18/09/2020
Collected সচেতনতা পোস্ট
আমরা যদি আমাদের দেশের খাটি পণ্যকে অবজ্ঞা করি তবে আমরা এগিয়ে যাব কিভাবে??
দেশের চিনিকলগুলির সাথে জড়িত আছে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা। আখচাষীরা। কিন্তু আমাদের দেশের চিনিকলগুলিতে উৎপাদিত চিনি অবিক্রিত থাকে শুধুমাত্র আমাদের অসচেতনতার জন্য। আমরা রিফাইনড সাদা ঝরঝরে চিনি কিনতে অভ্যস্ত। এতে আমাদের চিনিকলগুলি লোকসানে থেকে যায়।
অনেক অভিযোগ যে লাল চিনি পাওয়া যায়না। আমি নিজেও অনেক দোকানে খোজ নিয়ে জেনেছি যে লাল চিনি দোকানে বিক্রি হয়না। এর কারন হিসাবে মনে হয়েছে আমরা হয়তবা জানিনা কেন আমাদের লাল চিনি কেনা উচিত।
চাহিদা সৃষ্টিতে আমরা যারা ভোক্তা আছি তাদের থেকে একটা চাপ বিক্রেতাদের উপর দিতে পারি। শর্ত আমাদের একত্রিত হতে হবে। মাসের চিনি কেনার জন্য আগেই দোকানে বলে রাখবেন যে ৫ কেজি লাল চিনি নিবেন প্রতি মাসে। দোকানদার যেন এনে রেখে দেয়। হয়তবা আনবেনা অনেকে। অনেকে ভোক্তার চাহিদা বিবেচনয়ায় দোকানে রাখতে বাধ্য হবে। আপনার আমার কাছ থেকে যদি বিক্রেতাকে চাপ দেয়া যায় তবে সে পাইকারকে চাপ দিবে। পাইকার ডিলারকে। ডিলার মিল থেকে কিনে আনবে।
এদিকে সুপারশপ গুলিতে লাল চিনি পাওয়া যায়। প্যাকেটে বিক্রি হওয়া এই চিনি চিনি শিল্প কর্পোরেশনের। আর সবথেকে বড় কথা সাদা চিনি যেখানে ক্ষতিকর এবং অনেক পরিমানে লাগে সেখানে বলা যায় এক চামচ লাল চিনি দুই চামচ সাদা চিনির থেকেও বেশি মিস্টি স্বাদ আনে।
এবার আসুন জেনে নেয়া যাক লাল চিনির উপকারিতা।
"লাল চিনি বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। তাই বেতনহীন মানবেতর জীবনযাপন করছেন রাজশাহীর চিনিকল শ্রমিকরা।
চিনিকল শ্রমিকদের কথা না হয় বাদ দিলাম। আমি, আপনি ধবধবে সাদা চিনি খেয়ে ডায়াবেটিস, হার্ট এট্যাক, লিভার বিকল করছি সে খবর কি রাখছেন?
যেহেতু আমি ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের একজন ছাত্র তাই বিষয়টা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ!
