আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো

আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো এই কিতাব তোমাদের প্রতিটি বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে।” (সূরা আন-নাহল: ৮৯)

আপনার বক্তব্য আল কুরআন বিরোধী তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না”—এভাবে তিনজনের তালিকা সরাসরি কোনো আয়াতে নেই। তবে সূ...
29/08/2026

আপনার বক্তব্য আল কুরআন বিরোধী
তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না”—এভাবে তিনজনের তালিকা সরাসরি কোনো আয়াতে নেই। তবে সূরা আলে ইমরান ৭৭ নং আয়াতে এবং সুরা বাকারা ১৭৪ নং আয়াতে কিয়ামতের দিন আল্লাহ যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে:

“নিশ্চয় যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
সুরা আল ইমরান আয়াত নং ৭৭

নিশ্চয় যারা আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন, তা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই খায় না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
সুরা বাকারা আয়াত নং ১৭৪

৩ শ্রেণীর ব্যক্তির দিকে আল্লাহ তায়ালা ফিরেও তাকাবেন না। | শায়েখ আ...

কুরআন কি বাল্যবিবাহের বৈধতা দেয়?বর্তমান বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত আছে তার মধ্যে একটি হ...
28/08/2026

কুরআন কি বাল্যবিবাহের বৈধতা দেয়?
বর্তমান বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত আছে তার মধ্যে একটি হলো—কুরআন নাকি বাল্যবিবাহের অনুমতি দেয়। এবং এই কারণে অনেক অমুসলিম ইসলামকে একটি মধ্যযুগীয়, নিপীড়নমূলক ও অযৌক্তিক ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কুরআন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে অনেক মুসলিমও এই ভুল ধারণাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন এবং এর পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন।
আমাদেরকে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে, ইসলামের একমাত্র, সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত উৎস হলো পবিত্র কুরআন (৬:১৪১-১৪২)। কুরআনকে বলা হয়েছে ‘ফুরকান’ বা ‘সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের চূড়ান্ত মানদণ্ড’ (২৫:১)। যদি কোনো মানুষের ব্যক্তিগত মতামত, প্রচলিত রীতি বা হাদিস কুরআনের শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা অবশ্যই বর্জনীয়। কুরআন আমাদেরকে নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও স্বাধীন বিচারবোধ ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, হাদিস ও আলেমদের অন্ধ অনুসরণের কারণে ইসলামের সুন্দর ও পবিত্র রূপটি আজ কলঙ্কিত হয়ে গিয়েছে।
এবার মূল প্রশ্নে আসা যাক: কুরআন কি আসলে বাল্যবিবাহের বৈধতা দেয়?
এর উত্তর হলো—না, একেবারেই না। বরং কুরআন স্পষ্টভাবে বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করে।
আসুন, কুরআনের আলোকে আমরা বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখি।
১. বিয়ের বয়স এবং বিচারবুদ্ধির পরিপক্বতা
কুরআন বিয়ের বয়সকে সরাসরি একজন মানুষের ‘মানসিক পরিপক্কতা’ বা ‘সঠিক বিচারবোধ’-এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট আয়াতটি হলো:
[৪:৬] আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করতে থাকো, যতক্ষণ না তারা বিয়ের বয়সে (বালাগুন নিকাহ) পৌঁছায়। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে সঠিক বিচারবুদ্ধি (রুশদ) দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করো।
এই আয়াতে কুরআন বিয়ের বয়স (বালাগুন নিকাহ) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার মধ্যে চমৎকার একটি সমীকরণ স্থাপন করেছে। বিয়ের বয়স হলো জীবনের সেই পর্যায়, যখন একজন মানুষ নিজের ভালো-মন্দ বোঝার মতো পরিপক্কতা অর্জন করে এবং নিজের ধন-সম্পদ স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার যোগ্যতা লাভ করে। এখন নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করুন: ৯ বা ১২ বছরের একটি শিশুর মধ্যে কি সত্যিই নিজের সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার মতো এবং সেগুলো যথাযথভাবে দেখভাল করার মতো পর্যাপ্ত বিচারবোধ থাকে? উত্তর হলো—না।
শৈশব ও কৈশোর হলো একটি শিশুর শিক্ষা গ্রহণ, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এবং নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের সময়। বাল্যবিবাহ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের এই পথকে বাধাগ্রস্ত করে। অপরিণত বয়সে তার কাঁধে সংসারের বিশাল দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া শুধু তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং একে এক প্রকার শিশু নির্যাতনও বলা যায়। কুরআন কখনোই এমন অন্যায়কে সমর্থন করে না।
২. বিয়ের জন্য বিশ্বাস ও আদর্শের মিল
কুরআনের দৃষ্টিতে বিবাহ কেবল একটি শারীরিক বা জৈবিক সম্পর্ক নয়; এর জন্য বিশ্বাসগত ও আদর্শিক মেলবন্ধন থাকাও জরুরি। সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেন:
[২:২২১] আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন মুমিন দাসীও একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর তোমরা (তোমাদের নারীদের) মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন মুমিন দাসও একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, বিয়ের জন্য বর ও কনের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জীবনবোধের মিল থাকতে হবে। কিন্তু একটি ছোট্ট শিশুর মধ্যে কি ধর্মতত্ত্ব, বিশ্বাস বা সৃষ্টিকর্তা ইত্যাদি জটিল বিষয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও স্বাধীন ধারণা থাকে? শিশুরা সাধারণত তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শোনে, তা-ই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে।
কুরআন ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি সমর্থন করে না (২:২৫৬)। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সাথে সাথে স্বাধীনভাবে নিজ বিশ্বাস গঠনের অধিকার রয়েছে। বাল্যবিবাহ শিশুর এই স্বাধীন চিন্তা বিকাশ ও মতামত গঠনের অধিকার কেড়ে নেয়, যা পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তিতে ফাটল ধরাতে পারে।
৩. বিয়ে: একটি দৃঢ় অঙ্গীকার
কুরআন বিয়েকে কোনো ছেলেখেলা বা শিশুসুলভ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেনি। কুরআনে বিবাহকে একটি ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ বা ‘কঠিন চুক্তি’ (Mithaqan Ghaliza) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে:
