বিপদগামী মানব জাতিকে হেদায়াতের উদ্দ্যেশে মহান আলস্নাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও এ পৃথিবীতে এসেছেন৷ বিপদগামী মানবজাতীকে সু-পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করতে মহান আলস্নাহ্ মুজাদ্দিদের সৃষ্টি করে থাকেন৷ মানুষ যখন দ্বীন ইসলামকে ভুলে যেতে শুরম্ন করে তখন মুজাদ্দিদের পাশাপাশি দ্বীনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন আওলীয়ায়ে কেরাম৷ যারা স্বীয় ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যেমে আলস্নাহর প্রিয়পাত্রে পরিনত হন৷ এমনই
একজন মানুষ মির্জাগঞ্জের সুফি সাধক মরহুম হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ)৷ প্রথমে তার জীবনি কেউ না জানলেও তা আর গোপন থাকেনি৷ তিনি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার ধামসী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন৷ তার পিতা মোহম্মাদ সরাই খাঁ৷ মানুষের ইসলামের পথে ডাকতে এবং ইবাদত বন্দেগী করার অনুকুলে পরিবেশ পেতে তিনি নিজ জন্মস্থান ছেড়ে মির্জাগঞ্জে হিজরত করেন৷ তবে তারঁ সঠিক জন্ম তারিখ সম্পর্কে জানা যায়নি৷ তার আসণ নাম ইয়ারউদ্দিন খাঁ৷ তিনি নিজ হাতে জামা-টুপি সেলাই করতেন বলে তার নাম এ অঞ্চলে মানুষের কাছে খলিফা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন৷ প্রাতিষ্ঠানিক শিৰায় তিনি কতটা শিৰিত ছিলেন তাও সঠিক ভাবে জানা যায়নি৷ তবে ইসলামী শিৰায় শিৰিত ছিলেন৷ কুরআন ও হাদীসের জ্ঞানে তিনি আলৌকিত মানুষ ছিলেন৷তিনি বেশির ভাগ সময়ই কুরআন শরীফ তেলাওয়াতে মগ্ন থাকতেন৷ তার জন্মস্থান ধামসীতে এক মহামারীতে স্ত্রী ও সনত্মান মারা যাওয়ায় পর অনুমান ৩৮ বছর বয়েসে তিনি মির্জাগঞ্জে আসেন৷ পেশা হিসাবে তিনি দোকানদারী করতেন৷ বিভিন্ন হাটে তিনি তার দোকন বহন করে নিয়ে যেতেন৷ এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় মির্জাগঞ্জ গ্রামের মোঃ গগন মলিস্নক৷ ছোট একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে তিনি বিভিন্ন হাটে তারঁ দোকান নিয়ে যেতেন৷ মাঝি হিসেবে নৌকা চালাতো গগন মলিস্নক৷ দোকানদারী তার পেশা হিসেবে দেখা গেলেও প্রকৃত পৰে তার পেশা ছিল আল্রাহর দ্বীনের পথে মানুষদের ডাকা আর নেশা ছিল আলস্নাহর নৈকট্য লাভ৷ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি নিজেকে সততা ও নিষ্ঠার পরাকাটা হিসেবে প্রমান করেন৷ তিনি বেশিরভাগ আলস্নাহর জিকির কুরআন তেলওয়াত ও ইবাদতে মশগুল থাকায় ক্রেতাদের সওদা মেপে নিতে এবং সওদার দাম চটের বসত্মার নিচে রেখে যেতে বলতেন৷ কখনো তিনি টাকা-পয়সা গননা করেও রাখতেন না৷ কতিথ আছে কেউ মাপে বেশি নিলেও বাড়িতে গিয়ে দেখতেন মাপে বেশি আনতে পারেনি৷ বিভিন্ন হাটে দোকান নিয়ে যেতে তিনি নিজে নৌকায় মাঝখানে বসে পানি সেচ করতেন৷ কুরআন তেলাওয়াত করতেন নামাজ আদায় করতেন৷ প্রমত্তা পায়রা নদীতে প্রায় ঝড়-তুফানে পড়তে হতো৷ অনুগত খাদেম গগন মলিস্নক ঝড় তুফানে নৌকা তীরে নোঙ্গর করে রাখতে চাইলে খলিফা ছাহেব তাকে বারন করতেন৷ অজু করে নামাজ আদায় করতে বলতেন৷ বৈঠা রেখে গগন মলিস্নক নামাজ পড়তেন৷ লোক মুখে জানা যায়, একদিন ঝড়ের মধ্যে দিয়ে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া