17/09/2025
কোনো কিছুকে একবার ছেড়ে এলে তার ওপর অধিকার রাখতে হয়না, এটাই পেশাদারিত্ব। কিন্তু পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি যে টান, আবেগ তা আপনি মুছবেন কি করে?
আমার দিন শুরু হয় সকাল সাতটায়, শেষ হয় রাত সাতটায় অফিসে, কখনো আরও পরে। এই ব্যস্ততার মাঝেই দশমিনা–গলাচিপার খবর আমাকে আন্দোলিত করে। কোনো খবর আনন্দ দেয়, কোনো খবর আবার দুঃখে আচ্ছন্ন করে।
কিছুদিন আগে জেনেছি, গলাচিপার কয়েকজন শিক্ষার্থী বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। খবরটি আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। ইচ্ছে ছিলো প্রত্যেককে আলাদাভাবে ফোন করে শুভেচ্ছা জানাই, কিন্তু সময়ের অভাবে আর হয়ে ওঠেনি। তবুও, তাদের জন্য আমার শুভকামনা রইল।
কিন্তু কিছু খবর মাঝে মাঝে হতবাক করে দেয়। যেমন রিচার্ড ভাইয়ের মৃত্যু। তিনি ছিলেন খেলাধুলাপ্রেমী, নির্বিবাদী, সবার প্রিয় একজন মানুষ। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও সমাজে ছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। তাঁর হঠাৎ চলে যাওয়ার খবরে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে জীবন এমনই, একদিন আমাকেও, আপনাকেও হয়তো ডেকে নেবে।
সবচেয়ে বড় আঘাত পেয়েছি গতকাল নাফিজের মৃত্যুতে। গলাচিপার সম্ভাবনাময় এই তরুণ ভর্তি হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। আমার মতো যারা দশমিনা–গলাচিপার তরুণদের স্বপ্নপূরণের গল্পে জড়িত ছিল, তারা জানেন চোখের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কারও ভর্তি হওয়া কতটা আনন্দের ছিল। একদিন নাফিজ তার বোনকে নিয়ে সাথে দেখা করতেও এসেছিল। কত সপ্ন থাকে মানুষের । কিন্তু দুরারোগ্য ব্যাধির কাছে সবকিছু হার মানল।
আমার সহধর্মিণী হাসপাতালে গিয়ে তার বাবা–মায়ের সাথে দেখা করেছেন। শেষ সময়ের খবর আমি পেয়েছি অনেক দেরিতে। গলাচিপায় থাকাকালে নাফিজের পরিবারের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, অথচ কঠিন সময়ে আমি কিছুই করতে পারিনি , এই আক্ষেপ আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে।
আজ শুধু প্রার্থনা করি-, আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতের ছায়ায় নাফিজকে স্থান দিন। তাঁর বাবা–মা ও পরিবারকে এই গভীর শোক বহন করার শক্তি দান করুন।
Mohiuddin Al Helal