম পর্ব)
সিলেটের প্রাচীনতম গ্ৰাম ছিলো টুলটিকর। যা কালের বিবর্তনে গ্ৰাম থেকে ইউনিয়ন হয়ে শহরের এখন ছোট একটি নামকরা এলাকা মাএ ।
একসময় সিলেটের শহরের সবচেয়ে কাছের আর সমৃদ্ধ ইউনিয়ন ছিলো এই টুলটিকর । যার আওতাধীন এলাকাগুলো প্রথমে পৌরসভা তে অন্তভূক্তি ঘটে ,
তারপর ২০০১-২০০৩ এ আরো কিছু এলাকা সিলেট সিটি তে আর এখন ২০২৩/২৪ এ এসে
৫নং টুলটিকর ইউনিয়ন ইতিহাসের অংশ মাএ ।
শুধু তাই নয় ১৮৭০ সালে ইউনিয়নের মর্যাদা পাওয়া এই এলাকা, ১৯৮০ সালের দিকে দেশে ২য় বৃহতম ইউনিয়নের মর্যাদা পেয়েছিলো।
টুলটিকর ধারন করত সিলেটের বিশাল এক এলাকা ,
এমনকি মাএ কয়েক দশক আগে আম্বরখানা খানা থেকে টিলাগড় হয়ে উপশহর মেন্দিবাগ সোবানীঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো ।
মূল টুলটিকর এলাকাটির এক অংশ সিলেট পৌরসভার বিলুপ্তির আগে ১১ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন ছিলো ।
এর পর সিলেট সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর একাংশ ১৯,২০,২১,২২,২৩,ও ২৪ নং ওয়ার্ডের অংশ হলেও অবশিষ্ট বাকি অন্য অংশ টি তার স্বকীয়তা বজায় রেখে ইউনিয়ন এ থেকে যায় । গত বছর সিলেট সিটি কর্পোরেশন তার সীমানা বৃদ্ধি করায় প্রায় পুরো ইউনিয়ন এখন সিটির আওতাভুক্ত, তাই ঐতিহাসিক এই ইউনিয়নটির বিলুপ্তির ঘটেছে ।
গত প্রায় শতবছর থেকে এই জনপদটি শহরতলীর মতোই ছিলো , যা এখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ ।
ঐতিহাসিকদের মতে সিলেটর পূর্ব পাশের সুরমা নদীর কোলঘেঁষে কিছুটা টিলা বা উঁচু ভূমি আর বাকিটা বিস্তৃর্ণ ফাঁকা মাঠ ছিলো এই টুলটিকরে ।
গত শতাব্দীর শেষের দিকেও এর মূল রাস্তার দুধারের পূর্বপাশে #বড়_হাওর আর পশ্চিম পাশ্বে #হাজীর_হাওর ছিলো । প্রায় ৮০ দশকের দিকে থেকে পশ্চিম দিকের হাওর ভরাট হয়ে শহরের অভিজাত এলাকা #উপশহর গড়ে উঠে ।
অন্যদিকে পূর্ব পাশের বড় হাওরে বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠছে।
বিভিন্ন বই, পুঁথি আর ঐতিহাসিকদের মতে এখানে বসতি ছিলো সিলেটের আসা আরব বনিকদের ।
আজ থেকে প্রায় ৮০০শত বছর আগে ১২শ সালের শেষের দিকে এখানে বসতি স্থাপন করেন একদল মুসলিম আরব বনিক , যাদের কয়েকজন এই নিরিবিলি গ্ৰাম আর সুন্দর মফস্বল শহরটি তে স্থায়ীভাবে ঠিকানা খুঁজে নিতে এই টুলটিকর কে ই বেছে নেন।
যার ফলে এই টুলটিকর গ্ৰামটি হয়ে যায় #সিলেটের_প্রথম_মুসলমানের_এলাকা ।
সিলেট অঞ্চলের প্রথম মুসলমান গাজী বুরহান উদ্দিন (রহ.) এর বসতি , আধ্যাত্মিক প্রভাব ও প্রচার কাজের কেন্দ্র ছিল টুলটিকর এলাকা।
সিলেটের মুসলিম সভ্যতার প্রসারে টুলটিকরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
সিলেট অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই জনবসতিপূর্ণ ছিল। চীনা পরিব্রাজক #হিউয়েন_সাঙের ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের ভ্রমণ বিবরণীতেও এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায় ।
ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক সূত্রে জানা যায়, শ্রীহট্ট ছিল এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
আসাম আর বাংলার মিলন মুখ বা সন্ধি মেলাতে এই সিলেট । এটি কখনো আসামের আবার কখনও বাংলার অংশ ছিলো ।
সিলেট ও আসামের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান, যা এই অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে । এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে, সিলেটের ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আসামের একটি গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
সিলেট অঞ্চলটি বৃহত্তর সুরমা/মেঘনা উপত্যকার অংশ এবং এটি তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ করে।
বাংলা ভাগের আগে অন্যভাবে বলতে সীমানা নির্ধারণ করার পূর্বে #ব্রিটিশ_ভারত বা তারপরও আগে আসাম থেকে নদী পথে এই অঞ্চলের মানুষের অবাধ যোগাযোগ ছিলো ।
সিলেটে সুরমা নদীর প্রবেশ পথে প্রথম ঘাট বা বন্দর হলো টুলটিকরের কুশিঘাট এরপর সোবানীঘাট ও কালীঘাট, শেখঘাট ইত্যাদি । ধারনা করা হয় , কুশিঘাটের নামকরণ হয়েছে এই কুশি নদী ( কুইগাঙ)জন্য । এই ঘাট কুইগাঙ সুরমার সাথে মিলনমূখে অবস্থিত।
কুইগাঙ, যা কুশি নদী বা কুশিগাঙ নামেও পরিচিত, সুরমা নদীর একটি উপশাখা এবং সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সমন্বিত ধারা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বরাক নদী ভারতে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হওয়ার পর কুইগাঙ বা কুশি নদীর জন্ম হয়।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার হাওর থেকে প্রবাহিত পাবিজুড়ি, কাফনা ও করিস নদীর সমন্বিত অংশ থেকে কুইগাঙ (কুশি) নদীর সৃষ্টি হয়েছে।
এই কুশিগাঙের সাথে টুলটিকর ইউনিয়নের ভিতরে অবস্থিত সিলেটের বিখ্যাত মহাবিদ্যালয় মুরারিচাদ বা ি_কলেজ ও #সিলেট_সরকারি_কলেজের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া #কাঙালিছড়া মিলিত হয়েছে টুলটিকর কুশিঘাটের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ।
বলাবাহুল্য ,এখানে এই কাঙালিছড়া আবার টুলটিকর কে ৪ নং #খাদিমপাড়া ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে রেখেছে ।
(চলবে..)
*ছবিতে ২০০৫ সালের বৃহত্তর টুলটিকর এর টিলাগড়ে পয়েন্ট থেকে আম্বরখানা যাবার রাস্তা।
যার একদিকে এমসি কলেজ, বেবি স্ট্যান্ড / সিএনজি স্ট্যান্ড আর অন্য পাশে সোনালী ব্যাংক ও কয়েকটি দোকনপাট।*