বাজার শেষে মির্জাগঞ্জে আসার পথে গগন মলিস্নকে অজু করে ঝড়ের মধ্যে নামাজ পড়ার জন্য বললেন তিনি৷ নামাজ শেষে গগন মলিস্নক দেখলেন তীব্র ঝড়ের মধ্যে ছেড়ে দেয়া নৌকা মির্জাগঞ্জ ঘাটে ভিড়ানো৷এ রকম অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা রয়েছে৷ ইসলামের দাওয়াত দাতাদের যুগে যুগে অন্যায়-অত্যাচার,নির্যাতন-নিপীড়ন,নানা গালি-গালাজের সম্মূখীন হতে হয়েছে তাকে৷ দারোগা এক সিপাই(পুলিশ সদস্যর)কাছে এক পাতিল কৈ মাছ দিয়ে পাঠান হুজুরের কাছে৷ কিন্তু পুলিশ সদস্যকে তিনি বললেন তোর ঘুসের টাকার কৈ মাছ খাইনা৷ তার পরে দারোগার হুকুম তা তাকে পালন করতে হবে৷ এই বলে হুজুরকে মাছ দিয়ে চলে যায়৷ হুজুর মাছের পাতিলটি নিয়ে নদীতে কৈ মাছ গুলো ছেড়ে দেন৷ পুলিশ সদস্য কৈ মাছ নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা দারোগাকে গিয়ে বলে৷ এর পরে দারোগা ৰিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যকে কৈমাছ হুজুরের নিকট ফেরত চান৷ হুজুর পুুলিশ সদস্যকে বলেন নদীর ঘাটে গিয়ে পাতিল ধরতে বলেন৷ এরপর কৈমাছ গুলো পাতিলে চলে আসে৷ তত্কালীন মির্জাগঞ্জ থানার দারোগা মেছের আহ্ম্মেদ খলিফা ছাহেবকে ভন্ড বলে গালিগালাজ করেন৷ সেইদিন দারোগা শরীরের যন্ত্রনায় সারা রাত ছটফট করেন৷ ঘটনার পরের দিন শ্রীমনত্ম নদীর পাড়ে দাড়িয়ে এক বিস্ময়কর ঘটনা প্রত্যৰ করেন৷ দারোগা দেখতে পেলেন খলিফা ছাহেব নদীর অপর পাড়ে৷ কিন্তু মূহুর্তের মধ্যেই হুজুর খরম পায়ে নদীর পানির উপর দিয়ে পাঁয়ে হেটে আবার এপাড় তার সামনে নদীর ঘাটে অজু করতে দেখতে পেলেন৷ অথচ নদী পাড়াপাড়ের কোন নৌকা ছিলো না৷ হুজুর কিভাবে নদী পাড় হলেন এতে আশ্চার্যান্বিত হয়ে দারোগা হুজুরের কাছে ৰমা চাইলেন ও তওবা করলেন৷ হুজুর তার জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন তোমার কবর হবে ভালো জায়গায়৷ হুজুরের দোয়ার ফল হিসেবে সুবিদখালী বাজার মসজিদের পাশে আজো তার কবরের নিদর্শন দেখা যায়৷ হুজুরকে না বলে তার কাঠালগাছ হতে তত্কালীন নবাব বাহাদুরের তিনজন কর্মচারী একটি কাঠাল নিয়ে ভেঙ্গে দেখে ভেতরে কোন কাঠালের গলস্না নেই৷ হুজুরের কাছে এসে তারা এ ঘটনা বললে তিনি তাদের হাতে একটি কাঠাল দিয়ে বললেন যাও এর মিষ্টি গলস্না গুলো পেট ভরে খাও৷ এ ভাবে তার জীনবদ্দশায় অনেক অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ পায়৷ এ মহান পুরম্নষ প্রায় ৭৪ বছর পর আলস্নাহ্ ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চলে যান৷ শ্রীমনত্ম নদীর পাড়ে তার কবর দেওয়া হয়৷ তার কবরের পাশেই নির্মিত হয়েছে সুবিশাল মসজিদ৷ একটি আলিম মাদ্রসা,একটি হাফেজিয়া মাদ্রসা, একটি ইয়াতিমখানা ও একটি ফোরকানিয়া মাদ্রসা৷ বর্তমানে পাঁচতলা বিশিষ্ট কয়েকটি ভবনের কাজ চলছে৷ দরবারের পৃষ্টপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে মির্জাগঞ্জ দরগাহ শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি৷ এগুলো সবকয়টি প্রতিষ্ঠান সরকারের ওয়াক্ফ প্রজেক্টের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে৷ প্রতি বছর বাংলা সনের ফাল্গুন মাসের ২৪ ও ২৫ তারিখে দু'দিনব্যাপী ঈছালে সওয়াব মাহফিল৷ দেশের প্রতনত্ম্য অঞ্চল থেকে লৰ লৰ ভক্ত মুসুলস্নীরা সমাবেত হন মনের আকুতি নিয়ে৷ তারা নিয়ে আসেন দরবারের আলস্নাহর ওয়াসত্মে দান ও মানত৷ দরবারের নামে সাড়া দেশে দানবাঙ্ রয়েছে৷ একটি বিশেষ অলৌকিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দরবারে প্রানচাঞ্চল্যতা শুরম্ন হয়৷ বৃটিশ রাজত্বকালে একটি মামলার দু'জন আসামী বর্তমানে জেলা শহর পটুয়াখালী যাওয়ার জন্য ষ্টিমারে(জাহাজ) চরে৷ কিন্তু তাদের কাছে কোন টাকা-পয়সা ছিল না৷ টাকা-পয়সা না থাকায় ষ্টিমারের ষ্টার্ফ এর কাছে বহু অনুনয়-বিনয় করলেও ষ্টিমার থেকে তাদের মির্জাগঞ্জে নামিয়ে দেয়া হয়৷ তারা পটুয়াখালীতে মামলার হাজিরা দিতে না পাড়ায় হুজুরের কবরের কাছে এসে কান্নাকাটি করেন৷ ষ্টিমারটি বর্তমান উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে ছেড়ে যাওয়ার পথিমধ্যে মাজার শরীফের নিকটে এসে আসত্মে আসত্মে কাত হয়ে শ্রীমনত্ম নদীতে ডুবে যায়৷ ষ্টিমার কোম্পানী কর্তৃপৰ ডুবুরী নিয়ে আসে ষ্টিমারটি তোলার জন্য৷ ডুবুরীরা ষ্টিমারের মধ্যে একজন লোককে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে দেখতে পায়৷ পরে কর্তৃপৰ নিজেদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে হুজুরের মাজারে এসে কান্নাকাটি করেন৷ পরের দিন সহজেই জাহাজ উঠাতে সৰম হয় ষ্টিমার কোম্পানী কর্তৃপৰ৷ তখন হতেই মাজারের সম্মানার্থে আজও সকল নৌযান গতি কমিয়ে ধীরগতিতে মাজার স্থান অতিক্রম করে৷ এসব অলৌকিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় এখানে মানুষের ভীর বাড়তে থাকে৷ অবস্থা দেশের অন্যান্যে দরবার সমূহের চেয়ে ভালো৷ ইসলামী শরীয়ত কঠোরভাবে পালন করার চেষ্ঠা করা হয়৷ গান-বাজনার প্রতারনা,বেদায়াতী কাজের কোন সুযোগ এখানে নেই৷ দরবারের আয় মসজিদ মাদ্রসা,এয়াতিমখানায় কল্যানে ব্যয় করা হয়৷ দরবারের খেদমতে রয়েছেন হুজুরের বিশ্বসত্ম খাদেম গগন মলিস্নকের সনত্মান ও নাতিরা৷ বর্তমানে এ দরবার সরকারের ওয়াক্ফ এষ্টেটের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে৷ পদাধিকার বলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান৷ দরবারের পরিবেশ অত্যনত্ম মনোরম৷ যে কোন ভক্তদের হৃদয় সহজেই আকর্ষন করবে এখানকার পরিবেশ৷ মাজারের আদায়কারী মোঃ শাহজাহান ফকির বলেন, মাজারের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন সভাপতি সাহেব এবং মাজারের রৰানা-বেৰনসহ আদায় কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে৷ মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মিজানুর রহমান বলেন, মাজার উন্নয়নের লৰে আমি নিরালস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি৷ বর্তমানে মাজারের সুন্দার্য বৃদ্ধিতে পাচঁতলা বিশিষ্ট ভবন নিমর্ান,তিনতলা বিশিষ্ট বৈঠকখানা, মাহফিল করার জন্য মঞ্চ,তিনতলা বিশিষ্ট আবাসিক ও ডাইনিং ভবন নির্মানের কাজ চলছে৷ এতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হবে৷ এর মধ্যেই মসজিদে মুসুলস্নীরা যাতে সহজে অজু করতে পারে সে জন্য শ্রীমনত্ম নদীর ঘাট বাধাঁনো হয়েছে৷ একসাথে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার মুসুলস্নী অজু করতে পারবে৷ মসজিদের সম্প্রসারনের লৰে ইতিমধ্যে ৫কাঠা জমি ক্রয়করা হয়েছে৷