[৪:২১] আর তোমরা কীভাবে তা (প্রদত্ত মোহরানা) ফেরত নেবে, অথচ তোমরা একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়েছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছিল সুদৃঢ় অঙ্গীকার (মিসাক্বান গালিযান)?
বিয়ে হলো দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও পরিপক্ক মানুষের মধ্যে আজীবনের জন্য দায়িত্বশীলতার একটি কঠিন চুক্তি। এই কঠিন চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার জন্য শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক—সব ধরনের পরিপক্কতা অর্জন করা অপরিহার্য। একটি শিশু কখনোই একটি চুক্তির আইনি বা সামাজিক তাৎপর্য বোঝার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং, একটি অপরিণত শিশুকে, যার এখনো জীবন ও বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপারে পর্যাপ্ত ধারণা তৈরি হয়নি, তাকে এই ‘কঠিন অঙ্গীকার’-এর মধ্যে ঠেলে দেওয়া সরাসরি কুরআনের নির্দেশের লঙ্ঘন।
৪. জোরপূর্বক বিয়ে কুরআনে নিষিদ্ধ
বিয়ের ক্ষেত্রে কুরআন নারীদের স্বাধীন ইচ্ছা এবং সম্মতির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে:
[৪:১৯] হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে। আর তোমরা তাদেরকে (অন্যত্র বিয়ে করতে) বাধা দিও না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিছু অংশ নিয়ে নিতে পারো; যদি না তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়।
একটি নিরীহ শিশু কি নিজে থেকে বিবাহের মতো এত বড় একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে?—কখনোই না। শিশুরা সাধারণত বাবা -মা বা সমাজের চাপে, ভয় বা প্রলোভনে প্রভাবিত হয়ে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হয়। যেহেতু শিশুদের স্বাধীন ও পরিপক্ক সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা থাকে না, তাই বাল্যবিবাহ মূলত এক প্রকার ‘জোর-জবরদস্তিমূলক বিবাহ’। আর কুরআন এই ধরনের জোরপূর্বক বিবাহ ও নারীর ইচ্ছার অবমূল্যায়নকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে।
৫. [৬৫:৪] আয়াত নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেকসময় দেখা যায় হাদিসপন্থীরা তাদের অপর্যাপ্ত বুদ্ধিমত্তার কারণে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতটি দেখিয়ে বাল্যবিবাহ জায়েজ করতে চায়। আয়াতটি হলো:
[৬৫:৪] তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের আর ঋতুস্রাব হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে যদি তোমরা সংশয়ে থাকো, তবে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস; এবং তাদের ক্ষেত্রেও যাদের ঋতুস্রাব হয়নি। আর যারা গর্ভবতী, তাদের সময়সীমা হলো সন্তান প্রসব পর্যন্ত।
আয়াতটিতে আলোচনা হচ্ছে তালাকের পর একজন নারীর ইদ্দত বা বিরতিকাল পালন নিয়ে:
যাদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু মেনোপজ হয়েছে কিনা নিশ্চিত না তাদের জন্য ৩ মাস
যাদের ঋতুস্রাব হয়নি তাদের ক্ষেত্রেও ৩ মাস
গর্ভবতী হলে প্রসব পর্যন্ত
প্রথাগত অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারীরা প্রায়ই আয়াতটিতে ‘যাদের ঋতুস্রাব হয়নি’ অংশের আগে নিজেদের মনগড়া একটি শব্দ ‘এখনো’ (yet) যোগ করে দেন, যদিও কুরআনের মূল আরবি লিখায় ‘এখনো’ শব্দটির কোনো অস্তিত্ব নেই! তাদের দাবি হলো, এর দ্বারা নাবালিকা মেয়েদেরকে বোঝানো হয়েছে, যাদের ‘এখনো’ মাসিক শুরু হয়নি; অর্থাৎ, যেহেতু এই আয়াতে নাবালিকা মেয়েদের জন্য তালাকের পর ইদ্দত পালনের বিধান বর্ণিত হয়েছে, তার মানে কুরআনের দৃষ্টিতে বাল্যবিবাহ বৈধ!
তাদের দাবিটি খন্ডন করতে হলে আমাদেরকে আগে জানতে হবে ইদ্দত পালনের মূল উদ্দেশ্য কী:
[৩৩:৪৯] হে মুমিনগণ! যখন তোমরা মুমিনা নারীদের বিবাহ করো, অতঃপর তাদের স্পর্শ করার (সহবাসের) আগেই তালাক দাও, তবে তোমাদের জন্য তাদের ওপর কোনো ইদ্দত (বিরতিকাল) নেই যা তোমরা গণনা করবে।
এই আয়াত থেকে জানা যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক মিলন না হলে, তালাকের পর ইদ্দত পালন করতে হয় না। অর্থাৎ,ইদ্দত পালনের মূল উদ্দেশ্যই হলো নারীটি গর্ভবতী কিনা তা যাচাই করা।
আর এটা বলাই বাহুল্য যে, নাবালিকা শিশু, যাদের এখনো মাসিক শুরুই হয়নি, তাদেরতো গর্ভধারণেরই ক্ষমতা নেই। যদি, কুরআন অনুযায়ী তাদেরকে বিয়ে করা বৈধই হতো, তাহলে তালাকের পর তাদেরকেও ইদ্দত পালনের কোন নির্দেশ দেওয়া হতো না। সুতরাং, ৬৫:৪ আয়াতে যেসকল নারীকে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক, গর্ভধারণে সক্ষম, এবং তাদের সবারই বিয়ের পর স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে।
৬৫:৪ আয়াতটির আলোচনা শুরুই হয়েছে তালাকপ্রাপ্তা ‘প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের’ ইদ্দত পালনের নিয়ম নিয়ে: প্রথমে বলা হয়েছে তাদের কথা, বয়সজনিত কারণে যাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে, তবে মেনোপজের ব্যাপারটি নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। এরপর বলা হয়েছে তাদের কথা, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও যাদের শারীরিক বা হরমোনাল কোন কারণে কখনো মাসিক হয়নি (চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে 'অ্যামেনোরিয়া' / Amenorrhea বলা হয়)।
অর্থাৎ, যেসকল প্রাপ্তবয়স্ক (গর্ভধারণে সক্ষম) নারী অ্যামেনোরিয়াতে আক্রান্ত, যার ফলে তাদের মাসিক হয় না, তাদের কথাই এখানে বলা হচ্ছে। এখানে শিশুদের প্রসঙ্গ টেনে আনা একেবারেই অবান্তর। আয়াতটির পুরো প্রেক্ষাপট প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের বিবাহ-বিচ্ছেদ নিয়ে। এই আয়াতে বাল্যবিবাহের পক্ষে বিন্দুমাত্র কোনো ইঙ্গিত নেই।
উপসংহার
কুরআনের আয়াতগুলো নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে চিন্তা-ভাবনা করলে এটি দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইসলামে বাল্যবিবাহের কোনো স্থান নেই। এটি আল্লাহর অনুমোদিত কোনো বিধান নয়, বরং এটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও মানুষের তৈরি কিছু ভুল ব্যাখ্যার ফসল।
একটি শিশুর শৈশব কেড়ে নিয়ে তাকে বিবাহ নামক কঠিন চুক্তিতে বাধ্য করা কুরআনের দৃষ্টিতে একটি গর্হিত অপরাধ। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে এই ধরনের নিপীড়নমূলক প্রথাকে সমর্থন করে, তারা মূলত কুরআনের আলো থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।

