নওগাঁ জেলা

নওগাঁ জেলা নওগাঁকে জানি
নওগাঁকে জানাই It lies inside a walled enclosure with a monumental gateway with standing spaces for guards. School. Land under irrigation 61%.
(276)

নওগাঁ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ‘নও’ (নতুন -ফরাসী শব্দ ) ও‘ গাঁ’ (গ্রাম ) শব্দ দু’টি হতে । এই শব্দ দু’টির অর্থ হলো নতুন গ্রাম । অসংখ্য ছোট ছোট নদীর লীলাক্ষেত্র এ অঞ্চল । আত্রাই নদী তীরবর্তী এলাকায় নদী বন্দর এলাকা ঘিরে নতুন যে গ্রাম গড়ে উঠে , কালক্রমে তা-ই নওগাঁ শহর এবং সর্বশেষ নওগাঁ জেলায় রুপান্তরিত হয়। নওগাঁ শহর ছিল রাজশাহী জেলার অন্তর্গত । কালক্রমে এ এলাকাটি গ্রাম থেকে থানা এবং থানা থেকে মহকুমায় রুপ

নেয় । ১৯৮৪ এর ১ মার্চ- এ নওগাঁ মহকুমা ১১টি উপজেলা নিয়ে জেলা হিসেবে ঘোষিত হয় । বাংলাদেশ উত্তর -পশ্চিমভাগ বাংলাদেশ - ভারত আর্ন্তজার্তিক সীমা রেখা সংলগ্ন যে ভূখন্ডটি ১৯৮৪ খ্রিঃ এর ১ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত অবিভক্ত রাজশাহী জেলার অধীন নওগাঁ মহকুমা হিসেবে গণ্য হতো, তা - ই এখন হয়েছে বাংলাদেশের কন্ঠশোভা নওগাঁ জেলা ।
এক নজরে:.... নিচে বিস্তারিত
০১। নওগাঁ জেলায় উন্নীত হয়ঃ ১ মার্চ, ১৯৮৪ খ্রিঃ
০২। আয়তনঃ ৩,৪৩৫.৬৭ বঃকিঃ (১,৩২৬.৫২ বঃমাঃ)
০৩। লোক সংখ্যাঃ ২৩,৮৫,৯০০ জন ( পুরুষ-১২,৩০,০০০ জন এবং মহিলা-১১,৫৫,৯০০জন) (২০০১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী)
০৪। উপজেলার সংখ্যাঃ ১১ টি
০৫। পৌর সভার সংখ্যাঃ ০৩ টি
০৬। ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যাঃ ৯৯টি
০৭। গ্রামের সংখ্যাঃ ২৮৫৪টি
০৮। ভূ-প্রকৃতিঃ দোঁয়াশ/বরেন্দ্র
০৯। ধর্মঃ ইসলাম, সনাতন, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি
১০। উপজাতিঃ সাওতাল, উরাও, মুন্ডা, সুরিয়া পাহাড়ি, মাহালি, বাঁশফোড়, কুরমি ইত্যাদি
১১। বিখ্যাত ব্যক্তিঃ তালিম হোসাইন, তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী, মোজাফফর হোসাইন কাকি, বাবু, কুমুদ নাথ দাস, মোঃ আব্দুল জলিল, মোঃ আখতার হামিদ সিদ্দিকী
১২। কৃষিজাত খাদ্যঃ ইরি, বোরো, রোপা আমন, ইক্ষু, ভুট্রা, আলু, শরিষা,গম, আম, কলা ইত্যাদি
১৩। ক্ষুদ্র শিল্প কারখানাঃ ১২৮৬টি (অটোমেটিক রাইস মিল, হাসকিং মিল, আইস মিল, স-মিল ইত্যাদি)
১৪। নদীঃ ছোট যমুনা, আত্রাই, পুনর্ভবা
১৫। দর্শনীয় সহান সমূহঃ
১.কুসুম্বা মসজিদ (মান্দা)
২.পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (বদলগাছী)
৩. পতিসর কাছারী বাড়ী (আত্রাই)
৪. ভীমের পান্টি (ধামইরহাট)
৫. দিব্যক জয়স্তম্ভ (পত্মীতলা)
৬. মাহিসন্তোষ(ধামইরহাট)
৭. বলিহার রাজবাড়ী (নওগাঁসদর)
৮. আলতাদিঘী (ধামইরহাট)
৯. জগদল বাড়ী (ধামইরহাট)
১০. হলুদ বিহার (বদলগাছী)
১১. দুবলহাটী জমিদারবাড়ী (নওগাঁ সদর)
১৬। ডাক বাংলোঃ ১৩ টি
১৭। বি, ও পিঃ ২৬ টি
১৮। সিনেমা হলঃ ২১ টি
১৯। টেলিফোন একচেঞ্জঃ ১২ টি
২০। মসজিদঃ ৪,৫৭০ টি
২১। মন্দিরঃ ৫৪২ টি
২২। গির্জাঃ ৫৩ টি
২৩। রাস্তাঃ
(ক) সড়ক ও জনপথ বিভাগেরঃ ৫১৬ কিঃমিঃ (পাকা-৪০১.২৫ কিঃমিঃ, এইচবিবি- ১৫কিঃমিঃ , কাঁচা- ৯৯.৭৫ কিঃমিঃ)
(খ) এলজিইডি এরঃ ৫০৪৮ কিঃমিঃ(পাকা-১১৯১ কিঃমিঃ, এইচবিবি-১৭৫কিঃমিঃ , কাঁচা- ৩৬৮২ কিঃমিঃ)
(গ) জেলা পরিষদেরঃ ১৬৯৩.৭৫ কিঃমিঃ (পাকা ,এইচবিবি ও কাঁচা সহ)
২৪। রেল পথঃ ২৭ কিঃমিঃ
২৫। রেলওয়ে স্টেশনঃ ৩ টি ( রাণীনগর , শাহাগোলা ও আহসানগঞ্জ )

শিক্ষা বিভাগ
০১। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৭৯৪ টি
০২। রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৪৮২ টি
০৩। সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ৪ টি
০৪। বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৩৭৫ টি
০৫। বেসরকারী নিমণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৭৫ টি
০৬। বিশ্ববিদ্যালয় কলেজঃ ১ টি
০৭। সরকারী মহাবিদ্যালয়ঃ ৬ টি
০৮। বেসরকারী মহাবিদ্যালয়ঃ ৭৪ টি
০৯। বেসরকারী কৃষি কলেজঃ ২টি
১০। কামিল মাদ্রাসাঃ ২ টি
১১। ফাজিল মাদ্রাসাঃ ৩৩ টি
১২। আলিম মাদ্রাসাঃ ৪০ টি
১৩। দাখিল মাদ্রাসাঃ ২০২ টি
১৪। সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজঃ ১টি
১৫। এস,এস,সি (ভোকেশনাল) স্কুলঃ ৩৮ টি
১৬। এইচ,এস,সি ( বি,এম ) কলেজঃ ৪৪ টি
১৭। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পি,টি,আই)ঃ ১টি
১৮। পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটঃ ১টি
১৯। শিক্ষার হারঃ গড় - ৬২.৫২% ( পুরুষ- ৬৬.৪৩% এবং মহিলা- ৫৮.৬০%)

কৃষি বিভাগ
০১। মোট জমির পরিমাণঃ ৩,৫০,৬৫১ হেঃ
০২। আবাদী জমির পরিমাণঃ ২,৭৩,৮৩২ হেঃ
০৩। এক ফসলী জমির পরিমাণঃ ৪৪,৪৮৬ হেঃ
০৪। দো- ফসলী জমির পরিমাণঃ ১,৬৩,৮৯৩ হেঃ
০৫। তিন ফসলী জমির পরিমাণঃ ৬১,২০৫ হেঃ
০৬। আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণঃ ২,৮৩৩ হেঃ
০৭। সেচের আওতাধীন জমির পরিমাণঃ ২,১২,৪৫৬ হেঃ
০৮। চাষী পরিবারের সংখ্যাঃ ৪,৬৪,১২৮ টি

মৎস্য ও পশু সম্পদ বিভাগ
০১। মৎস্য ও পোনা উৎপাদন খামারঃ
(ক) সরকারী-৩ টি (১টি নিজস্ব ও ২টি ইজারা প্রদত্ত)
(খ) বেসরকারী- ২৬টি
০২। মোট আবাদী পুকুরের সংখ্যাঃ ৪৩,৮৬০ টি
০৩। মৎস্য চাষের আওতাধীন পুকুরের সংখ্যাঃ ৪৩,৮৬০ টি
০৪। পশু চিকিৎসালয়ঃ ১১ টি
০৫। কৃত্রিম প্রজনন উপ-কেন্দ্রঃ ১১টি
০৬। কৃত্রিম প্রজনন পয়েন্টঃ ২৮ টি
০৭। পশু কল্যাণ কেন্দ্রঃ ২১ টি

রাজস্ব বিভাগ
০১। উপজেলা ভূমি অফিসঃ ১১ টি
০২। ইউনিয়ন ভূমি অফিসঃ ৪৮ টি
০৩। খাস জমির পরিমাণঃ
(ক) কৃষি- ৩২,৪৯৪.৩৭৪৭ একর
(খ) অকৃষি ১৫,৫৯৬.৯১৫৩ একর মোট = ৪৮,০৯১.২৯০০ একর
০৪। ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যাঃ ১,৩২,০৮০ টি
০৫। আদর্শ গ্রামের সংখ্যাঃ ১৭ টি
০৬। আবাসনের সংখ্যাঃ ১৮ টি
০৭। আশ্রায়নের সংখ্যাঃ ১০টি
০৮। খাস পুকুরের সংখ্যাঃ ৭,৭০৫ টি
০৯। হাট বাজারের সংখ্যাঃ ২১৩ টি
১০। জলমহালের সংখ্যাঃ ২২ টি
১১। বালু মহালের সংখ্যাঃ ১৪ টি
১২। খেয়াঘাটের সংখ্যাঃ ৭৫ টি

সেচ ব্যবস্থা
০১। গভীর নলকূপের সংখ্যাঃ ৩,৭১৬ টি
০২। অগভীর নলকূপের সংখ্যাঃ ৬৮,৮১৮ টি
০৩। শক্তি চালিত পাম্পের সংখ্যাঃ ৩,০২১ টি
০৪। অন্যান্যঃ ৮৫৫ টি

স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা বিভাগ
০১। আধুনিক সদর হাসপাতালঃ ১ টি
০২। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সঃ ১০টি
০৩। ইউনিয়ন সাব সেন্টারঃ ৪০ টি
০৪। পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (এফডব্লিউসি): ৬১ টি
০৫। এম,সি, ডবিস্নউ, সিঃ ২টি

খাদ্য বিভাগ
০১। এল,এস, ডি - এর সংখ্যা : ১৯ টি (মোট ধারণ ক্ষমতা ৩৪,২৫০ মেঃ টন)

নওগাঁ প্রাচীন পৌন্ড্রবর্ধন ভূক্ত অঞ্চল ছিল। অন্য দিকে এটি আবার বরেন্দ্র ভূমিরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ । নওগাঁর অধিবাসীরা ছিল প্রাচীন পুন্ড্র জাতির বংশধর । নৃতাত্বিকদের মতে , পুন্ডরা বিশ্বামিত্র বংশধর এবং বৈদিক যুগের মানুষ । মহাভারত পুন্ড্রদের অন্ধ ঋষি দীর্ঘতমার ঔরষজাত বলি রাজার বংশধর বলে উল্লেখ করা হয়েছে । আবার কারো মতে, বাংলার আদিম পাদদর বংশধর রুপে পুন্ড্রদের বলা হয়েছে । এদিক দিয়ে বিচার করলে নওগাঁ যে প্রাচীন জনগোষ্ঠির আবাসস্থল ছিল তা সহজেই বলা যায় ।
নওগাঁ জেলা আদিকাল হতেই বৈচিত্রে ভরপুর । ছোট ছোট নদী বহুল এ জেলা প্রাচীনকাল হতেই কৃষি কাজের জন্য প্রসদ্ধি । কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এলাকায় বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে অসংখ্য জমিদার গোষ্ঠী গড়ে উঠে । এ জমিদার গোষ্ঠীর আশ্রয়েই কৃষি কাজ সহযোগী হিসেবে খ্যাত সাঁওতাল গোষ্ঠীর আগমন ঘটতে শুরু করে এ অঞ্চল । সাঁওতাল গোষ্ঠীর মতে এ জেলায় বসবাসরত অন্যান্য আদিবাসীদের মধ্যে মাল পাহাড়িয়া, কুর্মি,মহালী ও মুন্ডা বিশেষভাবে খ্যাত । নানা জাতি ও নানা ধর্মের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত নওগাঁ জেলা মানব বৈচিত্র্যে ভরপুর । অসংখ্য পুরাতন মসজিদ , মন্দির,গীর্জা ও জমিদার বাড়ি প্রমাণ করে নওগাঁ জেলা সভ্যতার ইতিহাস অনেক পুরাতন ।

