10/04/2026
আজ ১০ই এপ্রিল, শহীদ লিয়াকত দিবস।
শহীদ লিয়াকত আলী ১৯৭০ সালে চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী পাড়স্থ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অর্থনৈতিক দৈনতায় বিপর্যস্ত চার ভাই এক বোনের পরিবারে লিয়াকত ছিল ৪র্থ সন্তান। পিতা মাতার নিকট ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো, আরবী কায়দা এবং বাল্যশিক্ষা গ্রহণ করে লিয়াকত চান্দগাঁও হামেদিয়া প্ৰাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি ভর্তি হন এল. এল. খান মোহরা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
তিনি বলতেন “ওয়াজ শুনে ঈমান তাজা করেছি, এবার সেই তেজোদীপ্ত ঈমানে খোদাদ্রোহী ও নবী বিদ্বেষীদের হুংকারকে স্তব্দ করে দিতে হবে "তাই সে শুরু করে জীবনের নতুন পর্যায় সংগ্রামী জীবন।" সুন্নী ওলামায়ে কেরাম বিশেষ করে আল্লামা হাশেমী, আল্লামা নঈমী, আল্লামা নঈমুদ্দীন আলকাদেরী সাহেবের নূরানী তাকবীর শুনে এবং পীরে তরীকত আবদুল বারী শাহ হুজুরের সংস্পর্শে এসে যোগদান করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনায়। এক্ষেত্রে এলাকার অন্যান্য সেনাকর্মীদের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য। সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করে লিয়াকত পুরো এলাকায় সুন্নীয়তের দাওয়াত নিয়ে ছাত্র সমাজে উপস্থিত হলে ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী কর্মী বাহিনী গঠন হয়ে যায়। তার তীক্ষ মেধা-প্রতিভা-নম্র ও বিনয়ী স্বভাব, পরহেজগার এবং সত্যবাদীতার কারণে এলাকার সর্বস্থরের মানুষ তাকে স্নেহের চোখে দেখতেন। তার উত্তম চরিত্র ও ব্যবহারের কারণে বাতিল পন্থিরা ও তার বিরুদ্ধে তেমন কোন দোষ পায়নি। লিয়াকত কলেজ ছাত্র হলেও শুরুতেই সে দাড়ি রেখে সুন্নাতে নববীর বাস্তব অনুসরণ করে একজন নবী প্রেমিক মুজাহিদের পরিচয় দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে যখন সুন্নীয়তের আন্দোলন জোরদার হতে লাগল, এলাকার ছাত্র যুব সমাজ যখন রাসুল (দঃ) এর আদর্শে আদর্শিত হয়ে সংগঠিত হতে লাগল, তখনই নবী অলি বিদ্বেষীদের চোখ পড়ল লিয়াকতের দিকে। শুরু হল লিয়াকতের জীবন কেড়ে নেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করল ইসলাম নাম ধারী, নবীদ্রোহী, মওদুদী মতবাদ পুষ্ঠ কুখ্যাত পেশাদার খুনীরা।
১৯৮৬ সালে ১০ এপ্রিল চট্টগ্রাম সরকারী কমার্স কলেজে নবী-অলির পতাকাবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার নবীন বরণ অনুষ্ঠান ও সম্মেলনে পথে যোগদান শেষে ফেরার পথে পূর্বে থেকে উৎপেতে থাকা পেশাদার সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে লিয়াকতের উপর কলেজ ক্যাম্পাসে। ধারালো মারণাস্ত্রের আঘাতে জর্জরিত হয় লিয়াকতের দেহ। মারাত্মক ভাবে আহত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ এসে মুমূর্ষ লিয়াকতকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই তার শাহাদাত বরণ ঘটে ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। লিয়াকতের শাহাদাতের ঘটনা বিজলীর মত ছড়িয়ে পড়ে দেশের সমগ্র প্রান্তরে। এর পরপরই লিয়াকতকে এক নজর দেখার জন্য শুরু হয় হাজারো সুন্নী জনতার বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার। হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জানাযায় ইমামতি করেছিলেন ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাজী নূরুল ইসলাম হাশেমী। সমবেত শোকাহত জনতার সামনে আল্লামা হাশেমী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করলেন ইসলামের অখন্ড মতাদর্শ সুন্নীয়তকে বাস্তবে রূপদান দেয়ার জন্য, নবীদ্রোহী বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে অনুসরণ করে এদেশের হাজারো লিয়াকত সুন্নীয়ত প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ হতে কণ্ঠাবোধ করবেনা। সেদিন শোকাহত নবী প্রেমিকদের কণ্ঠে ভেসে উঠেছিল-
"হায়! আমরা যদি আজ লিয়াকত হতাম
খোদার দরবারে শহীদি মান পেতাম
শহীদি তালিকায় নাম উঠাতাম।"
জানাযা শেষে মৌলভী পুকুড় পাড়স্থ কবরস্থানে শহীদ লিয়াকত আলীকে দাফন করা হয়। প্রতি বছর ১০ এপ্রিল লিয়াকতের সমাধিতে নবীপ্রেমিক ভাইয়েরা ছুটে যান ফুলের রিং নিয়ে, সালাত- সালাম ও দোয়া মুনাজাত করতে, শহীদ লিয়াকতের গর্বিত মা কে একনজর দেখতে। আল্লাহ লিয়াকতের এই শাহাদাতকে কবুল করুন এবং লিয়াকতের মত জীবন উৎসর্গ করে এদেশে ইসলামের শ্বাশ্বত বিধানকে বাস্তবে রূপ দান করুক।
আমিন। বেহুরমতে ছৈয়্যদিল মুরছালিন।