02/09/2022
জিয়া হত্যাকান্ডের প্রায় দু সপ্তাহ আগে,ভারতে প্রায় ছয় বছর র্নিবাসিত জীবন কাটানোর পর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা ১৭ই মে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। এর আগে অনুপস্থিত অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১। জিয়ার নির্দেশে তিনি ফেরত পাওয়া বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে শেখ হাসিনা তাঁর পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। জীয়া সরকারী আমলা ও ভারতে তথাকালিন বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবুল এহসানকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করতে। হাইকমিশনার তাঁর (হাসিনা) সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ফিরে এলে তাঁকে হত্যা করা হবে। তখন জিয়া ফিরতি বার্তায় বলেন তিনি (জিয়া) যে নিরাপত্ত্বা পান তাঁকেও তাই দেয়া হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১ তথ্যমন্ত্রী শামসুল হুদা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান,বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন।
জিয়া সিদ্ধান্ত নেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত তাঁর পিতার বাড়ী সমস্ত জিনিসপত্রসহ তাঁকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি এ-ও বুঝতে পারেন , শেখ হাসিনা ততদিনে দেশের নিরাপত্ত্বা আশ্বস্ত হয়েছেন।। তবে জিয়ার জীবদ্দশায় ঐ বাড়ি ফিরিয়ে দেয়া যায়নি। ১২ জুন ১৯৮১ শেখ হাসিনা তা ফিরে পান এবং আসবাবপত্র ও স্থায়ী দ্রব্যসামগ্রী, টাকা পয়সা, অলঙ্কারাদি,আগ্নেয়াস্ত্র ইত্যাদিসহ অস্থাবর সম্পদের প্রাপ্তি স্বীকার করে কাগজপত্র স্বাক্ষর করেন।
দিল্লীতে থাকাকালে শেখ হাসিনা সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন। ৩ মার্চ ১৯৮১ প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়, আওয়ামী লীগের (হাসিনা) উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাম্প্রতিক নয়াদিল্লী সফর এবং নেতৃবৃন্দের তাদের গোপন বৈঠক পূর্নাঙ্গ আলোচনা দাবি করে পশ্চিম বাংলার সিপিআই (এম) নেতা জ্যোর্তিময় বসু এমপি ভারতের লোকসভভায় নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে বসু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ইন্দিরা সরকার ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ষড়যন্ত্র করছে।
এই পটভুমিতে ১৯৮১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারত সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের নবনির্বাচিত সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে বসবাসকালে তাঁর বাংলাদেশ সম্পর্কিত রাজনৈতিত কর্মকান্ড পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
গোপালগঞ্জ ইদগাহ ময়দানে ২১ মে ১৯৮১ এক জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর প্রয়াত পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ অর্থাৎ দ্বিতীয় বিপ্লবের বাস্তবায়ন ও বাকশাল আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে তিনি তাঁর শেষ রক্ত বিন্দুও ঢেলে দেবেন। নয়াদিল্লী থেকে ঢাকা রওনা দেয়ার আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজন হলে তিনি ভারতের কাছ থেকে সাহায্য নেবেন। ২৯ মে সিলেটে মাদ্রাসা ময়দানে এক জনসভায় শেখ হাসিনা পুনরায় বলেন, বাকশাল কর্মসূচী ও দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করবেন। শেখ হাসিনার এসব বক্তব্য জিয়ার জন্য উদ্ধেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- মাহফুজ উল্লাহ/প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজণেতিক জীবনি/ পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৯) বাংলাদেশ অবজারভার ২২,২৩,২৭ এপ্রিল ১৯৮১) বাংলাদেশ অবজারভার ২৮ ফেব্রূয়ারী/ ১৭ মার্চ ,১৮ এপ্রিল ১৯৮১)