27/08/2026

কুরআন কি শাফায়াতের ধারণাকে সমর্থন করে?
ইসলামি বিশ্বাসমালার অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয় হলো 'শাফায়াত' বা সুপারিশের ধারণা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অধিকাংশ মুসলিম মনে করেন যে, কিয়ামতের দিন নবী মুহাম্মদ তার উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন এবং তার সুপারিশের বদৌলতে অনেক পাপী মুসলিম জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই ধারণাটি মুসলিম সমাজে এতটাই গভীরভাবে প্রোথিত যে, একে দ্বীনের একটি মৌলিক অংশ হিসেবেই গণ্য করা হয়।
কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হলো: পবিত্র কুরআন কি আসলেই এই ধারণাকে সমর্থন করে? নাকি এটি পরবর্তীকালের বিভিন্ন মনগড়া ব্যাখ্যা ও কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি ভ্রান্ত ধারণা?
এই প্রবন্ধে আমরা সরাসরি কুরআনের আয়াতের আলোকে শাফায়াতের প্রকৃত ধারণাটি বিশ্লেষণ করবো এবং দেখবো আল্লাহ নিজে এ বিষয়ে কী বলেছেন।
সুপারিশের নিরঙ্কুশ ও একক অধিকার কেবল আল্লাহর
পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে সুষ্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ঘোষণাগুলোর একটি হলো শাফায়াত বা সুপারিশের সম্পূর্ণ অধিকার একমাত্র আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"বলে দাও, সকল সুপারিশের মালিক একমাত্র আল্লাহ।" (৩৯:৪৪)
এই আয়াতে কোনো ধরনের ব্যতিক্রমের কথা বলা হয়নি। আল্লাহ এমনটি বলেননি যে, "কিছু সুপারিশ আল্লাহর এবং কিছু অন্যদের।" বরং অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে যে, সুপারিশের সম্পূর্ণ মালিকানা কেবল তাঁর।
কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা ও বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্ক করে আল্লাহ অন্যত্র বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো সেই দিন আসার পূর্বে যেদিন কোনো বেচাকেনা থাকবে না, কোনো বন্ধুত্ব থাকবে না এবং কোনো সুপারিশও থাকবে না।" (২:২৫৪)
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই আয়াতে আল্লাহ তিনটি জিনিসের চূড়ান্ত অনুপস্থিতির কথা বলেছেন— সেদিন কোনো বেচাকেনা হবে না, কোনো বন্ধুত্ব কাজে আসবে না এবং কোনো সুপারিশও থাকবে না। যদি সেদিন সত্যিই কেউ কারো জন্য সুপারিশ করতে পারতো, তবে আল্লাহ কখনোই এমন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতেন না যে সেদিন কোনো সুপারিশ থাকবে না।
এই একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করে আল্লাহ আরও বলেন:
"এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে কোনো কাজে আসবে না, তার কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো সুপারিশ তার কোনো উপকারে আসবে না, আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।" (২:১২৩)
নবীদের সুপারিশ করার অক্ষমতা: কুরআনের বাস্তব দৃষ্টান্ত
কুরআন আমাদের স্পষ্ট ভাষায় জানায় যে, আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় ও নৈকট্যপ্রাপ্ত নবী-রাসূলগণও তাঁদের অবিশ্বাসী আত্মীয়দের জন্য সুপারিশ করতে সক্ষম হননি। শাফায়াতের প্রচলিত ধারণাকে খণ্ডন করার জন্য এটি একটি অকাট্য প্রমাণ।
ইব্রাহিম ও তার পিতা
ইব্রাহিম ছিলেন আল্লাহর পরম বন্ধু (খলীল)। কিন্তু তিনিও তার পিতার জন্য কোনো সুপারিশ করতে পারেননি। কুরআন বলছে: "ইব্রাহিম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল শুধু সেই প্রতিশ্রুতির কারণে যা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হলো যে সে আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল..." (৯:১১৪)।
নূহ ও তার পুত্র
নূহ তার বিপথগামী পুত্রের জন্য আল্লাহর কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ সরাসরি তাঁর আবেদন নাকচ করে দিয়ে বলেন: "হে নূহ! সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চয়ই সে অসৎকর্মপরায়ণ।" (১১:৪৬)। নবীর সন্তান হওয়া সত্ত্বেও সে কোনো সুপারিশ বা আনুকূল্য পায়নি।
মুহাম্মদ ও তার আত্মীয়গণ
মুনাফিক ও অবিশ্বাসীদের বিষয়ে খোদ মুহাম্মদকে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন: "তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করো; যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করো, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না..." (৯:৮০)।
যদি নিজ জীবদ্দশায় সত্তরবার ক্ষমা চেয়েও নবী কোনো অবিশ্বাসী বা মুনাফিকের জন্য ক্ষমা আদায় করতে না পারেন, তবে কিয়ামতের দিন তিনি কীভাবে তাদের জন্য সুপারিশ করে পার পেয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন?
শাফায়াতে বিশ্বাস: এক প্রকার শিরক
কুরআন শুধুমাত্র শাফায়াতের প্রচলিত ধারণাকে অস্বীকারই করেনি, বরং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সুপারিশ বা ত্রাণের আশা করাকে 'শিরক' (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
"এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর উপাসনা করে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। এবং তারা বলে, 'এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।' তুমি বলো, 'তোমরা কি আল্লাহকে আসমান ও যমীনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না?' তিনি পবিত্র ও মহান, তারা যাকে শরীক করে তিনি তা থেকে ঊর্ধ্বে।" (১০:১৮)
এই আয়াতে আল্লাহ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যারা অন্যদেরকে আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী মনে করে, তারা মূলত শিরক করছে। কিয়ামতের দিন এই তথাকথিত সুপারিশকারীদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
"এবং তোমরা তো আমাদের কাছে একাকী এসেছো... আর আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখছি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবি করতে যে তারা তোমাদের মধ্যে (আল্লাহর) শরীক। তোমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা দাবি করতে তা তোমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।" (৬:৯৪)
সুপারিশ আসলে কাদের প্রয়োজন
আসুন বিষয়টি নিয়ে একটু যৌক্তিকভাবে চিন্তা করি। মানুষের কর্ম ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা সমগ্র মানবজাতিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করতে পারি:
১. প্রকৃত ঈমানদার: যারা আজীবন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছে এবং কোনো শিরক করেনি। তারা হয়তো জীবনে ভুলত্রুটি বা অন্যান্য গুনাহ করেছে। এই শ্রেণীর মানুষদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: "বলে দাও, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করেন..." (৩৯:৫৩)। যদি আল্লাহ নিজেই নিজ দয়ায় তাদের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, তবে তাদের জন্য আর কোনো নবী বা পীরের সুপারিশের কী প্রয়োজন?