কিন্তু আপনাদের সন্দেহ দূর করবার জন্য আমি কিছু নিউজ/জার্নাল থেকে রেফারেন্স দিচ্ছি।
লাল চিনি হলো সরাসরি আখ থেকে তৈরি অপরিশোধিত চিনি। লাল চিনিতে থাকে আখের সব উপাদান। যেমনঃ শর্করা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, উপকারি অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিঙ্ক, থায়ামিন, রাইবোফ্লেবিন, ফলিক এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি।
লাল চিনির উপকারী মাত্র কয়েকটি দিক বলছি।
১) প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকার কারণে লাল চিনি খেলে হাড় শক্তপোক্ত হয়। সেই সঙ্গে দাঁতের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। ক্যাভিটি এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়।
২) আখের অ্যাটিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ভিতরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়।
৩) লিভার সুস্থ রাখে।
৪) জন্ডিসের প্রকোপ কমায়।
৫) কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে।
৬) আখে থাকা অ্যালকেলাইন প্রপাটিজ গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৭) শরীরের মিনারেল তথা খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করে।
৮) শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে।
কিন্তু লাল চিনি রিফাইন বা পরিশোধন করতে গিয়ে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপকারি পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়। চিনি পরিশোধন করতে ব্যবহার করা হয় সালফার এবং হাড়ের গুঁড়ো।
সাদা চিনি বা রিফাইন করা চিনি যে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সে সম্পর্কে ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন এক গবেষণাপত্র বের করেছিলেন। ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন গবেষণাপত্রে বলেন-
চিনি রিফাইন করে সাদা করার জন্য চিনির সাথে যুক্ত প্রাকৃতিক ভিটামিন ও মিনারেল সরিয়ে শুধু কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা রাখা হয়। কিন্তু শুধু কার্বোহাইড্রেট শরীর গ্রহণ করতে পারে না। মিনারেল ও ভিটামিনবিহীন কার্বোহাইড্রেট দেহের মধ্যে টক্সিক মেটাবোলাইট সৃষ্টি করে। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ফলে কোষ অক্সিজেন পায় না এবং অনেক কোষ মারা যায়। ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন গবেষণা লব্ধ ফলাফল দিয়ে প্রমাণ করে- রিফাইন করা চিনি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। হার্ট ও কিডনী ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ব্রেনের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে।
আরো সহজ করে সাদা চিনির ক্ষতিকর দিক বর্ণনা করা যায়।
১) যেহেতু পরিশোধনের সময় চিনির মিনারেল বা প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান দূর হয়ে যায়। তাই সহজেই বলা যায়, এতে করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। নিউরন কোষগুলো ধীরে ধীরে মারা যায়। যা স্ট্রোক ঘটায়।
২) ভিটামিন সরিয়ে ফেলায় শরীর পুষ্টি উপাদান পায় না।
৩) সাদা চিনিতে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। ফ্রুক্টোজ হজম করাতে সাহায্য করে লিভার বা কলিজা। কিন্তু অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভার হজম করাতে না পারায় লিভারে তা ফ্যাট আকারে জমা হয়। এতে করে লিভার ড্যামেজ বা লিভার নষ্ট হয়ে যায়।
৪) চিনি পরিশোধনে ব্যবহার হয় সালফার আর হাড়ের গুড়ো যা কিডনি বিকলাঙ্ক করে দেয়।
৫) সালফার ইনসুলিন নিঃসরণে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শরীরের গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস হয়।
এত এত অপকারী বা বিধ্বংসী দিক থাকার কারণেই ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন সাদা চিনিকে বলেছেন বিষ। আমাদের দেশের মানুষ টাকা দিয়ে ধবধবে সাদা বিষ খাবে তবুও লাল চিনি কিনবে না। নিজে তো মরছে, দেশীয় চিনিকলের শ্রমিকদেরও বিনাবেতনে মারছে।
রেফারেন্সঃ
https://youtu.be/Rdg0RhDHF-0
tinyurl.com/y36x3am4
tinyurl.com/yyd9dbq7
tinyurl.com/y4hwspdp
tinyurl.com/yxz4pwcl
যাহোক, আমি নিজে সফল হয়েছি আমার দেশের চাষীদের আখ দিয়ে উৎপাদিত আমার দেশের কারখানার লাল চিনি দোকানিকে দিয়ে আনতে বাধ্য করতে।
আসুন সবাই এক হই। সাদা চিনির ব্যাবহার কমিয়ে লাল চিনি কিনি। এতে বাচবে এদেশের চিনিকলগুলি। ভোক্তা সাধারন এক হোক সেই আশায়।
ডেফ্রেসে এমন পোস্ট দেখে অবাক হবেন না। বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করি আমরা। এদেশের প্রতিটি খাত যেন ভাল থাকে সেই কামনা করি আমরা। আর চাই আমাদের মাধ্যমে অন্তত ১০০ জন মেম্বার চিনিকলগুলি বাচাতে এগিয়ে আসবে।
Official YouTube Channel of 'CHANNEL 24' "CHANNEL 24" is News Based TV Channel of Bangladesh. Official Social I...