04/06/2026
নারায়ণগঞ্জে সরকারী দলের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং কুরআন তালিমে হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তি দাবী
------------------------------
গত ০৩ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নে সরকারী দলের যুব সংগঠনের নেতা কর্মীদের চাঁদা দাবী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, রূপগঞ্জে এক তরুণীকে অপহরণ এবং সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে মসজিদে সহীহ কুরআন শিক্ষার ক্লাসে হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং দোষীদের শাস্তির দাবী জানিয়ে আজ ০৪ জুন বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, সাতগ্রাম ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সালাউদ্দীনের কাছে স্থানীয় যুবদল নেতা রিপন মিয়া ১২ লাখ টাকা দাবী করে। ঐ ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। যুবদলের পক্ষ হতে দায়সারা গোছের বহিস্কার নাটক করা হয়েছে কিন্তু অপরাধীর বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্রামের একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর কাছে এমন বিপুল পরিমাণ চাঁদা দাবী এবং হামলার পরও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা হতবাক।
বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভৌমিকপাড়া গ্রামে গত ০২ জুন মসজিদে সহীহ কুরআন শিক্ষার ক্লাস চলাকালে, সেখানে স্থানীয় যুবদল ছাত্রদলের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মী মসজিদের গেট বন্ধ করে তাদের অবরুদ্ধ করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায় পরবর্তীতে কুরআন শিক্ষারত মুসুল্লীদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় গ্রামবাসী এসে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় সরকারী দলের ক্যাডারদের হামলায় চার-পাঁচজন মুসুল্লী আহত হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গতকাল ০৩ জুন রূপগঞ্জের পূর্বাচল এলাকায় এক কিশোরীকে বখাটেরা অপহরণ করার মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে।
এ সব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবী জানিয়ে বিবৃতিতে তারা বলেন, মাত্র ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে একটি জেলার তিনটি উপজেলায় তিনটি বর্বর ঘটনা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং সরকারী দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম জনমনে যেমন আতংক, ভীতি ও সন্ত্রস্ত অবস্থা তৈরি করেছে একইভাবে দেশের বিরাজমান অবস্থা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, দখল, হামলার অধিকাংশ ঘটনায় সরকারী দলের লোকদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ার পর তাদেরকে বহিস্কারের মাধ্যমে দায়িত্ব সমাপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জামায়াত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ সব সন্ত্রাসী ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারী দল এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।