২. কাফির ও মুশরিক: যারা অবিশ্বাস ও শিরকের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। এদের বিষয়ে আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক স্থাপন করাকে ক্ষমা করেন না..." (৪:৪৮)। আল্লাহ আরও বলেন, "যারা কুফরি করেছে... অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা গেছে, আল্লাহ তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না।" (৪৭:৩৪)। আল্লাহ যদি কাউকে ক্ষমা না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে কারো সুপারিশ কি আল্লাহর সেই সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করতে পারে? আল্লাহ বলেন, "আমার কাছে কথার রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নই।" (৫০:২৯)।
সুতরাং যুক্তির নিরিখে, ঈমানদারদের জন্য শাফায়াতের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আল্লাহ নিজেই তাদের প্রতি দয়া করবেন। অন্যদিকে কাফির-মুশরিকদের জন্য কোনো শাফায়াত কাজে আসবে না, কারণ আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় আইন কেউ ভাঙতে পারে না।
ভুলভাবে উপস্থাপিত আয়াতসমূহের সঠিক ব্যাখ্যা
শাফায়াতের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে অনেকেই কুরআনের কয়েকটি আয়াতের খণ্ডিত বা ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করান। আসুন আমরা সেই আয়াতগুলোর প্রকৃত অর্থ জেনে নিই:
আয়াতুল কুরসী (২:২৫৫)
অনেকে বলেন, সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, "কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে?"— এর মানে হলো, আল্লাহ অনুমতি দিলে নবীজি সুপারিশ করতে পারবেন।
প্রকৃতপক্ষে, এই আয়াতে আল্লাহর অসীম সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। মহাবিশ্বের কোনো কিছুই যে তাঁর অনুমতি ছাড়া ঘটে না, এটি তারই ঘোষণা। এটি কোনোভাবেই এই অর্থ বহন করে না যে, আল্লাহ কাউকে তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলার অধিকার দেবেন।
"যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট" (২১:২৮ ও ৫৩:২৬)
সূরা আম্বিয়ার ২৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে, "আর তারা (ফেরেশতাগণ) শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট..."। সূরা নাজমের ২৬ নং আয়াতেও অনুরূপ কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহর অনুমতির পর কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ কাজে আসতে পারে যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট।
একটু ভেবে দেখুন, আল্লাহ যার প্রতি ইতোমধ্যেই সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন, সে কি কখনো জাহান্নামে যেতে পারে?—অবশ্যই না। সুতরাং, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতের অধিকারী হয়েই গেছেন, তাঁর জন্য আর নতুন করে সুপারিশের কী প্রয়োজন? এখানে 'সুপারিশ' বলতে ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো আবেদন বোঝানো হয়নি, বরং এটি হলো সত্যের পক্ষে সাক্ষ্যদান। যারা ইতোমধ্যেই ক্ষমাপ্রাপ্ত, ফেরেশতা ও নবীগণ কেবল তাদের পক্ষেই ভালো কথার সাক্ষ্য দেবেন।
প্রচলিত ধারণার সাথে কুরআনের সংঘাত
কিছু হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ অনেক মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, কিন্তু নবীজির সুপারিশ ও কান্নাকাটির কারণে আল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ওই মানুষদের জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন।
এই ধারণাটি কুরআনের শিক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং আল্লাহর ন্যায়বিচার ও দয়ার প্রতি একপ্রকার অবমাননা।
আল্লাহ স্বয়ং নবীজিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "যার উপর শাস্তির বাণী সাব্যস্ত হয়েছে, তুমি (মুহাম্মদ) কি সেই ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারবে যে জাহান্নামে আছে?" (৩৯:১৯)। এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য, যার অকাট্য উত্তর হলো— 'না, পারা সম্ভব নয়'।
আল্লাহ আরও বলেন: "এ বিষয়ে তোমার কোনো এখতিয়ার নেই যে, তিনি তাদের ক্ষমা করবেন নাকি তাদের শাস্তি দেবেন, কারণ তারা সীমালঙ্ঘনকারী।" (৩:১২৮)।
যদি ধরে নেওয়া হয় যে, আল্লাহ কাউকে জাহান্নামে দিয়েছেন আর নবীজি তাকে দয়া করে উদ্ধার করে আনছেন, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহর চেয়ে নবীজি বেশি দয়ালু! (নাউযুবিল্লাহ)। এটি ইসলামের মৌলিক তাওহীদ ও আল্লাহর অসীম দয়াময় সত্তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
খ্রিস্ট ধর্মের 'মুক্তি' (Salvation) তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্য
শাফায়াতের এই প্রচলিত ধারণার সাথে খ্রিস্ট ধর্মের 'মুক্তি' তত্ত্বের সাদৃশ্য রয়েছে। খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে, যিশু খ্রিস্ট মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন এবং যিশুকে ত্রাণকর্তা বা 'Saviour' হিসেবে বিশ্বাস না করলে কেউ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে বা মুক্তি পেতে পারবে না।
একইভাবে, তাদের দেখাদেখি অনেক মুসলিম বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, নবীজির শাফায়াত ছাড়া জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব। উভয় ক্ষেত্রেই একজন মানবীয় মাধ্যমকে মুক্তির একচেটিয়া নিয়ামক হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে, যা প্রকারান্তরে স্রষ্টার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও সরাসরি বান্দার সাথে স্রষ্টার সম্পর্ককে খাটো করে।
অথচ আল্লাহ কুরআনে তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন:
"আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?" (৩৯:৩৬)
শাফায়াত বিশ্বাসের ক্ষতিকর পরিণতি
এই অমূলক বিশ্বাসের কারণে মুসলিম সমাজে বেশ কিছু মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে:
সূক্ষ্ম শিরক: এই বিশ্বাসের কারণে মানুষ আল্লাহর দয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার চেয়ে নবী বা পীর-আউলিয়াদের সুপারিশের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
আমলের প্রতি উদাসীনতা: "নবীজি শেষমেশ পার করে নিয়ে যাবেন"— এই ভ্রান্ত আশ্বাসে মানুষ নেক আমলের প্রতি অবহেলা করে এবং পাপ কাজে লিপ্ত হতে দ্বিধা করে না। অথচ কুরআন বলছে, "প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী।" (৫২:২১)।
তওবার অবমূল্যায়ন: মানুষ মনে করে, বেঁচে থাকতে তওবা না করলেও হাশরের মাঠে ঠিকই সুপারিশ পাওয়া যাবে—যা কুরআনের শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী।
শেষ কথা
পবিত্র কুরআনের সামগ্রিক শিক্ষা অত্যন্ত স্পষ্ট— আল্লাহই একমাত্র বিচারক, একমাত্র ত্রাণকর্তা এবং একমাত্র ক্ষমাকারী। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সরাসরি তাঁকে ডাকতে: "এবং তোমাদের প্রতিপালক বলেন, 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।'" (৪০:৬০)।
আমাদের গুনাহ মাফের জন্য কোনো দ্বিতীয় মাধ্যম বা সুপারিশকারীর প্রয়োজন নেই। আল্লাহর রহমত এতই প্রশস্ত যে তিনি তা নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব হলো একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, ভালো কাজ করা এবং ভুল হলে সরাসরি তাঁর কাছেই মাথা নত করে ক্ষমা চাওয়া। কারণ দিনশেষে, আল্লাহই তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট।

