31/07/2024
আওয়ামী লীগের জন্য ঘুমভাঙ্গার ডাক (Wakeup call)
জয়বাংলা সাইবার টিম, জয় সাইবার টিম, বঙ্গবন্ধু সাইবার টিম, শেখ হাসিনা সাইবার টিম বাহারি নামে কত সাইবার দোকান, সারাদেশের পাড়া-মহল্লা, রাস্তাঘাট, বাজার, ফেসবুক, আওয়ামী শিশু লীগ থেকে বয়স্ক লীগ, তরবারি থেকে তরকারি লীগ, অনলাইন থেকে আওয়ামী অনলাইন লীগ, জননেত্রী পরিষদ থেকে থেকে বিশ্ব আওয়ামী পরিষদ বাহারি সব নামে অসংখ্য দোকান। তাঁত শিল্প বিলুপ্ত হয়েছে অনেক আগে কিন্তু তাঁতী লীগ নেতা ও কমিটি আছে। কৃষক লীগের নিউইয়র্কে শাখা আছে। সবই হাওয়া হয়ে উড়ে গেল এক নিমিষে। এমনই হবে – এমন পূর্বাভাস দিয়ে লেখালেখি করে দলের অনেক নেতাকর্মী বিরাগভাজন হয়েছি তবুও লিখেছি। যাদের বিরাগভাজন হয়েছি তাদের অপমৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি কারণ গত ১৫ জুলাই থেকে তাদের ফেসবুক ওয়াল নীরব কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে এক লাইন লেখা নাই। আওয়ামী লীগ কে আম্লিক বলা মানুষের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিলো।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত কিন্তু যার দল দেখার কথা ছিল তাকে দিয়ে রেখেছেন সবচেয়ে কর্মব্যস্ত মন্ত্রণালয়। কাশির আগে পাদ বের হয়ে যাওয়া এমন একজন যে হাটতে পারেন না, হাঁটলে তৃতীয় লিঙ্গের মত হাটে, মলদ্বার থেকে কোঁৎ মেরে সার্কাস্টিক কথাবার্তা বলা ৭২ বছরের এই দাদুর কথা এই প্রজন্ম অনুসরণ, অনুধাবন বা অনুগমন করবে কিনা তা বিবেচনা করেন।
টানা ১৬ বছর ক্ষমতায়, তারও আগে ২ বছর (২০০৬-২০০৮) ৩ উদ্দিনের শাসন। দেশের শাসনব্যবস্থা ও সরকার ব্যবস্থা (Governance and government systems) বোঝার ন্যূনতম বয়স যদি ১০ বছরও ধরি তাহলে যাদের বর্তমান বয়স ২৮ বছর তাদের অনেকে ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার কথাও স্মরণ নেই। যা মনে পড়ে তা হল গতকালের, গত মাসের বা গত বছরের বেশিরভাগ ঘটনা। দুর্ভাগ্যবশত, অতীতের ঘটনার গতিপথ এতটা সুখকর নয়। সবমিলিয়ে আজকে ১৮ বছর বয়সের যুবক-যুবতী যারা ভোটার আইডি বানাচ্ছে তাদের জীবদ্দশায় বিএনপি-জামায়াতের গ্রেনেড-বোমাময় শাসনামল দেখেনি। তারা জানে না -
#২০০১ সালে পল্টন সমাবেশে বোমা হামলা, রমনা বটমূলে হুজির বোমা হামলা, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরের গির্জায় বোমা হামলা, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলা, বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় বোমা হামলা, অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরীকে হত্যা। #২০০২ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্ঞানজ্যোতি মহাথেরাকে হত্যা, সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলা, সাতক্ষীরার বড়পুকুরে সার্কাস প্রাঙ্গণে বোমা হামলা, ময়মনসিংহের ৩টি সিনেমা হলে বোমা হামলা। #২০০৩ সালে টাঙ্গাইলের সখিপুরে মাজার-মেলায় বোমা হামলা, দিনাজপুর শহরে জামায়াতের জঙ্গিদের বোমা হামলা, খুলনায় বাণিজ্য মেলায় বিএনপি-জামায়াতের জঙ্গিদের বোমা হামলা, মহালছড়িতে চাকমা ও মারমাদের তিনশ বাড়ি পুড়িয়ে ২ জন হত্যা, ১০ জন নারীকে ধর্ষণ করে জামায়াত-শিবির-পন্থীরা। #২০০৪ সালে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলা, খুলনায় পরিকল্পিত বোমা-হামলা, চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান, আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা, সিলেটে আওয়ামী লীগের সভায় হুজির গ্রেনেড হামলা, ২১ আগস্ট ২০০৪- জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। #২০০৫ সালে শেরপুর ও জামালপুরে জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসীদের বোমা হামলা, বগুড়া ও নাটোরে যাত্রা-পালা অনুষ্ঠানে জামায়াতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বোমা হামলা, হবিগঞ্জে বিএনপি জামায়াত সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলা, অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা, লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম কোর্টে জেএমবির বোমা হামলা, ঝালকাঠি জেলা আদাতে বোমা-হামলা, চট্টগ্রামে হাইকোর্টে বোমা হামলা, গাজীপুরে আইনজীবী ভবনে বোমা হামলা, গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বোমা হামলা, নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ে বোমা হামলা, চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা হামলা - এই ইতিহাস এই প্রজন্মকে জানাতে না পারাটা আপনাদের সমষ্টিগত ব্যর্থতা।
শেখ হাসিনার বিকল্প সরকার কি আছে এই জাতির কাছে? এই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবীর সাথে ছিলাম, ধ্বংসযজ্ঞ বা সরকার পতনের সাথে নয়। শিক্ষার্থীদের দাবীর চেয়ে বেশি এই দেশের সর্বোচ্চ আদালত দিয়েছে। এই আন্দোলনে শিশু, শিক্ষার্থী, পদযাত্রী, পুলিশ এবং দাঙ্গাহাঙ্গামাকারী বা হুজুগে জনসাধারণ সহ সকল মৃত্যুর বিচারবিভাগীয় বা অন্তর্জাতিক তদন্ত শেষে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।