16/08/2026
বেগম খালেদা জিয়া যখন গ্রেপ্তার হলেন, তখন একটানা ২ বছর ১ মাস পার্টি অফিসেই দিন-রাত কাটিয়েছিলেন রুহুল কবির রিজভী। ২৫শে মার্চ বেগম জিয়া মুক্তি পাওয়ার পরে ২৬ মার্চ বাসায় গেলেন অফিস ছেড়ে। ইনক্রিয়েডেবল!
শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এমন সময়ও গেছে যখন বিএনপির পক্ষে জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছানোর জন্য কেউ ছিল না, তখন রুহুল কবির রিজভীই ছিলেন একমাত্র মাধ্যম।
মাসের পর মাস, এমনকি বছর, পার্টি অফিসের মধ্যেই রাত কাটিয়েছেন। এক মাস, দু’মাস করে এভাবে বহুবারই পার্টি অফিসে থেকে দলীয় স্টেটমেন্ট মানুষের কাছে পৌঁছাতেন।
সংবাদ সম্মেলন করতেন, মিডিয়ায় প্রেস রিলিজ পাঠাতেন, নেতাদের সাথে যোগাযোগ মেইনটেইন ও সমন্বয় করে নানা আন্দোলনের ঘোষণা করতেন পার্টি অফিসে ভেতরে থেকে।
পরিবার-পরিজন রেখে পার্টি অফিসকে ঘর বানিয়ে ফেলা, রাজনীতিতে এই ধরনের স্যাক্রিফাইস রেয়ার। নয়াপল্টনে দলীয় পার্টি অফিসে কত-শত স্মৃতি ও বেদনার গল্প জড়িয়ে আছে রুহুল কবির রিজভীর জীবনে, সেসব গল্প হয়তো-বা অনেকের অজানাই থাকবে।
মাস দুয়েক আগে উনাকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম পেইজে, তখন ফিডব্যাক জানিয়েছিলেন। ওইদিন জানতে পারি বাঁ পাশে লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটবার কারণ।
আশির দশকের মাঝামাঝিতে এক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মিছিলে থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি উনার পেটের বাঁ পাশে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে ফিরলেও পেটের কিছু নাড়ি ও লিগামেন্ট ছিড়ে যায়, সেই সময় থেকে বাঁ পাশে ভর দিয়ে চলতে পারেন না। সেই ক্ষত আজীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন। এখনো লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতে হয় উনাকে। বয়স সেই অর্থে খুব বেশি নয়।
রাজনীতিতে একটা বাক্যের প্রচলন আছে, রাজনীতিবিদরা সংকটকালে হাল ধরেন মূলত সুসময়ে সুবিধাভোগের জন্য। কিন্তু কথাটি সম্ভবত বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
সংকটকালীন মুহুর্তে উনি যেভাবে লড়াই করে গেছেন দল টিকিয়ে রাখতে, যতটা স্যাক্রিফাইস করেছেন, এ সুসময়ে এসে নির্লোভ থাকাটা আসলে রাজনীতিতে বিরল কেইস।
বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনে দাঁড়ালেন না। পুরো সময়য়ে নির্বাচন পরিচালনায় মূখ্য দায়িত্ব পালন করে গেছেন সমন্বয় করার মাধ্যমে।
দলীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে উনার জায়গা পাওয়া প্রায় সকলের প্রত্যাশিত। তারেক রহমান ফাইনেস্ট ডিসিশন নিলেন রুহুল কবির রিজভীকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।