**কোরআনের আলোকে আজহারীর পোস্ট — স্পষ্ট সত্য**আজহারী সাহেব লিখেছেন:  “আপনি তো আমাকে না দেখেও ভালোবেসেছিলেন… বিচারের দিনে ...
27/08/2026

**কোরআনের আলোকে আজহারীর পোস্ট — স্পষ্ট সত্য**
আজহারী সাহেব লিখেছেন:

“আপনি তো আমাকে না দেখেও ভালোবেসেছিলেন… বিচারের দিনে আমার জন্য উম্মাতি উম্মাতি বলে কাঁদবেন… মাকামে মাহমুদে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আমার মুক্তির জন্য আকুতি জানাবেন…”

ভালোবাসা সুন্দর। কিন্তু কোরআন কি বলে?

# # # সুপারিশ কার জন্য হবে? কোরআনের কঠোর শর্ত

কোরআন সুপারিশের ব্যাপারে কোনো আবেগ বা কল্পনার জায়গা রাখেনি। শর্তগুলো স্পষ্ট ও কঠোর:

**৪৩:৮৬**

“আল্লাহ ছাড়া তারা যাদেরকে ডাকে, তারা সুপারিশের অধিকারী নয়। তবে যারা জ্ঞানের সাথে সত্যের সাক্ষ্য দেয়, তারা ছাড়া।”

সুপারিশের অধিকার শুধু তাদের, যারা সত্য (কোরআন) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রেখে সাক্ষ্য দিয়েছে। অজ্ঞতা, আবেগ বা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়।

**৩৯:১৯**

“যার উপর শাস্তির কথা সত্য হয়েছে, আপনি কি তাকে আগুন থেকে উদ্ধার করতে পারবেন?”

