বামনা

বামনা বিষখালি নদীর তীরে বরগুনা জেলার ছোট্ট উপজেলা বামনা

বামনা উপজেলার ইতিহাস খুঁজে জানা যায় ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত পিরোজপুর মহকুমার আওতায় সুবৃহৎ থানা ছিল মঠবাড়ীয়া। মঠবাড়ীয়া ছিল বাকেরগঞ্জ জেলার অমত্মর্গত। ১৯১৩ সালের কোন এক সুন্দর সকালে মঠবাড়ীয়া থানার একাংশের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় বামনা থানা। থানার কার্যক্রম ১৯৬১ সাল পর্যমত্ম চলতে থাকে একটি জাহাজের উপর অবস্থিত জল থানায় । সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বামনা পূর্ণাঙ্গ থানার রূপপ্রাপ্ত হয়। ১৯৬৯ সালের ১লা জানুয়ার

ী বরগুনা মহকুমা সৃষ্টির পর বামনা পিরোজপুর মহকুমা থেকে বরগুনা মহকুমায় অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৯৮৩ সালে বামনা উন্নীত থানা থেকে উপজেলার মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী বরগুনা জেলার জন্ম হলে বামনা বরগুনা জেলার অন্তর্গত থেকে যায়। উত্তরে ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলা, পূর্বে বরগুনা জেলার বেতাগী ও বরগুনা উপজেলা এবং দক্ষিণে পাথরঘাটা উপজেলা ঘিরে রেখেছে বামনা উপজেলাকে। পশ্চিমে হলতা নদী ও পূর্বে বিষখালী নদীর উপকূলে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে বামনা। প্রকৃতির উজাড় করা সম্পদ-সম্ভ্রারে সমৃদ্ধ হবার অপরিমেয় সম্ভাবনা নিয়ে বামনার দীর্ঘ প্রতীক্ষা প্রত্যাখিত হচ্ছে উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগে। ১৯৬১, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং ২০০৭ এর সিডর ও ২০০৯-এর আইলার আঘাত বার বার দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে বামনাকে।
বিষখালী নদীর করাল গ্রাসে মূল বামনা মৌজাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে বামনার বর্তমান থানা সদর ১৯৬৪ সালে সফিপুর গ্রামে স্থানান্তরিত হয়। বামনার অতীত ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিমজ্জিত হয়েছে বিষখালীতে । বিষখালীর ভাঙ্গনে বামনা থানা, হাসপাতাল, তহসীল অফিস, হাইস্কুলসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনার পূর্বতন অবস্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে । এখন যে সকল স্থাপনা দেখা যায় তা হল ১৯৬৪ সালের পর নির্মিত।
বামনার নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কারও মতে শফি মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক নির্মিত কালী মন্দিরের ব্রাহ্মণ পুরোহিত কীর্তি চরণ মুখপাধ্যায়কে স্থানীয় লোকজন ব্রাহ্মণ শব্দের অপভ্রংশ বামনা হিসেবে ডাকত। তার ডাক নামানুসারেই বামনা নামের উৎপত্তি হয়। কারও মতে তৎকালীন সুন্দর বন এলাকার আওতাভুক্ত বিষখালী নদী দিয়ে বাওয়ালীরা নৌকায় যাতায়াত করত । এক সময় বামন নামক কোন এক বাওয়ালী নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হলে তার নামানুসারে বামনা নাম করণ হয়।
কারও মতে একদল মৌলবাদী পর্যটক ধর্ম প্রচারের জন্য এখানে আসেন এবং ধর্ম প্রচার শুরু করেন। কিন্তু বেশীর ভাগ লোকই বামপন্থী মনা হওয়ায় তাদেরকে ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করতে পর্যটক দল ব্যর্থ হয়ে এলাকার মানুষকে বাম মনা উপাধি দেয়। এই বাম+মনা থেকেই বামনা শব্দের উদ্ভব হয়।
আরও প্রসিদ্ধ প্রচলন রয়েছে যে, চীন দেশ থেকে চেং ইয়াং নামে এক নাবিক পাঁচটি সম্প্রদায়ের লোক এবং কিছু যন্ত্রপাতি ও পশু -পাখি নিয়ে জাহাজ চালিয়ে এখানে এসে বর্তমান চেঁচানে নামেন । চেঁচান নামটি প্রধান নাবিক চেং ইয়াং-এর নামানুসারে হয়েছে। এই পাঁচটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এক দল ছিলেন ব্যবসায়ী যারা বাণিজ্যের লক্ষ্যে এসেছিলেন, এক দল ছিলেন কৃষিজীবী যারা কৃষি কাজ করতেন, এক দল ছিলেন নাবিক যারা জাহাজ বা নৌকায় পারাপার ও পরিবহনের কাজ করতেন, এক দল ছিলেন রাখাল যারা পশু পালন ও চারন করতেন এবং এক দল ছিলেন ব্যায়ামবিদ যারা নিরাপত্তা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের দায়িত্ব পালন করতেন। ইংরেজীতে এ পাঁচ সম্প্রদায়ের নাম