09/08/2026
মা-বাবাকে অবহেলা করার আগে একবার নিজের জন্মের গল্পটা মনে করুন…
যেদিন আমি পৃথিবীতে এলাম,
আমি কিছুই বুঝতাম না—
ক্ষুধা কী, কষ্ট কী, জীবন কী—
কিছুই জানতাম না।
শুধু জানতাম,
কাঁদলে একজন মানুষ ছুটে আসত—
সে ছিল আমার মা।
নিজে না খেয়ে আমাকে খাইয়েছে,
নিজের কষ্ট লুকিয়ে আমার মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে
ঘরের সবার কাজ করেছে,
তারপরও আমার জন্য আলাদা সময় রেখেছে।
আমাকে দুধ খাইয়েছে,
গোসল করিয়েছে,
আমার ময়লা পরিষ্কার করেছে,
রাত জেগে আমার কান্না শুনেছে।
আমি যখন হাঁটতে পারতাম না,
মা আমাকে কোলে নিয়ে হাঁটত।
আমি যখন বলতে পারতাম না,
মা আমার কান্নার ভাষা বুঝত।
আমার ছোট্ট শরীরটা বড় করতে
একজন মা নিজের জীবনটাকেই ছোট করে ফেলেছিল।
আর বাবা?
হয়তো সবসময় মুখে ভালোবাসা দেখাতে পারেনি,
কিন্তু সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে
নিজের ঘাম ঝরিয়েছে।
নিজের ইচ্ছা মাটিতে পুঁতে
সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছে।
আজ সেই সন্তান বড় হয়েছে।
আজ তার টাকা আছে,
সমাজে পরিচয় আছে,
বন্ধু আছে,
বাইরের মানুষের জন্য সময় আছে,
আড্ডা আছে,
আনন্দ আছে,
দাওয়াত আছে,
ঘোরাঘুরি আছে।
বাইরের মানুষকে খাওয়াতে আনন্দ লাগে,
বাইরের মানুষকে দিতে আনন্দ লাগে,
বাইরের মানুষকে পাশে দাঁড় করাতে আনন্দ লাগে।
কিন্তু—
মা-বাবা ডাকলে বিরক্তি আসে!
ভাই-বোন কথা বললে মাথা গরম হয়!
আপন মানুষের মুখ দেখলে মনে হয়—
জীবনের সব অশান্তি বুঝি তাদের কারণেই!
কী অদ্ভুত মানুষ আমরা!
যে মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হলাম,
আজ সেই মায়ের মুখের কথা শুনতে কষ্ট হয়।
যে বাবার ঘামে আমার জীবন দাঁড়াল,
আজ সেই বাবার সামান্য কথাও
আমার অহংকারে আঘাত করে।
যে ভাই-বোন শৈশবে
আমার সঙ্গে একই থালায় খেয়েছে,
একই উঠানে খেলেছে,
একই কষ্টে বড় হয়েছে—
আজ তাদেরকেই আমরা তুচ্ছ করি।
অথচ সমাজের সামনে
নিজেকে বড় মানুষ প্রমাণ করতে
আমরা কত কিছুই না করি!
মানুষকে দেখাই—
আমি দান করি,
আমি মানুষের পাশে দাঁড়াই,
আমি অসহায়ের বন্ধু।
কিন্তু ঘরের দরজার ওপাশে
একজন মা হয়তো চুপচাপ বসে আছেন—
ছেলেটা একবার এসে পাশে বসবে বলে।
একজন বাবা হয়তো দরজার দিকে তাকিয়ে আছেন—
সন্তানটা একবার বলবে,
“বাবা, কেমন আছো?”
কিন্তু সেই সময়টুকুও
আমাদের নেই।
তখন একটু থামুন।
নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন—
আমি কি সত্যিই ভালো মানুষ?
যদি মা-বাবার চোখের পানি
আপনার হৃদয় নরম না করে,
যদি তাদের কষ্ট আপনার কাছে কষ্ট না হয়,
যদি তাদের ভালোবাসা আপনার কাছে বোঝা মনে হয়,
আর বাইরের মানুষের হাসিই যদি আপনার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আনন্দ হয়—
তাহলে সমাজের কাছে আপনি যত বড়ই হোন,
নিজের মা-বাবার কাছে আপনি কতটা মানুষ—
সেই হিসাবটা একবার করুন।
মনে রাখবেন—
দুনিয়ার মানুষ আপনাকে সম্মান করবে
আপনার টাকা, পদ, ক্ষমতা আর পরিচয়ের জন্য।
কিন্তু মা-বাবা আপনাকে ভালোবাসে
আপনি কিছুই না থাকলেও।
আজ যাদেরকে আপনি অবহেলা করছেন,
একদিন হয়তো তাদের ঘরটা থাকবে,
তাদের বিছানাটা থাকবে,
তাদের পুরোনো কাপড় থাকবে—
শুধু মানুষ দুটো থাকবে না।
সেদিন যত টাকা থাকুক,
যত বন্ধু থাকুক,
যত বড় পরিচয় থাকুক,
মায়ের মুখটা আর ফিরে পাবেন না।
বাবার কণ্ঠটা আর শুনতে পাবেন না।
তখন বুকের ভেতর থেকে একটা প্রশ্ন উঠবে—
“মা, তুমি যখন ছিলে,
আমি তোমার পাশে ছিলাম না কেন?”
কিন্তু সেদিন উত্তর দেওয়ার মতো
মা আর থাকবে না।
তাই যারা আজও মা-বাবাকে অবহেলা করেন,
তাদের বলি—
বাইরের মানুষের জন্য একটু কম হাসুন,
ঘরের মা-বাবার জন্য একটু বেশি হাসুন।
বাইরের মানুষকে একদিন খাওয়ানোর আগে
মাকে জিজ্ঞেস করুন—
“মা, তুমি খেয়েছ?”
বাইরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আগে
বাবার কাঁধে হাত রেখে বলুন—
“বাবা, তোমার কোনো কষ্ট আছে?”
হয়তো এই দুইটি বাক্যই
আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ইবাদত,
সবচেয়ে বড় মানবতা,
সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে যাবে।
কারণ পৃথিবীতে অনেক মানুষ হারিয়ে গেলে
আরেকজন মানুষ পাওয়া যায়—
কিন্তু মা হারালে
মায়ের মতো আর কাউকে পাওয়া যায় না।
বাবা হারালে
বাবার মতো আর কেউ ফিরে আসে না।
তাই পাথরের মতো হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকবেন না।
আজই ফিরে যান—
যে ঘরে আপনার পৃথিবীর শুরু হয়েছিল।
মায়ের পাশে বসুন।
বাবার পাশে বসুন।
ভাই-বোনকে কাছে টানুন।
কারণ জীবন খুব ছোট।
অভিমান অনেক বড় হতে পারে,
কিন্তু মৃত্যুর পর সেই অভিমানের কোনো মূল্য নেই।
আর যদি সত্যিই নিজেকে
“মানুষ” বলতে চান—
তাহলে আগে মা-বাবার সন্তান হোন,
তারপর পৃথিবীর মানুষের কাছে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মা-বাবার কদর করার তৌফিক দান করুন। 🤲