পরিচিতি
গ্রাম: আড়পাড়া,ইউনিয়ন: নোয়াগ্রাম,
উপজেলা: লোহাগড়া,জেলা: নড়াইল
আড়পাড়া নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম। গ্রামের ভোটার সংখ্যা ১৫০০ এর মতন। বর্তমান নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর বাড়ি আড়পাড়া গ্রামে। এই গ্রামের আছে একটি সুবিশাল সবুজ মাঠ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যতদূরে চোখ যাবে শুধু সবুজ মাঠ। এই গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছ
ে। আড়পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের সবচেয়ে ভালো স্কুল। এমনকি লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে অন্যতম ভালো একটি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর একাধিক বৃত্তি পেয়ে থাকে। গ্রামে একটি বড় খেলার মাঠ আছে। খেলার মাঠটি লোহাগড়া উপজেলার অন্যতম বড় মাঠ। এই মাঠে প্রতিবছর ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে। গ্রামে একটি বড় ঈদগাহ আছে। ঈদগাহ এর সাথে বড় একটি গোরস্থান রয়েছে। গ্রামে একটি হাসপাতাল আছে। খেলার মাঠের একপাশে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অপরপাশে অবস্থিত হাসপাতাল। পাশেই আছে ঈদগাহ ও গোরস্থান। ফলে প্রাইমারি স্কুল,খেলার মাঠ,হাসপাতাল,ঈদগাহ,গোরস্থান সবকিছু গ্রামের একই জায়গায় অবস্থিত। গ্রামে ৩ টি মসজিদ রয়েছে। একটি মাদ্রাসা রয়েছে। গ্রামে রয়েছে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(মরিচপাশা উচ্চ বিদ্যালয়)। পড়াশুনার দিক দিয়ে এই বিদ্যালয়টি লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে অন্যতম। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সংখ্যা অনেক। আশেপাশের অনেক গুলো গ্রামের ছেলেমেয়েরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা থাকে। প্রতিবছর এই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় একাধিক এ+ পেয়ে থাকে। এই বিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী পেশাগত জীবনে অনেক ভালো অবস্থায় আছে। গ্রামের পাশেই রয়েছে একটি বড় বাজার(মানিকগঞ্জ বাজার)। আশেপাশের অনেক গ্রামের মিলনস্থল এই বাজার। এই বাজারে সবকিছুই পাওয়া যায়। একটি ব্যাংক রয়েছে এই বাজারে। এই বাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে যায়। গ্রামের পাশ দিয়ে গেছে লোহাগড়া টু মোহাম্মদপুর(মাগুরা) সড়ক। গ্রামে একটি খাল রয়েছে। খালে আগে অনেক দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। খালটি পুনঃখনন প্রয়োজন। গ্রামের মাঠে অনেক রকমের ফসল হয়। পাট,ধান,সরিষা,মোটর,কলই,তরকারি ইত্যাদি।
এটি সবুজে ঘেরা একটি অন্যতম শান্তিপ্রিয় গ্রাম। গ্রামের মানুষের মধ্যে রয়েছে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। মানুষের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। মারামারি হানাহানি নেই বললেই চলে। গরমের কোন বিপদে সবাই একসাথে হয়ে সমাধান করার চেষ্টা করে। গ্রামে রয়েছে প্রচুর গাছপালা। রয়েছে প্রচুর বিশুদ্ধ বাতাস। গ্রামের ছেলেমেয়েরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পেশাগত জীবনে অনেক ভালো অবস্থায় আছে। বিসিএস ক্যাডার,ইঞ্জিনিয়ার,ডাক্তার,ব্যাংকার,শিক্ষক,হাফেজ,আইনজীবী,সরকারি-বড় বেসরকারি চাকুরীজীবি সবই আছে গ্রামে। শিক্ষিত,শান্তিপ্রিয় ও ভদ্র গ্রাম হিসেবে সুনাম রয়েছে গ্রামটির। প্রতি বছর গ্রামে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়। ওয়াজ মাহফিলে দেশের অনেক বড় বড় হুজুর,মাওলানা আসেন। গ্রামে প্রতিবছর ঘোড়াদৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।
অনেক ভালো জিনিসের মাঝে কিছু খারাপ লাগার ব্যাপার রয়েছে। গ্রামের রাস্তাঘাট খুব খারাপ। কিছু রাস্তা এখনো কাঁচামাটির। গ্রামের প্রধান রাস্তাটির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ইটের সলিং রাস্তাটির অনেক জায়গায় ভাঙ্গা। ২০-২৫ বছর আগে ইটের সলিং দেয়া হয় রাস্তাটিতে। তারপর আর কোনো মেরামত করা হয়নি রাস্তাটির। রাস্তার পাশে ড্রেনেজ সিস্টেম নেই। রাস্তাটি অনেক নিচু। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। তখন এই রাস্তা দিয়ে আশেপাশের অনেকগুলো গ্রামের মানুষের চলাচল করতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। গ্রামে অবস্থিত ২টি স্কুলের ছেলেমেয়ে ও শিক্ষকদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়।
যেসব রয়েছে:
১. প্রাথমিক বিদ্যালয়-১টি
২. উচ্চ বিদ্যালয় -১টি
৩. খেলার মাঠ - ১টি
৪. ঈদগাহ - ১টি
৫. গোরস্থান -১টি
৬. হাসপাতাল -১টি
৭. মসজিদ -৩টি
৮. মাদ্রাসা -2টি
৯. বাজার -১টি
১০. খাল -১টি
১১. ফসলের মাঠ - ৩টি
১২.পাঠাগার ০১ টি
যেসব নেই:
১. জিমনেসিয়াম
২. কলেজ
যেসবের উন্নতি প্রয়োজন:
১. প্রধান সড়ক টি নতুন করে উঁচু করে ড্রেনেজ সিস্টেমসহ পিচ/ঢালাই
২. গ্রামের অন্যান্য রাস্তাগুলো মেরামত
৩. কাঁচারাস্তাগুলো পাকাকরন
৪. গ্রামের খেলার মাঠের মেরামত(একটু বৃষ্টি হলেই পানি আটকে কাঁদা জমে যায়)
© Sheikh Enamul Haque