12/12/2024
বিশ্বনাথের লিলু মিয়ার হত্যার রহস্য উন্মোচনসিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নওধার পাড়ার আলোচিত লিলু মিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই, সিলেট জেলা।
গত ১৪/০৮/২০২৪খ্রি. স্থানীয় মসজিদে প্রতিদিনের ন্যায় এশার নামাজ আদায় শেষে বাড়ী ফিরছিলেন এলাকার প্রভাবশালী ধার্মিক ও পরোপকারী লিলু মিয়া(৪৮)। কিন্তু ঘূর্ণাক্ষরেও জানতেন না পথে অপেক্ষা করছে জমদূত। বাড়ীর কাছে রাত ০৮.৩০ মিনিটের দিকে পৌঁছামাত্র অন্ধকারে ঝোপের আড়ালে ওৎপেতে থাকা দূস্কৃতিকারীরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লিলু মিয়াকে। উক্ত ঘটনায় লিলু মিয়ার স্ত্রী তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। বিশ্বনাথ থানার মামলা নং-০৯, তারিখ-১৬/০৮/২০২৪খ্রি. ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড। বিশ্বনাথ থানা পুলিশ কিছুদিন তদন্ত করার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর আদেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।
পিবিআই প্রধান জনাব মো: মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশণায়, পিবিআই সিলেট জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান এর নেতৃত্ত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম মোল্লার তদন্তে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় একে একে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী ১. আফজল আলী(২৬), পিতা-মদরিছ আলী, সাং-নওধার, থানা-বিশ্বনাথ, জেলা-সিলেট এবং ২. মাহাবুবুর রহমান(২২), পিতা-খলিলুর রহমান, সাং-ধোপাখালী, থানা-সুনামগঞ্জ সদর, জেলা-সুনামগঞ্জকে। গত ০৮/১২/২০২৪খ্রি. গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই টিম নিয়ে দোয়ারাবাজার থানা এলাকা থেকে আসামী মাহাবুবুর রহমানকে গ্রেফতার করে ০৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামী মাহাবুব আলোচিত লিলু মিয়া হত্যাকান্ডে নিজেকে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং অপরাপর আসামীদের নাম ও ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করে। আসামীকে সাথে নিয়ে পিবিআই টিম ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে আসামীর দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রামদা ঘটনাস্থল সংলগ্ন নওধার খাল থেকে উদ্ধার ও জব্দ করে। পাশাপাশি আসামী মাহাবুবের ঘটনার সময় ব্যবহৃত ও ফেলে যাওয়া স্যান্ডেলও উদ্ধার করে। আসামী মাহাবুব সিলেট জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো: ওমর ফারুক এর আদালতে গত ১১/১২/২০২৪খ্রি. ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। নওধার গ্রামের কিছু চিহ্নিত অপরাধীর সাথে পেশাদার ছিনতাইকারী আসামী মাহাবুবের জেলখানায় পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্রধরে নওধার গ্রামের অপরাধীরা মাহাবুবকে সঙ্গে নিয়ে নৃশংস এই হত্যাকান্ড সংঘটন করে মর্মে বিজ্ঞ আদালতে সে স্বীকারোক্তি দেয়। পিবিআই সিলেট বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।