07/11/2024
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি: আন্দোলন, সংগ্রাম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞান সাধনা ও বিপ্লব সাধনার এক অঙ্গীকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং ভূমিকা অনুসারে সবসময় রাজনৈতিক আন্দোলন, সংগ্রাম এবং দেশের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ করেছে। এর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক আবেগ, সংগ্রাম ও চিন্তার মুক্ত পরিবেশ সবসময় সক্রিয় ছিল এবং সেটি একসময় ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি একটি ঐতিহ্যগত বিষয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তবে বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপর নির্ভর করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ছাত্ররাজনীতির কাঠামো এবং তার পরিচালনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিরাপত্তার জন্য একটি উন্নত পদক্ষেপ হতে পারে। ছাত্ররাজনীতি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেঁচে থাকার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নের অঙ্গ হিসেবে অব্যাহত থাকতে হবে, তবে তার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে।
এছাড়া, ছাত্ররাজনীতির প্রয়োগকৃত কাঠামো ও সিদ্ধান্তগুলি এমন হতে হবে যাতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং তাদের শিক্ষার পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের তরফ থেকে কোনও জাতীয় নেতৃবৃন্দের ছবি বা পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। এছাড়া, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন নিয়মাবলী যেমন বয়স্ক সীমা, মিটিং বা মিছিলের সময়সূচী নির্ধারণ, ছাত্রসংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ডাইমেনশন রাখা যেতে পারে।
তবে, যখন ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্রসংগঠন, যেমন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালায় এবং উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়, তখন কেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতির বিরোধিতা করার দাবি তোলে না?
উল্লেখযোগ্যভাবে, স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম এবং তার ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলো। তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। বিশেষ করে, যখন দেশে জঙ্গিবাদের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, তখন ছাত্ররাজনীতি যেন দেশ ও সমাজের স্বার্থে এগিয়ে আসে এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করে।
সর্বোপরি, বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে। ছাত্ররাজনীতি যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয় এবং সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবে তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।