Panchagarh, পঞ্চগড়

Panchagarh, পঞ্চগড় Panchagarh District

পঞ্চগড় জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা। এই জেলা থেকেই বহুল আলোচিত হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখতে পাওয়া যায়।

#পঞ্চগড়জেলা #পঞ্চগড় #বাংলাদেশ #প্রাকৃতিকসুন্দর্য #গ্রামবাংলা #পর্যটন #শহর #ঐতিহাসিকস্থান #ভ্রমণ #বাংলাদেশেরগন্তব্য #আদিবাসীসংস্কৃতি #প্রকৃতি #রূপসীবাংলা #বাংলারঐতিহ্য #সাহিত্যেরমাঠ #বাংলারতিথি #গ্রামীণজীবন #

জলধারা #প্রাচীনস্থান #বাংলারঅদ্বিতীয়শহর #নকশালবাড়ী #টুরিজম #পার্বত্যবাংলা #পর্যটনস্থান #পঞ্চগড়চিত্র

19/02/2026

রোজার মাসে সরকারি অফিসে দাড়িওয়ালা ঘুষখোরদের ওজু করে দৌড়াদৌড়ি দেখলে কি করতে ইচ্ছে করে?

#রমজান #রোজা #ইসলাম

13/08/2025

গগনে গর্জে গর্জন, গর্জনের গগনে গর্জে।

13/08/2025

যে জাতি তার ইতিহাস নিয়ে মশকরা করে,
সেই জাতিই দুনিয়ার লোকের কাছে মশকরার বিষয় হয়ে যায়।

13/08/2025

বাংলাদেশের মানুষ সুদ খায়, ঘুস খায়, চাঁদাবাজি করে, ত্রাণ মেরে দেয়। কিন্তু Coca-Cola খায় না,কারণ Coke খাওয়া হারাম।🤓

20/07/2025

বে-আদব আর গালিবাজ যে সমাজের মডেল,
সেই সমাজ ইতোমধ্যে জঙ্গল হয়ে গেছে, সমাজ নেই।

10/07/2025

জীবন থাকলে, সুস্থ থাকলে, আরো বহুবার ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরিক্ষা দেয়া যাবে। তাই কোন খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়ো না।

ভিতরগড় দুর্গ নগরী !পঞ্চগড় জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মধ্যযুগের অন...
25/05/2025

ভিতরগড় দুর্গ নগরী !

পঞ্চগড় জেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মধ্যযুগের অন্যতম এক নিদর্শন ভিতরগড় দুর্গ নগরীর (Bhitorgarh Durg Nogori) অবস্থান। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ৬ষ্ঠ শতকের দিকে পৃথু রাজা তার রাজধানী হিসেবে ভিতরগড় দুর্গ নির্মাণ করেন। ১২৫৭ সালে পাল বংশীয় সুলতান মুঘিসউদ্দিন কামরূপ রাজ্য আক্রমণ করলে এই দুর্গটি সুলতানী শাসনে চলে আসে। ধারণা করা হয়, ষষ্ঠ শতকের শেষে বা সপ্তম শতকের শুরুতে ভিতরগড় স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই ভিতরগড়ে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস, স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ ও বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।

প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ভিতরগড় দুর্গটি ৪টি ক্ষুদ্র নগরীতে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি নগরী মাটি ও ইটের মিশ্রণে তৈরি সুউচ্চ দুর্গ প্রাচীর ও বিশাল পরিখা দ্বারা ঘেরা। পরিখাগুলোর প্রস্থ ৫০ ফুট ও গভীরতা ১০-১৫ ফুট। সবচেয়ে ভিতরের গড়ে ছিল রাজার প্রাসাদ এবং বাইরের নগরীর “ছিরৎল” নামক স্থানে নিম্ন বর্গীয় মানুষ বসবাস করতো। এছাড়া ভিতরগড়ে কাচারি ঘর, মন্দির ও কয়েকটি দীঘি ছিল। ধারণা করা হয়, মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলটি একসময় গৌর ও প্রাগজ্যোতিষপুরের অংশ ছিল।