আল্লাহ সরাসরি নবীকে জিজ্ঞাসা করছেন। উত্তর স্পষ্ট: না। নবীরও ক্ষমতা নেই আল্লাহর ফয়সালার বিরুদ্ধে কাউকে বাঁচানোর।

**২৫:৩০**

“রাসূল বলবেন: হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে পরিত্যক্ত করে রেখেছিল।”

যারা কোরআনকে পাশে রেখে আবেগ, কাহিনি বা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে, তারা এই অভিযোগের আওতায় পড়তে পারে।

আরও স্পষ্ট আয়াত:

- **২১:২৮** — তারা শুধু তার জন্যই সুপারিশ করে যাকে আল্লাহ পছন্দ করেন।

- **২০:১০৯** — সেদিন কোনো সুপারিশ কাজে আসবে না, শুধু যার জন্য রহমান অনুমতি দেবেন এবং যার কথা তিনি সন্তুষ্ট।

- **৫৩:২৬** — আকাশে কত ফেরেশতা আছে, তাদের সুপারিশ কিছুই উপকার করবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ অনুমতি দেন।

- **৩৪:২৩** — তাঁর কাছে কোনো সুপারিশ কাজে আসবে না, শুধু যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন।

**সারকথা:**

সুপারিশ শুধু আল্লাহর অনুমতিতে হবে। সুপারিশকারীকে সত্যের জ্ঞান থাকতে হবে এবং যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তাকেও আল্লাহর পছন্দ হতে হবে। অযোগ্য বা কোরআন-বিরোধীদের জন্য কোনো সুপারিশ নেই।

---

মিজানুর রহমান আজহারি অন্যতম বড় ধর্মব্যবসায়ী।

তার “এক নজরে কোরআন” বইয়ের দাম ১৭০০ টাকা—৫০০ পৃষ্ঠারও কম। এই বই পড়ে কোরআন সম্পর্কে কেউ প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। অথচ প্রতি কপিতে তিনি ন্যূনতম ৫০০–১০০০ টাকা লাভ করেন।

তার ওয়াজের রেট এখন ১৫–২০ লাখ টাকা। কোনো ঝুঁকি ছাড়াই এত বিপুল মুনাফা।

ওয়াজ আর বইয়ের ব্যবসা ছাড়া তার আর কোনো পেশা নেই। তাই তিনি একজন প্রকৃত ধর্মব্যবসায়ী।

# # # ধর্মব্যবসায়ীর পরিণতি কোরআনে কী?

**৯:৩৪**

“হে মুমিনগণ! অনেক আলেম ও ধর্মগুরু মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়। আর যারা স্বর্ণ-রৌপ্য জমা করে রাখে এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদের কষ্টদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।”

**২:৭৯**

“যাদের হাত দিয়ে কিতাব লিখে বলে ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে’ যাতে সামান্য মূল্যে বিক্রি করতে পারে — তাদের জন্য ধ্বংস। তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য ধ্বংস এবং যা তারা উপার্জন করে তার জন্য ধ্বংস।”

**২:১৭৪**

“যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা গোপন করে এবং সামান্য মূল্যে বিক্রি করে, তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছু খায় না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”

যারা ধর্মকে ব্যবসা বানিয়ে লাখ লাখ টাকা নেয়, কোরআন তাদের জন্য জাহান্নামের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন লোকের জন্য নবী সুপারিশ করবেন — এমন কোনো আয়াত নেই। বরং আল্লাহ যাদের পছন্দ করেন না, তাদের জন্য কোনো সুপারিশই হবে না।

26/08/2026

কুরআনের আলোয় ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু ও পুনরাগমন প্রসঙ্গ
শুধু কুরআনের কথা। হাদিস নয়।

অনেকে বলেন:

“ঈসা (আ.) আকাশে জীবিত আছেন, শেষ জমানায় দাজ্জাল মারতে আবার আসবেন।”

কিন্তু কুরআন খুলে দেখুন – এমন একটি শব্দও নেই।

দাজ্জালের নাম নেই। মাহদীর নাম নেই।

আর ঈসা (আ.)-এর “দ্বিতীয় আগমন”-এর কোনো স্পষ্ট আয়াত নেই।

বরং কুরআন বারবার বলছে – ঈসা (আ.) স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিচে ৬টি আয়াতের সবচেয়ে শাব্দিক, নিরপেক্ষ ও সঠিক বাংলা অনুবাদ দেয়া হলো (আরবি বাদ দিয়ে):

১. সূরা আল-ইমরান ৩:৫৫

“স্মরণ করো, আল্লাহ যখন বললেন: হে ঈসা! নিশ্চয় আমি তোমাকে পূর্ণ মৃত্যু দান করব এবং তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং তোমাকে কাফেরদের থেকে পবিত্র করব…”

→ “মুতাওয়াফফীকা” শব্দ কুরআনে আরও ২৩ বার এসেছে – সব জায়গায় অর্থ মৃত্যু।

২. সূরা আল-মায়িদাহ ৫:১১৭

ঈসা (আ.) কিয়ামতের দিন নিজেই বলবেন:

“আমি তাদেরকে শুধু সেটাই বলেছি যা তুমি আমাকে আদেশ করেছিলে… অতঃপর যখন তুমি আমাকে মৃত্যু দান করলে তখন তুমিই তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক ছিলে।”

ঈসা (আ.) নিজের মুখে বলছেন – আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দিয়েছেন।

৩. সূরা মারয়াম ১৯:৩৩

শিশু ঈসা (আ.) জন্মের সময়ই বলছেন:

“আর শান্তি আমার উপর – যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব, এবং যেদিন আমি পুনরুত্থিত হব।”

→ নিজেই বলছেন তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। এটা ভবিষ্যৎ কাল।

৪. সূরা আয-যুখরুফ ৪৩:৬১

“আর নিশ্চয়ই তিনি (ঈসা) কিয়ামতের জ্ঞানের একটি চিহ্ন। সুতরাং তোমরা এতে সন্দেহ করো না এবং আমাকে অনুসরণ করো। এটাই সরল পথ।”

→ ঈসা (আ.) কিয়ামতের “চিহ্ন” – অর্থাৎ তাঁর জীবন ও মৃত্যু কিয়ামতের আলামত। কিন্তু “ফিরে আসবেন” এমন একটি শব্দও নেই।

৫. সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪

“মুহাম্মাদ (সা.) কেবল একজন রাসূল। তাঁর আগেও রাসূলগন গত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি মারা গেলে বা হত্যা হলে তোমরা পিছনে ফিরে যাবে?”