হল ব্যবসায়ী = Businessman যা থেকে B, কৃষিজীবী= Agriculturist যা থেকে A, নাবিক = Mariner যা থেকেM, রাখাল= Nomad যা থেকে N এবং ব্যায়ামবিদ= Acrobat যা থেকে A । এই সম্প্রদায়গুলোর নামের পাঁচটি আদ্যাক্ষর দিয়ে B+A+M+N+A= BAMNA যা বাংলায় বামনা নামকরণ করা হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে বামনার যথেষ্ট সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। বাকেরগঞ্জের ভূগোলে লেখা হয়েছে, ‘‘বামনা ভদ্র লোকের বাসস্থান’’। বামনায় অনেক বর্ধিষ্ণু পরিবারের বাস ছিল । যতদূর জানা যায় সফি মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন প্রথম জমিদার। আর একজন জমিদার ছিলেন রাশ মোহন সাহা। সফি মাহমুদ চৌধুরীর দুই ছেলে হোসেন উদ্দিন চৌধুরী ও নায়েব উদ্দিন চৌধুরী। সফি মাহমুদ চৌধুরীর ভাইয়ের নাম ছিল সিদাম মিয়া চৌধুরী । সফি মাহমুদ চৌধুরীর বংশের সর্বশেষ পুরুষ ছিলেন ফখর উদ্দিন চৌধুরী; যিনি নাবালক সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন। চৌধুরী বংশের জমিদারদের মধ্যে হোসেন উদ্দিন চৌধুরী ও সিদাম মিয়া চৌধুরী অত্যমত্ম জুলুমবাজ ও অত্যাচারী ছিলেন। সফি মাহমুদ চৌধুরী, নায়েব উদ্দিন চৌধুরী ও ফখর উদ্দিন চৌধুরীর প্রজা বাৎসল্য প্রসংশনীয়। ফখর উদ্দিন চৌধুরী অত্যমত্ম দানশীল ছিলেন এবং তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সহজভাবেই মেলামেশা করতেন। বর্তমান সাহেব বাড়ী বাজার নামে পরিচিত এলাকাটি চৌধুরী পরিবারের বসতবাড়ী ছিল। চৌধুরী পরিবারের এক সমত্মান গোলাম ওয়াহেদ চৌধুরী পাকিসত্মান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
চৌধুরী পরিবারের কাছ থেকে জমিদারী পেয়ে বামনার জমিদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সৈয়দ পরিবার। এ পরিবারের প্রথম পুরুষ সৈয়দ সারওয়ারজান। তাঁর ভাই ছিলেন সৈয়দ সাবদারজান । সৈয়দ সারওয়ারজানের পর তাঁর একমাত্র পুত্র সৈয়দ আবী মুহাম্মদ আহসান জমিদার ছিলেন। সৈয়দ আবী মুহাম্মদ আহসান তাঁর স্ত্রীর নামানুসারে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে হাসিনা মঞ্জিল নির্মাণ করেন। সৈয়দ আবী মুহাম্মদ আহসানের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সৈয়দ নাজমূল আহসান বামনার জমিদারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর আমলেই জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হয়। বামনার সৈয়দ পরিবার থেকে সৈয়দ কামরুল আহসান পাকিসত্মান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং সৈয়দ আবু নাসর জিয়াউল আহসান পূর্ব পাকিসত্মান পরিষদের ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই পরিবারের সৈয়দ রাহমাতুর রব ইরতিজা আহসান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই পরিবারের সমত্মান সৈয়দ শামীম আহসান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ছিলেন। বামনা উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান বামনার ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি পর পর তিনবার বামনা উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বামনা সদর আর-রশীদ ফাযিল মাদরাসা, বামনা কিন্ডার গার্টেন স্কুল (আই.এ.একাডেমী) এবং বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
বামনার আর একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার হচ্ছে খন্দকার পরিবার । এই পরিবারের বংশধর আমত্মর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং তাঁর ভাই বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার শাহাদত হোসেন ।
