17/05/2023
🟥 পড়াশোনায় মন বসানোর বেস্ট উপায়ঃ
🟩 পড়ালেখায় মনযোগ আনার কৌশলঃ
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, "স্যার, পড়তে মন চায় না। কী করব?
পড়তে ভালো লাগে না। কী করব?
কিছুদিন পড়ার পর আর পড়ায় মন বসাতে পারি না। কী করব?
*পড়া ভালো না লাগার বা পড়ায় মন বসাতে না পারার রো*গ কেবল আপনার নয়। খোঁজ নিলে দেখা যাবে পৃথিবীর ৯০% এর বেশি মা*নুষ এই সমস্যায় ভুগছেন।
তাহলে কি এই এই সমস্যার কোনো সমাধান নেই?
- অবশ্যই আছে।
তাহলে দেখে নেওয়া যাক এই সমস্যার সমাধানগুলো-
১। কেন পড়বেন আগে সেটা ঠিক করুন: পড়ার আগে ঠিক করে নিন- 'আপনি কেন পড়বেন? কেন পড়তে হবে? পড়লে কী হবে? না পড়লে কী হবে?'
ফুটবল খেলায় যদি গোলপোস্ট না থাকত, তাহলে রোদের মাঝে ৯০ মিনিট কেউ দৌঁড়াতে চাইতো না, বা দৌঁড়িয়ে আনন্দ পেত না। ক্রিকেট খেলায় বাউন্ডারি লাইন না থাকলে ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করে আনন্দ পেত না; উইকেট সিস্টেম না থাকলে বোলার বল করে আনন্দ পেত না।
আমরা যেমন খেলাধুলা করি, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়, কিন্তু আমরা টের পাই না।
২। বদ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করুন: অযথা আড্ডা দেয়া, অযথা ঘোরাফেরা করা পড়াশোনার প্রতি ডিমোটিভেটেড করতে করতে পারে। পরশ্রীকাতরতাও অনেক সময় পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করতে পারে।
৩। রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন: আপনি যদি নিজের রাগ নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে আপনার মন-মেজাজ সবসময় খিটখিটে থাকবে। পড়তে ইচ্ছে করবে না তখন।
৪। স্টাডিপ্ল্যান ও স্টাডি রুটিন তৈরি করুন: আগামীকাল কী পড়বেন, তা আগের দিন প্ল্যান করে আলাদা খাতায় লিখে রাখুন এবং পরের দিন সেই প্ল্যান অনুযায়ী পড়ুন। খাতার নাম দিতে পারেন "স্টাডি প্ল্যান খাতা"। প্রতি সপ্তাহ ও মাসে কোন কোন সাবজেক্ট বা বই শেষ করবেন, তাও প্ল্যান করে খাতায় লিখে রাখুন এবং একটি দৈনিক পড়ার রুটিন করতে পারেন। এতে করে দ্রুত কোনো বই বা সাবজেক্ট শেষ করতে পারবেন এবং পড়ার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হবে।
৫। ভালো লাগার বিষয় দিয়ে পড়া শুরু করুন: আপনার যখন পড়তে ইচ্ছে করছে না, তখন যদি এমন সাবজেক্ট পড়তে চান, যেটা পড়তে ভালো লাগে না (যেমন ধরুন- বাংলা ব্যাকরণ) তাহলে আপনার আর পড়তেই ইচ্ছে করবে না। তাই পড়ার টেবিলে আগে নিজেকে বসানোর জন্য এমন কোনো সাবজেক্ট দিয়ে শুরু করুন, যেটা আপনার পড়তে ভালো লাগে বা পড়ে আনন্দ পান। এরপর আস্তে আস্তে পড়ায় মন বসে গেলে তখন অন্য সাবজেক্টও পড়তে ভালো লাগবে আগের থেকে বেশি।
৬। বেশি পড়া ভাগ করে নিন: একটা বইয়ের যদি অনেকগুলো চ্যাপ্টার থাকে, কিংবা কোনো চ্যাপ্টার যদি অনেক বড় হয়; তাহলে সেগুলো ভাগ করে নিন কয়েক ভাগে। এতে করে পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। কিন্তু একসাথে যদি অনেক মোটা একটা বই শেষ করতে হবে ভাবেন বা অনেক বড় একটি চ্যাপ্টার শেষ করতে হবে ভাবেন, তাহলে ভয়ে আর পড়তে ইচ্ছে নাও করতে পারে; অথবা পড়াটা বোঝা মনে হতে পারে।
৭। কঠিন বিষয়গুলো অল্প অল্প করে পড়ুন: স্বাভাবিকভাবে আমাদের কাছে যে বিষয়গুলো কঠিন লাগে, সেগুলো পড়তে ইচ্ছে করে না। তখন যদি আমরা কঠিন বিষয়গুলো অল্প অল্প করি পড়ি তাহলে সময় একটু বেশি লাগলেও পড়াটা কিন্তু ঠিকই হবে। এই ক্ষেত এই ধরনের বার বার রিভিশন দিলে ও খাতায় লিখে হালকা শব্দ করে পড়তে পারলে মনে থাকে বেশি। যেমন- বিভিন্ন, তারিখ, সাল, নতুন নাম, Preposition, Vocabulary ইত্যাদি।
৮। পড়ার মাঝে ব্রেক দিন: পড়ার মাঝে ছোট ছোট ব্রেক দিলে পড়ার প্রতি এনার্জি থাকে দীর্ঘ সময়। আপনি চাইলে অল্প সময়ে ঘুমিয়েও নিতে পারেন। পড়ার ব্রেকের মধ্যে পানি বা হালকা কিছু খেলে দীর্ঘ সময় পড়তে গেলে ক্লান্ত বোধ হবে না। পড়তে ভালো লাগবে।
