03/12/2020
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বর্তমানে যে মূর্তি দেখা যায় জাহেলী যুগে আরবে সেগুলো ছিলো না, জাহেলী যুগে পাথর খোদাই করে মূর্তি বানানো হতো যেটা হুবুহ এখনকার ভাস্কর্যের ন্যায়। সুতরাং মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নাকি আলাদা, এ আলোচনা নিতান্তই গৌণ, উভয়টি আসলে ভিন্ন নামে একই জিনিস।
একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সব মুসলমানদের মনে করিয়ে দরকার। দলমত নির্বিশেষে সব মুসলিমদেরই জানা দরকার। আমরা মনে করি, আরবের মূর্তিপূজকরা আল্লাহ তায়ালাকে মানতো না, শুধুই মূর্তির/ভাস্কর্যের পূজা করতো। কথাটা আসলে সত্য নয়। ''আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ.....(৩১:২৫)''।
তারা আল্লাহকে মানতো বড় খোদা (রব) হিসাবে বাকি যে মূর্তিগুলোর পূজা করতো তাদেরকে ছোট খোদা (রব) মনে করতো। দুনিয়া ও আখিরাতে ভালোর আশায় আরব মূর্তিপূজকরা আল্লাহকে রব মানার পাশাপাশি অন্যদেরকেও রব মানতো, তাদের পূজা করতো, ভক্তি করতো, উদ্দেশ্য ছিলো আল্লাহ তায়ালা তার নেককার বান্দাদেরকে পূজার করার উছিলায় তাদের সব সমস্যার সমাধান করে দিবে। স্বাভাবিকভাবে ভাবলে হয়তো মনে হবে এটা তেমন কিছু না, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বাণী শুনিয়েছেন,
''কাফেররা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি (১৮:১০২)''।
বর্তমানে আমরা দেখতে পাই, মানুষজন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জীবিত ও মৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অতিভক্তি করে, তাদের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ধ্যানে মগ্ন থাকে। বিষয়টা আরবদের পূজার মতো না হলেও কাছাকাছি লেভেলের। আরব মূর্তিপূজকরা সরাসরি দেবদেবীদের কাছে চাইতো, আর এখন বিভিন্ন ভাস্কর্যের সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থেকে হয়তো সেই ভাস্কর্যের কাছে কিছু চায় না তবে উদ্দেশ্য থাকে তাদের এই শ্রদ্ধা নিবেদনের দ্বারা কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদের দুনিয়াবী চাহিদা পূরণ করে দিবে। ভাস্কর্যের প্রতি অনুগত হলে পদ পদবি, আর্থিক সুবিধা ইত্যাদি আদায় সহজ হবে। কেউ চাইলে বিষয়টা অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু আসল সত্য এটাই। এই কারণেই দেখবেন সাধারণ মুসলিমদের এসব ভাস্কর্যের প্রতি আগ্রহ তো নেই ই বরং উল্টো এর বিরোধিতা করছে। অধিকাংশ তো করছে ঈমানের দাবি থেকে বাকি ছোট একটা অংশ মনে করছে যেহেতু দুনিয়াবী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই সেহেতু এসব সাপোর্ট করে লাভ নেই। আর যারা প্রবলভাবে ভাস্কর্যের সমর্থন করছে তারা রাষ্ট্রের সুবিধাবাদী অংশ, তাদের আশা ভাস্কর্যের প্রতি সমর্থন তাদের ভবিষৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সহ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ করে দিবে।
সুবিধাবাদীদের বলবো, দুনিয়ার সীমিত এই জীবনে একটু ভালো থাকার আশায় নিজের ঈমান বিক্রি করবেন না, ভাস্কর্যের প্রতি বিরোধিতা করার হিম্মত না থাকলে অন্তত: চুপ থাকুন, তাতেও হয়তো আল্লাহ তায়ালা এই মহাপাপের অংশীদারিত্ব থেকে দূরে রাখবেন।
যাদের খুশি করার জন্য ভাস্কর্যের/মূর্তির সমর্থন করছেন, তারা আসলে কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না, দুনিয়া ও আখিরাতের ভালো মন্দ আল্লাহ তায়ালার হাতে। এখনো সময় আছে চিন্তা ভাবনা করার।
''তোমরা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তির পূজা করছো আর মিথ্যা বানাচ্ছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের উপাসনা করো, তারা তোমাদের জন্য রিযিক দানের কোন ক্ষমতা রাখে না। তাই আল্লাহর নিকট রিযিক তালাশ করো আর তাঁরই ইবাদাত করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে (২৯:১৭)''।
(Saifur rahman)