নওগাঁ জেলাঃ প্রশাসনিক বিবর্তন :
পটভূমি (ক) জেলা প্রশাসন : পলাশী পরবর্তী অষ্টাদশ শতাব্দীর বঙ্গদেশে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানির লাগামহীন শোষণ নিপীড়ণ অত্যাচারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত গণঅসন্তোষ বার বার সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়। দীর্ঘস্থায়ী ফকির বিদ্রোহ (১৭৬৩-১৮০০), ত্রিপুরায় সমশের গাজী, সন্দীপের আবু তোরাপ, রংপুরের নূরলদীনের মতো বিদ্রোহী নেতাদের আবির্ভাব, সংঘাত ও সংঘর্ষ কোম্পানি শাসনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে (১৭৬৯-৭০) বাংলার এক কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, এক-তৃতীয়াংশ জমি অনাবাদের জন্য জনহীন অরণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছিল। মফস্বলে দস্যু তস্করের উপদ্রব ভয়ানক বৃদ্ধি পেয়েছিল। বহু জেলায় রাজস্ব আদায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
পরাধীন বাংলার সেই মর্মন্তুদ প্রেক্ষাপটে ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২-১৭৮৩)-এর সময় থেকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে লর্ড কর্ণওয়ালিসের আমলে (১৭৮৬-’৯৬) এসে ইংল্যান্ডের জেলা ব্যবস্থার অনুকরণে এদেশে আধুনিক জেলা প্রশাসন প্রবর্তিত হয়। ১৭৯৩ এর কর্ণওয়ালিস কোড অনুসারে পূর্বতন জেলার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী কালেক্টরের স্থলে প্রতি জেলায় একজন করে জেলা জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। জজের অধীনে একজন রেজিস্ট্রার ও কয়েকজন মুন্সেফ বা ‘নেটিভ’ কমিশনার নিযুক্ত হন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব জমিদারদের বদলে কোম্পানির কর্মচারিদের উপর ন্যস্ত হয়। কয়েক ক্রোশ পরপর থানা স্থাপন করে একজন দারোগার উপর থানার ভার দেওয়া হয়। বৃহদায়তন জেলাগুলোর সীমানা রদবদল করে নতুন জেলা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পটভূমি (খ) মহকুমা প্রশাসন : কর্ণওয়ালিস প্রবর্তিত জেলা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বিঘ্ন করা। সে জন্যই নতুন জেলা প্রতিষ্ঠার আবশ্যকতা দেখা দেয়। কিন্তু সেটা ছিল যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ। কোম্পানির লক্ষ্য ছিল কম খরচে বেশি মুনাফা অর্জন। তাই নতুন জেলা গঠনের প্রক্রিয়াকে মন্থর করে ১৮১০ সালের ১৬ রেগুলেশন অনুযায়ী একই জেলার দূরবর্তী অঞ্চলে প্রয়োজন বোধে আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদ সৃষ্টি করা হয়। এরকম গোঁজামিল ব্যবস্থার পরিবর্তে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিক (১৮২৮-’৩৫) বড় জেলাগুলোর দূরবর্তী অঞ্চলে সাবডিভিশনাল অফিসার নিয়োগ করেন। বড় গ্রাম, হাটবাজার বা জমিদারী কাচারির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাবডিভিশন বা মহকুমা কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। পরে মহকুমাগুলোতে অ্যাসিস্টেন্ট কালেক্টর ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। ১৮২৫ খ্রিঃ রাজশাহী জেলা সদর নাটোর থেকে রামপুর বোয়ালিয়াতে স্থানাত্মরিত হয়। ১৯২৯ হতে নাটোর একটি স্বতন্ত্র মহকুমার মর্যাদা লাভ করে। ১৮৫৬ সালে এরকম মহকুমার সংখ্যা দাঁড়ায় তেত্রিশ। অন্যদিকে, বলতে গেলে, বেন্টিং এর আমল থেকেই, বাংলার নানা স্থানে পুনরায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। ওয়াহাবী আন্দোলন, তিতুমীরের সংগ্রাম, গারো বিদ্রোহ, ফরাজী বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহে দেশের মাটিতে বহু রক্ত ঝরে। তার পরে পরেই সারা বাংলায় প্রবল নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-’৬১) দেখা দেয়। এমতাবস্থায় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট গভর্ণর সার জন পিটার গ্রান্ট (১৮৫৯-’৬২) প্রবর্তিত ব্যবস্থা জেলা ও থানার মধ্যবর্তী সমন্বিত এক প্রশাসনিক দপ্তর হিসেবে জেলাগুলোকে মহকুমায় বিভক্ত করা শুরু হয়।
(গ) নওগাঁ মহকুমাঃ গঠন ও বিস্তার : তৎকালীন রাজশাহী জেলার উত্তর প্রামেত্ম মান্দা, নওগাঁ ও পাঁচুপুর- এই তিনটি মাত্র থানা নিয়ে ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮১ সালের পর বেঙ্গল সেন্সাস রিপোর্ট অনুযায়ী এর আয়তন ছিল ৬০৩ বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা ২,৬৮,৫৭৯ জন মাত্র। যতদূর জানা যায়, ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দেও নওগাঁ বান্দাইখাড়া থানাধীন একটি ছোট নদী বন্দর ছিল মাত্র। সম্ভবত মহকুমা সদর নির্বাচিত হওয়ায় তার অব্যবহিত পূর্বে থানা বান্দাইখাড়া থেকে নওগাঁয় স্থানাত্মরিত হয়। এর আগে বান্দাইখাড়া এবং মান্দা থানা রাজশাহী সদর মহকুমার অধীনে ছিল। ১৮৭৫ পর্যন্ত পাঁচুপুর বলে পৃথক কোন থানার নাম পাওয়া যায়না। নওগাঁ মহকুমা গঠন কল্পে প্রধানতঃ নাটোর মহকুমাধীন বিশালাকার সিংড়া থানার অংশ বিশেষ এবং সন্নিহিত অন্যান্য এলাকা থেকে কিছু অংশ নিয়ে ১৬৫ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট পাঁচুপুর থানা গঠিত হয়। এর লোক সংখা দাঁড়ায় ৭৯,৪৩১ জন মাত্র। মান্দা অবশ্য একটি পুরাতন থানা। ১৮৮১-র প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুসারে তখন এর আয়তন ২৯৯ বর্গমাইল এবং লোক সংখ্যা ১,০৩,৩০৮ জন ছিল। ১৮৭২-র তুলনায় ১৮৮১-তে মান্দা থানার সীমানায় সাইত্রিশ এবং নওগাঁ থানার সীমানায় (বান্দাইখাড়ার তুলনায়) এক বর্গমাইল বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।ঐ সময়ের জেলা সীমানা অনুসারে পাঁচুপুর-নওগাঁ-মান্দা এলাকাটি কেবল রাজশাহী জেলার নয়, মালদা জেলার পূর্ব, দিনাজপুর জেলার দক্ষিণ এবং বগুড়া জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল ছিল। প্রত্যেকটি জেলা সদর থেকে বহুদূরে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটিতে দস্যুতস্করের উপদ্রব ছিল। কিন্তু মনে হয়, এখানকার রাজনৈতিক তৎপরতাই ব্রিটিশ শাসকদের বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল। সেকালে বর্তমান রাণীনগর উপজেলার অন্তর্গত বাহাদুরপুর ও তৎসংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম ছিল ওয়াহাবী তৎপরতার ঘাঁটি স্বরূপ। রাজশাহী শহরের সামান্য উত্তরে অবস্থিত সোমাপুরা গ্রামের ওয়াহাবী ঘাঁটির সঙ্গে এখানকার গোপন যোগাযোগ ছিল। তখন মান্দা ও আত্রাই এলাকায় প্রচুর নীলের চাষ হত। বর্তমান আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ, রাণীনগরের চকউজীর, মান্দার জোকাহাট-ডাসপাড়া ও কালিকাপুর নীলকুঠি বিখ্যাত ছিল। ১৮৫৯-৬১ সালের নীল বিদ্রোহ এই অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৮৫৯-৬১ সালের নীল বিদ্রোহ এই অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সংগ্রামী নীল চাষীদের হাতে নাজেহাল ইংরেজ কুঠিয়ালরা তখনকার মতো নীল চাষ গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এসব অরাজকতা(!) রোধকল্পেই সম্ভবত এখানে একটি নতুন মহকুমা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু মহকুমা সদরের স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রথমে বেশ বিভ্রাট বেধেছিল বলে মনে হয়। নওগাঁ মহকুমা গঠনের আগে থেকে থানা সদর বান্দাইখাড়াতে একটি মুন্সেফ চৌকি প্রতিষ্ঠিত ছিল। চকদেবের (মরহুম) শেখ ইমান উদ্দিন জানিয়েছেন মান্দা থানার নুরুলস্নাবাদেও একটি মুন্সেফ চৌকি ছিল। মুন্সেফগণ তখন ফৌজদারি মামলারও বিচার করতেন। ১৮৭৯ খ্রিঃ নর্দাণ বেঙ্গল রেলপথ চালু হবার আগে ভাগীরথী-পদ্মা নৌপথই ছিল রাজধানী কলকাতার সঙ্গে জেলা সদর রাজশাহীর যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন। ঐ পথে সহজে যাতে নতুন মহকুমা সদরে পৌঁছা যায় সেজন্য রাজশাহীর অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী স্থান মান্দা থানার এলেঙ্গা গ্রামে প্রথমে মহকুমা অফিস স্থাপন করা হয়। গ্রামটি এখন প্রসাদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত। সেকালে মান্দা অঞ্চলে ডাকাতদের তৎপরতা বৃদ্ধি ও সেখানে মহকুমা সদর কার্যালয় স্থাপনের অন্যতম কারণ হতে পারে। বর্তমান মান্দা থানা ও ডাকবাংলার পার্শ্ববর্তী একটি স্থানকে লোকে ডাকিনীতলা বলে। সাধু ব্যবহারে একে দক্ষিণতলা বলা হয়। কথিত আছে যে, পূর্বে ডাকাতি করতে যাবার সময় ডাকাতরা সেখানে মহিমাময়ী দক্ষিণী মা দুর্গার উদ্দেশ্যে ছাগবলি দিত। ‘দক্ষিণী’ শব্দটি ‘দাক্ষায়নী’ (সতী)-র অপভ্রংশ হতে পারে। তখন থানা সদর মাইল ছয় পশ্চিমে ঠাকুরমান্দাতে ছিল। মহকুমা সদর বেশ কিছুকাল এলেঙ্গা গ্রামেই ছিল। এদিকে ১৮৭৪-৭৫ সালে নর্দাণ বেঙ্গল রেলপথের কাজ শুরু হয়ে যায়। রেলপথ স্থাপন সুনিশ্চিত জেনে মহকুমার প্রান্তসীমায় অবস্থিতি সত্ত্বেও যোগাযোগ সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে রেলপথের নিকটবর্তী বন্দর নওগাঁয় তা স্থানান্তর করা হয়। নওগাঁ মহকুমা কার্যালয়ের পুরানো কাগজপত্রে যে রাবার সীলের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে তা সবই ১৮৮২ খ্রিঃ এর। ফলে কেউ কেউ ভুল করে ঐ বছরকে মহকুমার প্রতিষ্ঠাকাল ভেবেছেন। এটা ঠিক নয়। তবে এমন হতে পারে যে, ঐ বছরই মহকুমা সদর এলেঙ্গা থেকে নওগাঁয় স্থানান্তরিত হয়েছিল কোন নিশ্চিত হতে নেই।
নওগাঁয় মহকুমা সদর স্থাপন বা স্থানান্তরের পেছনে যোগাযোগ সুবিধা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থ নিহিত ছিল বলে জানা যায়। নওগাঁর প্রাক্তন মহকুমা প্রশাসক (১৯৩১-’৩৩) ও বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য লেখক অন্নদাশঙ্কর রায় বলেন, ‘নওগাঁ মহকুমা সৃষ্টির মূলে গাঁজার চাষ।’ তৎকালীন জেলা সীমানা অনুসারে যমুনা নদী বালুভরার নিকট থেকে শুরু করে নওগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে প্রায় পনেরো মাইল দক্ষিণ অবধি বগুড়া ও রাজশাহী জেলার মাঝে সীমারেখা এঁকে প্রবাহিত হবার পরে পুরোপুরি রাজশাহী জেলায় প্রবেশ করতো। অর্থাৎ যমুনার পূর্বতীরবর্তী পার-নওগাঁ, সুলতানপুরসহ দক্ষিণে রঘুরামপুরের (এখন সাহাগোলা) সন্নিহিত পশ্চিম এলাকা পর্যন্ত বগুড়া জেলার অর্ন্তগত। বালুভরা এবং বদলগাছির সংলগ্ন কয়েকটি পশ্চিম তীরবর্তী গ্রাম বদলগাছি থানার মধ্যে থাকলেও ঐ থানা প্রধানত যমুনার পূর্বতীরে বিস্তৃত ছিল। বদলগাছি থানা তখন বগুড়া জেলার অধীনে ছিল। পূর্বে বগুড়া জেলার বদলগাছি এবং পশ্চিমে দিনাজপুর জেলার মহাদেবপুর থানার মধ্যবর্তী একটি সঙ্কীর্ণ গলি হয়ে নওগাঁ থানার সীমানা সম্ভবত চাকরাইলেরও উত্তর অবধি প্রসারিত ছিল। ১৯১৩-১৪ খ্রিঃ -এর জরিপ মানচিত্র অনুসারে বর্তমানে বদলগাছি থানার অর্ন্তগত চাকরাইল নওগাঁ থানার অধীনে ছিল। নওগাঁ মহকুমা সদর হবার পরেও বেশ কিছুকাল মুন্সেফকোর্ট বান্দাইখাড়াতে ছিল বলে জানা যায়। সম্ভবত সে কারণেও থানা নওগাঁয় স্থানান্তরিত হলেও সেখানে একটি পুলিশ আউটপোস্ট থেকে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী নন্দনালী গ্রামে স্বতন্ত্র থানা হয়। ১৯৪৭ এর দু’এক বছর পূর্বে এটিও আউটপোস্টে পরিণত হয় এবং ১৯৭১ এর স্বাধীনতার পরে সম্পূর্ণ উঠে যায়। ১৮৯৬-৯৭ খ্রিঃ নওগাঁ মহকুমার সীমানা ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। ঐ সময় দিনাজপুর জেলা থেকে মহাদেবপুর থানাকে এবং বগুড়া জেলা থেকে বদলগাছি থানাকে রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত করা হয়। বগুড়া জেলার আদমদিঘি এবং নবাবগঞ্জ থানার অনেক এলাকাও নওগাঁ মহকুমার অর্ন্তভুক্ত হয়। পার-নওগাঁ, সুলতানপুরসহ যমুনার পূর্বতীরের বিস্তৃত এলাকায় নওগাঁর সীমানা প্রসারিত হয়। বদলগাছি থানা ১৮২১ খ্রিঃ বগুড়া জেলা গঠনের পূর্বে দিনাজপুর জেলার অর্ন্তভুক্ত ছিল। বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগেই নওগাঁ মহকুমার থানাগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যস্ত হয় এবং নতুন কয়েকটি থানা গঠিত হয়। ১৯১১-১২ খ্রিঃ সম্ভবত পাঁচুপুর ও নওগাঁর অংশবিশেষ নিয়ে রাণীনগর একটি নতুন থানা হয়। তারপরে মান্দা থানা সদর ঠাকুরমান্দা থেকে সরিয়ে এনে আত্রাই নদীর পশ্চিম তীরে দোসতি গ্রামের বর্তমান জায়গায় স্থাপন করা হয়। মান্দার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে নিয়ামতপুর থানা গঠিত হয়। একইভাবে তৎকালীন দিনাজপুর জেলার পত্নীতলা থানার উত্তর পূর্বাঞ্চল নিয়ে নতুন ধামুইরহাট থানা স্থাপিত হয়। নওগাঁ মহকুমা গঠনের আগে থেকেই আত্রাই একটি নদী বন্দর ছিল। ১৯২৯ এর মধ্যে পাট ব্যবসায়ে আত্রাই বেশ সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সেখানকার পাট ব্যবসায়ী আহসান মোল্লা প্রভূত অর্থ ও প্রতিপত্তির অধিকারী হন। তাঁরই প্রভাবে পাঁচুপুর থানা সদর আত্রাই ঘাটে স্থানান্তরিত হয়, নামও বদলে যায়। অন্যদিকে পাঁচুপুর থানার পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীদের দীর্ঘ দিনের দাবী অনুসারে এর কিছু এলাকা বগুড়া জেলার সঙ্গে যুক্ত করে সম্ভবত ১৯৩৫ সালে নন্দীগ্রাম পৃথক থানা হয়।১৯৪৯ খ্রিঃ পুনরায় নওগাঁ মহকুমার উল্লেখযোগ্য বিস্তৃতি ঘটে। ১৯৪৭ এর র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুসারে দিনাজপুর জেলার পোরশা, পত্নীতলা ও ধামুরহাট থানা বগুড়া জেলার অর্ন্তভুক্ত হয়। ১৯৪৯ সালে পোরশা রাজশাহী জেলার নবাবগঞ্জ মহকুমার এবং পত্নীতলা ও ধামুরহাট নওগাঁ মহকুমার সঙ্গে যুক্ত হয়। নওগাঁ মহকুমার সর্বশেষ সীমানা বিস্তারের ঘটনাটি সাম্প্রতিক। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী অনুসারে ১৯৮০ সালে পোরশা থানাকে নওগাঁ মহকুমার অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এবং একই বছর ২রা জুলাই এর উত্তর ভাগের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন সাপাহার থানা গঠিত হয়।
(ঘ) নওগাঁ জেলার জন্ম বেদনা : উত্তরবঙ্গের একটি সমৃদ্ধ মহকুমা হিসেবে নওগাঁকে জেলা করার দাবীটি বেশ পুরোনো। বৃটিশ আমলের শেষ ভাগ হতেই এ রকম একটি আকাংক্ষা লালন করা হচ্ছিল।বস্তুত বিভিন্ন সময়ে নওগাঁ মহকুমার সঙ্গে বিস্তৃত এলাকা যুক্ত হওয়াতে একে জেলায় উন্নীত করার দাবীটি যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য হয়ে উঠেছিল। আয়তনের ব্যাপক প্রসারতার জন্য ১৯৫৯ সালেই নওগাঁ পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর এই তিনটি সার্কেলে বিভক্ত ছিল। কিন্তু বিদেশী শাসনামলে নওগাঁ জেলা গঠনের ন্যায়সঙ্গত দাবীটি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছিল। ১৯৭১-র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের দ্বারা পাকিস্তানি বর্বরতার কবলমুক্ত হবার পরে বাংলাদেশের সমস্ত মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার দাবী উত্থাপিত হয়। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলও মহকুমাগুলোকে (সাংগঠনিক) জেলা হিসেবে উল্লেখ করতে থাকে। অবশেষে সরকারিভাবে ১৯৭৫ সালে মহকুমাগুলো জেলায় উন্নীত হয়। প্রতি জেলায় একজন ‘জেলা গভর্ণর ’ নিযুক্ত হন। কিন্তু এই ব্যবস্থা কার্যকর হবার পূর্বেই ঐ বছর পনের আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শহীদ হন। পরিণামে সবকিছুই ভন্ডুল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে পুনরায় নওগাঁকে জেলায় উন্নীত করার দাবী উত্থাপিত হতে থাকে। নওগাঁর বিভিন্ন স্তরের লোক নিয়ে জেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। এই পর্যায়ে সরকার নওগাঁ জেলা গঠনের দাবীটি নীতিগতভাবে মেনে নেন। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৮০-৮১ সালের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষসহ টিনের ছাউনিযুক্ত অফিসসমূহের নির্মাণ কাজও সম্পূর্ণ হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মাত্র বাকি। এমন সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন। নওগাঁকে জেলা করার কার্যক্রমটি আবারও পিছিয়ে যায়।
১৯৮২-তে সামরিক ক্ষমতা হাতে নেবার পরে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নীতি ঘোষণা করেন। তাতে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে সাবেক থানা সার্কেলগুলো সর্বাধিক গুরুত্ব লাভ করে। সেগুলো প্রথমে মান উন্নীত থানায় ও পরে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। অতঃপর সরকার মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ১৯৮৩-র শেষভাগ হতে ৮৪-র প্রথম ভাগের মধ্যে যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে সাবেক মহকুমাগুলো জেলায় রূপান্তরিত হয়। তারই এক পর্যায়ে ১৯৮৪-র পহেলা মার্চ বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী ড. শাফিয়া খাতুন আনুষ্ঠানিকভাবে নওগাঁ জেলা উদ্বোধন করেন।




