01/04/2021
কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউঃ
এবারকার পরিস্থিতিটা ভয়াবহ হলেও, সুখবর যে আমরা এবার খুব আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় ঢেউ এ আমাদের কিছুই হবে না। মাত্র ৭ দিন আগেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩০০০, আজ তা ৬৫০০... আগেই আশংকা করেছিলাম এমন কিছু হতে চলছে।
তো, বেশ কিছু কোভিড কেস স্টাডি করে এবারকার লক্ষণগুলো জানতে পারছি, যা অন্য বারের চাইতে আলাদা ছিল। কিছু ফ্যাক্ট জেনে নেয়া উচিত সবার। আগেই বলে নিই, করোনা হওয়া মানেই সব শেষ হওয়া না। তাই করোনা হলে দুশ্চিন্তা না করে, সবকিছু নিয়ে সজাগ থাকি, সচেতন থাকি।
এবারের লক্ষণীয় বিষয়সমূহঃ
১) ৪০% ক্ষেত্রে কোভিড টেস্ট ভুল আসে। মানে ১০০ জনের প্রায় ৪০ জনের রিপোর্টই ফলস আসতে পারে। এর জন্য গণস্বাস্থ্যকে গালাগালি দিয়ে কোন লাভ হবে না, বরং এটাই বাস্তবতা। RT-PCR বেশ কমপ্লেক্স একটা টেস্ট, রিপোর্ট ফলস আসাটা অস্বাভাবিক না।
২) এবারের সিম্পটম গুলো প্রকট। ফুসফুস ৪০-৭০% পর্যন্ত ড্যামেজড হচ্ছে। কোভিড থেকে কোভিড নিউমোনিয়ায় রূপান্তরের হার অনেক বেশি। এবার হালকা জ্বরের পরিবর্তে জ্বর ১০১-১০৩ এর মধ্যে থাকছে।
৩) আক্রান্তের প্রথম ৫-৭ দিন শ্বাসকষ্ট হবে না। তবে ৭ দিন পর শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। শ্বাসকষ্ট শুরু হবার ৩০ মিনিট আগেও বোঝা যাবে না, কিছুক্ষনপর কতটা ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে। হুট করে প্রচন্ড পরিমাণ শ্বাসকষ্ট দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা বুঝতেও পারছেন না শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। (নিচে সমাধান আছে, মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন)
৪) এবারের কোভিড নিউমোনিয়ায় কোন কাশি নাই, কফ নাই। শুধু জ্বর আর শরীর দূর্বল। অনেকের শরীরে র্যাশ দেখা দিচ্ছে, ছোপ ছোপ রক্ত জমাট বাধছে। অনেকেই ভাবতে পারে ডেঙ্গু কিংবা টাইফয়েড।
মনে রাখবেন ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ। সর্বোচ্চ ৭-৮ দিন স্থায়ী হয়। এর বেশি হলে তা ডেঙ্গু না।
টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক এন্টিবায়োটিক নিলে, টাইফয়েড সুস্থ হয়ে যায় দ্রুত।
কিন্তু জ্বর যদি ৭ দিনের বেশি থাকে এবং ডাক্তারের দেয়া এন্টিবায়োটিক খাওয়ার পরেও সুস্থ না হয়, তবে তা ভয়ের কারণ হতে পারে।
এতক্ষন যা বললাম সব এবারের লক্ষণজনিত কথাবার্তা। এবার পদক্ষেপ সমূহ নিয়ে আলোচনা করি।
১) কোভিড টেস্টে যদি নেগেটিভও আসে, তবু কোভিড পজেটিভ হতে পারে। কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে কিনা একমাত্র নিশ্চিত হওয়া যায় chest সিটিস্ক্যানের মাধ্যমে।
২) কোভিড সন্দেহ মনে হলে, হেলাফেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। একটি অক্সিজেন পালস মিটার কিনে নিন। সর্বক্ষন অক্সিজেন চেকের উপর থাকুন। ৯৩-৯৪ এর নিচে নামলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩) অক্সিজেন ৮৯-৯০ এ থাকলেও, অনেকে বোঝে না তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাই সব কিছু রোগীর উপর ছেড়ে না দিয়ে দায়িত্ব নিয়ে নিজে চেক করুন। অবশ্যই নিজে মাস্ক সহ যাবতীয় সতর্কতা পালন করুন। বাসার বয়স্ক মানুষটার প্রতি খেয়াল রাখুন।
৪) আইসিইউ সংকট, আপনার টাকা থাকলেও চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা আপনাকে চিকিৎসা নিতে দিবে না।
তাই যদি টাকা থাকে তবে বাসায় একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে রাখুন। অন্তত অক্সিজেনটা ঘরে থাকলেও, ডাক্তারের পরামর্শ মত বাসায় চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারবেন।
করোনা আটকানো সম্ভব না। লকডাউনও সম্ভব না। করোনায় মরার চেয়ে না খেয়ে মরা কষ্টের। তাই বাইরে যখন যেতেই হবে তখন কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। এগুলা সবাই জানি। এরপরেও একটু মনে করিয়ে দেয়াঃ
১) মাস্ক মাস্ট। মাস্ক ঠিকভাবে পড়তে শিখুন। নাক বাইর করে মাস্ক পড়ে মূর্খতার পরিচয় দেবেন না।
২) গণপরিবহনে মাস্ক ছাড়া কাওরে দেখলেই ঝাড়ি। সে মন্ত্রী হলেও আপনার ঝাড়ি তার শুনতেই হবে। কারণ তার মাস্ক নাই।
৩) বাইরে থাকা অবস্থায় কোন রকমেই মাস্ক খুলবেন না। বাইরে থাকা অবস্থায় নাকে মুখে হাত দেবেন না।
৪) বাইরে যাওয়া আসার জন্য আলাদা পোশাক রাখা সর্বোত্তম। বাইর থেকে এসেই সেগুলো খুলে আলাদা স্থানে রেখে দেবেন।
৫) বাইরে থেকে বাসায় এসেই আগে হাত ধুবেন। এর আগে কিচ্ছু স্পর্শ করবেন না।
৬) খাবার ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে খাবেন। ভাল ভাল খাবার খাবেন। শরীর মন দুই ই ভালো থাকবে।
৭) সকল পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। ভয় পাবেন না, সতর্ক থাকুন। প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।
সর্বোপরি, আমরা বাঙালি। আমাদের করোনায় কিছু হবে না। আজকেও খাতায় কলমে ৬০ জন মারা গেছে। হিসেব ছাড়া সংখ্যাটা কত তা খোদাই জানেন। ভয় পেলে জীবন এগুবে না। ভয় না পেয়ে সতর্ক থাকুন। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
নাসির,
উদ্ভিদবিজ্ঞান ৪৫