১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর ভিতরগড়ের উত্তরাংশ, উত্তর- পশ্চিমাংশ, উত্তর- পূর্বাংশের কিছু অংশ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে চলে যায়। ২০০৮ সালে গড়ের অভ্যন্তরীণভাগ খননকালে অষ্টম শতকে নির্মিত তামা ও লোহার তৈরি জিনিসপত্র, মৃৎ পাত্রের তৈজসপত্র ও দুটি প্রাচীন মন্দিরসহ মোট ২২ টি প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন পাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেন
ঢাকার শ্যামলী, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও মিরপুর থেকে নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইস, তানযিলা ট্রাভেল, বরকত ট্রাভেল এ পঞ্চগড় যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় নন এসি বাস ভাড়া ১০০০-১১০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১৩০০-১৯০০ টাকা।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় আসতে পারেন। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেন টিকেটের ভাড়া জনপ্রতি ৭৪০ থেকে ২,৫৯৮ টাকা পর্যন্ত।

পঞ্চগড় বাস টার্মিনাল থেকে তেঁতুলিয়া/বাংলাবান্ধাগামী বাসে বোর্ড বাজার নেমে যেতে পারেন ভিতরগড় দুর্গ নগরী। বোর্ড বাজার থেকে অটো করে ভিতরগড় দুর্গ নগরী যেতে খরচ হবে ২০-২৫ টাকা।

কোথায় থাকবেন
পঞ্চগড়ের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল মৌচাক, হোটেল রাজ নগর, হিলটন বোর্ডিং, রোকখানা বোর্ডিং, হোটেল প্রীতম, হোটেল এইচ কে প্যালেস ও হোটেল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে সার্কিট হাউজ ও জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকতে পারবেন।

কোথায় খাবেন
পঞ্চগড়ে হোটেল করোটিয়া, হোটেল মৌচাক, হোটেল নিরিবিলি, হোটেল হাইওয়ে ও হোটেল হামজার মতো খাবার হোটেল আছে।

পঞ্চগড় জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
পঞ্চগড়ের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়া, কাঞ্চনজঙ্ঘা, চা বাগান, মহারাজার দীঘি ও রকস মিউজিয়াম অন্যতম।

বার আউলিয়া মাজার !পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে বার আউলিয়া মাজার (Bara Aulia Shrin...
25/05/2025

বার আউলিয়া মাজার !

পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে বার আউলিয়া মাজার (Bara Aulia Shrine) অবস্থিত। প্রচলিত আছে, ২টি বাঘ ও ২টি সাপ সবসময় এই মাজারটি পাহারা দিতো এবং কেউ খারাপ উদ্দেশ্যে মাজারে আসলে বাঘ দুটি বের হত। বার আউলিয়াদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

কথিত আছে, সপ্তদশ শতকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হেমায়েত আলী শাহ্‌ (রঃ), নিয়ামত উল্লাহ শাহ্‌ (রঃ), কেরামত আলী শাহ্‌ (রঃ), আজহার আলী শাহ্‌ (রঃ), হাকিম আলী শাহ্‌ (রঃ), মনসুর আলী শাহ্‌ (রঃ), মমিনুল শাহ্‌ (রঃ), শেখ গরীবুল্লাহ (রঃ), আমজাদ আলী মোল্লা (রঃ), ফরিজউদ্দিন আখতার (রঃ), শাহ্‌ মোক্তার আলী (রঃ) ও শাহ্‌ অলিউল্লাহ (রঃ) নামের বারজন ওলী চট্টগ্রাম শহরে এসে প্রথম আস্থানা গড়েন। পরবর্তীতে তারা ইসলাম প্রচার করতে করতে উত্তর বঙ্গের এসে মির্জাপুর ইউনিয়নের আস্থানা গড়ে তুলেন। তাদের মৃত্যুর পর এই বারজন সুফি সাধককে আটোয়ারী উপজেলাতে সমাহিত করা হয়। আর বারজন ওলীর সমাধিকে কেন্দ্র করে বার আউলিয়ার মাজার গড়ে উঠেছে।

১৯৯০ সালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে বার আউলিয়া মাজার পাকা করা হয় এবং ক্রমান্বয়ে আশেপাশের জায়গায় গোরস্থান, পুকুর, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বার আউলিয়ার মাজার প্রাঙ্গনে ওরশ মোবারক, ওয়াজ মাহফিল, কোরআন খানি ও তোবারক বিতরনের আয়োজন করা হয়। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির আগমন ঘটে। ওরশ ছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন মানত নিয়ে অসংখ্য মানুষ এই মাজারে আগমন করেন।