শহর নওগাঁর রূপ-রূপান্তর:
(ক) অবস্থান : নওগাঁ জেলার সদর কার্যালয় ও প্রধান শহর নওগাঁ। ক্ষীণকায়া উপনদী ‘যমুনা’-র পশ্চিম তীরে মোটামোটিভাবে ২৪ডিগ্রী-৪৯ইঞ্চি উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮ ডিগ্রী- ৫৭ ইঞ্চি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত এই শহর বাংলাদেশের নব পর্যায়ের জেলা শহরগুলোর তুলনায় বেশ সমৃদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও মনোরম। জেলার এক প্রান্তে দীর্ঘ পূর্ব সীমানার প্রায় মধ্য ভাগে নওগাঁ এর অবস্থান। শহরের কেন্দ্রস্থল হতে মাত্র চার মাইল পূর্বে বগুড়া জেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন।
(খ) নামকরণ : নওগাঁ নামের গ্রাম হতেই নওগাঁ শহর; নওগাঁ শহরের নাম অনুসারে সাবেক নওগাঁ থানা ও মহকুমা এবং বর্তমান উপজেলা ও জেলার নামকরণ। কিন্তু এই জনপদের নাম নওগাঁ কেন হয়েছিল সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ নয়। প্রচলিত মত এই যে, সন্নিহিত নয়টি চক বা জনবসতি সমন্বয়ে গঠিত নয় গাঁ কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে নওগাঁ নাম ধারণ করেছে। এটি অসম্ভব কোন ব্যাপার নয়। অশিক্ষিত নওগাঁবাসী এক থেকে আট পর্যন্ত ঠিকমত উচ্চারণ করার পর নয়কে বলেন ‘নও’ বা ‘লও’। নওগাঁ পৌর এলাকা বর্তমানে যথেষ্ট সম্প্রসারিত হলেও শহরের কেন্দ্র এবং তৎসন্নিহিত খাস-নওগাঁ, হাট-নওগাঁ, পার-নওগাঁ, আরজী-নওগাঁ, চক ইলাম, চকদেব, চক এনায়েত, চকমুক্তার ও গঞ্জ নওগাঁই সাধারণভাবে নওগাঁ শহর হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। ১৯২০ সালের ক্যাডাস্ট্রিয়াল সার্ভে রেকর্ডে নওগাঁগঞ্জ নামে একটি পৃথক মৌজা ছিল। এখন বিলুপ্ত। চল্লিশ বছর পূর্বেও বাঙ্গাবাড়ি নওগাঁ শহরের মধ্যে গণ্য হতনা। তখন তা দূর্গাপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত ছিল। অবশ্য একটি জনপদের প্রারম্ভিক পতনকালে নতুন অর্থে সংস্কৃত ‘নব’ থেকে জাত হিন্দি ‘নয়া’ কিংবা ফরাসি ‘নও’ (যেমন- নওরোজ, নওশা) শব্দের সঙ্গে গ্রাম > গাঁও>=গাঁ শব্দ যুক্ত হয়েও নওগাঁ নামের উৎপত্তি হওয়া সম্ভব। নওগাঁ নামের বানান এবং উচ্চারণে বেশ বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। ১২৯৫ বঙ্গাব্দে শ্রী মুন্সী শুকরুলস্না তরফদার কর্তৃক প্রণীত একটি বাংলা অর্থ পুস্তকে নওগাঁকে নওগাঁও বলা হয়েছে। অন্যত্র এ রকম ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। শহর সন্নিহিত গ্রামবাসীদের অনেকে একে ‘লগাঁও’ বলেন।
(গ) প্রাচীন ইতিহাস : নওগাঁ শহরের এক মাইল পশ্চিমে চকবাড়া গ্রামের একটি পুকুরে ১৯৭০ খ্রিঃ একটি পাথরের মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল। ঐ গ্রামের আর একটি পুকুরে বাঁধানো ঘাট রয়েছে। এর প্রাচীন ইতিহাস অজ্ঞাত। সন্দেহ নেই এটি একটি প্রাচীন জনপদ। গ্রামটির পাশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হত বলে মনে হয়। হয়ত এখানকার নওগাঁ শহরের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। তবে এ থেকে এ এলাকায় জনবসতির প্রাচীনত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।১৯৩২ খ্রিঃ প্রকাশিত একটি ক্ষুদ্র পুসিত্মকাসূত্রে জানা যায় যে, নওগাঁ শহরের প্রাচীন অধিবাসী তরফদারগণ নাকি এখন থেকে চার শতাধিক বৎসর পূর্বে সুদূর আজমীর (মতান্তরে বাগদাদ) থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করেন এবং পরবর্তীকালে মুর্শিদাবাদের নবাব সরকার হতে ‘তরফদার’ খেতাব পান। নবাবী আমলের বহু পূর্বেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে না উঠলে তাদের পূর্ব পুরুষ নওগাঁয় এসে বসতি স্থাপন করবেন কেন? ১৭৬৪ খ্রিঃ. জেমস রেনেল বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধিকৃত এলাকাসমূহের জরিপ কাজ আরম্ভ করেন। ‘মেজর রেনেল অতি নিপুণ হস্তে তার কাজ সমাধা করে ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের প্রথম ভূচিত্রাবলী প্রকাশ করেন।’ (বাঙলাদেশ-৫৩)
রেনেলের মানচিত্রে একটি নদী বন্দর হিসেবে নওগাঁর সুষ্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। রাজস্ব বিভাগের পুরাতন দলিলপত্রানুসারে ১৭৮২ খ্রিঃ নওগাঁয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি ফ্যাক্টরি ছিল। ফ্যাক্টরিটি কুমারখালি কুঠির তত্ত্ববাধানে পরিচালিত হত। সেটি যে কি ঠিক কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। উত্তরণের পথে- পূর্বাপর ১৮৩৪ সালে নওগাঁ ছিল দুবলহাটী থানার অধীন। ১৮৭২ এর পূর্বেই কোন এক সময় থানা সদর বান্দাইখাড়াতে স্থানান্তরিত হয়। নওগাঁর সংলগ্ন, যমুনা নদীর পূর্ব তীরবর্তী সুলতানপুর তখন বগুড়া জেলার অধীন। সুলতানপুর দুপচাঁচিয়ার আনন্দনাথ চৌধুরীর এবং দুবলহাটির জমিদারীর অর্ন্তগত ছিল। চাউলের ব্যবসায় এবং ইংরেজ বণিকদের রেশম কেনাবেচার জন্যে সুলতানপুর বাজারের যথেষ্ট প্রসিদ্ধি ছিল। কিন্তু ঐ বাজারে খাজনা ভাগাভাগি নিয়ে দুই জমিদারের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। কুপিত দুবলহাটির রাজা নিজ এলাকা নওগাঁয় পাল্টা বাজার বসান এবং তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবে নওগাঁর বাজার দ্রুত জমে ওঠে। সুলতানপুর তৃতীয় শ্রেণীর একটি গ্রাম্য বাজারে পরিণত হয়। অচিরে নওগাঁ বাজার রাজশাহী জেলার উত্তরাঞ্চলের তো বটেই বগুড়া জেলার পশ্চিমাঞ্চলের পক্ষেও নদীপথে পণ্য আমদানীর একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বদলগাছি ও আদমদীঘির উৎপাদিত চালের প্রধানতম বাজার তখন নওগাঁ।
এই সময় থেকেই নওগাঁ শহরে অর্থনৈতিক তৎপরতা প্রবল হয়ে ওঠতে থাকে। মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হবার আগেই সুদূর রাজস্থানের বিকানির থেকে কয়েকজন ভাগ্যান্বেষী মাড়োয়ারী নওগাঁ শহরে এসে ব্যবসায় শুরু করেন এবং শূন্য হাতে এসে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা কয়েক বছরের মধ্যে প্রচুর টাকা পয়সার মালিক হন। নওগাঁর কাজী পরিবারের অবস্থা তখন তুঙ্গে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত বস্ত্তত নওগাঁর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন মাড়োয়ারীগণ এবং কাজী পরিবার। প্রবাদ ছিল যে নওগাঁ শহরের বারো আনা মাড়োয়ারীদের আর কাজীদের, বাকি চার আনা অন্যদের। সুলতানপুরের পাল্টা বাজারটি প্রথমে নওগাঁর ডালপট্টি এলাকায় বসতো। বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক পর্যন্ত তা সেখানেই ছিল বলে জানা যায়। দুবলহাটীর জমিদারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই নতুন বাজারের বিকাশে তৎকালে উদীয়মান প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তিনকড়ি সাহা, বলাই সাহা, মহেশ সাহা এবং পার-নওগাঁর মাতম বানিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নওগাঁতে মহকুমা সদর প্রতিষ্ঠিত হবার সময়কালে এখানে সরকারি কোন পাকা ভবন ছিলনা। প্রথম দিকে, এমনকি থানা এবং হাজত খানা পর্যন্ত ছিল বেড়া ও টিনের চালা ঘরে। নওগাঁ শহরের প্রথম পাকা ভবন নির্মাণ করেন চগনলাল আগরওয়াল। তারপর বজরঙ্গ লাল আগরওয়াল এর পিতা লাদুরাম মাড়োয়ারী পাকা ভবন নির্মাণ করেন। তার সমকালে অথবা কিছু পরে নওগাঁ বাজারকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য ‘ভবানী ভান্ডার’ নির্মিত হয়। দুবলহাটীর জমিদার ঘনদানাথ চৌধুরী এটি নির্মাণ করান বলে অনেকের অভিমত। জমিদারের নিজস্ব উদ্যোগে ভবানী ভান্ডারে বিরাট দোকান খোলা হয়। সেখানে মসলা-পাতি, কাপড়-চোপড়, বই-খাতা, এক কথায় মাটির পাতিল ও কলাপাতা বাদে সবই নাকি পাওয়া যেত। ভবানী ভান্ডারের আগে বা সমকালে কাজীদের পাকা ভবন নির্মিত হয়। ইতিমধ্যে ১৮৮৪ খ্রিঃ নওগাঁর তৎকালীন সাব-ডেপুটি কালেক্টর ও গাঁজা মহালের সুপারভাইজার বাবু কৃষ্ণধন বাগচির উদ্যোগে শহরে একটি এন্ট্রেন্স স্কুল এবং ১৮৯৬ খ্রিঃ দুবলহাটির জমিদারের উদ্যোগে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় নওগাঁবাসীর শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হয়।বলা বাহুল্য, তখন পর্যন্তও নওগাঁ একটি শহর হিসেবে ততটা গড়ে উঠতে পারেনি। এর সারা অঙ্গে ছিল গ্রামীণ জীবনধারার সুষ্পষ্ট ছাপ। এখানকার বি এম সি কলেজ ভবনের আশেপাশের গভীর জঙ্গলে এক জাতের বাঘ এবং হাট নওগাঁর মরহুম আস্তান মাস্টার সাহেবের বাড়ির সন্নিহিত এলাকায় ছিল বড় বড় দাঁতাল শূকরের আবাস। শহর তখন বলতে গেলে কে ডি-র মোড় থেকে নদীর তীর ঘেঁষে কাচারি রোড, পুরাতন হাসপাতাল রোড, কাজী পাড়া, তরফদার পাড়া, হোটেলপট্টী, তুলাপট্টী, ভবানী ভান্ডার, চুড়িপট্টী এবং ডালপট্টী, ডাব পট্টী হয়ে পতিতালয় পর্যন্ত দুপাশের সঙ্কীর্ণ পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯১১ খ্রিঃ এর ১২ ডিসেম্বর দিল্লীতে সম্রাট পঞ্চম জর্জের অভিষেক উপলক্ষ্যে যে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় হয়েছিল, তার উদ্বৃত্ত অর্থে ১৯১৬ সালে নওগাঁ করোনেশন হল সোসাইটির জন্ম। তবে সোসাইটির বর্তমান থিয়েটার হলটির নির্মাণ কাজ সম্ভবত ১৯২০-২১ সালে সম্পন্ন হয়। তখনও শহরের মর্গ বা লাশকাটা ঘরটি ছিল থিয়েটার হলের সামান্য উত্তরে, বর্তমান সমবায় ব্যাংক ভবনের নিকটে। তার মাত্র কয়েক রশি ফাঁকে ছিল ভাগাড় ও মল ফেলার স্থান। আর শ্মশান ছিল এখানকার কালিতলা ক্লাব ভবনের পেছনে ‘ভুপেন বসাক নির্মিত মন্দিরের নিকটে। ১৯২৫ খ্রিঃ এর কাছাকাছি সময়েও চকদেব পাড়ায় এম এ রকীব সাহেবের বাসভবনের পশ্চাৎভাগে, এখানকার গোরস্থানসহ বিস্তৃত এলাকা জুড়ে কেবল উলুখড়ের মাঠ ছিল।
(ঙ) নবীনা নওগাঁ : আধুনিক শহর হিসেবে নওগাঁর শুভযাত্রা, বলতে গেলে ১৯১৭-তে নওগাঁ গাঁজা উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে। ১৯২১ সালে ক্যামেল পার্ক নির্মাণের দ্বারা নওগাঁর সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তারপরে ১৯২৩-এ যমুনা নদীর উপর লিটন সেতু নির্মিত হলে আধুনিক যুগ ও বাইরের জগতের সঙ্গে নওগাঁর মন দেওয়া নেয়া ত্বরান্বিত হয়। ১৯৩০ সালের মধ্যে গাঁজা সোসাইটির বেশকিছু বড় বড় ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এ সম্পর্কে অন্নদাশঙ্কর রায় বলেন, ‘নওগাঁর যে পাড়াটি গাঁজা কালটিভেটার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি গড়ে তুলেছে সেটি একটি ছোটখাটো টাউনশিপ। সেখানে শহরের মতো বড় বড় ইমারত। মহকুমা অফিসারের বাংলো তার বাইরে পড়ে। আকারেও অকিঞ্চিৎকর’ (স্বাধীনতার পূর্বাভাস- পৃঃ-৬)।নওগাঁর এ নবযাত্রার কালে, ১৯৩৩-এ উকিলপাড়ায় বলিহারের জমিদার নির্মিত বলিহার প্যালেস, তার প্রায় সমকালে নির্মিত গাঁজা সোসাইটির মসজিদ প্রভৃতি এখনো শহরটির সব চেয়ে দর্শনীয় ভবন। আর নওগাঁ জেলা ঘোষণার পরে, প্রাথমিকভাবে গাঁজা সোসাইটির ঐসব ‘বড় বড় ইমারত’গুলোই হয়েছিল নতুন জেলা প্রশাসনের প্রধান অবলম্বন।
তথাপি বলা যায়, ব্রিটিশ শাসনের শেষ দিন পর্যন্ত শহর নওগাঁর বিকাশের গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। এর অন্যতম কারণ, তখন পর্যন্ত দুবলহাটী, বলিহার, মহাদেবপুর প্রভৃতি জমিদার প্রধান রমরমা গ্রামগুলো ছিল এর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী, সতীন-কাঁটা। ১৯৪৭ এর পরে তাজ সিনেমা হল, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডিগ্রী কলেজ, ভকেশনাল স্কুল, আধুনিক হাসপাতাল, আনসার হল, স্টেডিয়াম, সি.ও. অফিস ইত্যাদির নির্মাণ এবং সাবেক বি,এম,সি কলেজ, ডিগ্রী কলেজ, কে,ডি স্কুল, মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয় প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ নওগাঁ শহরের বাহ্যরূপে কিছুটা পরিবর্তন আনলেও এর মৌলিক রূপান্তর ঘটেছে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা পরবর্তীকালে। নব-নির্মিত কালেক্টরেট ভবন ও জজকোর্টসহ নতুন নতুন সরকারি বেসরকারি প্রাসাদোপম অট্রালিকা, আধুনিক বিপণীকেন্দ্র, বাস টার্মিনাল, কল-কারখানা, বিদ্যায়তন, চিকিৎসাকেন্দ্র সব মিলিয়ে নওগাঁ হয়ে উঠেছে কর্মচঞ্চল ও শ্রীমতি এক নতুন নগর জনপদ। ১৯৬৩ সালের ৭ ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ পৌরসভা এ শহরের দর্পণ স্বরূপ। ১৯৮০-তে দ্বিতীয় এবং ১৯৮৯-এ প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত নওগাঁ পৌরসভা সম্প্রসারিত হয়ে এখন ২৪.৫৮ বর্গ কিঃমিঃ আয়তন বিশিষ্ট। উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে এর রাস্তাঘাটের, পানি নিষ্কাশণ ব্যবস্থার, উন্মোচিত হয়েছে নাগরিক সুযোগ সুবিধাও। এই অর্জন সামান্য নয়।
নওগাঁ জেলার জেলার মানচিত্র (সংক্ষিপ্ত ইতিহাস)

১। ভৌগলিক পরিচয়ঃ
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ভাগে, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংলগ্ন যে ভূখন্ডটি ১৯৮৪-র পহেলা মার্চের পূর্ব পর্যমত নওগাঁ মহকুমা হিসেবে গণ্য হত, তাই হয়েছে এখন বাংলাদেশের কণ্ঠশোভা নওগাঁ জেলা। উত্তরে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণে বাংলাদেশের নাটোর ও রাজশাহী, পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের মালদহ ও বাংলাদেশের নবাবগঞ্জ জেলা, এরই অন্তবর্তী ভূ-ভাগ এই নওগাঁ জেলা। পত্নীতলা, ধামইরহাট, মহাদেবপুর, পোরশা, সাপাহার, বদলগাছী, মান্দা, নিয়ামতপুর, আত্রাই, রাণীনগর ও নওগাঁ এই এগারোটি উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ জেলাকে ভূমির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ক) বরেন্দ্র অঞ্চল, খ) বিল বা ভর অঞ্চল এবং গ) পলি অঞ্চল।
ভৌগলিক সীমানা, আয়তন ও অবস্থানঃ
আয়তনের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলা বাংলাদেশের ১৩তম বৃহত্তম জেলা। এই জেলার মোট আয়তন ৩৪৩৫.৬৭ বর্গ কিমি, যা সমগ্র বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১.৯৩%। ভোগোলিকভাবে নওগাঁ জেলা ২৪০৩র্২ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৫০১র্৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০২র্৩ পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৮৯০১র্০ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে অবস্থিত। জেলাটির উত্তরে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণে বাংলাদেশের নাটোর ও রাজশাহী, পূর্বে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা এবং পশ্চিম এ ভারতের মালদহ ও বাংলাদেশের নবাবগঞ্জ জেলা, এরই অন্তবর্তী ভূভাগ এই নওগাঁ জেলা।
(ক) বরেন্দ্র অঞ্চল :
বলা হয়, ইন্দ্রের বরে পূণ্যভূমি-উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমি। বরেন্দ্রভূমির ইতিহাস-প্রসিদ্ধি সুবিদিত। উত্তর বাংলায় প্রাপ্ত পঞ্চম ও ষষ্ট শতাব্দীর গুপ্ত সম্রাটদের রাজত্বকালীন অনেকগুলো তাম্রশাসনে এই অঞ্চলকে পুন্ড্রবর্ধন নামক ‘ভূক্তি’ বা প্রদেশ বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিত রচিত হবার কালে উত্তর বাংলার বরেন্দ্র বা বারেন্দ্রী নাম সুপ্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। শরৎ কুমার রায় বলেন, বরেন্দ্রভূমির পূর্ব সীমায় করতোয়া নদী ও পশ্চিম সীমায় মহানন্দা নদী প্রবাহিতা ছিল।
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে এই বরেন্দ্র অঞ্চলের অসামান্য অবদান রয়েছে। সন্দেহ নেই, ভূমির বিশেষ গঠন বৈশিষ্টই তৎকালে এই অঞ্চলকে বিশেষ গৌরবময় ভূমিকা গ্রহণে আনুকূল্য প্রদাণ করেছিল। মধ্যযুগের মুসলমান ঐতিহাসিকগণ সংস্কৃত বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রীকে বলতেন বরিন্দ। স্থানীয় ভাষায় এই ‘বরিন্দ’ এলাকা খিয়ার নামে সমধিক পরিচিত। ‘খিয়ার’ শব্দের অর্থ ক্ষীরাভ অর্থাৎ ক্ষীরের আভার ন্যায়। খিয়ারে বহুল পরিমাণে চাউল জন্মে এবং তথায় বহুদূর বিস্তৃত বৃক্ষলতাহীন বিশাল প্রান্তর, লালবর্ণের মৃত্তিকা ও অনেক সুবৃহৎ অপরিষ্কার জলাশয় দেখা যায়-অবনীচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। নাটোর জেলার সিংড়া থেকে আরম্ভ করে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী-তানোর অঞ্চল, নবাবগঞ্জ জেলার নাচোল-গোমস্তাপুর, ভারতের মালদহ জেলার অংশ বিশেষ, নওগাঁ জেলার পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতমপুর, মহাদেবপুর, মান্দা থানার অংশ বিশেষ, পত্নীতলা ও ধামইরহাট, তারপর বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার পশ্চিমভাগ, গাইবান্ধা জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাংম দিনাজপুর (অবিভক্ত) জেলার বিস্তৃত দক্ষিণ ভাগ পর্যমত্ম বঙ্কিমভাবে প্রসারিত বরেন্দ্রভূমি নিখিল বঙ্গের দ্বিতীয় পুরাভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এগারোটি উপজেলার মধ্যে সাতটি উপজেলা নিয়ে নওগাঁ জেলা ঐ পুরাভূমি অঞ্চলের প্রায় কেন্দ্রভাগে অবস্থিত। এই অবস্থান নওগাঁ জেলার উল্লিখিত উপজেলা সমূহের ভূমির গঠন প্রকৃতিতে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আরোপ করেছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিতি সত্ত্বেও এখানে ভূমি যথেষ্ট উঁচু নীচু, ঢেউ খেলানো, দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে উত্তর-পশ্চিম দিকে, উচ্চতর হরিদ্রাভ মাটি ক্রমশ লাল কঙ্করময়, বর্ষাকালে পিচ্ছিল ও আঠাল, কর্দম সৃষ্টিকারী এবং খরাকালে অত্যন্ত রূক্ষ্ম ও শক্ত। এই সমস্ত অঞ্চলে বিশেষ করে নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির গভীরতা সাধারণের চাইতে অনেক বেশি। কোথাও কোথাও এত বেশি যে শক্ত মাটি ভেদ করে গভীর বা অগভীর নলকূপ বসানো বেশ কষ্টসাধ্য। উদাহরণ হিসেবে এখানে নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত গাঙ্গোর গ্রামের একটি ইদারার উল্ল্যেখ করা যায়। ইদারাটির গভীরতা ১২০ (একশ কুড়ি) ফুট ।
(খ) বিল বা ভর অঞ্চল :
মহাদেবপুর থানার পূর্ব ও পশিচমাঞ্চল সাপাহার ও পোরশার উত্তর পশ্চিমাঞ্চল তথা জবই ও রোকনপুরের বিল, মহাদেবপুর থানার পশ্চিমাবর্তী ছাতরার বিল, বিল ঠাকুরমান্দা ও উথরাইলসহ মান্দা থানার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং বিল রক্তদহসহ রাণীনগরের উত্তর-পূর্ব ভাগের কিছু অংশ এবং আত্রাই থানার পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চলের নিম্নাংশ নিয়ে নওগাঁ জেলার বিল অঞ্চল গঠিত। বর্ষাকালসহ বছরের ৪ থেকে ৬ মাস এসব এলাকা জলমগ্ন থাকে। গ্রামগুলো দেখায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। শুকনা মৌসুমে শক্ত ও রূক্ষ্ম মাটি দেখা যায় ।
(গ) পলি অঞ্চল :
ছোট যমুনা তীরবর্তী আত্রাই থানার পূর্ব তীরবর্তী রসুলপুর, মির্জাপুর, রাণীনগর থানার ঘোষগ্রাম, বেতগাড়ি থেকে কুজাইল, ত্রিমোহনী, নওগাঁ থানার চন্ডিপুর, বোয়ালিয়া, আদমদুর্গাপুর ও পশ্চিম তীরবর্তী শৈলগাছী, মকিমপুরসহ নওগাঁ পৌর এলাকা এবং নওগাঁ থেকে বদলগাছী থানা এলাকা পর্যন্ত বক্তারপুর, কীর্তিপুর, বালুভরা প্রভৃতি দুই তীরবর্তী অঞ্চল এবং ধামইরহাট, পত্নীতলা, মহাদেবপুর থানার আত্রাই তীরবর্তী কিছু অঞ্চল নিয়ে মোটামুটিভাবে নওগাঁ জেলার পলি অঞ্চল গঠিত। এইসব এলাকার মাটি দোআঁশ এবং খুবই উর্বর। বছরে তিনটি ফসল ফলে। নওগাঁর পলি অঞ্চল থেকে তরিতরকারি ১৯৪৭ এর পূর্বে কলকাতায় চালান যেত। এই এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ।

