10/08/2026
আড়াইহাজারে মিশুক চালক ওয়ালি উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন; পিবিআই নারায়ণগঞ্জের অভিযানে ২ আসামি গ্রেফতার, ছিনতাইকৃত মিশুক ও নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার; ১ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ জেলা কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী এলাকায় সংঘটিত অটোগাড়ী (মিশুক) চালক ডিসিষ্ট মোঃ ওয়ালি উল্লাহ (২০) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ২ জন আসামিকে গ্রেফতার, ছিনতাইকৃত অটোগাড়ী (মিশুক) ও নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ শাহিন (৩১) বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
নিহত ওয়ালি উল্লাহ (২০) এর পিতা অসুস্থ থাকায় গত ০৫/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ০২.০০ ঘটিকার সময় পিতার অটোগাড়ী (মিশুক) নিয়ে চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ০৬/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকালে সোনারগাঁও থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন।
একই দিন বিকেলে আড়াইহাজার থানাধীন উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী এলাকায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে নিহতের পিতা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি তার ছেলে ওয়ালি উল্লাহর বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ হারুন রশিদ (৫৯) অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মামলা নং-১২, তারিখ-০৭/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে গত ০৩/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মামলাটি অধিগ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) পুলক সরকার, পিবিআই নারায়ণগঞ্জকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম-এর প্রত্যক্ষ ও সার্বিক সহযোগিতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) পুলক সরকারের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, ঘটনাস্থল ও ঘটনাস্থলে যাতায়াতের বিভিন্ন রুট বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আসামিদের শনাক্ত করে গত ০২/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ১০.০০ ঘটিকার সময় মো: আওলাদ হোসেন (২৬)কে সোনারগাঁও থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০.৫০ ঘটিকার সময় সোনারগাঁও থানাধীন আলমদী এলাকা হতে অপর আসামি মোঃ শাহিন (৩১)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের ০৩/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত ০৫ (পাঁচ) দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৬/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বিকেল ০৫.০০ ঘটিকার সময় আসামি শাহিনের নিজ বসতঘর হতে নিহত ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও একটি বাংলালিংক সিম উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ১০.০০ ঘটিকার সময় মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর এলাকা হতে নিহতের ছিনতাইকৃত অটোগাড়ী (মিশুক) উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য-প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থল ও যাতায়াতের বিভিন্ন রুট পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়সহ আরো ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিহত ওয়ালি উল্লাহর অটোগাড়ী (মিশুক) ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে তাকে ভাড়ায় নেয়। তারা নারায়ণগঞ্জ জেলার বারদী অটোস্ট্যান্ড হতে নিহতের মিশুকযোগে আড়াইহাজার থানাধীন সুলতানশাদী বাজারে যায়। ফেরার পথে সন্ধ্যার সময় আসামিরা নিহতকে মিশুকসহ আড়াইহাজার থানাধীন উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে আসামিরা ছুরিকাঘাত করে ওয়ালি উল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা নিহতের অটোগাড়ী (মিশুক) ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ছিনতাইকৃত মিশুকটি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে ০৫ (পাঁচ) দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে গত ০৮/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকালে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মোঃ শাহিন (৩১) উক্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার অভিযান এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নিউজ লিংক কমেন্টে।