কিভাবে যাবেন
ঢাকার শ্যামলী, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও মিরপুর থেকে নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইস, তানযিলা ট্রাভেল, বরকত ট্রাভেল এ পঞ্চগড় যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় নন এসি বাস ভাড়া ১০০০-১১০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১৩০০-১৯০০ টাকা।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় আসতে পারেন। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেন টিকেটের ভাড়া জনপ্রতি ৭৪০ থেকে ২,৫৯৮ টাকা পর্যন্ত।

পঞ্চগড় থেকে লোকাল বাসে আটোয়ারী উপজেলায় এসে স্থানীয় পরিবহণে বার আউলিয়ার মাজারে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
পঞ্চগড় শহরে রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল মৌচাক, হোটেল রাজ নগর, হিলটন বোর্ডিং, রোকখানা বোর্ডিং, হোটেল প্রীতম, হোটেল এইচ কে প্যালেস ও হোটেল ইসলাম উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন
আটোয়ারী উপজেলায় সাধারণ মানের বাঙ্গালী খাবারের হোটেল খুঁজে পাবেন। ভালমানের খাবারের জন্য পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত হোটেল করোটিয়া, হোটেল মৌচাক, হোটেল নিরিবিলি, হোটেল হাইওয়ে ও হোটেল হামজা রেস্তোরাঁয় যেতে পারেন।

পঞ্চগড় জেলার দর্শনীয় স্থান
পঞ্চগড় জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্ছনজঙ্খা, চা বাগান ও রকস মিউজিয়াম অন্যতম।

বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির !পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের অন্তর্গত করতোয়া নদীর তীরে কারুকার্য মণ্ডিত প্রাচীন ...
25/05/2025

বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির !

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের অন্তর্গত করতোয়া নদীর তীরে কারুকার্য মণ্ডিত প্রাচীন বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির (Bodeshshori Mondir) অবস্থিত। ২ দশমিক ৭৮ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত মন্দিরের নামানুযায়ী বোদা উপজেলার বোদা নামকরন করা হয়েছে। প্রায় চারশ বছরের পুরনো এই বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দিরে রাজা দক্ষের কন্যা ও ভোলানাথ শিবের স্ত্রী সতীর বাম পায়ের গোড়ালির অংশ রয়েছে। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বড়দেশ্বরী মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব।

স্কন্ধ পুরাণে বর্ণিত আছে, শিব যখন সতীর মরদেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়নৃত্য শুরু করেন তখন নিরুপায় হয়ে বিষ্ণু চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ড-বিখন্ড করেন। সতীর শবদেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়। ৫১ দেহ খণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে ১টি ও পঞ্চগড়ের বদেশ্বরীতে ১টি খণ্ড পতিত হয়। মহামায়ার খণ্ডিত সেই পতিত অংশকে কেন্দ্র করে বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির গড়ে উঠেছে। বর্তমানে মন্দিরটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে একটি সংরক্ষিত প্রত্নতত্ত্ব।

কিভাবে যাবেন
ঢাকার শ্যামলী, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও মিরপুর থেকে নাবিল পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইস, তানযিলা ট্রাভেল, বরকত ট্রাভেল এ পঞ্চগড় যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় নন এসি বাস ভাড়া ১০০০-১১০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১৩০০-১৯০০ টাকা।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় আসতে পারেন। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেন টিকেটের ভাড়া জনপ্রতি ৭৪০ থেকে ২,৫৯৮ টাকা পর্যন্ত।

বাসে গেলে বোদা উপজেলায় নেমে যেতে পারেন। সেখান থেকে বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির পৌঁছাতে পারবেন। আর পঞ্চগড় থেকে সিএনজি বা অটো রিকশা নিয়ে বোদা উপজেলা হয়ে বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির পৌঁছাতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
পঞ্চগড় শহরে হোটেল মৌচাক, হোটেল রাজ নগর, হিলটন বোর্ডিং, নূর হোটেল, রোকখানা বোর্ডিং, হোটেল প্রীতম, হোটেল এইচ কে প্যালেস ও হোটেল ইসলাম প্রভৃতি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন
পঞ্চগড় শহরে অবস্থিত ভালমানের খাবার হোটেলের মধ্যে হোটেল করোটিয়া, হোটেল মৌচাক, হোটেল নিরিবিলি, হোটেল হাইওয়ে ও হোটেল হামজা অন্যতম।