(ঙ) জলবায়ুঃ
বৃষ্টিপাত ও ভূমির গঠন প্রকৃতিগত তারতম্য অনুসারে বাংলাদেশের অপরাপর অঞ্চলের সঙ্গে নওগাঁ জেলার আবহাওয়ার পার্থক্য সুক্ষ্ম হলেও অলক্ষণীয় নয়। জেলার অভ্যন্তরেও ভর এবং বরিন্দ অঞ্চলের মধ্যে আবহাওয়ার কিছুটা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
ক্রান্তীয় আর্দ্র কৃষি ভূমির অর্ন্তগত বাংলাদেশের সর্বত্র ভারত মহাসাগর থেকে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিমী মৌসুমী বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটালেও নওগাঁর ব্যাপারে তার কৃপণতা খুব। কেননা সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীর মতো অঞ্চলসমূহে বৃষ্টিপাতের বার্ষিক গড় যেখানে ১০০(একশ)ইঞ্চির ঊর্ধ্বে, সেখানে নওগাঁ জেলায় তার পরিমাণ ৪০(চল্লিশ) ৬০(ষাট) ইঞ্চির মধ্যে মাত্র। তার বেশি বৃষ্টি যে কখনোই হয়না তা নয়, তবে সেটা ব্যতিক্রম। অঞ্চল ভেদে আবার এই বৃষ্টিপাতেরও তারতম্য আছে। যেমন জেলার নীতপুর, সাপাহারে বৃষ্টি হয় সবচেয়ে কম এবং রাণীনগর, আত্রাই,নওগাঁয় সবচেয়ে বেশি। ফলে বরিন্দ অঞ্চলে অনাবৃষ্টি প্রধান সমস্যা, আর ভর অঞ্চলে প্রধান সমস্যা বন্যা। বন্যা অবশ্য সেখানে নিম্নভূমির কারণেই বেশি হয়। ভূমির গঠন ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য অনুসারে খরা মৌসুমে নওগাঁ জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাটি যেমন রূক্ষ্ম, শীতের দাপটও তেমনি তীব্র। মাঘ মাসের হু হু হিমেল বাতাসে মানুষের চামড়ায় টান ধরে, কারোও বা ঠোঁট এবং পায়ের গোড়ালী ও তালু ফেটে রক্ত ঝরে। চৈত্রের খাঁ খাঁ প্রান্তর গ্রীষ্মকালে যেন আগুনের হলকা ছড়ায়, পক্ষান্তরে বিল বা ভর অঞ্চলের মাটি প্রায় সারা বছরই স্যাঁতসেতে এবং সেই কারণে কিছুটা অস্বাস্থ্যকরও বটে।শীত ও গ্রীষ্মে এই জেলার তাপমাত্রায় যথেষ্ট হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। ১৯৮৪র ডিসেম্বরের শেষভাগে নওগাঁ শহরের তাপমাত্রা যেখানে ৪৪.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে নেমে আসে সেখানে ১৯৮৫র ১৬ এপ্রিল দিবাভাগে তা ১১১.২ ডিগ্রী ফারেনহাইটে উঠে যায়। কোন কোন বছর শীতকালীন তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রী ফারেনহাইটে নেমে আসে এবং গ্রীষ্মের তাপমাত্রাও ততোধিক বৃদ্ধি পায়। অবশ্য গ্রীষ্মের দিবাভাগের তুলনায় সচরাচর রাত্রির তাপমাত্রা কিছুটা কম হয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে নওগাঁর আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ এবং বেশ ভদ্রও। দক্ষিণ বিভাগ বা পূর্ববঙ্গের মত ফিবছর এখানে ঝড় বাদলের তান্ডব নেই। তবে শীতকালে ঘন কুয়াশায় এবং চৈত্র বৈশাখে ধূলি ঝড়ে মাঝে মাঝে চারিদিক আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
(চ) নদ নদী :

নওগাঁ জেলার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকটি নদ-নদী প্রবাহিত। সব কটির উৎসমূলে রয়েছে হিমালয়ের সিকিম অঞ্চল হতে নেমে আসা তিস্তা নদী। ‘তিস্তা বা ত্রি-স্রোতা উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ নদী। হিমালয়ে তার জন্ম। বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির ভিতর দিয়ে। জলপাইগুড়ি থেকে তিস্তা তিনভাগে ভাগ হয়ে সোজা দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। দক্ষিণবাহী পূর্বতম প্রবাহের নাম করতোয়া, দক্ষিণবাহী পশ্চিমতম ধারার নাম পুনর্ভবা বা পূর্ণভবা। মধ্যবর্তী ধারার নাম আত্রাই।’ (অজয় রায় বাঙলা ও বাঙালী, পৃঃ ১০)
নওগাঁ জেলার (এবং বাংলাদেশেরও) পশ্চিম সীমামত দিয়ে প্রবাহিত পূনর্ভবা, মধ্যবর্তী আত্রাই এবং পূর্বভাগে যমুনা এই জেলার প্রধান নদী। যমুনাও মূলত তিস্তা নদীরই একটি শাখা।

(ক) আত্রাই : এই নদী পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাট হয়ে ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলীতে নওগাঁ জেলায় প্রবেশ করেছে এবং দক্ষিণে গিয়ে পত্নীতলা, মহাদেবপুর ও মান্দা উপজেলা কেন্দ্র স্পর্শ করেছে; তারপর মান্দার নূরুল্লাবাদ হাইস্কুলের নিকট থেকে দক্ষিণ-পূর্বগামী হয়ে আত্রাই থানার রসুলপুরে-উত্তর থেকে আগত যমুনার প্রবাহ নিয়ে আত্রাই (আহসানগঞ্জ) রেল স্টেশনও উপজেলা কেন্দ্র ঘেঁষে জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে তেমুখ নামক স্থানে বিভক্ত হয়ে নাটোর জেলা সীমানায় প্রবেশ করেছে। এখানেই সে উত্তরে বগুড়া হয়ে নওগাঁ জেলার রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত পতিসরের উপর দিয়ে প্রবাহিত নাগর নদের ধারা গ্রহণ করেছে। পরে চলনবিল পেরিয়ে আত্রাই ও করতোয়ার মিলিত স্রোত পদ্মার প্রবাহে মিশ্রিত হয়েছে।
নওগাঁ জেলার মাঝ দিয়ে বঙ্কিমভাবে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিয়ে আত্রাই এই জেলার দীর্ঘতম নদী হবার গৌরব অর্জন করেছে। তুলনামূলকভাবে এর নাব্যতাও বেশি।

(খ) পুনর্ভবা : বাংলাদেশের দিনাজপুর ও ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর জেলা পাড়ি দিয়ে এসে এই নদী নওগাঁ জেলার উত্তর-পশ্চিম কোণে পাতাড়ি গ্রামের সামান্য উত্তরে সাপাহার থানায় প্রবেশ করেছে এবং সেখান থেকে দক্ষিণে আলাদিপুর গ্রামের নিকট সাপাহার অতিক্রম করে পোরশার সীমায় উপনীত হয়েছে। অতঃপর মাইল তিন দক্ষিণে নীতপুরে এবং নীতপুর থেকে আরো মাইল পাঁচেক দক্ষিণে রোকনপুরের বিলের মধ্যে গিয়ে পুনর্ভবা নবাবগঞ্জ জেলায় প্রবেশ করেছে। রোহনপুরে পুনর্ভবা মহানন্দার ও রাজশাহীর গোদাগাড়ির নিকট মহানন্দা পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। কলমুডাঙ্গা পেরিয়ে পূর্বদিকে সামান্য বাঁক নিয়ে বাংলাদেশের অনেকটা অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেও পাতাড়ি থেকে রোকনপুরের বিল পর্যন্ত নওগাঁ জেলার অভ্যন্তরে প্রায় সর্বত্র পুনর্ভবা বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমা রেখার পূর্বধার ঘেঁষে প্রবাহিত।

(গ) ছোট যমুনা : ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর হয়ে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি স্পর্শ করে এই নদী জয়পুরহাট জেলা অতিক্রম করেছে এবং ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের পোড়ানগরে নওগাঁ জেলায় প্রবেশ করেছে। ইসবপুর পালপাড়ার নিকট এসে যমুনা চকইলাম ও সলপী হয়ে আগত ‘শ্রী’ বা চিরি নদীর প্রবাহ গ্রহণ করেছে। পরে ক্রমশ দক্ষিণবাহী হয়ে পত্নীতলা থানার পূর্বপ্রান্তবর্তী ত্রিমোহনীতে ঘুকশীর প্রবাহ নিয়ে বদলগাছি থানা কেন্দ্রের পূর্বকোল ঘেঁষে নওগাঁর নিকটবর্তী মোক্তার পাড়ায় এসে একটি কাটা খালের মাধ্যমে তুলসীগঙ্গার প্রবাহ গ্রহণ করেছে। অতঃপর নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরো দক্ষিণে নওগাঁ ও রাণীনগর থানা অতিক্রম করে সে আত্রাইয়ের প্রবাহের সঙ্গে মিলিত হয়েছে ।আলোচ্য নদীত্রয় বর্ষায় স্ফীত হয়ে নৌ-চলাচলের উপযোগী নাব্যতার অধিকারী হলেও খরা মৌসুমে প্রবাহ হারায়। এসব নদী জেলায় অল্প বিস্তর মাছের যোগান দেয়, পলি দ্বারা তীর উর্বর করে, কৃষি জমিতে কিছু সেচ সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে কখনো কখনো বন্যায় দুই তীর প্রবাহিত হয়ে সমূহ ক্ষতির কারণও হয়। উল্লিখিত নাগর, চিরি, তুলসীগঙ্গা নদী এখন মৃতপ্রায়। শিব, ফকিরনী, নলামারা, গুড়নই-এরও তদ্রুপ অবস্থা।
এছাড়া নওগাঁ জেলায় বহুসংখ্যক খাড়ি ও বিল রয়েছে। তাদের মধ্যে সাপাহারে জবই, পোরশার রোকনপুর, নিয়ামতপুরের ছাতড়া, মান্দার ঠাকুরমান্দা ও বিল উৎরাইল প্রভৃতি সারাবর্ষজীবী। নওগাঁর গুটা, মনসুর, দীঘলি বিল বিখ্যাত। তবে এককভাবে রাণীনগরের ‘রক্তদহ’ সম্ভবত সর্ববৃহৎ ও বিখ্যাত। পূর্বকালে নওগাঁ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গা, কৌশকী, নূর, কম্প, ইছামতী, খয়রা প্রভৃতি নদ-নদীই এসব বিলের সৃষ্টি করেছিল বলে ধারণা করা হয়। কারো কারো মতে ঘুকশী আত্রাই নদীর পুরাতন খাত। বর্ষাকালে বিলগুলো প্রশস্ত হয়ে বিশেষ করে বিস্তীর্ন বরিন্দ অঞ্চলে নৌপথে পণ্য পরিবহণের সুযোগ সৃষ্টি করে।

নওগাঁ জেলার ঐতিহ্য : আদিবাসী

বাঙালি এক সংকর জন। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আরম্ভ করে একের পর এক যেসব জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে এসে বসবাস করেছে, প্রবহমান রক্তধারায় নিজেদের রক্তের মিশ্রণ ঘটিয়েছে, তাদের থেকে কালক্রমে বাঙালি জাতির উদ্ভব হয়েছে। প্রাচীন বাঙলার সেই সব নরগোষ্ঠীর প্রভাব প্রচ্ছন্ন রয়েছে বাঙালির রক্তে ও দেহ গঠনে, ভাষায় ও সভ্যতার বাস্তব উপাদানে এবং মানস সংস্কৃতিতে। তারই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে বাঙালির প্রাচীন সমাজ বিন্যাসে। ওইসব আদিম অধিবাসী হল বাঙলার আদিবাসী।

(ক) আদিবাসী ও উপজাতি :

আদিবাসী শব্দটির ইংরেজী প্রতিশব্দ Aborigines. Encyclopaedia Brittannica (১৯১০)-তে বলা হয়েছে, In modern times the term " Aborigines " has been extended in signification, and used to indicate the inhabitants found in a country at its first discovery , in contradistinction to colonies or new races, thee time of whose introduction into the country is known.
আদিবাসী অর্থে Aboriginal শব্দটি বহুল প্রচলিত। এর দ্বারাও কোনো এলাকার প্রাচীনতম কাল থেকে কিংবা ওই এলাকা পরিচিতি-লাভের সময় থেকে বর্তমান কোনো নরগোষ্ঠিকে বুঝানো হয়।
বহুকালব্যাপী পারস্পরিক মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় ও বিচিত্র জনসংঘর্ষের চাপে অনেক ক্ষেত্রে আদিম কৌম সমাজগুলো ক্রমশ ভেঙে বৃহত্তর জনসমাজে লীন অথবা লুপ্ত হয়ে গেছে। তার মধ্য দিয়েও যে সব নরগোষ্ঠী আদিম জীবন যাত্রা প্রণালীকে মোটামোটিভাবে অনুসরণ করে আসতে পেরেছে তাদেরকেই আদিবাসী বলে গণ্য করা হয়। কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দ্বারা কোনো নরগোষ্ঠীকে আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়: (১) আদিবাসী হতে তাদের জন্ম, (২) আদিম জীবন যাত্রা প্রণালী, (৩) দুরধিগম্য স্থানে বাস, (৪) অনুন্নত অবস্থা।অবশ্য এই সাধারণ লক্ষণগুলো দ্বারা উপজাতিদেরও চিহ্নিত করা যায় এবং শ্রী অতুল সুর তাঁর ‘বাঙালির নৃতাত্তিক পরিচয়’ পুসত্মকে উপজাতিসমূহের সাধারণ লক্ষণ হিসেবেই ওই বৈশিষ্টগুলো উল্লেখ করেছেন (পৃঃ ২৫)। অবশ্য তাঁর বিবেচনায় আদিবাসী ও উপজাতি সমার্থক। শুধু তাই নয়, আরও অনেক লেখকের রচনায় এবং সরকারি বিধি বিধানেও আদিবাসী ও উপজাতি শব্দ দুটিকে সমার্থক গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু উপজাতি একটি পৃথক শব্দই শুধু নয়, এর ব্যঞ্জনা এবং তাৎপর্যও আলাদা। উপজাতি শব্দের ইংরেজি প্রতি শব্দ Tribe . Tribe শব্দটি সম্পর্কে Encyclopedia Britannica (১৯১১) তে বলা হয়েছে, Its ethnological meaning has come to be any aggregate of families or small communities which are grouped together under one chief or leader, observing similiar customs and social rules, and tracing their descent from one comm0n ancestor .
এই উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট হয় যে, Tribe বা উপজাতিগণ Aborigines বা আদিবাসী নয়। দৃষ্টামত্ম হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের কথা বলা যেতে পারে। তারা মূলত বর্তমান মিয়ানমার (ব্রহ্মদেশ) এর আরাকান অঞ্চল থেকে পর্যায়ক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগত অধিবাসী এবং খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর পূর্বে এখানে তাদের বসবাসের কোন ইতিহাস মিলে না। তারা বাংলাদেশের মৌলিক অধিবাসী নয়। বাংলাদেশের জনগণের রক্তপ্রবাহে এই ব্রহ্ম-মোঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বিশেষ কোন চিহ্ন নেই। কিন্তু তারা উপজাতীয় বৈশিষ্টগুলো লালন করে আসছে। সুতরাং তাদেরকে বাংলাদেশের আদিবাসী না বলে উপজাতি বলাই যুক্তিযুক্ত। মোঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো হাজংদের সম্পর্কেও একই কথা বলা চলে। প্রকৃত পক্ষে, কারা বাংলাদেশের আদিম অধিবাসী ছিল এবং সেইসব আদিবাসীর বর্তমান বংশধর হিসেবে কারা গণ্য হতে পারে, মাত্র কয়েকটি বাহ্য লক্ষণ দ্বারা তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এর জন্য নৃতত্ত্ব গবেষকদের দ্বারস্থ হওয়া আবশ্যক। নৃতাত্ত্বিক যদি দেশের বিভিন্ন বর্ণের ও শ্রেণীর জনসাধারণের রক্ত ও দেহ গঠনের বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণের দ্বারা জনতত্ত্ব নিরূপণে প্রয়াসী হন এবং সেই প্রয়াসের সঙ্গে যদি ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিকের জ্ঞান ও দৃষ্টির মিলন ঘটে তবেই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে নৃতত্ত্ব গবেষণায় রক্ত বিশ্লেষণ সামান্যই হয়েছে। দেহ গঠনের বিশ্লেষণেও এ যাবৎ যা স্বীকৃত ও অনুসৃত হয়েছে তা কেবল নরমুন্ড, নরকপাল ও নাসিকার পরিমিতি ও পরস্পর অনুপাত এবং চুল, চোখ ও চামড়ার রং অবলম্বন করে। অধিকন্তু লোকসংখ্যার অনুপাতে তা যথেষ্ট নয়। বাংলা ভাষার বিশ্লেষণ অবশ্য অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু প্রাচীন ও বর্তমান বাস্তব সভ্যতা এবং মানসিক সংস্কৃতির বিশ্লেষণে অগ্রগতি সামান্য। তথাপি যা অর্জিত হয়েছে তাকে ভিত্তি করে নব-নির্ণীত ইতিহাসই হচ্ছে এ ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক ।

(১) সাঁওতাল:

উত্তরবঙ্গ তথা রাজশাহী বিভাগের যেসব জেলায় আদিবাসী বসবাস অপেক্ষাকৃত বেশি তার মধ্যে নওগাঁ অন্যতম। এ জেলায় সাঁওতাল, মুন্ডা, ওঁড়াও, মাল পাহাড়ী, কুর্মি, মহালী, বাঁশফোড় প্রভৃতি বেশ কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠী বসবাস করে। নওগাঁ জেলায় নব পর্যায়ে সাঁওতালদের আগমন ঘটে পর্যায়ক্রমে ও ধীরে ধীরে। শোনা যায় ১৮৫৫-৫৬ সালে বিদ্রোহের দায়ঝক্কি এড়ানোর জন্য কিছু সাওতাল দুই দলে বিভক্ত হয়ে নওগাঁ পার হয়ে মালদহের দিকে চলে আসে। তার একটি দল বামনগোলা থানার পাকুড়িয়া হাটে আশ্রয় নেয়। অন্য দল হিলির জমিদার আকবর চৌধুরীর আশ্রয়ে ওঠে। বস্তুত মালদহ-দিনাজপুরের ভূ-স্বামীরা ১৮৭০ সালের পর থেকে চাষাবাদের জন্য সাঁওতালদের আনতে শুরু করেন। ১৮৮১ সালে পত্নীতলা থানায় ১০ জন এবং পোরশায় ১৫৯ জনসহ আজকের নওগাঁ জেলা সীমানার মধ্যে ১৬৯ জন মাত্র সাঁওতাল ছিল। পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে পত্নীতলাতেই তাদের সংখ্যা বেড়ে হয় ১০২০ জন। অবশ্য পোরশায় ২০৯ জন মাত্র। ওই সময় শুন্যের স্থলে মান্দায় ৫৬৭ জন ও নওগাঁয় ১৭৫ জন সাঁওতাল নারী-পুরুষের আগমন ঘটে। এ নিয়ে নওগাঁ জেলায় তাদের সর্বমোট সংখা দাঁড়ায় ১৯৭১ জন। কখনও আত্রাই, বদলগাছি, মহাদেবপুর থানায় কোন সাঁওতাল ছিল না। বর্তমানে নওগাঁ জেলায় প্রায় দশ সহস্রাধিক সাওতাল নরনারীর বসবাস।

(২) মুন্ডা :

মুন্ডা কয়েকটি আদি অধিবাসী জাতি সমষ্টির সাধারণ নাম। আর্যরা যখন এ দেশে আগমন করে তখন মুন্ডারা তাদের প্রতিবেশি ছিল। আর্যদের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে মুন্ডারা পিছু হটতে থাকে এবং পরিশেষে পূর্ব ও মধ্য ভারতের দূর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে গুপ্তভাবে বসবাস করতে থাকে। নওগাঁ জেলার মুন্ডাগণ গোত্র বিভাজনের মতো মুন্ডা ও পাহান এই দুটি ভাগে বিভক্ত। এর কারণ জানা যায়নি। অনেক পাহান মুন্ডা বললে অসন্তুষ্ট হন। অনেকে মুন্ডা হিসেবে পরিচিত এবং তাদের মধ্যে সে পরিচয় আড়াল করার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়না। এ জেলার মহাদেপুর থানাতে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি পাহানের বাস। মুন্ডা বসবাসও নিতান্ত কম নয়। ধামইরহাট থানায় বহু মুন্ডা পাহান বসতি রয়েছে। পত্নীতলা, নওগাঁ, মান্দা, বদলগাছি থানায় মুন্ডা পাহানের বসবাস আছে। নিয়ামতপুর ও পোরশা থানার বিভিন্ন গ্রামেও বহু সংখ্যক মুন্ডা ও পাহান বসবাস করে। বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভবত নওগাঁ জেলাতেই সবচেয়ে বেশি মুন্ডা বাস করে।

(৩) ওঁরাও (Oraon):

