17/02/2026
আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি — শহীদ জোহা দিবস। এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমোঘ অধ্যায়, যেখানে একজন শিক্ষকের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার পথকে আলোকিত করেছে। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা (শহীদ জোহা স্যার)-কে, যিনি ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত।
ড. শামসুজ্জোহা ১৯৩৪ সালের ১ মে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে তার পরিবার পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে আসে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা প্রতিবাদ করছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শহীদ জোহা স্যার, প্রক্টর হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায়, ছাত্রদের রক্ষা করতে সেনাদের সামনে দাঁড়ান এবং গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ৩৪ বছর বয়সে শহীদ হন।
শহীদ জোহা স্যারের আত্মত্যাগ ছিল একজন ব্যক্তির সাহসিকতা এবং দায়িত্ববোধের চরম উদাহরণ। তিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছাত্রদের অভিভাবকও ছিলেন । যখন সেনাবাহিনী ছাত্রদের উপর গুলি চালাতে উদ্যত হয়, তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে দাঁড়ান। এটি তার মানবিকতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিফলন — যেখানে তিনি ছাত্রদের জীবন রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। এই আত্মত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সাহস নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক, যা প্রমাণ করে যে একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্ত পুরো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
শহীদ জোহা স্যারের আত্মত্যাগ ১৯৬৯ এর আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ভিত্তি স্থাপন করে। তিনি প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন, যা বাঙালি জাতির প্রতিরোধের প্রতীক। এটি শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা আমাদের শেখায় যে শিক্ষা শুধু জ্ঞানদান নয়, জীবন রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়ের লড়াইও। আজও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্মৃতিফলক, হল এবং কবরস্থান তার গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিবসকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠেছে, যা তার অবদানের স্বীকৃতি।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আজ এই মহান শহীদের প্রতি অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছে। তাঁর আদর্শ আমাদের প্রেরণা — আমরা প্রতিজ্ঞা করি, তার মতো নিঃস্বার্থভাবে ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য গড়ে তুলবো এবং গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের লড়াই চালিয়ে যাবো।