→ সব রাসূলই গত হয়েছেন। ঈসা (আ.)-ও রাসূল – তিনি ব্যতিক্রম নন।

৬. সূরা আল-আনবিয়া ২১:৩৪–৩৫

“আমি তোমার আগে কোনো মানুষকে চিরজীবন দিইনি। তুমি যদি মৃত্যুবরণ করো, তবে কি তারা চিরকাল থাকবে? প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।”

→ কোনো মানুষই অনন্ত জীবন পায়নি। ঈসা (আ.)-ও মানুষ ও নবী – তিনিও মৃত্যুবরণ করেছেন।

26/08/2026

কুরআনে “মানুষের তৈরি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা” বা “রাজনৈতিক দল গঠন”—এই আধুনিক পরিভাষাগুলো সরাসরি নেই। তাই কুরআনের আয়াতের আলোকে বিষয়টি বুঝতে হবে।
১. আল্লাহর বিধানের বিপরীতে আইন বানানো
আল্লাহ বলেন:
“যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির।”
— সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৪৪
আরও বলেন:
“যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই জালিম।”
— সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৪৫
এবং:
“যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক।”
— সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৪৭
এগুলো থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর স্পষ্ট বিধানের বিপরীতে গিয়ে সেটিকে প্রত্যাখ্যান বা অমান্য করে অন্য বিধানকে ধর্মীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ/চূড়ান্ত বিধান বানানো গুরুতর বিষয়।
২. তবে রাষ্ট্র পরিচালনার সব নিয়ম কি সরাসরি কুরআনে থাকতে হবে?
কুরআনে ট্রাফিক আইন, বাজেট, প্রশাসনিক কাঠামো, নির্বাচন পদ্ধতি, সংসদের আসনসংখ্যা ইত্যাদির বিস্তারিত দেওয়া নেই। এগুলো মানুষের ইজতিহাদ, পরামর্শ ও প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা যেতে পারে—যতক্ষণ তা আল্লাহর স্পষ্ট বিধানের বিরোধী না হয়।
আল্লাহ বলেন:
“তাদের কাজ পরস্পরের পরামর্শের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।”
— সূরা আশ-শূরা ৪২:৩৮
৩. রাজনৈতিক দল সম্পর্কে
কুরআনে আধুনিক অর্থে “রাজনৈতিক দল” নিষিদ্ধ—এমন কোনো আয়াত নেই। তবে আল্লাহ বলেন:
“তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিভক্ত হয়ো না।”
— সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩
আবার বলেন:
“যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে, তাদের সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
— সূরা আল-আনআম ৬:১৫৯
তাই দল করা নিজেই হারাম—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি কুরআন থেকে বলা ঠিক নয়। কিন্তু কোনো দল যদি মানুষের দলীয় স্বার্থকে সত্যের ওপর স্থান দেয়, মুসলমানদের বিভক্ত করে বা আল্লাহর স্পষ্ট বিধানের বিরোধিতা করে, তাহলে তা কুরআনের নির্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সারকথা: কুরআন আল্লাহর নাজিল করা বিধানের বিরোধিতা ও তা প্রত্যাখ্যান করতে নিষেধ করে।

30/06/2026

কুরআনের সাথে হাদিসের তুলনা করা মানে আল্লাহর সাথে নবীর তুলনা করা। এটা স্পষ্ট শিরক। তাই কুরআনের সাথে কোনো কিছুর তুলনা করবেন না।

30/06/2026

একটা সমাজের সকল সদস্য ভিক্ষাভিতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
এরা ভিক্ষা করে আনাচে কানাচে মাদ্রাসা বানায়,
ভিক্ষার টাকায় বেতন নেয়,
ভিক্ষার টাকায় ছাত্রদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে। ভিক্ষাবৃত্তি শেখায় ছাত্রদের

আবার সেই ছাত্ররা নতুন কোন মাদ্রাসা দেয় ভিক্ষা করে
নতবা কোন মসজিদের ইমাম হয়ে বেতন নেয় ভিক্ষার টাকায়
অথচ এরা নিজেদেরকে নিজেরা শ্রেষ্ঠ মনে করে
নাম দিছে আলেম সমাজ
এরা তোতাপাখির মতো সব মুখস্থ করে
কোরআন নিয়ে কোন চিন্তা নাই, গবেষনা নাই
কোরআন নিয়ে গবেষনা করলে এরা জানতো নিশ্চয়ই আল্লাহর দুনিয়ায় কত নিয়ামত রাখছে মানুষের জন্য

কোরআন গবেষনা করে বিশ্বকে শাসন করছে ইহুদি খ্রিষ্ঠানরা
আর হতভাগা আলেম সমাজ দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে
ভিক্ষা কেমনে করতে হবে তা শেখায়?

দেশটা ভর্তি মসজিদ মাদ্রাসায়, কিন্তু একটা কোরআন গবেষনা কেন্দ্র নাই
থাকলে কি হতো? অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী বের হতো
ব্যবসায়ী বের হতো, চিকিৎসক বের হতো,
ইসলামের জ্ঞান চুরি করে ইউরোপ উন্নত, কিন্তু ভিক্ষুক নামের আলেম সমাজ ভিক্ষা করতে ব্যস্ত

আবার হুংকার কি মারে রে...........