কেলা জাতি হো, ওঁরাও, মুন্ডা প্রভৃতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত। বর্তমানে নওগাঁ জেলায় বসবাসকারী ওঁরাওদের প্রায় সকলেরই আদি নিবাস ছিল রাঁচি জেলায়। মহাদেবপুর থানার এনায়েতপুর নিবাসী বলরাম সরদার (ওঁরাও) এর পিতামহ খরেয়া ওঁরাও প্রথমে কাজের সন্ধানে এদেশে আসেন তখন ওই দেশে খুব অভাব দেখা দিয়েছিল। পরে এখানেই থেকে যান। বলরামের পিতা বন্ধুরামও চলে আসেন। ফলে রাঁচিতে খাজণা বাঁকির দায়ে জমি নিলাম হয়। বলরামের এক চাচা সেই জমি জমিদারের নিকট পত্তন নেয়। যোয়ানপুরের রঘুনাধ ওঁরাও -এর পিতামহ বাহাদুর ওঁরাও রাঁচি থেকে এদেশে আসেন। ঘুনাথের পিতা মাংরা ওঁরাও ও এদেশে আসেন।নওগাঁ জেলায় ওঁরাও বসতির প্রথম সুস্পষ্ঠ উল্লেখ পাওয়া যায় ১৮৯১ এর সেন্সোস রিপোর্টে। তদানুসারে তৎকালীন রাজশাহী জেলার অর্ন্তগত নওগাঁ মহকুমার তিনটি থানায় ওঁরাওদের সর্বমোট সংখ্যা ছিল ৭৭৬জন মাত্র। তার মধ্যে মান্দা থানায় পুরুষ ৩৩৯জন, নারী ১২২ জন; নওগাঁ থানার পুরুষ ৯৬জন নারী ১৩জন এবং পাঁচুপুর থানার পুরুষ ৭৮জন ও নারী ১২জন মাত্র। ওই তিনটি থানা নিয়েই নওগাঁ মহকুমা গঠিত হয়েছিল। তখন সমগ্র রাজশাহী জেলায় তাদের সংখ্যা ছিল ১৪১৩জন। ওই রিপোর্ট অনুসারে দিনাজপুর জেলার সদর মহকুমাধীন মহাদেবপুর থানার ওঁরাও পুরুষ ৫৬ ও নারী ৫২ এবং পোরশা থানার পুরুষ ৫ ও নারী ৩জন মাত্র ছিল। সমগ্র দিনাজপুর জেলায় তাদের সংখ্যা ছিল ১৩৮৬জন। কিন্তু দিনাজপুর জেলার পত্নীতলা থানাতে এবং বগুড়া জেলার কোন থানাতেই তখন পর্যন্ত কোন ওঁরাও বসতির কথা জানা যায় না। সুতরাং বদলগাছী থানাতেও কোন ওঁরাও ছিল না। এই থানাগুলো তখন নওগাঁ জেলার অর্ন্তগত। উল্লিখিত থানা সমূহের দু’টিতে ওঁরাওদের অনুপস্থিতি এবং অপরগুলোতে বিদ্যমার ওঁরাও নারী পুরুষদের সংখ্যায় ব্যাপক তারতম্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, তখন সময়টা ছিল এই জেলায় ওঁরাও বসতির প্রাথমিক পর্যায়। তখনও সব ওঁরাও পুরুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আসেনি। নওগাঁ জেলার ওঁরাওদের মধ্যে টিকরি, কুজর, মিনজু, টোপোর বা টোপ্প, এক্কা, লাকড়া প্রভৃতি গোত্র এবং মন্ডল ও সরদার পদবী পাওয়া যায়। অবশ্য পত্নীতলা থানার কাঁটাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ভূপেন্দ্রনাথ সরকার এবং নিয়ামতপুর থানার ৫নং রসুলপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জয়চাঁদ ওরফে চন্দ্রশেখর ঘোষ এবং তার চাচাতো ভাই ন্যাশনাল পাশ ডাক্তার শুকচাঁদ সরদারও ওঁরাও সম্প্রদায়ের লোক। একই পরিবারে দুই রকম পদবী দেখে ধারনা করা হয় নতুন পদবীও আরোপিত হচ্ছে। কথিত আছে যে, বহুকাল পূর্বে ওঁরাওদের এক পূর্বপুরুষ ধর্মপাঠ করছিলেন। ধর্মপাঠ করতে করতে তাঁর ধর্ম হিসেবে ওঁরাও নাম লেখা পড়ে। সেই থেকে এরা ওঁরাও নামে পরিচিতি লাভ করে। পোরশা অঞ্চলে ওঁরাওদের ওড়ন বলা হয়। নওগাঁ জেলার আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে ওঁরাওদের স্থান তৃতীয় হতে পারে। তাদের সংখ্যা সাঁওতাল এবং মুন্ডা-পাহানদের প্রায় কাছাকাছি। সাবেক মান্দা থানার অংশ বিষে নিয়ে গঠিত নিয়ামতপুর থানাতেই সম্ভবত সবচেয়ে বেশী ওঁরাও বসতি রয়েছে। এই থানার ৭নং গইল ইউনিয়নের গইল-বড়ডাংগা গ্রামে ৩০টির মতো ওঁরাও পরিবারের বাস। মাশনা গ্রামেও প্রায় ১৫টি ওঁরাও পরিবার বাস করে। ৪নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চৌরাসমরা গ্রামের মতিলাল ওঁরাও একজন হাইস্কুল শিক্ষক। কুশমইল গ্রামেও কয়েকজন শিক্ষিত ওঁরাও আছে। ৫নং রসুলপুর ইউনিয়নের পানি আন্ডাতে প্রায় ১৫ ও পারইল ইউনিয়নের ফুলাহার গ্রামে ২০টির মতো ওঁরাও পরিবারের বাস। এ ছাড়া ধরমপুর, চন্দননগর, বা ঐ চন্ডিলক্ষীপুর, চান্দইল প্রভৃতি গ্রামেও ওঁরাও বসতির কথা জানা যায়। পোরশা থানার শুঁড়িপুকুর গ্রামে প্রায় ১৫০টি ও কামারধাতে প্রায় ৮০/৯০টি ওঁরাও পরিবার আছে। কামারধার ওঁরাওদের কারো কারো অবস্থা বেশ সচ্ছল। সরিয়লা গ্রামেও এদের পরিবার সংখ্যা ৫০-এর মতো। এছাড়া কালাইবাড়ি, আমদা, গাঙ্গুরিয়া, দেউলিয়া, সরাইগাছি, হাড়ভাঙ্গাখাড়ি, মুসাবই, নোনাহার, শিশা, বিষ্ণুপুর প্রভৃতি আদিবাসী অধ্যুষিত অনেক গ্রামেই ওঁরাও বসতি রয়েছে। সাপাহার, পত্নীতলা থানার ঠাকরাপাড়া, শিয়াড়া, পাইকবান্দা, তিলনা, নকুচা, মধইল/ নোদন প্রভৃতি গ্রামে ওঁরাও বসতি আছে। পত্নীতলার সন্নিহিত পাটিচরা ও উষ্টি গ্রামে খ্রিস্টান ওঁরাও পরিবারের বাস। মহাদেবপুর থানার এনায়েতপুরে প্রায় ৫৫টি পরিবার বাস করে। যোয়ানপুরের পাঁচ-ছয়টি ওঁরাও পরিবার খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। এই থানার কাছাইল, চেরাগপুর, মহেশপুর, গোফানগর, ভগবতীপুর, বকাপুর, নাটশাল, গোপালপুর, শালগ্রাম, সাড়তা, কুসুমশহর, কালুশহর, ঘোংরা, ঘোষপুকুর, বনগাঁও, জয়ন্তীগ্রাম, দেওয়ানপুর, শেরপুর প্রভৃতি গ্রামে কমবেশি ওঁরাও বসতি আছে। বদলগাছী থানার রসুলপুর, বালুভরা, নওগাঁ থানার কোচগাড়ি; মান্দা থানার কালীগ্রাম, কালীসফা, দেলুয়াবাড়ি অঞ্চলের ওঁরাও বসতির কথা জানা যায়। ধামইরহাট থানার জগন্নাথপুর নিবাসী ব্যাঙা ওঁরাও সচ্ছল ব্যক্তি। মুন্ডা-পাহানদের তুলনায় নওগাঁ জেলায় ওঁরাওদের অবস্থা কিছুটা ভাল। এদের মধ্যে দুচারজন শিক্ষিত লোক পাওয়া যায়। কিন্তু বেশির ভাগই বেশ গরীব। দু-চারজন মাত্র দু-তিন বিঘা জমির মালিক। নারী পুরুষ সকলেই ক্ষেত খামারের কাজে মজুর খাটে। চাঁদের তিথি অনুসারে ভাদ্র বা আশ্বিনে অনুষ্ঠেয় ডালপূজা ওঁরাওদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পাহান-মুন্ডারের মতো প্রায় একই নিয়মে ওঁরাওরা ডালপূজা করে। পাড়ার সকলে মিলে বারায়ারি পূজার মতো করে এই পূজা দেয়। প্রথমে খেলা’তে অর্থাৎ বহিরাঙ্গনে একটা ‘থান’ বা বেদী তৈরি করা হয়। একজন অবিবাহিত যুবক পাতা সহ খেল-কদম্বের ডাল কেটে আনে। সেই ডাল বেদীতে পোতা হয়। পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তি এই পূজা করেন। সন্ধ্যার পর মোটামোটি রাত ৮টার দিকে পূজা শুরু হয়। তিনটি ডালায় করে ধুপ, সিঁদুর, খাগড়াই, বাতাসা, বড়া, শশা, কলা, রক্তহলা, থানের পাতা, ধান, মাসকলাই, যব, নদীর বালি এসব এনে তিন ব্যক্তি ডালের গোড়ায় উৎসর্গ করে। যারা উৎসর্গ করবে তাদের উপবাস থাকতে হয়। তিন উপবাস না করতে পারলে দুজন বা একজনও ডালা উৎসর্গ করতে পারে। ডালা উৎসর্গ করার সময় উপস্থিত মেয়েরা উলু দেয়। পূজার সময় ছেলেমেয়েরা বেদীর চারিদিকে ঘিরে বসে থাকে। তাদের থালায় থাকে প্রদীপ, রুটি, দুর্বাঘাস, আতপ চাল ইত্যাদি। ডালা উৎসর্গ করার পর পূজারী ‘কর্ম-ধম’র্র গল্প শুরু করেন। গল্পের এক পর্যায়ে পূজারী সবাইকে ধর্মের গাছ ধরতে বললে সবাই উলু ধ্বনি দিয়ে ওই গাছ ধরে। তারপর ছেড়ে দিয়ে আবার নিজ নিজ স্থানে গিয়ে বসে। গল্পের আর এক পর্যায়ে পূজারী সবাইকে বসার পিঁড়ি উল্টে ধরতে বলেন। ডালা উৎসর্গকারী তিন উপবাসীসহ সবাই পিঁড়ি উল্টে ধরলে পূজারী জানতে চান, পিঁড়ি উল্টে কি পাওয়া গেল? কেউ বলে বেটা পেয়েছি, কেউ বলে বেটি পেয়েছি। গল্পের আর এক পর্যায়ে পূজারীর নির্দেশে তিন উপবাসী ডালে ফুল-জল ছিটিয়ে দেয়। গল্প শেষ করে পূজারী ডালি থেকে অর্ঘ্য নিয়ে ডালের গোড়ায় নিবেদনের পর উঠে পড়ে। তিন উপবাসীও উঠে পড়েন। পূজা শেষ। উৎসর্গ করা পিঠা নিয়ে পূজারী বাড়ি চলে যেতে পারেন। এবার যার যার থালা থেকে রুটি ইত্যাদি বিতরণ করা হয়। এর পর নাচ গান। কয়েকজন ছেলে বুড়ো ঢোল, মাদল জুড়ি করতাল বাজায় আর বাদ্যের তালে তালে একদল ছেলে ও একদল মেয়ে কখনো মুখোমুখি কখনো পাশাপাশি নাচগান শুরু করে দেয়। ওঁরাও সম্প্রদায় নিজেদের বিচার নিজেরাই করে। কোর্ট কাচারির ধার ধারেনাৎ। কারও মৃত্যু হলে মৃতের গায়ে থাকা পুরাতন কাপড়ের উপর নতুন কাপড় পরানো হয় এবং মাটিচাপা দিয়ে সমাধিস্থ করা হয়। অবশ্য পোড়ানোও যায়। রোগ নিরাময়ের জন্য ওঁরাওদের নিজস্ব চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। তারা প্রধানত মন্ত্র চিকিৎসা ও কবিরাজি চিকিৎসার মুখোপেক্ষী । ওঁরাওগণ দ্রাবিড় ভাষার অর্ন্তগত কুরুখ ভাষায় কথা বলে।

(৪) মহালী বা মাহালী

আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর অর্ন্তগত মহালীরা বাংলার প্রধান কয়েকটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্যতম। নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানায় ১৫০টি মহালী পরিবার বসবাস করে । এছাড়া, পোরশা, মান্দা, ধামইরহাট ও বদলগাছি থানায় মহালীরা বাস করে। এরা প্রায় সকলেই খ্রিস্টান। বাঁশ ও বেতের কাজ করে মহালীরা জীবিকা নির্বাহ করে। খুব কম সংখ্যক মহালীরই দু’এক বিঘা জমি আছে।

(৫) বাঁশফোঁড়

নওগাঁ জেলার মধ্যে নওগাঁ শহরের তরকারি বাজার সংলগ্ন পল্লীতেই সর্বাধিক সংখ্যক বাঁশফোঁড় বসবাস করে। এ ছাড়া মহাদেবপুর, সাপাহার, হাপানিয়া, নজিপুর, পত্নীতলা, মাতাজি হাট, ধামইরহাট এবং স্বরস্বতীপুর বাজারে কিছু বাঁশফোঁড় বাস করে। এদের সংখ্যা পাঁচ-ছয়শতের বেশি হবেনা। বাঁশফোঁড়দের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রধান হচ্ছে কালিকা পূজা ও সূর্য পূজা। বাঁশফোঁড়দের কালিকা দেবী হিন্দুদের কালিদেবী থেকে পৃথক। বাঁশফোঁড়রা বেশির ভাগ ঝাড়ুদারের চাকুরি করে। এদের জমি জমা বা শিক্ষা দীক্ষা তেমন নেই। বাঁশফোঁড়রা ভাঙ্গা হিন্দি ভাষায় কথা বলে। বাংলা ভালোই বলতে পারে।

(৬) কুর্মি

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট, মহাদেবপুর, পত্নীতলা ও বদলগাছি থানায় কুর্মিরা বসবাস করে। নওগাঁ জেলার অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের তুলনায় কুর্মিরা বেশ অগ্রসর। ১৯৪৭ এর পরে কুর্মিরা ব্যাপক হারে দেশ ত্যাগ করে। মুন্ডা ও ওঁরাওদের মতো কুর্মিরাও ডাল পূজা করে এবং এটিই তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

(৭) মাল পাহাড়িয়া

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানায় ১০৫ঘর, পোরশা থানায় ১৫৩ঘর, সাপাহার থানায় ২০ঘর, মান্দা থানায় ১২ঘর, মহাদেবপুর থানায় ৫ঘর এবং নিয়ামতপুর থানায় ৫০ঘর মাল পাহাড়িয়া বাস করে। মাল পাহাড়িয়ারা অত্যন্ত গরীব। পেশা দিনমজুরী। নারী পুরুষ সবাই ধান রোপন, কাটা ইত্যাদি মাঠের কাজ করে থাকে। শ্রাবণ সংক্রামিততে হাঁস উৎসর্গ করে মনসা পূজা মাল পাহাড়িয়াদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান। মাল পাহাড়িয়া সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে সামাজিক শৃঙ্খলা বিধান করে এবং মোটামোটি শান্তিতে বসবাস করে। আইন আদালতের আশ্রয় নেয়ার দরকার হয়না

পর্যটন
পর্যটনের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকলেও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ সহানের নিক দিয়ে নওগাঁ জেলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় অবস্থিত ধূসর পাথর দ্বারা নির্মিত কুসুম্বা মসজিদ, বদলগাছী উপজেলায় এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, হলুদ বিহার, ধামুইরহাট উপজেলায় অবস্থিত ভীমের পান্টি, মাহিসন্তোষ, আলতাদীঘি ও জগদলবাড়ি, আগ্রাদ্বিগুন পুরাকীর্তির ধ্বংসাবশেষ, পত্মীতলা উপজেলায় অবস্থিত দিব্যক জয়স্তম্ভ, নওগাঁ সদর উপজেলায় দুবলহাটি জমিদার বাড়ি ও বলিহার রাজবাড়ি এবং আত্রাই উপজেলায় অবস্তিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত পতিসর কুঠিবাড়ি অবস্থিত । এই সকল ঐতিহাসিক স্থানসমূহে পর্যটন মটেল স্থাপন , বিদ্যুৎ সরবরাহ, টেলিফোন সংযোগ এবং যোগাযোগ ব্যবসহার আধুনিকীকরণ করে পর্যটকদের আকৃষ্টকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব ।

শিল্প

নওগাঁ জেলা শিল্পের দিক দিয়ে একেবারেই পশ্চাদপদ। এখনও এই জেলায় ভারি বা মাঝারি কোন শিল্প গড়ে উঠেনি। এই জেলায় সড়ক ও রেলপথে দেশের যে কোন স্থানের সংগে যোগাযোগের সুযোগ থাকায় এবং পর্যাপ্ত জনশক্তি, বিদ্যুতের সরবরাহ থাকায় এখানে ভারি ও মাঝারি শিল্প সংস্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে ।
এই জেলায় বৃহদাকারের কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় চাউল কল ছাড়াও ধান সিদ্ধ করার বয়লার, প্লাষ্টিক মোল্ডিং কারখানা, কলম প্রস্ততকারী কারখানা, চিড়াকল, বেকারী ইত্যাদি ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠেছে । এছাড়া জেলা সদরে স্থাপিত বিসিক শিল্পনগরীতে বর্তমানে কিছু ক্ষুদ্র/মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে । জেলার উদ্দোক্তাগণ ট্রেডিং এর প্রতি আগ্রহী। তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং এর প্রতি উৎসাহী করে তুলতে হবে । এই জেলা ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ডেয়ারী সহাপনের জন্য স্বচ্ছল উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন ।

কয়েকটি মুসলিম ঐতিহাসিক নিদর্শন
কুশুম্বা মসজিদ, মাহীসন্তোষ ও ধরমপুরের ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারত ছাড়াও নওগাঁর বিভিন্ন থানায় দু’ থেকে চারশ বছরের পুরাতন বহু মসজিদ, দরগা, এমনকি দু’একটি তাজিয়াও আছে। তবে এগুলি অযত্নে ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
আত্রাই থানার মহাদীঘি গ্রামের মসজিদ, কাজীগাড়া গ্রামের মসজিদ ও তাজিয়া, মিরাপুর গ্রামের মসজিদ উল্লেখযোগ্য। নিয়াতপুর থানার পাইকর গ্রামে রয়েছে একটি পুরাতন মসজিদ, মিহান্দা গ্রামে তিন গমবুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ, শালবাড়ি গ্রামে তিনশত বছরের পুরাতন একটি দরগা এবং রামকুড়া গ্রামে একটি তাজিয়া, মান্দা থানার চরমান্দারিশ গ্রামে তিনশত বছরের পুরাতন একটি দরগা আছে। পত্মীতলা থানার কৃষ্ণপুর গ্রামে তিনশত বছরের পুরাতন একটি মসজিদ এবং মধইল গ্রামে প্রায় চারশত বছরের পুরাতন একটি দরগার ধ্বংসাবশেষ আছে। বদলগাছী বাজারে উত্তর দিকে শাহবুদ শাহ নামে একজন আউলিয়ার মাজার আছে। তবে তিনি কোন্ সময় এখানে এসেছিলেন, কতদিন জীবিত ছিলেন তা কেউ বলতে সক্ষম নয়।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উপরোক্ত মসজিদ-দরগার বয়স আনুমানিক আর মসজিদ মন্দিরের বিবরণ যে চুড়ান্ত তা বলা যাবে না। কারণ এই নওগাঁ শহরের উত্তরে কোমাইগাড়ী গ্রামের পাশে তিন গমবুজ বিশিষ্ট একটি ছোট পুরাতন মসজিদ আছে। দৈর্ঘ ২৩ ফুট ও প্রসহ মাত্র ৫ ফুট। একসারি লোকের নামাজের স্থান সংকুলান হতে পারে। এর নির্মাণ কাল নির্ণয় করা দুরুহ। স্থানীয় লোকেরা কেউ সঠিক তথা দিতে পারে না । অনুরুপভাবে নওগাঁ থানার বালুভরায় একটি পিরামিডাকৃতি সুন্দর মন্দির আছে। এটি যে কতকাল আগে নির্মিত তার সঠিক তথ্যও পাওয়া যায় না ।
ধরমপুর মসজিদ
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ধরমপুর গ্রামে মোগল শাসনামলে একটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে । এটিতে নয়টি গম্বুজ ছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা অনুমান করেন। এই মসজিদের উত্তর পূর্ব ও দিক্ষণ দেওয়ালে তিনটি করে খিলান করা দরজা ছিল। আর পশ্চিম দেওয়ালে তিনটি খিলান করা মিহরাব ছিল। দু’সারিতে অবস্থিত চারটি ইট নির্মিত বৃহদাকার চারটি স্তম্ভ মসজিদের অভ্যন্তর ভাগকে তিনটি আইল বা খিলান পথ এবং তিনটি ব্যে বা হ্রস্বপথে বিভক্ত করেছে। স্তম্ভের উপরিভাগে ঝুলন্ত খিলানের দেওয়ালের বর্হিভাগে অতি সুন্দর প্যানেলের কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়। ধরমপুর মসজিদে চারটি শিলালিপি পাওয়া গেলেও কোন লিপির সম্পূর্ণ পাঠ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। একটি লিপির আংশিকভাবে পাঠাদ্ধার সম্ভব হয়েছে। সে লিপি থেকে জানা যায় যে, ১১১১ হি./১৬৯৯-১৭০০ খ্রিস্টাব্দে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের দৈর্ঘ ৪২ ও প্রসহ ৪২ ফুট। দেওয়াল ২ ফুট ৬ ইঞ্চি চওড়া। চুন-সুড়কির গাঁথুনি। মসজিদের ভিতরের ৪ টি কলাম,মসজিদের চার কোনায় ৪টি কলাম অতি সুন্দর অংকরণ বিশিষ্ট। মজার ব্যাপার যে এই মসজিদের একই চত্ত্বরে একটি মন্দির ও একটি তাজিয়া আছে ।


বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
নওগাঁ জেলার অধিকাংশ বরেন্দ্র এলাকাভূক্ত হওয়ায় তৎকালীন সরকার ১৯৮৫ সালে কৃষি, সেচ তথা সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে এখানকার অধিবাসীদের আর্থ-সামাজিক অবসহার উন্নয়নে ৫ বৎসর ব্যাপী বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প- ১ম পর্যায় গ্রহণ করে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় । ১৯৯০ সালে উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ শেষে ২য় পর্যায়ের কাজ শুরু হয় । ১ম পর্যায়ে প্রকল্পের বিস্তৃতি ১৫ টি থানা থেকে বৃদ্ধি করে রাজশাহী , নওগাঁ ও নবাববগজ্ঞ জেলার সবকটি থানা অর্থাৎ ২৫টি থানাকে প্রকল্পভূক্ত করায় এই প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ’বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রাজশাহীতে সদর দপ্তর করে একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হয় । এই প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়সহ প্রকল্পভূক্ত এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়।

গাঁজা সোসাইটি

নওগাঁ জেলার অর্থনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই জেলার নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর ও বদলগাছী থানায় বৃটিশ আমলে গাঁজা চাষ হত। গাঁজা চাষের জন্য এই এলাকার মাটি উপযোগী হওয়ায় প্রায় ৯,০০০ হেক্টর গাঁজা চাষের আওতাভূক্ত করা হয়। প্রায় একশ বছর ধরে নওগাঁ থানার তিলকপুর, বোয়ালিয়া, বক্তারপুর, কীর্তিপুর, নওগাঁ , হাঁপানিয়া, বর্ষাইল, দুবলহাটি, বদলগাছী থানার বালুভরা, মহাদেবপুর থানার ধনজইল ও ভীমপুর এলাকায় গাঁজা চাষ হত। এই তিন থানা পৃথক জেলার অধীনে থাকায় ১২০ বছর পূর্বে গাঁজা চাষের সুবিধার্থে এই তিন থানাসহ অন্যান্য থানার সমন্বয়ে রাজশাহী জেলার অধীনে নওগাঁ মহকুমা গঠিতত হয়। তৎকালীন রাজশাহী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকারবলে গাঁজা সোসাইটির চেয়ারম্যান, মহকুমা প্রশাসক ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। বৃটিশ সরকার গাঁজার দাম নির্ধারণ করে দিলেও গাঁজা চাষীরা লাভ হতে বঞ্চিত হত না । গাঁজার মত আর কোন ফসল এত লাভও হত না। তাই নওগাঁ গাঁজা মহালের চাষীরা তৎকালীন বৃটিশ ইন্ডিয়ার সব থেকে স্বচ্ছল চাষী বলে গণ্য হতেন। গাঁজা সোসাইটির অফিস ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টার ছিল নওগাঁ শহরের প্রথম দিককার স্থাপনা। ভবনগুলোকে কেন্দ্র করে নওগাঁ শহরের গোড়াপত্তন হয়। গাঁজা সোসাইটির অবদানকে বাদ দিলে নওগাঁর অর্থনৈতিক ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায় । বৃটিশ সরকার নওগাঁর গাঁজা উৎপাদকদের কাছ থেকে বৎসরে ৬৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব পেত। যা সরকারের রাজস্বের প্রধানতম উৎস বলে পরিগনিত হত। গাঁজা চাষীদের প্রতিষ্ঠান ’দি নওগাঁ গাঁজা গ্রোয়ার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ’ সংক্ষপে গাঁজা সোসাইটি এতদাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পশুকল্যাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা রাখত। নওগাঁ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবস্থিত এই সোসাইটির সম্পত্তিগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা হলো সোসাইটি তাঁর সদস্যদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম হবে ।

নওগাঁ কে,ডি,সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়
1| প্রতিষ্ঠানের পুরো নাম ও ঠিকানা: নওগাঁ কে,ডি, (কৃষ্ণ ধন) সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ,
মহল্লা- খাস নওগাঁ, ডাকঘর- নওগাঁ, উপজেলা- নওগাঁ সদর
জেলা- নওগাঁ। ফোন: ০৭৪১-৬২৮৮৭
2| প্রতিষ্ঠার তারিখ: ২৪/০২/১৮৮৪ ইং।
3| প্রতিষ্ঠার বিবরণ: ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দ সৃষ্ট ৩৪৩৫.৬৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট উত্তরবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহকুমা শহর এই নওগাঁ মহকুমা, কৃষি সম্পদে সমৃদ্ধ ও জমিদার প্রধান স্থান হিসাবে খ্যাত কিন্তু শিক্ষা বিস্তারে উদাসীন, এমনই এক পরিবেশে নওগাঁ মহকুমা শহরে ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দে মহকুমার সর্বপ্রথম এই হাই স্কুল স্থাপিত হয়। নওগাঁর এই স্কুল স্থাপনে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন নওগাঁর তদানিন্তন ডেপুটি ও গাঁজা সোসাইটির সুপার ভাইজার বাবু কৃষ্ণ ধন বাগচী। তাঁর প্রচেষ্টায় নওগাঁ মহকুমার জামিদার, বিত্তশালী লোক ও কৃষকগণ স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। এই স্কুল শুরু হয়েছিল খড়ের আটচালা ঘর দিয়ে, বাবু কৃষ্ণ ধন বাগচীর মৃত্যুর পর সম্রাট পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেকের সংগৃহীত অর্থের উদ্ধৃতাংশ ও স্থানীয় জনগণের চাঁদার সাহায্যে স্কুলের সম্প্রসারণ কাজ সমাপ্ত করে স্কুলটির ইংরেজি H অক্ষর আকারে পাকা একতলা ভবন নির্মান করা হয়। ১৯৭০ খ্রীষ্টাব্দের পহেলা ফেব্রুয়ারী বিদ্যালয়টি সরকারী মর্যাদা লাভ করে।
4| বিদ্যালয়ের প্রসিদ্ধ প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্র: রত্নগর্ভ নওগাঁ কে.ডি.সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় একটি বিশাল বিটপী সমতুল্য। কত শত জ্ঞানী গুনীজন শিক্ষকতা ও জ্ঞানার্জনের সোনালী অধ্যায় এই মহাতীর্থ ক্ষেত্রে সমাপ্ত করেছেন তা এই স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়, তন্মধ্যে কিছু স্মৃতি নিম্নরূপঃ বাবু কুমুদনাথ অত্র স্কুলের ইংরেজী গদ্য ও বাংলার শিক্ষক ছিলেন। তিনি একজন সু-সাহিত্যিক হিসেবে ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষায় সাহিত্য চর্চা করেন। তাঁর রচিত A History of Bengali Literature Rabindranath His Mind and Art, জিজ্ঞাসা, কাব্যগুচ্ছ প্রভৃতি গ্রন্থ সুধীমহলে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে। তাঁর A History of Bengali Literature নামক সাহিত্য সমালোচনা গ্রন্থটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুসরণীয় গ্রন্থ হিসেবে মনোনীত হয়েছিল। ‘বিদ্যাসাগর চরিত’ প্রণেতা পন্ডিত শরৎচন্দ্র কাব্যরত্ন ছিলেন স্কুলের হেড পন্ডিত। তাঁর কাব্য চর্চার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে কাব্যরত্ন উপাধি দেওয়া হয়। এই হেড পন্ডিত মহাশয় পরে অধ্যাপনা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর ছোট ভাই বাবু সতীশ চন্দ্র বিখ্যাত অধ্যাপক ও যশস্বী সাহিত্যিক কলকাতা কলেজের অধ্যক্ষ মহাপাধ্যায় সতীশ চন্দ্র আচার্য বিদ্যাভূষণ এম,এ,পি এইচ, ডি, ও এই স্কুলের শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজি এ দুটি ভাষায় এম,এ ডিগ্রী নিয়েও (সম্ভবত ১৯৪৫ সালে) এই স্কুলের শিক্ষকতা করেছেন। সরলতম জীবন যাপনকারী শ্রীচরণ বসাক। তিনি বেতনের টাকা পেয়েই পাবনার অনুকূল ঠাকুরের কাছে পাঠাতেন। ঠাকুর মশায় তাঁর আশ্রমের জন্য চাঁদা রেখে শ্রী বসাককে যা পাঠাতেন তা দিয়েই তিনি সংসার চালাতেন। জাগতিক বৈষয়িক হিসেবের সূক্ষ্ম বিবেচনার উর্দ্ধে থেকে কিভাবে নিজেকে জ্ঞান বিতরণের সেবায় অধিকতর উৎসর্গী হওয়া যায়। সেই উৎকৃষ্ট উদাহরণ তাঁর জীবন চিত্র থেকে সহজেই অনুমেয়। জনাব এমরান আলী (১৯৫৪-১৯৫৯) স্যার ছিলেন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী ধ্বনিতত্ত্বে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম,এ প্রথম শ্রেণীর গোল্ড মেডেলিস্ট। তিনি এই স্কুল থেকেই লন্ডনে গিয়ে ধ্বনি তত্ত্বের উপর বিশেষ পাঠ গ্রহণ করেন এবং ছাত্রদের মাঝে তাঁর লব্ধ জ্ঞানের বিশেষ চর্চায় নিবেদিত থাকেন। জনাব মুজিবুর রহমান (১৯৬০-১৯৭৮) প্রশাসনিক বিচক্ষনতা ও দূরদর্শিতার এক মূর্তমান প্রতীক। তিনি ১৯৬১-৬২ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করায় ১৯৬৫-৬৬ সালে স্কুল পরিচালনা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ফুলব্রাইট স্কলারশীপ নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন এবং স্কুলকে একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠে পরিণত করতে নিবোদিত সেবকের ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রচিত ‘নওগাঁ কে,ডি,স্কুল পরিচিতি’ পুস্তিকা অত্র স্কুলকে জানার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক। জনাব আলতাফ হোসেন (১৯৫৬-৭৯, ৮১-৯১) প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক শৃংখলা বজায় রেখে স্কুলের সমস্ত কার্যক্রমকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করে একে সুনামের চরম শিখরে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টার কোনরূপ ক্রটি রাখেননি। শিক্ষক প্রশিক্ষন কোর্সের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করায় ১৯৬৬-৬৭ সালে স্কুল পরিচালনা বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ফুলব্রাইট স্কলারশীপ নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সফলতার নিদর্শন স্বরূপ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্বীকৃতি দেওয়া হয় ১৯৯২ সালে। এই স্কুলের ছাত্র মরহুম হুমায়ন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) ১৯২২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজশাহী বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বাগ্মী ও রাজনীতিবিদ (সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক-আবু সয়ীদ আইয়ুব এর সাথে চতুরঙ্গ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন) ছিলেন। তাঁর বাংলা কাব্য, নদী ও নারী উপন্যাস এবং শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় এর উপর গবেষণা কাজ বৈজ্ঞানিক যুক্তিনিষ্ঠার এক অপূর্ব দলিল। তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রোলিয়াম ও কেমিক্যালস্ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন (১৯৬৩-৬৮)। তাঁর ইংরেজী ও বাংলায় লেখা দর্শন, সাহিত্য, রাজনীতি ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রায় ২০টি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি মওলানা আজাদের সচিব ছিলেন। পৃথিবী খ্যাত রাজনৈতিক গ্রন্থ মওলানা আজাদের ‘India Wins Freedom’ এর ইংরেজী খসড়ার প্রণেতা ছিলেন হুমায়ন কবির এবং এই মহা মূল্যবান গ্রন্থের বাংলায় অনুবাদক দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত প্রগতিপন্থি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ও এই স্কুলেরই এক সমযের ছাত্র ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র-যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শহীদ হন তাঁরা হলেনঃ- নজমুল হক, কুদরত-ই-এলাহী, আবদুল্লাহ আল মামুন, কাজী নূরুন নবী, ইদ্রিস আলী, মতিউল ইসলাম, ইব্রাহিম আলী, জয়নাল আবেদীন, সানাউল্লাহ, হিম্মত আলী ও আব্দুর রাজ্জাক।
5| স্থানীয় উন্নয়নে বিদ্যালয়ের ভূমিকা: স্থানীয় তথা দেশের উন্নয়নে বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্ররা যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন এবং রাখছেন।
6| রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলনের ভূমিকা: এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র, নওগাঁর কৃতি সন্তান জনাব মোঃ আব্দুল জলিল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। তিনি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দেশ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মরহুম শামসুদ্দীন আহমেদ এম,পি বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন রাজা চৌধুরী, মমিনুল হক (ভুটি ভাই)। জনাব লোকমান হাকিম ফতু বিটিভির সুরকার হিসেবে ৩ বার জাতীয় পুরস্কার পান। সত্যাগ্রহ আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, দেশ ও কৃষ্টি আন্দোলন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে এই স্কুলের সন্মানিত শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এই স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন, কাজী সাখাওয়াত হোসেন, নুরউল হক, তৌহিদ আহমেদ, আতাউল হক সিদ্দীকি, মতি নন্দ রায়, মুকিম উদ্দিন, হামিদুর রহমান, আব্দুস সালাম অন্যতম।
7| ছাত্র, শিক্ষকের সংখ্যা, আর্থিক অবস্থা, ভৌত অবকাঠামোগত অবস্থা : বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমান ১২ একর, ৫টি খেলার মাঠ, ৩টি হোস্টেলের মধ্যে বর্তমানে স্কুল ক্যাম্পাসে ১টি হোস্টেল চালু আছে। এছাড়াও অডিটোরিয়াম, দ্বিতল বিজ্ঞান ভবন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, স্কাউট ভবন, শহীদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সৃষ্টপদ সংখ্যা (ডবল শিফ্ট) মোট ৫২টি, ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি শিফ্টে প্রতিটি শ্রেণীতে ২টি করে শাখা চালু আছে এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণীতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ চালু আছে। সর্বমোট ছাত্র সংখ্যা ১৩২০ জন (প্রায়)। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যথেষ্ট ভাল, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অবস্থান, চারুকলা, কম্পিউটার বিজ্ঞান, শরীর চর্চা বিষয়ে শিক্ষাদান সফলভাবে চালু আছে এবং বিদ্যালয়ে এসবিএ পদ্ধতি চালুসহ প্রাথমিক বৃত্তি, জুনিয়র বৃত্তি এবং এস,এস,সি পরীক্ষার ফলাফল বেশ সন্তোষজনক। এই প্রতিষ্ঠানটি অত্র জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহন করে।(তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনেঃ জনাব মোঃ আল মামুন সহঃ শিক্ষক (ইংরেজি), নওগাঁ কে,ডি,সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ।)




উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী জামিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :


নাম: আল জামিয়াতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ্, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ ।
স্থাপিত: ১৩৫৩ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ ১৩৬৬ হিজরী ।
প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম আব্দুল হাই শাহ চৌধুরী ।
প্রথম পরিচালক : মাওলানা সালিহ আহমাদ সাহেব (দা:বা:)
জামিয়ার বর্তমান মহাপরিচালক : আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মুহাম্মাদ শরীফুদ্দীন চৌধুরী ।
জামিয়ার আয়তন :তিন একর ।
অবস্থান : নওগাঁ জেলার অন্তর্গত পোরশা থানাধীন পোরশার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
বর্তমান ছাত্রসংখ্যা : ৯০০জন প্রায় ।
শিক্ষক সংখ্যা : ৪১ জন ।
কর্মচারীর সংখ্যা : ১৩ জন ।


ঐতিহ্যবাহী জামিয়ার বিভাগসমূহ :

১। মক্তব বিভাগ : এ বিভাগে শিশু কিশোরদের বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত সুদক্ষকারি সাহেবদের মাধ্যমে নূরানী পদ্ধতিতে দোয়া মাসায়িল এবং কুরআন শরীফ সহজ ও সহীহ শুদ্ধ রূপে শিক্ষাদানের সুব্যবস্থা রয়েছে । মাত্র ৩ বছরে আবশ্যকীয় ধর্মীয় বিষয়গুলোর শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা , অংক ,ইংরেজী ,ভূগোল ও ইতিহাস প্রভৃতির শিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা আছে ।
২। হিফজ বিভাগ: এ বিভাগে হিফজ পড়তে আগ্রহী শিশু-কিশারদেরকে অনূর্ধ্ব ৩/৪ বছরে পূর্ণ কুরআন শরীফ উত্তম রউপে মুখস্ত করানো হয় এবং তাদেরকে তারতীলের সাথে তিলোওয়াত করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তালীম তরবিয়াত দেয়া হয় ।
৩। কিতাব বিভাগ : সুবিন্যস্ত শ্রেণী পদ্দতিতে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা প্রদান করত: সুযোগ্য ওলামা তৈরী করার বারো বছরের বৃহত্তর প্রকল্প। এ বিভাগে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত কুরআন শরীফ ,হাদিস শরীফ ,ফিকাহ ও আরবি সাহিত্যে বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা শিক্ষা দান করা হয় এবং এর সঙ্গ প্রয়োজনীয় বিষয়ক জ্ঞানাজর্নের জন্য বাংলা ,অংক ও ইংরেজি প্রভৃতির শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে ।
৪। ক্বিরাত বিভাগ : এ বিভাগে দাওরায়ে হাদীসের চুড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদের জন্য পবিত্র কুরআনের তাজবীদ বিষয়ে বিস্তারিত গভীর জ্ঞানের গবেষণামূলক এক বছরের বিশেষ কোর্সের সুব্যবস্থা।
৫। ফাতওয়া বিভাগ :এ বিভাগে দাওরায়ে হাদিসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্রদের জন্য দুই বছরের ফাতওয়া বিভাগে বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ইসলামের বিধান মোতাবেক যাবতীয় সমস্যা ও জটিল প্রশ্নাবলীর সমাধান কি ভাবে প্রদান করতে হবে তা শিক্ষা দেয়া হয় এবং পাশাপাশি এ বিভাগ থেকে সকল সাধারণকে দৈনন্দিন জীবনের ধর্মীয় সমস্যার সমাধান দাওয়া হয় ।
৬। প্রকাশনা ও প্রচার বিভাগ:
এ বিভাগ থেকে ইসলামী বই পুস্তক রচনা ও পত্রিকা প্রকাশ করার মাধ্যমে জনসাধারণকে ইসলামের আদর্শ ও বিধিবিধান বিষয়ে ধারণা প্রদান করা হয় । এ বিভাগ থেকে ক্যালেন্ডার ,রিপোর্ট ,পোস্টার প্রভৃতি ছাপানো হয় ।
৭। দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ :দেশের সকলস্তরের নাগরিকদের মধ্যে কুরআনী ইনসাফ ,কুরআনী আখলাক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি দ্বীনি ঐতিহ্যের সংরক্ষণ এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য প্রতি সপ্তাহে দু'তিন জামাত বিভিন্ন এলাকায় বের হয় এবং প্রতি বছর ওয়াজ মাহফিল ও ইসলামী জোড়ের ব্যবস্থা করা হয় ।
৮। অর্থ বিভাগ : জামিয়ার তহবিল সংগ্রহ ,সংরক্ষণ ও জমি জমার আয় ব্যায় সঠিক কাযক্রম পরিচালনা করা হয় । জামিয়ার দুটি ফান্ড রয়েছে চাদা ও সাদকা ফান্ড উভয় ফান্ডের পৃথক পৃথক হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে ।
চিকিতসা বিভাগ: এ বিভাগ থেকে দৈনন্দিন অসুস্থ ছাত্র ও শিক্ষকদের ফ্রি হোমিও ঔষধ প্রদান করা হয়, অভাবগ্রস্ত জটিল রোগী ছাত্রকে দ্রুত হাসপাতালে বা ডাক্তারখানায় পৌছনোর ব্যবস্থা করত ,চিকিতসক দ্বারা ব্যবস্তাপত্র ও ঔষধ ফ্রি প্রদান করা হয় ।
৯। পাঠাগার : এ বিভাগ হতে প্রতি সপ্তাহে পাঠ্য বই ছ্ড়া ধর্ম ,সমাজ ,সাহিত্য ও জ্ঞান বিজ্ঞান বিষয়ক বই পুস্তক বিতরণ করা হয় ।
গ্রন্থাগার :এ কুতুবখানা থেকে প্রাইমারী বিভাগ হতে দাওরায়ে হাদীস ,ক্বীরাত বিভাগ ফাতোয়া বিভাগ পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্য বইপত্র বিতরণ করা হয় এবং বছর শেষে তা আবার গ্রন্থাগারে জমা রাখা হয় ।