পঞ্চগড় জেলার দর্শনীয় স্থান
পঞ্চগড়ের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্ছনজঙ্খা, মহারাজার দীঘি, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, চা বাগান ও রকস মিউজিয়াম উল্লেখযোগ্য।

কাজী নজরুল সম্পর্কে যে ২০টি তথ্য আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন।কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ছিল বিচিত্র আর বহুবর্ণিল। তাঁর সেই জ...
27/12/2024

কাজী নজরুল সম্পর্কে যে ২০টি তথ্য আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন।

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ছিল বিচিত্র আর বহুবর্ণিল। তাঁর সেই জীবনের কতটুকুই-বা আমরা জানি? আজ নজরুলজয়ন্তীতে নজরুল-গবেষকদের লেখা বিভিন্ন বই ও পত্রিকা ঘেঁটে এখানে বিদ্রোহী কবি-সম্পর্কিত এমন ২০টি তথ্য তুলে ধরা হলো, যেগুলো আপনি না-ও জেনে থাকতে পারেন!

🌹১. নজরুলের জীবন কোনো নিয়মের জালে আটকা ছিল না। যখন যা ভালো লাগত, তিনি তা-ই করতেন। দিন নেই, রাত নেই হই হই রব তুলে উঠে পড়তেন কোনো বন্ধুর বাড়িতে। তারপর চলত অবিরাম আড্ডা আর গান!

🌹২. নজরুলের লেখার জন্য কোনো বিশেষ পরিবেশ লাগত না। গাছতলায় বসে যেমন তিনি লিখতে পারতেন, তেমনি ঘরোয়া বৈঠকেও তাঁর ভেতর থেকে লেখা বের হয়ে আসত।

🌹৩. নজরুল ইসলাম কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ঝলমলে রঙিন পোশাক পরতেন। কেউ তাঁকে রঙিন পোশাক পরার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, রঙিন পোশাক পরি অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তথ্য দিয়েছেন, নজরুল তাঁর ঝলমলে পোশাকের ব্যাপারে বলতেন, ‘আমার সম্ভ্রান্ত হওয়ার দরকার নেই। আমার তো মানুষকে বিভ্রান্ত করবার কথা!’

🌹৪. নজরুলের পাঠাভ্যাস ছিল বহুমুখী। তিনি পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল, বেদ, ত্রিপিটক, মহাভারত, রামায়ণ যেমন পড়তেন, তেমন পড়তেন শেলি, কিটস, কার্ল মার্ক্স, ম্যাক্সিম গোর্কিসহ বিশ্বখ্যাত লেখকদের লেখা। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’-এর সব কটি গান মুখস্থ করে ফেলেছিলেন তিনি!

🌹৫. বাংলা গানে নজরুলই একমাত্র ব‌্যক্তি, যিনি সব ধরনের বিষয় নিয়ে গান লিখেছেন। তাঁর গানের সংখ্যা অনেকে চার হাজার বললেও আসলে তিনি গান লিখেছিলেন প্রায় আট হাজারের মতো, যার অধিকাংশই সংরক্ষণ করা যায়নি।

🌹৬. বাঙালি কবিদের মধ্যে নজরুলই ছিলেন সবচেয়ে বেশি রসিক। তাঁর কথায় হাসির ঢেউ উঠত। হিরণ্ময় ভট্টাচার্য ‘রসিক নজরুল’ নামে একটি বই লিখেছেন। যাঁরা বইটি পড়েননি, তাঁদের পক্ষে বোঝা কষ্টকর নজরুল কী পরিমাণ রসিক ছিলেন! একটা উদাহরণ দেওয়া যাক, একবার এক ভদ্রমহিলা নজরুলকে খুব স্মার্টলি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কি পানাসক্ত?’ নজরুল বললেন, ‘না, বেশ্যাসক্ত!’ কবির কথায় ভদ্রমহিলার মুখ কালো হয়ে গেল। আর তক্ষুনি ব্যাখ্যা করলেন নজরুল, ‘পান একটু বেশি খাই। তাই বেশ্যাসক্ত, অর্থাৎ বেশি+আসক্ত = বেশ্যাসক্ত!’