বামনা বাংলাদেশের একটি ছোট্ট উপজেলা হলেও এখানে অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে। যাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সাবেক সদস্য মরহুম সৈয়দ ফখরুল আহসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিষয়ের অধ্যাপক মরহুম সৈয়দ মাইনুল আহসান, বাংলাদেশ নিজাম-ই-ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় প্রধান মরহুম সৈয়দ মাঞ্জুরুল আহসান, এককালীন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আসমত আলী সিকদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মরহুম হাসান আলী মোল্লা, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) খন্দকার মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক বিভাগের অধ্যাপক মরহুম ডাঃ মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ ফিসারীজ ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আবদুল কাদির মোল্লা, ঢাকা মেডিকেল কলেজের কিডনী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ হাবিবুর রহমান সিকদার, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের নিউরোলজী মেডিসিনের অধ্যাপক ডাঃ আবদুল হাই, বাংলাদেশ বিমানের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার জনাব আনোয়ার হোসেন খান মজনু, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়র মুহাম্মদ আবদুস শহীদ প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখ্য ও স্মরণীয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বামনার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ছিল ৯নং পটুয়াখালী সেক্টরের একটি সাব-সেক্টরের সদর দপ্তর । বুকাবুনিয়া এবং বামনা থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। ১৯৭১সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করলেও বামনা উপজেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ২৪শে নভেম্বর।
সর্বশেষ হিসেবে বামনার জনসংখ্যা ৮২,১০৫ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৪০৯২১ জন এবং মহিলা ৪১,১৮৪জন। শিক্ষা ক্ষেত্রে বামনা সমেত্মাষজনক অবস্থানে রয়েছে। বামনা উপজেলায় শিক্ষিতের হার ৭২%; যার মধ্যে পুরুষ শিক্ষার হার ৭৪.১১% এবং নারী শিক্ষার হার ৬৯.৮৯ %। এখানে ১টি মহিলা ডিগ্রী কলেজ, সহ শিক্ষা পরিচালিত ১টি ডিগ্রী কলেজ এবং ১টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ , ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (সহ শিক্ষা), ১টি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় , ২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (সহ শিক্ষা), ৩৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি বেসরকারী রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৪টি কিন্ডার গার্টেন (কেজি স্কুল) রয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে ১টি ফাযিল, ৫টি আলীম, ৭টি দাখিল (সহ শিক্ষা), ২টি দাখিল (বালিকা) এবং ৮টি ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। বামনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরে কোন সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই।
বামনায় প্রধান দু’টি দরবার শরীফ রয়েছে- চলাভাঙ্গা ও চালিতাবুনিয়া। চলাভাঙ্গা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ালি-ই-কামিল হযরত মাওলানা সৈয়দ আবদুর রশীদ চিশ্তী (রাঃ), মরহুম পীর সাহেব চলাভাঙ্গা। বর্তমানে উক্ত দরবারে আসীন আছেন পীর সাহেব হযরত মাওলানা সৈয়দ সায়াদ হোসাইন।
চালিতাবুনিয়া দরবারশরীফটি প্রধানত চিশতিয়া তরীকার। উক্ত দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মহিউদ্দিন হাসান চিশতী। বর্তমানে উক্ত দরবারে গদিনশীন রয়েছেন জনাব আলানূর আলাউদ্দিন দয়াল।
বামনার ইতিহাসের কলেবর এতই বেশী যে দুই/এক পাতায় লিপিবদ্ধ করা সম্ভব নয়। বামনার আছে সুন্দর ইতিহাস, নিন্দিত ঐতিহ্য, সুললিত গৌরব গাঁথা, নিজস্ব সংস্কৃতি, মনমাতান আতিথিয়তা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা। এ সকল কিছুই বাংলাদেশের ছোট্ট উপজেলা বামনাকে ইতিহাসের পাতায় রাখবে চির অম্লান ও চিরমত্মন। বামনা উপজেলা (বরগুনা জেলা) আয়তন: ১০১.০৫ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২২°১১´ থেকে ২২°২১´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°০০´ থেকে ৯০°০৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে কাঁঠালিয়া উপজেলা, দক্ষিণে পাথরঘাটা ও বরগুনা সদর উপজেলা, পূর্বে বিশখালী নদী ও বেতাগী উপজেলা, পশ্চিমে মঠবাড়িয়া উপজেলা।

জনসংখ্যা ৬৯৮০৩; পুরুষ ১৩৪৭২১, মহিলা ৩৫০৮২। মুসলিম ৬৪২২০, হিন্দু ৫৫৬৫ এবং অন্যান্য ১৮।

জলাশয় প্রধান নদী: বিশখালী, আমুরদোন।

প্রশাসন বামনা থানা গঠিত হয় ১৯৬৮ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।
উপজেলা
পৌরসভা ইউনিয়ন মৌজা গ্রাম জনসংখ্যা ঘনত্ব(প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
শহর গ্রাম শহর গ্রাম
- ৪ ৩৯ ৪৯ ৭১০৬ ৬২৬৯৭ ৬৯১ ৬৮.৬ ৬৩.৭
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি) মৌজা লোকসংখ্যা ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি) শিক্ষার হার (%)
৫.৪১ ২ ৭১০৬ ১৩১৩ ৬৮.৫৭
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড আয়তন (একর) লোকসংখ্যা শিক্ষার হার(%)
পুরুষ মহিলা
ডৌয়াতলা ৭১ ৬২৯২ ৮২৪২ ৮৩৬১ ৬৫.২৯
বামনা ২৩ ৪৯৪৪ ৯৪৭৫ ৯২০৮ ৬৩.৬৫
বুকাবুনিয়া ৪৭ ৬০৩০ ৮৮২১ ৯১৫১ ৬৫.৫৪
রামনা ৯৫ ৫৫৮৪ ৮১৮৩ ৮৩৬২ ৬২.৩৫

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
BamnaUpazila.jpg

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী এ উপজেলার কিছুসংখ্যক বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। বুকাবুনিয়ায় ৯ নং সেক্টরের সাব-সেক্টরের হেডকোয়ার্টার অফিস ছিল। ২৩ নভেম্বর বামনা দখলদার বাহিনীর কবলমুক্ত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টরের ভিত্তিস্তম্ভ।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ২৪০, মন্দির ৩১। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: হজরত খাজা মহিউদ্দিন হাসান চিশতীর মাযার।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৬৪.২%; পুরুষ ৬৬.৬%, মহিলা ৬১.৯%। কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪৮, মাদ্রাসা ১৮। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: বামনা ডিগ্রি কলেজ (১৯৮২), বেগম ফয়জুন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৬), ওয়াজেদ আলী খান কলেজ, হলতা ডৌয়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৪৩), সারওয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৪৪), আসমানুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৬৬), বুকাবুনিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বামনা সদর আর রশিদ ফাজি

04/03/2026

প্রকল্প ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯শত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কোটি টাকা আত্মসাত' শিরোনামে সংবাদ প্রচার।
মিরাজ খান বরগুনা।।
বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান মামুনের ছেলে সৈয়দ নাহিন আহসানের বিরুদ্ধে কোটি আত্মসাতের অভিযোগ করে রাজনৈতিক মহল। অথচ এ প্রকল্প বা কাজের অর্থ হলো ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯০০ শত টাকা।

কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সোমবার প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী এসব অভিযোগ করেন। এমন অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে আজ সকালে তার নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সৈয়দ নাহিন আহসান।

এ সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যে বলেন, ৫ আগষ্টের পর বামনার ফুটপাত দখলের রাখা ব্যবসায়ীদের নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বাজার কমিটি বৈঠক ডাকে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেখানে উপস্থিত রাখে। বৈঠকটি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত ছিলেন। ‘ফুটপাত দখল করা যাবে না’ এই সিদ্ধান্ত হলে বামনা বাজারে অবস্থিত সাহেববাড়ি বাজার নামক স্থানে ফাঁকা জায়গাটি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত স্থানে ব্যবসায়ীদের বসার জন্য উপযুক্ত করতে বালু ভরাট ও সেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বালু ভরাট ও সেট নির্মাণে ব্যবসায়ীদের নিকট হইতে ১৩ হাজার টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু হয়।
মোট ৩০ জন ব্যবসায়ীর সেখানে ব্যবসা করবেন। ২৯ জন ব্যবসায়ীর নিকট হইতে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। যেই টাকা সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেন ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও দাবী করেন শুধুমাত্র কাজ দেখাশুনার দায়িত্বে আমি ছিলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত টাকা। অন্য এক ব্যবসায়ী তার ভাগের ১৩ হাজার টাকা জমা দিলে সেই টাকা দিয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