দর্শনীয় স্থান
নওগাঁ জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্যতম বৃহৎ জেলা বিশালায়তন এ জেলা বুকে ধারণ করে আছে বহু পূরাকীর্তি। এর মধ্যে মান্দা উপজেলাধীন- ‘কুশুম্বা মসজিদ’ ও তৎসংলগ্ন কুশুম্বা দীঘি, ধামুইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের ‘ অগ্রপুরী বিহার’, ‘জগদল বিহার’, বদলগাছি উপজেলার দ্বীপগঞ্জ নামক স্থানে অবস্থিত ‘হলুদ বিহার’, পাহাড়পুরের ‘সোমপুর বিহার’, পত্নীতলা উপজেলার দিবর দীঘির মধ্যখানে অবস্থিত ‘দিব্যক জয়স্তম্ভ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া জেলায় যে সব দর্শনীয় সহান রয়েছে সেগুলো পতিসর কাচারী বাড়ী (আত্রাই), ভীমের পান্টি (ধামইরহাট), মাহিসন্তোষ (ধামইরহাট), বলিহার রাজবাড়ী (নওগাঁসদর), আলতাদিঘী (ধামইরহাট), দুবলহাটী জমিদারবাড়ী (নওগাঁ সদর)। নিম্নে দর্শনীয় স্থানসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলোঃ নওগাঁ জেলায় বেশকিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এসব স্থানে সব মৌসুমেই কিছু কিছু দর্শনার্থীর ভিড় জমে। স্থানগুলো হলো :
১। কুশুম্বা মসজিদ (মান্দা)
২। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (বদলগাছি)
৩। পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি (আত্রাই)
৪। ভিমের পান্টি (ধামুইরহাট)
৫। দিব্যক জয়স্তম্ভ (পত্নীতলা)
৬। মাহি সন্তোষ (ধামইরহাট)
৭। বলিহার রাজ বাড়ি (নওগাঁ সদর)
৮। আলতাদিঘি (ধামইরহাট)
৯। জগদল বাড়ি (ধামইরহাট)
১০। হলুদ বিহার (বদলগাছি)
১১। দুবলহাটি জমিদার বাড়ি (নওগাঁ সদর)
এসব স্থানের পূরাতত্ত্ব ঠিক রেখে আনুষাঙ্গিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে দর্শনীর বিনিময়ে ব্যাপক দর্শনার্থী আকৃষ্ট করা সম্ভব।
Places of Interest: Naogaon District
________________________________
Kushumba Mosque
Shampur Bihar, PaharPur
Dubalhati Rajbari,Dubolhati
Patishar (Rabindranath Tagor's KuthiBari)
AltaDighi Dhamoirhat
Mohadevpur Razbari
Dibor Dighi, Patnitola
Gahon pirbabar Mazar, Patnitola
Shrine of Hazarat Zahor Uddin Cistia Babar, Patnitola
Katabari Mazar, Patnitola
Dudulhati Jamindar Palace, Sadar
Balihar Royal Palace, Sadar
Balihar Royal Palace,Balihar
Balihar Royal palace,Manda
Vimer Panti, Dhamoirhat
Jogoddol Bihara, Dhamoirhat
Mahisontos, Dhamoirhat
Halud Bihar, Badalgachi
Taltoli Bill, Sadar
Bokshir Bill,Badalgachi
Jobai billl,Shapahar
Dighlir Bill

কুশুম্বা মসজিদ
প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করা যায় কৌশাম্বীর নাম। এর উল্লেখ পাওয়া যায় খ্রিস্টাব্দ ১২শতকে রচিত রামচরিতের ভাষ্যে। কুশুম্বা মসজিদের পশ্চিম পাশে সোনাবিবির মসজিদ পর্যন্ত ফাঁকা জায়গাতে প্রচুর প্রত্ন নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়।
তাছাড়া হিস্ট্রি অব বেঙ্গল ভলিউম: ১ এ প্রাচীন বাংলার একটি মানচিত্রে কৌশাম্বীর যে অবস্থান দেখানো হয়েছে তাতেও মনে হয় যে, বর্তমান কুশুম্বাই প্রাচীন কৌশাম্বী। এই নিদর্শনটি মান্দা উপজেলায় রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। প্রাচীন মসজিদ এবং তৎসংলগ্ন বিশালাকৃতির দীঘি নিয়ে কুশুম্বা নামটি প্রচলিত। এখানে সব মৌসুমে পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের ভিড় জমে।
কুসুম্বা মসজিদ যাওয়ার ব্যবস্থা :
নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাসযোগে ঐতিহাসিক মান্দার কুসুম্বা মসজিদ
যাওয়া যায়। আনুমানিক দূরত্ব ৩৫ কিঃমিঃ বাস ভাড়া- ৩০/-টাকা ।
থাকার ব্যবস্থা- জনসাধারণের জন্য কুসুম্বা মসজিদে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই । দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর/জেলা সদরে থাকা যাবে।

Kusumba Mosque
Kusumba Mosque is named after the village of Kusumba, under the Manda upazila of Naogaon district, on the west bank of the Atrai river. It was built by a high-ranking official named Sulaiman, during the period of Afghan rule in Bengal, under one of the last Surirulers, Ghiyasuddin Bahadur Shah. The inscription tablet is in Arabic, with only the word 'built by' in Persian, dates the building to 966 AH (1558-59 AD), and is fixed over its eastern central entrance. Although built during Suri rule, the mosque is not influenced by the earlier Suri architecture of North India, and is well grounded in the Bengal style. The brick building, gently curved cornice, and the engaged octagonal corner towers are typical features.The mosque, presently protected by the Department of Archaeology of Bangladesh, was badly damaged during the earthquake of 1897. Although the main fabric of the building is of brick, all of the exterior walls, and the interior up to the arches of the pendentives, have stone facing. The columns, platform, floor, and perforated side screens are of stone. The mosque has a rectangular plan with three bays and two aisles, three entrances on the east, and two each on the north and south sides.The central mihrab is projected in the west. The interior west (qibla) wall has two mihrabs on the floor level opposite the central and southeastern entrances, but the one in the northwestern bay is above a raised platform ascended by a staircase on the east. The presence of such a platform in a non-imperial mosque indicates that not only royalty, but nobility and high-ranking officials were also separated from the general public during prayers.The mihrabs have elaborate stone carving. They have cusped arches crowned with kalasa (water pot) motifs, supported on intricately carved stone pillars which have projections and tasselled decorations hanging from chains. Bunches of grapes and vines curve in an almost serpentine manner on the mihrab frames, and kalasas, tendrils, and rosettes are reduced to dots. The platform edge has grape vine decoration, and there are rosettes on the spandrels of the arches supporting the platform, as well as on the mihrab wall.The stone used in the exterior facing is of coarse quality and is carved in shallow relief. Mouldings are the most prominent decorative feature on the outside. They divide the walls into upper and lower sections, run all along the curved cornice, around the corner towers, and frame the rectangular panels in the east, south, and north walls. The spandrels of the central entrance arch are filled with small kalasa and rosette motifs. The north and south sides have screened windows


অগ্রপুরী বিহার
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার আগ্রাদ্বিগুণে একটি স্ত্তপ আছে। এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রক্ষণাধীন। তিব্বতীয় সাহিত্যে এটাকে অগ্রপুরী বিহার বলা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজাদের আমলে নির্মিত এই স্ত্তপের উচ্চতা-আয়তন দেখে মনে হয় এককালে এটি একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ছিল।

জগদল বিহারঃ
ধামইরহাট থানায় জয়পুরহাট-ধামইরহাট রাস্তার উত্তর দিকে অবস্থিত ‘জগদল বিহার’ একটি প্রাচীন কীর্তি। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে স্থানটি আজও তেমন পরিচিত নয়। অথচ এই বিহারটি প্রাচীন বাংলার শিক্ষা দীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। কথিত আছে যে, কাশ্মীরের প্রসিদ্ধ সাধু ও পন্ডিত সাক্য শ্রীভদ্র ১২০০ খ্রিস্টাব্দে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার দর্শন করে জগদল বিহারে এসেছিলেন।

বাংলার জগদল বিহারের বৌদ্ধ পন্ডিত বিদ্যাকর সুভাষিত রত্নকোষ নামে একটি কোষকাব্য সংকলন সম্পন্ন করেছিলেন। প্রাচীন বাংলার এমন উন্নত জ্ঞান সাধন কেন্দ্র আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে এই স্থানটিতে খনন কাজ চলছে।


জগদল বিহার যাওয়ার ব্যবস্থা:
নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাসযোগে ধামইরহাট উপজেলা সদর সেখান হতে বাস/অটোরিক্মা যোগে ঐতিহাসিক জগদলবিহার যাওয়া যায়।
আনুমানিক দূরত্ব: ৬৫ কিঃমিঃ
বাসভাড়া- ৬০-৭০/-টাকা ।

থাকার ব্যবস্থা- জনসাধারণের জন্য জগদ্দল বিহার থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর/জেলা সদরে থাকা যাবে।
হলুদ বিহার:
বদলগাছি থানার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের দ্বীপগঞ্জ গ্রামে হলুদবিহার অবস্থিত। এখানে যে একটি বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্ব আছে তার যুগল দুটি শব্দ হলুদ বিহার ও দ্বীপগঞ্জ থেকে উপলব্ধি করা যায়। হলুদ বিহার যেমন একটি বিহার বা সংঘারামের অস্তিত্বের ইঙ্গিত বহন করে তেমনি দ্বীপগঞ্জ একটি দ্বীপের অবস্থানের আভাস দেয়। এই বিহার নওগাঁ
জেলার সর্বাপেক্ষা পরিচিত পাহাড়পুর বিহার থেকে মাত্র নয় মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দ্বীপগঞ্জ গ্রামে হাটের পাশে একটি উঁচু ঢিবি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ঢিবির পরিধি ১০০ ফুট। সমতল ভূমি থেকে উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট। বিহারের পার্শববর্তী এলাকায় মাঝেমধ্যে মাটি খনন কালে আকর্ষণীয় প্রত্ন নিদর্শন যেমন পাথর, ধাতব মূর্তি, পোড়া মাটির ফলক, অলংকৃত ইট পাওয়া যায়। আলোচিত ঢিবি ও মাটির তলা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নিদর্শন দেখে অনেকে অনুমান করত যে, এটি একটি প্রাচীন কীর্তি। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান ও জরিপ চালিয়ে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে এটি একটি বৌদ্ধ বিহার। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ হলুদ বিহারকে সংরক্ষিত মনুমেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেয়।

সোমপুর বিহার/পাহাড়পুর:
নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সোমপুর বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইংরেজ প্রত্নতাত্ত্বিক বুকানন হামিলটন যখন পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২) তখন তিনি পাহাড়পুরের এই স্তুপকে বৌদ্ধ বিহার বলে অনুমান করেন। ১৯২৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এর খনন কাজ চলে। খনন কালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায় যে, এটি সোমপুর বিহার। পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন। সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার। এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট। মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল। এ বিহারে ১২৫নং কক্ষে মাটির পাত্রে খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলের রৌপ্য মুদ্রা পাওয়া যায়। কোন সাধক বা ধর্ম প্রচারক মুদ্রাগুলি এখানে এনেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। পিরামিড আকৃতির এ মঠের উচ্চতা ৭০ ফুট। ১টি শূন্যগর্ভ চতুস্কোণ কক্ষকে কেন্দ্র করে এর অন্যান্য সংযোজনীসমূহ গড়ে ওঠেছে। সমগ্র বিহারটি প্রাচীর বেষ্টিত। এর প্রবেশ পথ এবং মূল ভবনে ওঠার সিঁড়ি ছিল উত্তর দিকে। সোমপুর বিহারে বাস করতেন মহাপন্ডিতাচার্য বোধিভদ্র। আচার্য অতীশ দীপঙ্কর কিছু কাল এই বিহারে বাস করেন। তাঁর গুরু রত্নাকর শান্তি সোমপুর বিহারের মহাস্থবির ছিলেন। সোমপুর বিহারে অবস্থান করতেন প্রাচীন চর্যাগীতিকার কাহ্নপা ও তাঁর গুরু জলন্দরী পা ওরওফ হাড়ি পা। পাহাড়পুর নওগাঁ জেলা এবং বদলগাছী থানার অধীনস্থ পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রত্নস্থল। পাকা সড়কের মাধ্যমে গ্রামটির নিকটস্থ রেল স্টেশন জামালগঞ্জ, জেলা শহর নওগাঁ এবং জয়পুরহাট শহরের সংগে যোগাযোগ রক্ষিত হচ্ছে। এ প্রত্নস্থল উত্তরবঙ্গের প্লাবনভূমিতে অবস্থিত। বিস্তীর্ণ একটানা সমভূমির মাঝে এক সুউচ্চ (পার্শ্ববর্তী ভূমি থেকে প্রায় ২৪ মিটার উঁচু) প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ স্বভাবতই একে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। স্থানীয়ভাবে পাহাড় নামে পরিচিত লাভকারী এ ধ্বংসাবশেষের অবস্থান থেকে পাহাড়পুর নামের উৎপত্তি হয়েছে। পূর্বভারতে জরিপ কাজ পরিচালনাকালে ১৮০৭ থেকে ১৮১২ সালের মধ্যে বুকানন হ্যামিল্টন সর্ব প্রথম প্রত্নস্থলটি পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে ওয়েস্টম্যাকট পাহাড়পুর পরিভ্রমণে আসেন। স্যার আলেকজান্ডার ১৮৭৯ সালে এ স্থা্ন পরিদর্শন করেন। তিনি এ ঢিভিতে ব্যাপক আকারে খনন করতে চেয়েছিলেন। কিন্ত এ জমির মালিক বলিহারের জমিদার কর্তৃক তিনি বাধাপ্রাপ্ত হন। ফলে বিহার এলাকায় সামান্য অংশে এবং কেন্দ্রিয় ঢিভির শীর্ষভাবে সীমিত আকারে খননের কাজ চালিয়েই তাঁকে সন্তোষ্ট করতে হয়। শেষোক্ত এলাকায় তিনি চার পাশে উদ্গত অংশযুক্ত ২২ ফুট বর্গাকার একটি ইমারত আবিষ্কার করেন। প্রত্নস্থলটি ১৯০৯ সালে পুরাকীর্তি আইনের আত্ততায় ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ কর্তৃক ১৯১৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়। (ভূমি নকশা, পাহাড়পুর)।

পাহাড়পুর যাওয়ার ব্যবস্থা:
নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাসযোগে ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে যাওয়া যায় । |আনুমানিক দূরত্ব আনুমানিক ৩২ কিঃমিঃ বাসভাড়া-৩০- ৪০ টাকা
থাকার ব্যবস্থা- জনসাধারণের জন্য পাহাড়পুরে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই । দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর/জেলা সদরে থাকা যাবে; তবে ভি আই পি দের থাকার জন্য নিকটে রেস্টহাউস আছে ।

Paharpur is a small village 5 km west of Jamalganj in the Naogaon district where the remains of the most important and the largest known monastery south of the Himalayas[citation needed] have been excavated. This 7th century archaeological find covers approximately an area of 27 acres (110,000 m2) of land. The entire establishment, occupying a quadrangular court, measures more than 900 ft (270 m), and is from 12 to 15 ft (3.7 to 4.6 m) in height. With an elaborate gateway complex on the north, there are 45 cells on the north and 44 in each of the other three sides, for a total number of 177 rooms. The architecture of the pyramidal cruciform temple is profoundly influenced by those of South-East Asia, especially Myanmar and Java. It takes its name from a high mound, which looked like a pahar, or hillock. A site museum built recently houses the representative collection of objects recovered from the area. The excavated findings have also been preserved at the Varendra Research Museum at Rajshahi. The antiquities of the museum include terracotta plaques, images of different gods and goddess', pottery, coin inscriptions, ornamental bricks and other minor clay objects.Nine miles west-southwest of Paharpur is the archaeological site of Halud Vihara, which has been tentatively listed as a Unesco World

Halud Vihara(হলুদ বিহার,বদলগাছী):


পাহাড়পুর থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষীণ পশ্চিমে এবং নওগাঁ শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে বলদগাছি উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নে হলুদ বিহার অবস্থিত । এখানে অনেক বিক্ষিপ্ত প্রাচীন ঢিবি এক বিশাল এলাকাজুড়ে বিদ্যমান। স্থানীয়ভাবে এটি দ্বীপগঞ্জের দ্বীপ নামেও পরিচিত সর্ম্পূণ গ্রামটিতে রয়েছে পুরানো ইট, ভাঙ্গা মৃৎপাত্র ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ অগোছালোভাবে ইতস্তত ছড়িয়ে আছে । এ পুরানো ঢিবিগুলি এবং গ্রামের নাম থেকে ধারনা করা যায় যে, এখানে প্রাচীন বৌদ্ধ বসতি ছিল । পাথর এবং ধাতু নির্মিত মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, অলংকৃত ইট প্রভৃতি প্রাচীন নিদর্শন এ স্থানে পাওয়া গেছে । এলাকার সর্বত্রই প্রাচীন দালানকোঠার নিদর্শন বিদ্যমান ।
স্থানটি ১৯৭৬ সালে সংরক্ষিত করা হয় এবং বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব বিভাগ প্রথমে ১৯৮৪ সালে এবং পরে ১৯৯৩ সালে এলাকাটি খনন করার ফলে একটি মন্দির কমপ্লেক্স আবিস্কৃত হয় । বরেন্দ্র অঞ্চলের পাহাড়পুর ও সীতা কোটের ধ্বংসাবশেষের সমসাময়িক ।

Halud Vihara is located 9 miles West Southwest from the World Heritage Site of Paharpur , in the Naogaon District of Bangladesh . A large mound 100 feet across and 25 feet high is the principal monument of a Buddhist archaeological site contemporary with the existing World Heritage Site of Paharapur, to which is proposed to be added as an additional Monument Zone as part of a serial nomination. Associated with Raja Haladhara and Sonavan in local legend, the site has been the find spot of stone and metal images, terracotta plaques, ornamental bricks, etc.This site was added to the UNESCO World Heritage Tentative List on February 17th, 1999 in the Cultural category.