27/06/2026

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুগভীর চক্রান্ত!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে শুরু হয়ে যায় এসব তাণ্ডব। বর্তমানে আমেরিকার মুখ্য দালালের ভূমিকায় পাকিস্তান।

আর এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় গড়া সন্ত্রা/সী সংগঠন লস্কর এর স্থানীয় লোকেরা ভয়ঙ্কর এই ফন্দি আঁটে । প্রথমেই কালেমার পতাকার নামে ছড়িয়ে দেয়া হয় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর পতাকা।

ওদের দাবি, এগুলো নাকি ইসলামের প্রতীক। ডাহা মিথ্যে। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর সময়ে এসব পতাকা ছিলো না। কিন্তু বাংলাদেশে শুরু করে দেয়া হয়েছে উন্মাদনা।

একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লোকেরাও মহা আগ্রহে এসব ছড়াচ্ছে। এবার বাংলাদেশের বিকৃত পতাকা ছাড়া হচ্ছে। রীতিমত কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব।

যদিও বিকৃত পতাকা বিতরণ গুরুতর অপরাধ। রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। কিন্তু এই বিষয়ে কারো কোনো দৃষ্টি নেই

ঠিক এভাবেই আফগানিস্তান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন-কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নেয়া হয়। এর আগে ইরাক ও লিবিয়াতেও ঘটে একই ঘটনা। এবার কি টার্গেট বাংলাদেশ?

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে এটা ঘটিয়ে এই পতাকা ইস্যুকে পুঁজি করে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে আমেরিকা। এমনকি বর্তমান সরকারকে হটিয়ে উগ্রবাদীদের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে পুরো দেশ।

আমরা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তাদের পক্ষে বাংলাদেশে এধরনের অপতৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

এক্ষুনি কঠোর ব্যবস্থা না নিলে - দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ক্রাকডাউন শুরু না করলে, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি মারাত্মক সঙ্কটে পড়বে।

27/06/2026

১। ভারতীয় উপমহাদেশের বেশির ভাগ আলেম ওলামা মুফতি মাওলানা পীর মাশায়েখ ইহুদী খৃষ্টানদের সৃষ্টি এবং তাদের অনুসারী এবং তাদের দলভুক্ত।

২। তারা কেউ মুসলিম নয়, তারা কোরান মানে না, ফলে সুরা মায়েদার ৪৪-৪৮ নং আয়াত অনুযায়ী এরা নির্ভেজাল কাফের জালেম ফাসেখ। এবং

তারা চতুর ধোঁকাবাজ ধান্দাবাজ চাঁদাবাজ কর্মবিমুখ পেটপুজারী ফাও খাওয়া আগুন খেকো হারামখোর ধর্ম ব্যবসায়ী বিনা হিসাবে জাহান্নামী সুরা বাকারার ১৭৪ নং আয়াত অনুযায়ী। এবং

তারা কোরানের আয়াত অস্বীকারকারী দুনিয়ালোভী ধর্ম ব্যবসায়ী এরা হাড্ডি লোভী কুকুরের মতো সুরা আরাফ আয়াত ১৭৫,১৭৬।

৩। এরা কোরান বিরোধী লাহ‌ওয়াল হাদীসের তথা কাফের বোখারী সিন্ডিকেটের হাদীসের আবর্জনার স্তূপের অনুসারী।

ফলে তাদের জন্য রয়েছে চরম অপমানজনক ও কঠিন যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি সুরা লোকমানের ৬ ও ৭ নং আয়াত অনুযায়ী।

এই শাস্তি ভোগ করেছে কোরান বিরোধী হাদীস রচয়িতা মুয়াবিয়া ইয়াজিদ মার‌ওয়ান গং,

আবু হানিফা,মালেক,হাম্বলী তথা মাজহাব গং, এবং

হাদীসের কিতাবের রচয়িতা কাফের বোখারীসহ সিন্ডিকেটের অনেকেই।

৪। আল্লাহ কোরানের আয়াতকেই হাদীস বলেছেন কোরানের ১৪ কি আয়াতে।সুরা যুমার আয়াত ২৩ ,সুরা জাসিয়া আয়াত ৬, ইত্যাদি।

৫। আল্লাহ কোরানকেই রাসুলের বানী বা হাদীস বলেছেন। এবং হাদীস রচনা করতে মনগড়া ফতোয়া দিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন।সুরা আল হাক্কাহ আয়াত ৪০-৪৮ সুরা মায়েদার আয়াত ৪৮।

৬। আল্লাহ রাসূলকে কোরানের তাবলীগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।সুরা মায়েদার আয়াত ৬৭।

৭। আল্লাহ তার রাসুলকে মনগড়া হাদীস ফতোয়া না বলে কোরানের মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ দিতে সতর্ক করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সুরা আরাফ আয়াত ২, সুরা ক্বাফ আয়াত ৪৫।

৮। আল্লাহ তার রাসুলকে একনিষ্ঠভাবে কোরান অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুরা আরাফ আয়াত ৩। এবং

৯। রাসুল‌ও আল্লাহর নির্দেশ মতো হুবহু ওহী তথা কোরান অনুসরণ করতেন।সুরা আহক্বাফ আয়াত ৯।

১০। আল্লাহ কোরানকেই সরল পথ বলেছেন এবং এখানে কোন বক্রতা নাই,সুরা আনাম আয়াত ১৫৩, সুরা মরিয়ম আয়াত ৩৬,আয়াত সুরা কাহাফ আয়াত ১।

ব্রিটিশদের তৈরি কোরান বিরোধী আলেম তথা এদেশের বেতনভুক্ত মসজিদের ইমাম তথা চাকরের পিছনে কারো নামাজ বা সালাত হয় না।

Address

Gazipur
Sunamganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to আল কুরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো:

Shortcuts

Share