৯। পড়ার সময় ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন: পড়ার সময় ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ইউটিউব, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সেগুলোর প্রতি মনোযোগ চলে যেতে পারে। তখন এগুলো ব্যবহার করতে ইচ্ছে করবে; পড়তে ইচ্ছে করবে না। তাই পড়ার সময় এগুলো ব্যবহার থেকে নিজে বিরত রাখুন।
১০। পিছিয়ে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা পরিহার করুন: অতীত নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করলে আর পড়ার প্রতি মনোযোগ কমে যায়। কেউ কেউ জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু, পিছিয়ে পড়া আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া একই বিষয় নয়৷ তাই জীবনে পিছিয়ে পড়া নিয়ে অযথা না ভেবে, কীভাবে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, সেটা নিয়েই ভাবুন।
আপনার জীবন থেকে যে সময় চলে গেছে, সেটা হয়তো আপনি আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন না; বা ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা রাখেন না; কিন্তু আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যতের সময়টুকুকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার ক্ষমতা আপনি রাখেন। কে ট্রেনের কোন স্টেশন থেকে উঠেছেন, সেটা বড় বড় কথা নয়; কে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেন, সেটাই বড় কথা।
১১। নিজের উপর আস্থা রাখুন: আপনার সামর্থ্য নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। 'আপনার দ্বারা হবে না। আপনি জীবনে কিছু করতে পারবেন না।'
-এই ধরনের কথা পড়াশোনার প্রতি আপনাকে ডিমোটিভেটেড করতে পারে। তাই অন্যের কথা এড়িয়ে চলুন এবং নিজের সামর্থ্যের উপর আস্থা রাখুন।
১২। পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নিন: আপনি যদি রাত রেগে ফেইসবুকিং করেন, মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করেন কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখেন; তাহলে আপনার ভিতর একটা ঘুম ঘুম ভাব আসতে পারে কিংবা অবসাদগ্রস্ত হতে পারেন। তাই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে তাড়াতাড়ি ওঠার চেষ্টা করুন। তাজা পুষ্টিকর খাবার ও শাক-সবজি খেলে সেটা আপনাকে উজ্জীবিত রাখতে সহায়তা করবে এবং পড়তে ভালো লাগবে।
১৩। নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম করুন: নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও ব্যায়াম আমাদের মন-মেজাজ ও মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করে। ফলে আপনার পড়তে ভালো লাগবে।
১৪। মোটিভেশনাল বই পড়ুন: বিভিন্ন মোটিভেশনাল বই ও আত্ম-উন্নয়নমূলক বই আপনাকে পড়াশোনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে সাহায্য করবে। তাই মাঝেমধ্যে এই ধরনের বই পড়তে পারেন। চাইলে মোটিভেশনাল ও আত্ম-উন্নয়নমূলক বই "তুমিও পারবে স্বপ্নকে ছুঁতে" এবং "ঘুরে দাঁড়াও আরেকবার" বই দুটি পড়ার টেবিলে রাখতে পারেন। যখনই পড়তে ইচ্ছে করবে না, তখন এই বইগুলো থেকে কিছু অংশ পড়বেন। দেখবেন, পড়ার নতুন শক্তি ফিরে পাচ্ছেন। প্রতিদিন যেমন শরীরের শক্তির জন্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি মনকে চাঙ্গা রাখতে, নিজের লক্ষ্যে ফোকাস থাকতে মোটিভেশনের প্রয়োজন হয়।
তবে ভুলেও ইউটিউবের ভিডিও থেকে পড়ার সময় মোটিভেশন নিতে যাবেন না। তাহলে, একটার পর একটা ভিডিও দেখতে দেখতে কখন সময় চলে গেছে, টেরই পাবেন না! আর মোটিভেশনাল ভিডিও থেকে কখন যে গান/নাটক বা ফানি ভিডিওতে ঢুবে গেছেন, বুঝতেই পারবেন না!
আশা করি, উপরিউক্ত পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে পড়াশোনা প্রতি আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি সহায়তা করবে।
✑ গাজী মিজানুর রহমান
ক্যারিয়ার স্পেশালিস্ট; লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