🌹৭. নজরুলের প্রেমে পড়েননি, এমন পুরুষ কিংবা নারী খুঁজে পাওয়া ভার। তাঁর চরম শত্রুরাও তাঁর ভালোবাসার শক্তির কাছে হার মেনেছেন। কবি বুদ্ধদেব বসু নজরুলকে প্রথম দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে। তিনি লিখেছেন, ‘সেই প্রথম আমি দেখলাম নজরুলকে। এবং অন্য অনেকের মতো যথারীতি তাঁর প্রেমে পড়ে গেলাম!’ শুধু বুদ্ধদেব বসু নন, তাঁর স্ত্রী প্রতিভা বসুও নজরুলের প্রেমে পড়েছিলেন। সেই কাহিনি নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘আয়না’ নামে একটি গল্প। কী অবাক কাণ্ড! স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একই লেখকের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন!

🌹৮. কাজী নজরুল ইসলাম প্রচুর পান ও চা খেতেন। লিখতে বসার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ চা আর এক থালা পান নিয়ে বসতেন তিনি। পান শেষ করে চা, এরপর আবার চা শেষ করে পান খেতেন। তিনি বলতেন, ‘লেখক যদি হতে চান/ লাখ পেয়ালা চা খান!’

🌹৯. নজরুল ছিলেন সত্যিকারের হস্তরেখা বিশারদ। তিনি অনেকের হাত দেখে যা বলতেন, তা-ই ঘটতে দেখা গেছে। একবার এক লোককে বললেন, আপনার বিদেশযাত্রা আছে, লোকটি সত্যিই কয়েক দিনের মধ‌্যে বিদেশ চলে গেল! আরেকজনকে বললেন, ‘আপনি পৃথিবীর বাইরে চলে যেতে পারেন।’ পরে ওই লোকটির মৃত্যু ঘটেছিল!

🌹১০. মাঝেমধ্যে রাগান্বিত হলে নজরুল তাঁর সামনে যদি কোনো বই-খাতা পেতেন বা কাগজ পেতেন, তা ছিঁড়ে কুচি কুচি করে ফেলতেন।

🌹১১. অর্থের ব্যাপারে নজরুল ছিলেন ভয়াবহ বেহিসাবি। হাতে টাকা এলেই তা বন্ধুবান্ধব নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করে শেষ করে দিতেন। আর বলতেন, ‘আমি আমার হাতের টাকা বন্ধুদের জন্য খরচ করছি। আর যখন ওদের টাকা হবে ওরাও আমার জন্য খরচ করবে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

🌹১২. নজরুল তাঁর দুই পুত্রের ডাকনাম সানি (কাজী সব্যসাচী) আর নিনি (কাজী অনিরুদ্ধ) রেখেছিলেন তাঁর দুই প্রিয় মানুষ সান ইয়াত-সেন ও লেনিনের নামানুসারে।

🌹১৩. নজরুল তাঁর সন্তানদের খুবই ভালোবাসতেন। এমনকি তিনি তাঁদের নিজ হাতে খাওয়াতেন আর ছড়া কাটতেন, ‘সানি-নিনি দুই ভাই/ ব্যাঙ মারে ঠুই ঠাই।’ কিংবা ‘তোমার সানি যুদ্ধে যাবে মুখটি করে চাঁদপানা/ কোল-ন্যাওটা তোমার নিনি বোমার ভয়ে আধখানা।’

🌹১৪. নজরুল ছিলেন সত্যিকারের জনদরদি মানুষ। একটি ঘটনা দিয়ে তার প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ কলকাতার এক দরিদ্র হিন্দু মেয়ের বিবাহ। কোনোরকমে কন্যা বিদায়ের আয়োজন চলছে। নজরুল খবরটি পেলেন। তিনি দ্রুত বাজারে গেলেন। এক হিন্দু বন্ধুকে নিয়ে বিয়ের বাজার করলেন। তারপর ধুমধাম করে মেয়েটির বিয়ে হলো। মেয়ের বাবা নজরুলকে প্রণাম করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আমরা আপনাকে ভুলব না কোনো দিন।’ এমনই ছিলেন কবি। তাঁর বাড়িতে সাঁওতাল, গারো, কোল—সবাই দল বেঁধে আসতেন। আপ্যায়িত হতেন উৎসবসহকারে।

🌹১৫. নজরুল কবিতা ও গানের স্বত্ব বিক্রি করে উন্নত মানের একটি ক্রাইসলার গাড়ি কিনতে পেরেছিলেন। এই গাড়ি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল ও দামি।

🌹১৬. নজরুল ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরা ভাড়া করে মাঝেমধ্যে প্রমোদভ্রমণে যেতেন।

🌹১৭. নজরুলের দৃষ্টিশক্তি ছিল অসামান্য। তিনি গভীর অন্ধকারেও বহুদূরের কোনো জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেতেন।

🌹১৮. নজরুল ছিলেন অসম্ভব রকমের ক্রীড়াপ্রেমী। সময় পেলেই তিনি ফুটবল খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ছুটতেন বন্ধুবান্ধব নিয়ে। যেদিন বাড়ি থেকে সোজা খেলা দেখতে যেতেন, সেদিন দুই পুত্র সানি আর নিনিকে সঙ্গে নিতেন। একবার খেলা দেখতে গেছেন। স্টেডিয়ামে পাশে বসে আছেন হুমায়ূন কবির। খেলা ভাঙার পর ভিড়ের মধ্যে দুই পুত্র খানিকটা আড়ালে চলে গেল। হঠাৎ পেছন থেকে নজরুলের হাঁকডাক শোনা গেল, ‘সানি কোথায়? নিনি কোথায়?’ মাঠসুদ্ধ লোক হাঁ হয়ে নজরুলকে দেখছে। এরই মধ্যে দুই পুত্রকে ঠেসে ধরে ট্যাক্সি করে বাড়ি নিয়ে এসে তিনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।

🌹১৯. নজরুল বেশ দক্ষ দাবাড়ু ছিলেন। যেদিন বিশেষ কোনো কাজ থাকত না, সেদিন তিনি দাবা খেলতেন। খেলায় এমন মগ্ন হতেন যে খাওয়া-নাওয়ার খেয়ালও থাকত না। মাঝেমধ্যে নজরুলের বাড়িতে দাবার আসর বসাতে আসতেন কাজী মোহাতার হোসেন ও হেম সোম।

🌹২০. কলকাতায় নজরুলের তিনতলা বাড়ির সামনে ছিল একটা ন্যাড়া মাঠ। খেলা নিয়ে বহু কাণ্ড ঘটেছে ওই মাঠে। একবার জোর ক্রিকেট খেলা চলছে। নজরুল গ্যালারি অর্থাৎ বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলারত তাঁর দুই পুত্রকে জোর উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বড় পুত্র সানি এল ব্যাট করতে। প্রথম বলেই ছয়! নজরুলের সে কি দাপাদাপি! ঠিক পরের বল আসার আগে তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘সানি, ওই রকম আরেকটা মার।’ ব্যস বাবার কথায় উত্তেজিত হয়ে দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ব্যাট চালাল পুত্র। ব্যাট অবশ্য বলে লাগল না। লাগল উইকেটকিপারের চোয়ালে! বেশ রক্তারক্তি অবস্থা! অবশেষে খেলা বন্ধ করা হলো।

এমনই নানা রঙের মানুষ ছিলেন নজরুল। যাঁর জীবনে দুঃখ-কষ্টের অভাব ছিল না, আবার রং-রূপেরও অভাব ছিল না। পৃথিবীর খুব কম মানুষই বোধ হয় এমন মহাজীবনের অধিকারী হন। বুদ্ধদেব বসু যথার্থই বলেছিলেন, ‘কণ্ঠে তাঁর হাসি, কণ্ঠে তাঁর গান, প্রাণে তাঁর অফুরান আনন্দ—সব মিলিয়ে মনোলুণ্ঠনকারী এক মানুষ।’
💜❤️🤍💜

12/10/2024

আজ শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা শওকত আলী বলেন, ‘৭০-৮০ টাকা কেজির নিচে কুনো সবজি পাওয়...

Address

Panchagra Sadar
Panchagarh
5000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Panchagarh, পঞ্চগড় posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share