30/04/2026
অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন, মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশসহ গোটা দুনিয়ার সকল মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি জানাই বিপ্লবী অভিবাদন এবং বিনম্র শ্রদ্ধা।
আজকের এই দিন শ্রমিকদের বুকের রক্তে লেখা অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট চত্বরে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের ন্যায্য দাবিতে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। শাসকগোষ্ঠীর বুলেটের আঘাতে সেদিন অনেক শ্রমিককে জীবন দিতে হয়েছিল, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল শ্রমিক নেতাদের। তাঁদের সেই মহান আত্মত্যাগের বিনিময়েই বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার। মে দিবস আমাদের শেখায় লড়াই ছাড়া অধিকার আদায় হয় না।
শিকাগোর সেই লড়াইয়ের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল আমাদের এই ভূখণ্ডেও। পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসও শোষণমুক্তির এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলে শোষণের বিরুদ্ধে আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ধর্মঘট ও রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন এদেশের স্বাধিকার সংগ্রামের ভীত গড়ে দিয়েছিল।
চা-বাগান শ্রমিকদের যুগ যুগ ধরে চলে আসা বঞ্চনা ও বিদ্রোহ, পাটকল শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লড়াই এবং স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি গার্মেন্টস শ্রমিকদের সম্মানজনক মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে প্রতিনিয়ত যে লড়াই— তা মে দিবসের সেই অবিনাশী চেতনারই ধারাবাহিকতা। বুকের রক্ত দিয়ে এদেশের শ্রমিকরা বারবার প্রমাণ করেছেন, জুলুমের কাছে তারা কখনো মাথানত করেন না।
বর্তমান সময়েও দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে শ্রমজীবী মানুষের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকেছে। ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার আজও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বিশ্বাস করে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া কোনো প্রকৃত মুক্তি আসতে পারে না। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার,ন্যায্য মজুরি এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিতে ছাত্রসমাজ সবসময় শ্রমিকদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।