05/12/2025
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৫ ডিসেম্বর ২০২৫
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হোন- স্লোগানে পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার ২৫ তম বার্ষিক সম্মেলন- ২০২৫ সম্পন্ন হয়েছে।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার ২৫ তম বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জগদীশ চাকমা, পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, আরো উপস্থিত ছিলেন পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হ্লামংচিং মারমা।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি বিজয় চাকমার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুমন চাকমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা।
হ্লামংচিং মার্মা তার সংহতি বক্তব্যে বলেন: পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ লংগদুর গণহত্যার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠন হয়েছিলো।পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নই,এটি একটি পাঠশালা ও বটে। গণঅভ্যুন্থানের পরে আমরা ভেবেছিলাম পাহাড়ে পরিবর্তন আসবে,পাহাড়ীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমরা তার বিপরীত দেখতে পাই,শাসকগোষ্ঠী আমাদের সাথে বিমাতাসূলভ আচরণ করছে, সেটেলার ও মৌলবাদীদের তৎপরতা বেড়েছে। আমাদের আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রামে মুক্তির সঠিক পথ, দর্শন চিহ্নিত করতে হবে। সেটির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ চুক্তির পরপরই শান্তিবাহিনীর প্রত্যাগত সদস্যদের হত্যার মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিস্হিতি তৈরি করে দিয়েছিলো। তারা জুম্ম জাতির আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। চুক্তির বিরোধিতা করে জুম্ম স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকে। সুতরাং ইউপিডিএফ এবং চুক্তি বিরোধীদের সাথে জনসংহতি সমিতির দন্দ্ব ভাতৃঘাতি সংঘাট নয় বরং আদর্শিক দ্বন্দ্ব বলতে পারি। আর আমরা সেটাই করছি যেটা জুম্ম জাতির জন্য কল্যাণকর।
তিনি আরো বলেন, সবাই নেতৃত্ব দিতে পারেনা। যাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী রয়েছে,সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক জ্ঞান রয়েছে তারাই নেতৃত্ব দেয়। নেতৃত্বের জন্য আমাদের যথাযথ অধ্যয়ন, অনুশীলন করতে হবে। যোগ্য নেতৃত্ব এবং বর্তমান শিক্ষিত জনগণই আগামীর বৃহত্তর আন্দোলনের কান্ডারি। তরুণ ছাত্র সমাজ এবং বর্তমান প্রজন্মকে জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে বৃহত্তর আন্দোলনে এগিয়ে আসতে হবে।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সদস্য দিব্য চাকমা নবীন সদস্যদের উদ্দেশ্যে কিছু নির্দেশনা প্রদান করে বলেন: নেতৃত্বের মাঝে ভুল-ভ্রান্তি থাকবে সেটি স্বাভাবিক কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একসাথে কাজ করতে পারলেই তা শক্তি হয়ে উঠবে। কর্মীদের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে পাঠচক্র চালু করা উচিত। সর্বোপরি বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে নব গঠিত কমিটির প্রতি অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন: পিসিপি পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র লড়াকু সংগঠন ছিল, এখনো আছে। জুম্ম জনগণের বৃহৎ স্বার্থেই পিসিপি কাজ করে। তিনি পিসিপি কর্মীদের প্রগতিশীলতা, ত্যাগ নিয়ে কথা বলেন। আন্দোলন সম্পর্কে সঠিক দর্শন, সংগঠনকে জানা, অধ্যয়নে সংগঠনের প্রতি টান বেড়ে যায়। তিনি মনে করেন, সংগঠনকে ধারণ করতে পারলে কেউ সংগঠন ত্যাগ করার মানসিকতা লালন করবেনা। একজন রাজনৈতিক কর্মীর রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, মতাদর্শগত সংগ্রাম গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পার্বত্য চুক্তির চার খন্ড নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি পার্বত্য চুক্তির আলোকে ভূমি সমস্যা, সেনা-ক্যাম্প, সেটেলার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। ভূমি কমিশন নিয়ে আলোচনা করেন। পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে আমরা জুম্ম সমাজ কি অধিকার পাব সেসব বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে যদি পূর্ণাঙ্গভাবে জানা না থাকে তাহলে আপনি জনগণকে অধিকারের সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, পার্বত্য চুক্তিকে শেখ হাসিনার চুক্তি বা বিগত সরকারের চুক্তি বলা হয় যেটা সম্পূর্ণই ভূল। চুক্তিটি রাষ্ট্রের সাথেই করা হয়েছিলো, তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবেই কাজ করেছেন।চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি বলবৎ থাকবে। তাছাড়া চুক্তিতে উপজাতি শব্দটি কেন- এ নিয়ে আলোচনা করেন। চুক্তির প্রতিটি খন্ডের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলেন। সর্বোপরি ২৬তম কমিটির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন।
পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জগদীশ চাকমা প্রথমে ২৬তম কমিটির মধ্য দিয়ে যারা নির্বাচিত হবে তাদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহান পার্টির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি হাস্যকর হলেও সত্যি যে ইউপিডিএফ পিসিপি নিজেদের এক নাম্বার পিসিপি দাবি করে। জুম্ম জনগণ জানে যে কারা সত্যিকার অর্থে জুম্ম জনগণের স্বার্থে কাজ করে।কারা এক নাম্বার আর কারা দুই নাম্বার সেটি জনগণই নির্ধারণ করবে। আসল কি নকল সেটা কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে। তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছরেও বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণকে সরকারেরর অনীহা বলে মনে করেন। তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে থাকার কথা বলেন।সরকার আমাদেরকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য করছে চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করে।
তিনি বলেন, ভূমি কমিশনের সভা বসলেই পিসিসিপি নামক সেটেলারদের সাম্প্রদায়িক একটা সংগঠন থেকে সভায় বাঁধা প্রদান করে এবং চুক্তি বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। জুম্ম জনগণ এবং ছাত্র সমাজকে চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সামিল হতে হবে। যার জন্য দক্ষ, প্রায়োগিক, আদর্শিক কর্মী গড়ে তোলা প্রয়োজন।
পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি বিজয় চাকমা বলেন, সংগঠনের প্রধান কান্ডারী হলো সভাপতি। সভাপতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগঠন পরিচালনার জন্য এই তিন ব্যক্তির একসাথে কাজ করতে হয়। আগামী কমিটিতে যারা নেতৃত্বে থাকবেন তারা অবশ্যই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।
সুমন চাকমাকে সভাপতি, ময়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যাকে সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাচুর্য্য চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়ে পিসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার ২৫ তম শাখা কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে।
চেইহ্লা প্রু মারমা
তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখা