07/04/2015
বাংলাদেশের নাট্য জগতে যারা আকাশসম খ্যাতি পেয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মমতাজউদদীন আহমদ। মমতাজউদদীন আহমদ একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, শিক্ষক,নাট্য নির্দেশক, কলামিষ্ট ও সুবক্তা। নাট্য জগতে জড়িত হবার পর থেকেই তিনি নানাভাবে এই জগতকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতিমান এই শিক্ষক মমতাজউদদীন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারী জন্মগ্রহন করেন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ। সেখানেই তাঁর শৈশব কৈশোর কেটেছে। পরবর্তীতে সাতচল্লিশের দেশবিভাগের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বসবাস শুরু করেন। তিনি রাজশাহী কলেজে ইন্টারমিডিয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম এ পাশ করেন। নানা প্রতিভার অধিকারী হলেও তিনি মূলত তাঁর অভিনয় প্রতিভা দিয়েই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচুর নাটক করেছেন।
মঞ্চে তার লেখা ও নির্দেশিত প্রথম নাটক ছিলো ‘তবুও আমরা বাঁচবো’। বেতারে প্রচারিত তার প্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘কী চাহো শঙ্খচিল’। এ নাটকটি প্রতি বিজয় দিবসে বেতারে প্রচার করা হয়। টেলিভিশনে তার লেখা প্রচারিত প্রথম নাটক ছিলো ‘দখিনের জানালা’। তাঁর রচিত নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 'ঝড়ের মধ্যে বসবাস', স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, বিবাহঘটিত ব্যাপার স্যাপার, সাতঘাটের কানাকড়ি, ক্ষতবিক্ষত, হাস্য লাস্য ভাষ্য ইত্যাদি।
একাত্তর সালে বেশ কিছু জনপ্রিয় নাট্যকরের মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয় সেই শূন্যতা পূরণে তিনি অগ্রণী ভুমিকা রেখে চলেছেন। তিনি অনেক মৌলিক নাটক রচনা করেন, নাটক বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ লেখেন, নাটক প্রযোজনা করেন, নাটকের নির্দেশনা দেন, বিশ্ব নাটকের বিশেষভাবে ইংরেজি নাটকের অনুবাদ করেন, নাটক মঞ্চস্থ করেন, নিজের নাট্যদল থিয়েটার গড়ে তোলেন এবং নিজে অভিনয় করেন।
এছাড়া তিনি অজস্র নাটক ও বেশ কিছু সিনেমাতেও অভিনয় করেন। হুমায়ূন আহমেদের নির্দেশনায় দশটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এইসবের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ১৯৭৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
এছাড়া তিনি সুদীর্ঘকাল শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন।নাটক বিষয়ে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যসূচি প্রণয়নেও কাজ করেছেন তিনি। তার লেখা নাটক 'কী চাহ শঙ্খচিল' এবং 'রাজা অনুস্বরের পালা' রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকাভুক্ত।
ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া নিউইয়র্কে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ মিশনের কালচারাল মিনিস্টারের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
তিনি যেকোনো অনুষ্ঠানে গর্বভরে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে নিজের জেলা বলে উল্লেখ করেন। দেশবরেণ্য এই গুণী ব্যক্তি সারাবিশ্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। উনি আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব। স্বপ্নের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষ থেকে তার জন্য রইল অনেক অনেক শুভ কামনা।