07/06/2026
৭ জুন, ২০২৬
আজ বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে। কিন্তু দিবস পালনের মাঝেও প্রশ্নটা থেকেই যায়, আমাদের থালায় যে খাবারটি উঠছে, সেটি কি সত্যিই নিরাপদ?
বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ খাদ্যের ভয়াবহ চিত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৬০ কোটি মানুষ দূষিত ও অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হন। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা যান শুধুমাত্র খাদ্যজনিত রোগে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো এই মৃত্যুর একটি বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
বাংলাদেশের বাস্তবতা আরও উদ্বেগজনক
বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দূষণ এখন একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া খাবারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক, ফরমালিন, কার্বাইড ও ক্ষতিকর রং মেশানো হচ্ছে। ফল, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে রাস্তার খাবার পর্যন্ত কোথাও যেন নিরাপদতার নিশ্চয়তা নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ও রাসায়নিকযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে দেশে কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার ও হৃদরোগের রোগী উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি গর্ভবতী মায়েদের শরীরে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করে নবজাতকের স্বাস্থ্যকেও হুমকিতে ফেলছে।
অনিরাপদ খাদ্য ও রক্তের সম্পর্ক
অনিরাপদ খাদ্যের প্রভাব সরাসরি পড়ছে মানুষের রক্তের উপর। ভেজাল ও রাসায়নিকযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন খেলে রক্তে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বাড়ে, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। এর ফলে একদিকে যেমন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে সুস্থ রক্তদাতার সংখ্যাও কমছে। অর্থাৎ অনিরাপদ খাদ্য শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো সমাজের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
সচেতনতাই একমাত্র পথ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট থেকে বের হতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতাও জরুরি। বাজার থেকে কেনার সময় খাবারের মান যাচাই করুন। অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক রঙিন ফল ও সবজি কেনা থেকে বিরত থাকুন। রাস্তার খোলা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। শিশুদের খাবারের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন এবং খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
আমাদের অঙ্গীকার
আমরা যারা মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদান করি, আমরাও বিশ্বাস করি সুস্থ খাদ্যাভ্যাস ও নিরাপদ খাবার ছাড়া সুস্থ শরীর সম্ভব নয়। আর সুস্থ শরীর না থাকলে রক্তদানের মতো মহৎ কাজও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নিরাপদ খাদ্যের এই লড়াই আসলে সুস্থ জীবনের লড়াই, সুস্থ সমাজের লড়াই।
আজকের এই দিনে আসুন প্রতিজ্ঞা করি, নিজে সচেতন থাকব, পরিবারকে সচেতন রাখব এবং নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে সোচ্চার থাকব। কারণ সুস্থ জাতি গড়তে হলে আগে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
- Green Social Services and Blood Donation Club