03/05/2025
২৫ বছর পর…
পঁচিশ বছর পর,
হঠাৎ… নিজের প্রতিষ্ঠিত বৃদ্ধাশ্রমে
চোখে পড়লো তাকে—
আমার প্রাক্তন… সত্যজিৎ!
চমকে উঠলাম!
ভাবিনি—এইভাবে… এভাবে… আবারও দেখা হবে।
এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে,
নির্জীব, নিঃসঙ্গ, ক্লান্ত এক মানুষ।
চোখে কিছুই দেখে না সে…
তবুও আমি দাঁড়িয়ে রইলাম তার সামনে।
মন কাঁপে—যাবো কি সামনে? বলবো কিছু?
শেষমেশ দাঁড়ালাম…
কিন্তু কোন সাড়া নেই—
চোখের দৃষ্টি যে নিভে গেছে!
স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে—
সেই ২৭ বছর আগের কথা…
পারিবারিক বিয়ে, শান্ত সংসার,
ভালোবাসার একটুখানি ঠিকানা।
কিন্তু…
দু’বছর পরও যখন আসেনি সন্তান,
তখনই শুরু মানসিক নির্যাতন।
আমি জানতে পারি—
মা হওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।
শ্বশুরবাড়ির ভালোবাসা বদলে যায় অভিশাপে।
তবুও চুপ ছিলাম…
কারণ পাশে ছিল সে—
আমার ভালোবাসার মানুষ, সত্যজিৎ।
কিন্তু ভালোবাসাও
সবসময় টেকে না সমাজের পরীক্ষায়।
সত্যজিতের চোখেও আসে পরিবর্তন…
সে হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে।
একদিন জানালাম—
কিছুদিন বাবার বাড়ি যাচ্ছি।
সে কিছুই বলল না…
চুপচাপ, নিঃশব্দ।
তিনদিন পর
এলো এক চিঠি…
সেখানে লেখা—তার নতুন বিয়ের খবর
আর আমার ডিভোর্সের কাগজ!
ভেতরটা হিম হয়ে গেলো…
যাকে আঁকড়ে বেঁচে ছিলাম,
সে তো আগেই ছেড়ে দিয়েছে আমায়।
ভাবলাম—প্রতিবাদ করবো!
কিন্তু…
যে মানুষটা আমায় চায় না,
তার দরজায় কড়া নাড়ে লাভ কী?
ডিভোর্স পেপারে সই করে পাঠিয়ে দিলাম।
সেই থেকে… কোনো যোগাযোগ নেই।
আমি নিজেই বন্ধ করে দিয়েছিলাম সবকিছু।
হ্যাঁ, একসময় মনে হতো—
এই জীবন, এই পৃথিবী…
আমার জন্য নয়।
কিন্তু হঠাৎই উপলব্ধি—
নিজের জন্য না হোক,
অন্যের জন্য তো বাঁচা যায়!
যারা অবহেলিত, নিঃস্ব, চিহ্নহীন—
তাদের পাশে দাঁড়ানোই হয়ে উঠলো
আমার জীবনের মানে।
আমি গড়ে তুললাম
এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম,
আর বিধবা নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্র।
নিজেকে উজাড় করে দিলাম…
তাদের জন্য… যাদের কেউ নেই।
আর আজ…
বছর পঁচিশ পর,
আবার দেখলাম সত্যজিৎকে—
এই আশ্রমেই।
সার্ভেন্ট বললো—
তার সন্তানরা কেউ দায়িত্ব নিতে চায়নি।
সবাই বিদেশে…
তাই রেখে গেছে এখানে।
হাসবো? কাঁদবো? বুঝলাম না।
যে মানুষটা আমায় ছেড়েছিল নিঃসন্তান বলে,
আজ তাকেই সন্তানেরা ফেলে রেখে গেছে!
এই তো…
এটাই হয়তো…
প্রকৃতির খেলা…!