হঠাৎ করে একটা পক্ষ ২ মার্চ বামনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন ‘আমি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছি’। বিষয়টি অত্যান্ত হাস্যকর। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও দাবী তার। তিনি বলেন, তার বাবা জামায়াতের রাজনীতিতে যোগদানের জন্য ইতিপূর্বে তাদের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলে বামনার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে এসব অসত্য অভিযোগ করে মানহানি করে যাচ্ছেন। ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯ শত টাকার কাজে কত টাকা আত্মসাৎ করা যায় বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে দোকান ঘরগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল। এছাড়া অন্য কোন অভিযোগ কোনদিন শুনি নাই।

গত ২ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়া ব্যবসায়ী শিবু চন্দ্র দাসের পুত্র জয় চন্দ্র দাস বলেন, কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাকে বামনা প্রেসক্লাবে নিয়ে একটি কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে পড়তে বলেন। আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। অন্যান্য ব্যবসায়ী পড়তে পারেন না বিধায় আমাকে পড়তে বললে আমি পড়ি। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি দোকানের জন্য ১৩ হাজার টাকা ইউএনও অফিসে জমা দিয়েছি এবং একটি দোকান বুঝে পেয়েছি। কারা পায়নি কিংবা লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
এসব বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ নিকহাত আরা এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগ উঠেছে। আমরা এ নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

28/01/2026

#পে_স্কেল

28/12/2025

গোলাঘাটা গ্রাম নিবাসী এপ্লাস্টিক এনিমিয়া আক্রান্ত একজন মহিলার Hb%4 এবং প্লাটিলেট, 4হাজার, রক্তস্বল্পতার জন্য ডৌয়াতলা সৌদী প্রবাসী হাসপাতালে ৩ব্যাগ এবি+ পজিটিভ রক্তের জরুরী প্রয়োজন 01935687410

08/12/2025
শোক সংবাদ (প্রভাষক জাকির হোসেন মিলন)সরকারী বামনা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক, মুন্না ও মুনিমের বাবা জাকির হোসেন মিলন স্যার আজ ...
04/12/2025

শোক সংবাদ
(প্রভাষক জাকির হোসেন মিলন)

সরকারী বামনা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক, মুন্না ও মুনিমের বাবা জাকির হোসেন মিলন স্যার আজ ০৪.১২.২০২৫ইং বিকাল ০৪.৩০ মিনিটের সময় ইন্তেকাল করেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
তাঁর মৃত্যুতে বামনা পেজের পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপণ করছি।

বরগুনা জেলার বামনা থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ...
02/12/2025

বরগুনা জেলার বামনা থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ জনাব আবদুল্লাহ আল মামুন।

তিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারুন অর- রশীদ হাওলাদার পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানায় ট্রান্সফার হয়েছেন।
©

30/11/2025

বামনা সদর আর-রশীদ ফাযিল মাদ্রাসা
বামনা বরগুনা।
বার্ষিক পরীক্ষা ২০২৫

29/11/2025

"জরুরী ২ ব্যাগ এবি+ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন''
গত ২০২০ইং সাল থেকে রামনা ইউনিয়নের গোলাঘাটা গ্রামের একজন মহিলা দূরারোগ্য সিবিআর এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (অত্যাধিক রক্তস্বল্পতা) রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওনাকে প্রতি মাসেই ২ থেকে ৩ ব্যাগ রক্ত দিতে হচ্ছে, রক্তদাতার সংকটের কারণে, তা তার পরিবারের পক্ষে প্রতি মাসে রক্ত যোগাড় করা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না।
রোগী বর্তমানে রামনা ইউনিয়নের গোলাঘাটা গ্রামেই আছেন, গত কয়েক দিন আগের সিবিসি টেস্টে হিমোগ্লোবিন মাত্র ৫.৫ মাত্রায় আছে তা জানা গেছে। এমতাবস্থায় রোগীকে দ্রুত রক্ত দেয়াই হচ্ছে সঠিক চিকিৎসা।
বামনা উপজেলার হৃদয়বান এবি+ পজিটিভ রক্তদাতারা রক্তদানে আগ্রহী হলে, রোগীকে ডৌয়াতলা সৌদী প্রবাসী হাসপাতালে স্থানান্তর করে রক্তদান করা হবে।
বামনা উপজেলার এবি+ পজিটিভ গ্রুপের সকল রক্তদাতাদের প্রতি আহ্বান রইল,
দূরারোগ্য সিবিয়ার এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া রোগীকে রক্তদান করে, রোগীকে ও রোগীর আত্নীয়দেরকে কৃতজ্ঞতায় বাধিত করবেন, ধন্যবাদ। যোগাযোগঃ (রোগীর ছেলে)
01821268500,
01935687410

Address

বামনা
Nij Bamna
8730

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বামনা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category