15/04/2026
ফক্স নিউজকে ট্রা*ম্প আজ বলেছে
- Iran war is ‘very close to being over. ( অর্থাৎ ইরানের যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে।)
ট্রা*ম্প এই সাক্ষাৎকার দেবার কয়েক ঘণ্টা পরই ওয়াশিংটন পোস্ট শিরোনাম করেছে
- U.S. sends thousands more troops to Mideast as Trump tries to squeeze Iran ( অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন)
এখন প্রশ্ন হচ্ছে
- ট্রা*ম্প বলেছে দুই -তিন দিনের মাঝেই ভালো সংবাদ পাওয়া যাবে। তাহলে হাজার হাজার সৈন্য কেন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে? চাপ দেয়ার জন্য তো যে সৈন্যগুলো এখনই আছে; সেটাই যথেষ্ট।
তবে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে, আরেকটা আলোচনা হবার সম্ভাবনা আছে। ঘণ্টা কয়েক আগে আল-জাজিরা শিরোনাম করেছে
- ট্রা*ম্পের প্রিয় পাকিস্তানের ফিল্ড মার্সাল ইরানে পৌঁছেছে অ্যামেরিকার শেষ বার্তা নিয়ে।
কী আছে সেই বার্তায়? এটা অবশ্য কারও জানা নেই। তবে পৃথিবী জুড়ে কূটনীতিক তৎপরতা আজও অনেক বেড়েছে। ট্রা*ম্প পোস্ট করে বলেছে
- আমি চীনকে চিঠি লিখেছি ওরা যেন ইরানকে অস্ত্র না দেয়। আমরা হরমুজ প্রণালি খুলে দেব একটা সময়। তখন চীনও খুশি হবে।
চীন অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছে
- আমরা অ্যামেরিকাকে জানিয়েছি, কোন রকম অস্ত্র আমরা ইরানকে দিচ্ছি না। আমাদের খুশি করার কোন দরকার অ্যামেরিকার নাই।
আজব কাণ্ড! অস্ত্র দিলে কি চীন বলে কয়ে দেবে নাকি! এদিকে ব্রিটিশ টেলিভিশন স্কাই নিউজের সামরিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্ক আজ প্রায় এক ঘণ্টার একটা অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন
- অ্যামেরিকা তো দাবি করে তাঁরা পৃথিবীর সব চাইতে শক্তিশালী রাষ্ট্র। তাহলে চায়নাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করতে হচ্ছে কেন?
আমার অবশ্য সাথে আরেকটা প্রশ্ন আছে
- আজকেই তো ট্রা*ম্প বলেছে , ইরানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ওরা আগামী ২০ বছরেও উঠে দাঁড়াতে পারবে না। ওরা যদি ধ্বংস হয়ে যেয়েই থাকে; তাহলে চীনকে রিকোয়েস্ট করতে হচ্ছে কেন?
এ থেকেই তো পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে- অ্যামেরিকা নিজেও জানে ইরান এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থায় আছে। এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আজ আবারও বলেছে
- আমরা চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা কোন অবৈধ যুদ্ধে জড়াবো না।
মানেটা কী? অ্যামেরিকা তাহলে এখন ইংল্যান্ডকে সকাল-বিকাল চাপ দিচ্ছে নাকি? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে সফর করছে। আরব দেশগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনা চলছে। এদিকে চীনে গিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ ঘোষণা করেছে
- চীনের যত জ্বালানি লাগে, সেটা আমরা দেব।
অর্থাৎ ইরান থেকে যদি চীন জ্বালানি এখন নাও নিতে পারে। রাশিয়া চীনকে সাহায্য করবে এবং ধারণা করা হচ্ছে এরা মিলে একটা জোট করতে যাচ্ছে। তবে আমার ধারণা এই ২১ তারিখ যুদ্ধ বিরতির সময়সীমা শেষ হবার আগে যদি অ্যামেরিকা এবং ইরানের মাঝে কোন আলোচনা না হয় কিংবা আলোচনা হলেও যদি কোন ঐক্যমতে না আসে। তাহলে অ্যামেরিকা ইরানে আবারও বড় রকমের হামলা চালাবে। ব্রিটিশ সামরিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাইলেক ক্লার্ক আজ বলেছে
- ইরান এই মুহূর্তে ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে চীনের সাথে বাণিজ্য করছে। সেই কারেন্সি এরপর চাইনিজ কারেন্সিতে রুপান্তর করা হচ্ছে। ওই টাকা দিয়ে এরপর ইরান খুব সহজে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য করতে পারছে।
আপনাদের জানিয়ে রাখি কাস্পিয়ান সাগর ইরানের উত্তরে অবস্থিত। এই সাগর দিয়ে ইরানের সাথে রাশিয়ার সরাসরি কানেকশন আছে। আরেক সাইডে আছে কাজাখস্থান। এটি রাশিয়াপন্থী একটি দেশ। অর্থাৎ ইরানের আরেক পাশে পার্সিয়ান গলফের হরমুজ প্রণালি ইরান এবং অ্যামেরিকা অবরোধ করে রাখলেও অন্য পাশ দিয়ে ইরান ঠিকই সমুদ্র পথে বাণিজ্য করতে পারছে রাশিয়ার সাথে এবং এটি একটি Landlocked sea (স্থলবেষ্টিত সাগর)
অর্থাৎ চাইলেও ইরানকে অ্যামেরিকা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ইরানের তেল বিক্রির ক্ষেত্রে আপাতত বেশ সমস্যা হবে; এটা ঠিক। যেহেতু তেল ক্ষেত্রগুলো হরমুজের দিকেই বেশি। যা হোক, অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্ক এরপর বলেছেন
- হয় এই যুদ্ধ আগামী দুই সপ্তাহের মাঝে শেষ হবে। আর যদি মে মাস পর্যন্ত গড়ায়; তাহলে এই যুদ্ধ দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হয়ে যেতে পারে।
ট্রা*ম্পের আজকের সাক্ষাৎকার শুনে মনে হলো- সে খুব দ্রুত ইরান থেকে চলে যেতে চাইছে। তাই এই সপ্তাহে একটা আলোচনার শেষ চেষ্টা সে করবে। কিছু না হলে, ঠিক যেমনটা সে এর আগেই বলেছে; সেটাই হয়ত করবে। অর্থাৎ
- ইরানকে সে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
অ্যামেরিকান সাবেক কর্নেল ডেভিস আজ বলেছেন
- আমার সামরিক সুত্রগুলো (যারা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে আছে)- সবাই জানিয়েছে- ইরানে বড় রকম হামলা করার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে।
আলোচনার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি যদি সফল না হয়। তাহলে আমরা ঘুরে-ফিরে আবার আগের জায়গায় পৌঁছে যাব। মানে ট্রা*ম্প অতি অবশ্যই ইরানে বেশি দিন থাকতে চাইবে না। বেশি দিন থাকলে অন্য দেশগুলো অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে চলে যাবে। তাই এই অঞ্চল থেকে পালিয়ে যাবার আগে ট্রা*ম্প হয়ত ইরানে বড় রকম হামলা করে ঘোষণা করবে
- আমরা জিতে গেছি।
সে তাঁর নিজ দেশের মানুষকে দেখাতে চাইবে- সে জয়ী হয়েছে। কিন্তু ইরান কি বসে থাকবে? ইরান তখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সকল তেল-গ্যাস ক্ষেত্র ধ্বংস করে দিবে। ইরান কিন্তু আগেই বলে রেখেছে- আমরা যদি ধ্বংস হই। তোমাদের নিয়েই ধ্বংস হবো। অর্থাৎ পুরো পৃথিবী তখন ভয়ানক সমস্যায় পতিত হবে।
আমার কাছে কেমন যেন মনে হচ্ছে- এই যে এখন একটা শান্ত অবস্থা। এটি বড় কোন ঝড়ের আগের পরিস্থিতি। হাঙ্গেরিতে এই রোববারের নির্বাচনে ট্রা*ম্পের বন্ধু ভিক্টর আরবান হেরে গেছে। সে যাতে না হারে ; এই জন্য ভোটের তিন দিন আগে ট্রা*ম্প তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে হাঙ্গেরিতে পাঠিয়েছিলো। এতেও রক্ষা হয় নাই।
ট্রা*ম্প বুঝে গেছে, ওর জনপ্রিয়তা পুরো পৃথিবীতেই অনেক কমে গেছে। মিত্রদেরকেও সে হারিয়ে ফেলছে। সিএনএন গতকাল একটা জরিপ করেছে। ওই জরিপে দেখা গেছে অ্যামেরিকায় ই*জ*রাইলের প্রতি সমর্থন প্রায়
৬০ ভাগ কমে গেছে! এমন কি ট্রা*ম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের মাঝেও ই*জ*রাইলের সমর্থন প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে।
এই অবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা কি ই*জ*রাইলের
কথা শুনে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্য দুটো অঞ্চলকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। নাকি লেজ গুটিয়ে পালাবে? এটা দেখার জন্য আমাদের বোধকরি আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। যা করার এই দেড় সপ্তাহের মাঝেই করতে হবে। নইলে পৃথিবীর দেশগুলোই সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকাকে এই অঞ্চল থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে। তবে যে পথেই ট্রা*ম্প যাক; ওর আজকের কথা মতই বলতে হচ্ছে
- It is Trump’s time that is over; not Iran’s ( ট্রা*ম্পের সময় শেষ হয়ে আসছে, ইরানের নয়।)
©️Aminul Islam