দিব্যক জয়স্তম্ভ :
নওগাঁ জেলার একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন পত্নীতলা থানার দিবর দীঘির মাঝখানে অবস্থিত দিব্যক জয়স্তম্ভ। এ দীঘি স্থানীয় জনগণের কাছে কর্মকারের জলাশয় নামে পরিচিত। দীঘিটি ৪০/৫০ বিঘা বা অর্ধ বর্গমাইল জমির উপর অবস্থিত এবং গোলাকার। দিবর দীঘির মধ্যখানে অবস্থিত আটকোণ বিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরের এত বড় স্তম্ভ বাংলাদেশে বিরল।
এ স্তম্ভের মোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং পানির উপরের অংশ ২৫ ফুট % ইঞ্চি। এর ব্যাস ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি; প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ইঞ্চি। এর স্তম্ভে কোন লিপি নে। স্তম্ভের উপরিভাগ খাঁজ কাটা অলঙ্করণ দ্বারা সুশোভিত। দীনেশ চন্দ্র সেন ‘বৃহৎ বঙ্গে’ উল্লেখ করেছেন ‘কৈবর্ত রাজ ভীমের খুল্ল পিতামহ দিবেবাক দ্বিতীয় মহীপালকে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করিয়া বিজয়োল্লসে যে স্তম্ভ উত্থাপিত করিয়াছিলেন তাহা এখনও রাজশাহী জেলার এক দীঘির উপরে মস্তক উত্তোলন করিয়া বিদ্যমান।’ অন্যমতে, দিব্যকের রাজত্বকালে পাল যুবরাজ রামপাল বরেন্দ্র বরেন্দ্র উদ্ধারের চেষ্টা করে দিব্যকের নিকট পরাজিত হন। দিব্যক এই সাফল্যের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে দীঘি মধ্যস্থিত এ স্তম্ভটি নির্মাণ করেন। আরো মত আছে যে ভীম এ স্তম্ভটি নির্মাণ করেন এবং পিতৃব্য দিব্যকের স্মৃতি রক্ষার্থে স্তম্ভটি তার নামে উৎসর্গ করেন।

দিবরদীঘি যাওয়ার ব্যবস্থা:
নওগাঁ বালুডাংগা বাস টার্মিনাল হতে সরাসরি বাসযোগে ঐতিহাসিক দিবরদীঘি যাওয়া যায়। আনুমানিক দূরত্ব ৫০ কিঃমিঃ বাসভাড়া- ৫০- ৬০/-টাকা ।
থাকার ব্যবস্থা- জনসাধারণের জন্য দিবরদিঘি থাকার কোন ব্যবস্থা নেই । দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর/জেলা সদরে থাকা যাবে; তবে ভি আই পি দের থাকার জন্য সাধারণ একটি রেস্টহাউজ আছে ।

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলাধীন জবই বিল মৎস্য উৎপাদনের একটি বড় উৎস্য । এ প্রকল্প হালনাগাদ মৎস্যজীবির সংখ্যা- ৭৯৯ জন। জলমহালটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ২০ (কুড়ি) বৎসরের জন্য মৎস্য বিভাগে হস্তান্তরিত। প্রতি ৫ (পাঁচ) বৎসর পর পর নবায়নযোগ্য।৫। নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলাধীন জবই বিল একটি অতি পরিচিত দশর্নীয় স্থান । স্থানটি বর্ষা মৌসুমে অত্যন্ত সুন্দর আকার ধারণ করে। বর্সায় এর নয়নাভিরাম দৃশ্ব অবলোকোনের জন্য বহু পযটক এখানে আগমন করেন।
৬। জবই বিল যাওয়ার ব্যবস্থা :
নওগাঁ থেকে সরাসরি বাস যোগে জবই বিল যাওয়া যায়। দূরত্ব আনুমানিক- ৮৫-৯০ কিঃমিঃ
ভাড়া- ৫০-৬০ টাকা ।
৭। থাকার ব্যবস্থা- জনসাধারণের জন্য জবই বিল থাকার কোন ব্যবস্থা নেই । দিনে যেয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে অথবা উপজেলা সদর/জেলা সদরে আগে থেকে যোগাযোগ করে থাকা যেতে পারে।

Patisar Rabindro Nath kuthi bari
Patisar village is associated with Rabindranath Tagore . It is situated on the banks of the Nagor, 12 kilometres south-east of the Atrai railway station and 26 kilometers from the district town. The headquarters of the Tagore family's zamindari in Kaligram Pargana was located at Patisar. Dwarkanath Tagore , the grandfather of Rabindranath Tagore, purchased this zamindari in 1830. Rabindranath Tagore first came to Patisarin January 1891. The architectural design of the two-storied Kuthibari of Patisar is similar to that of Shilaidaha-Shahjadpur. The buildings, adjacent to the main mansion, are now reduced to ruins. A pond, named Rabindrasarobar, is now a silted up marsh. During his stay at Patisar, Tagore composed various poems, stories, novels, essays and the verse-play Biday Abhishap . He also established many primary schools, a school named Rathindranath High School,charitable dispensaries, and Patisar Krishi Bank (1905). He introduced tractors in Patisar and formed co-operative societies for the development of agriculture, handloom, andpottery. In 1921, when the zamindari was divided, Patisar was included in Tagore's share. When the poet was awarded the Nobel Prize, the tenants of Patisar gave him an address of honour (1913). On the request of his tenants, Tagore visited Patisar in 1937 for the last time on the occasion of Punya. Every year many devotees of Tagore come from home and abroad to visit Patisar. On the occasions of Tagore's birth and death anniversaries, discussion meetings and cultural functions are held at Patisar. Dubalhati
Dubalhati is an ancient site in the south-western part of the district. The road to Dubalhati passes through the wide body of water known as “Dighli beel” (a beel is a large shallow lake or marsh). There is a large well in the center of the road for providing travelers with water. Today the road is becoming a recreational place for the town dwellers because of its natural beauty.The most notable feature of Dubalhati is the "Raja's Mansion" (Jomidar Bari or Rajbari). The house has two parts; the main part, Darbar Hall, is residential and also used for holding seminars, while the other part, Natto Shalla, is for prayers. The rajbari is a three-story building standing on wide and long masonry slender spiral columns. There are also four large dighi (small lakes) around the site.The rajbari was first built by Raja Horandro Ray Choudhory during the Pala Dynasty (781–1124). About 53 rajas have held the title, beginning with Jogotram, and ending with Haranath Ray Bahadur II in 1971. Raja Horonath Ray Bahadur I was notable for his construction of schools in Rajshahi and Naogaon district, including Natto Shala, Baganbari, Dubalhati High school, Naogaon K.D. He also contributed sums of money to the Rajshahi Government College. He founded Dubalhati Raja Horonuth High School, only the second high school in the Rajshahi Division, in 1864. He also had many wells and dhighis (small lakes) dug for providing drinking and irrigation water, and provided food to the populace during the famine of 1874.

আলতা দীঘি (ALTA DIGHI)
আলতা দীঘি নওগাঁ জেলা সদর হতে ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ধামুইরহাট উপজেলার ঐতিহাসিক আলতা দীঘির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। এই দীঘি ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার উত্তরে গভীর শালবনের মাঝে অবস্থিত। প্রায় ১ কিলোমিটার লম্বা আর অর্ধ কিলোমিটার চওড়া এ দীঘির আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থা এখন আর নেই। তবে এর দু'ধারে বন বিভাগের বৃক্ষরাজি এবং দীঘির উত্তর সীমানা ধরে ভারত বাংলা ভাগের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ও ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া যে কোনো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এই আলতা দীঘির একটি বিশাল কাহিনী রয়েছে। প্রবাদ আছে, অত্র এলাকায় প্রবল খরার কারণে প্রজা সাধারণ পানি ও পানীয় জলের কষ্ট লাঘবের জন্য জগদল রাজমাতার কাছে অভিযোগ করেন। প্রজা দরদী রাজমাতা তাদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করতে পুত্রের কাছে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এবং পুত্রের কাছে দাবি করে বলেন, বাবা আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে যতদূর পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারবো ততখানি লম্বা একটি দীঘি খনন করে দিতে হবে। কঠিন হলেও পুত্র তার প্রাণপ্রিয় জননীর দাবি মেনে নিলেন এবং দীঘি খনন করতে রাজি হলেন। এভাবেই এই দীঘিটির উৎপত্তি ঘটেছে। এই দীঘির সৌন্দর্য রাশি যে একবার দেখেছে তার মনে থাকবে বেশকিছু দিন ধরে।

Elected MP(s) in 2008 Election:

(Sapahar-Porsha-Noamatpur) Naogaon-1 Shadhon Chandra Mojumdar, Bangladesh Awami League,

(Dhamoirhat-Patnitala) Naogaon-2 Md. Shahiduzzaman Sarker, Bangladesh Awami League,

(Badalgachhi-Mohadevpur) Naogaon-3 Akram Hossain Chaudhuri, Bangladesh Awami League,

(Manda) Naogaon-4 Muha: Emaj Uddin Pk. Independent Candidate, later joined Awami League,

(Naogaon Sadar) Naogaon-5 Md. Abdul Jalil, Bangladesh Awami League,

(Atrai-Raninagar) Naogaon-6 Md. Ishrafil Alam, Bangladesh Awami League. Selected (woman) MP: Shahin Monowara Huq

যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ
সড়কপথে ঢাকা থেকে নওগাঁয় যাওয়ার জন্য দূরপাল্লার পরিবহন আছে। হানিফ, কেয়া, শ্যামলী, এসআর,বাবলু,শাহফতেহ আলী,টিআর,দ্রুতি প্রভৃতি পরিবহন চলে এ পথে। ঢাকা থেকে নওগাঁর দুরত্ব ২৩৩ কিমি। সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা।

Administration
Naogaon subdivision, under Rajshahi district, was established in 1877 and was turned into a district on March 01, 1984, inaugurated by the minister for women and children affairs Dr. Shafia Khatun of HM Ershad's regime. It consists of 3 municipalities, 11 upazilas, 74 mahallas, 99 union parishads and 2795 villages. The upazilas are naogaon sadar, atrai, badalgachhi, dhamoirhat, manda, mahadevpur, niamatpur, patnitala, porsha, raninagar and sapahar. Population
2377314; male 50.66% and female 49.34%; Muslim 84.51%, Hindu 11.39%, ethnic nationals (mainly Santal, Oraon and Mahali) 3.45% and others 0.65%. Literacy and educational institutions
Average literacy 28.4%; male 35.9% and female 20.4%. Educational institutions: college 47, high school 309, junior school 49, government primary school 794, non-government primary school 559, madrasa 167. Noted institutions: Naogaon High School (1884), Raja Haranath High School (1864), Kaligram Rabindranath Institute (1910), Chak Athita High School, English School (1914), Chakla High School (1916), Kritipur High School (1921), Sharbamanal High School (1921), Coronation High School (1927), Paramohan Girl's High School (1909), Central Girl's High School (1926), Naogaon Girl's High School (1948), Basiruddin Memorial Co operative College (1946),

দুবলহাটি বলিহার ও মহাদেবপুর জমিদারগনের অকৃপণ দান, অর্থশালী ব্যবসায়ী ও জোতদার এবং গাঁজা চাষীদের যথাসাধ্য সাহায্যে এবং নওগাঁ ডেপুটি কালেকটর ও গাঁজা সোসাইটির সুপারভাইজার বাবু কৃষ্ণধন (KRISNA DHAN) বাগচীর অক্লান্ত পরিশ্রমে তাঁরই নামানুসারে ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নওগাঁ কে. ডি. সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়।
নওগাঁ জেলার প্রথম সরকারি সাহায্যে প্রাপ্ত, এ্যাংলো ভরনাকুলার স্কুল দুবলহাটি জমিদারের আনুকূল্যে ১৮৬৪ সালে দুবলহাটিতে স্থাপিত হয়। পরে এই বিদ্যালয়টি ক্রমোন্নতি লাভ করে ১৯০০ সালে রাজা হরনাথ হাই স্কুল নামে জেলার ২য় হাই স্কুল হিসাবে খ্যাতি লাভ করে।
১৯১৪ সালে গাঁজা মহলের চাষিগণের উৎসাহ ও সহযোগীতায় চকাতিথা হাইস্কুল ও চাকলা হাইস্কুল স্থাপিত হয়।
১৯২২ সালে তাঁদেরই সহযোগিতায় কীর্ত্তিপুর হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মহাদেবপুরের জমিদারের একক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় সর্বমঙ্গলা হাইস্কুল ১৯২৬ সালে।
১৯২৭ সালে নওগাঁ কো-অপরাটিভ হাই মাদ্রাসা গাঁজা সোসাইটির অনুকূল্যে ফার্সি পাড়ার চৌধুরী পরিবারের বদন্যতায় সফিয়া হাই মাদ্রাসা এবং পোরশায় শাহ্ পরিবারের পৃষ্ট পোষকতায় পোরশা হাই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২৭ সালে ছেলেদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় করোনেশান মধ্য ইংরেজী স্কুল যা পরবর্তীতে নওগাঁ জিলা স্কুলে রুপান্তরিত হয়।
১৯০৯ সালে নওগাঁ জেলার পার-নওগাঁ শ্রী প্যারীমোহন স্যান্যাল মহাশয়ের বদন্যতায় তাঁর নামানুসারে প্যারীমোহন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নওগাঁ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে স্থাপিত হয়।
১৯৪৮ সালে নওগাঁ মুসলিম জনগণের উৎসাহ ও উদ্যোগে মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের শিক্ষার উপযোগী করে নওগাঁ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। স্ত্রী শিক্ষা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্ট্রাল, তপোবন ও মরশুলা হাইস্কুল। ছেলেদের জন্য নওগাঁ শহরের হাট নওগাঁ, আর.জি নওগাঁ ও চকএনায়েত হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নওগাঁ জেলা স্কুল।




Newspaper
Dainik Ishtehar (1971), Joybangla (1971), Bangabani (1971), Banglar Kantha (1993); weekly: Saptahik Desher Bani (1925), Saptahik Banka Chand (1950), Naba - Diganta (1964), Nabayug (1964); extinct: Barendra Batra, (1981), Surya Mukhi (1982), Nababarta (1991).

মুক্তিযুদ্ধে নওগাঁ:
মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই নওগাঁয় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠে। নওগাঁ কে,ডি,সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের কার্যালয় স্থাপিত হয়েছিল। এখানে বসেই সব ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হত। নওগাঁ ছিল ইপিআর ৭নং উইং এর হেড কোয়ার্টার। ১৮ মার্চ পর্যন্ত এর কমান্ডিং অফিসার ছিল পাঞ্জাবি মেজর আকরাম বেগ। ২জন ক্যাপ্টেনের একজন ছিলেন পাঞ্জাবি নাভেদ আফজাল,অন্যজন বাঙালি ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন। ২৫ মার্চের আগেই মেজর আকরাম বেগ এর জায়গায় বাঙালি মেজর নজমুল হক নওগাঁয় ইপিআর এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে বদলি হয়ে আসেন। অবশ্য দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থির দিকে লক্ষ্য রেখে মেজর বেগ তাঁকে চার্জ বুঝিয়ে দিতে অসম্মত হন। ফলে মেজর নজমুল হক মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের তরুন নেতা মো: আব্দুল জলিলের সাথে পরামর্শ করেন এবং পরামর্শক্রমে বাঙালি ইপিআরদের সহায়তায় ২৪ মার্চ মেজর আকরাম বেগ ও ক্যাপ্টেন নাভেদ আফজাল কে গ্রেফতার করেন। পাশাপাশি নওগাঁ মহকুমা প্রশাসক নিসারুল হামিদকেও গ্রেফতার করা হয় (ইনিও অবাঙালি ছিলেন)। ফলে নওগাঁ মহকুমা সদ্য ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত এলাকায় পরিণত হয়। এ সময় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ নওগাঁর প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহন করে। দায়িত্ব গ্রহনকারী ব্যক্তিবৃন্দের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আওয়ামী লীগের বয়তুল্লাহ এম এন এ (ইনি বাংলাদেশর প্রথম ডেপুটি স্পিকার ছিলেন,৯ মার্চ ১৯৮৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।), মো: আব্দুল জলিল , মোজাফফর ন্যাপের এম, এ, রকীব , ভাষানী ন্যাপের মাযহারুল হক এ্যাডভোকেট, এ,কে,এম, মোরশেদ এবং আরও কয়েক জন স্থানীয় নেতা।
২৩ মার্চ নওগাঁয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ওপর অধ্যাপক খন্দকার মকবুল হোসেন রচিত ‘রক্ত শপথ’ নামে একটি নটক মঞ্চস্থ হয়। এ নাটকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভবিষ্যৎ রূপরেখা সম্পর্কে আভাস দেয়া হয়েছিল। নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন মো: আব্দুল জলিল, নির্দেশনায় ছিলেন মমিন-উল-হক ভুটি। মঞ্চস্থ হয় নওগাঁ বি.এম.সি. কলেজ প্রাঙ্গনে। পরবর্তীকালে এ নাটকটি ভারতের বালুরঘাট, মালদহ ও শিলিগুড়ির বিভিন্ন স্থানে মঞ্চস্থ হয়। ভারতের মাটিতে এটি যৌথভাব মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশের শরণার্থী শিল্পী-সাহিত্যিক গোষ্ঠী ও বাংলাদেশ শিল্পী-সাহিত্যিক সংঘ। ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকবাহিনী রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে গনহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চেই নওগাঁর সকল থানায় এ খবর পৌঁছে যায় এবং সেই দিনই নওগাঁ সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার শপথ নেয়।
পাকহানাদার বহিনীর নওগাঁ দখল:
২১ এপ্রিল নাটোর থেকে অগ্রসরমান পাকহানাদার বাহিনী নওগাঁ অধিকার করার আগে সান্তাহার রেল জংশনের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ নগর’ নামকরন করে। এখানে ২৬ মার্চের পর বিহারি ও বঙ্গালীদের মধ্যে সংঘঠিত সহিংস ঘটনায় বহু বিহারি প্রাণ হারায়। ২১ এপ্রিল দুপুর ১২টায় বিনা বাধায় হানাদার বহিনী নওগাঁয় প্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে। ২২ এপ্রিল পাকবাহিনীর অপর একটি কনভয় ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় রাজশাহী থেকে সড়ক পথে নওগাঁয় প্রবেশ করে। তাদের নির্দেশমতো ঐ দিন রাতে পাকিস্থান রক্ষার লক্ষ্যে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধারা সাময়িকভাবে পিছু হটে ভারতের সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়।
মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষণ :
২৪ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট, বাঙালিপুর,টিয়রপাড়া ও মধুপুরে ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি চলতে থাকে। এ সমস্ত ক্যাম্পে দেড় মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধাদের উচ্চতর ট্রেনিংয়ের জন্য মালদা জেলার গৌড়বাগানে পাঠানো হত। উচ্চতর ট্রেনিং শেষ হবার পর মুক্তিযোদ্ধাদের শিলিগুড়ি ও পানিঘাটায় আর্মস ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হত। এখানে ৩ বছরের অস্ত্রের কোর্স মাত্র ২১ দিনে শেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের পরে তরঙ্গপুর হেডকোয়ার্টার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হত।
ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধনায়ক জেনারেল ওসমানী সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সামরিক সেক্টরে বিভক্ত করেন। ৭নং সেক্টরের অধীনে ছিল নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ, পঞ্চগড় অঞ্চল। শুরুতে এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মেজর কাজী নূরুজ্জামান এ সেক্টরের অধিনায়ক। তাঁর অধীনে সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন গিয়াস সহ আরও অনেকে। মে মাসের প্রথমে মোকলেসুর রহমান রাজার নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় দল নওগাঁয় প্রবেশ করে।
সম্মুখ সমরে মুক্তিবাহিনী :
১৯ মে এবং জুন মাসের প্রথম দিকে ধামুইরহাট থানায় পৃথক পৃথক ২টি অপারেশন চালিয়ে মুক্তিবাহিনী ১জন পাক অফিসার সহ তাদের বেশ কয়েক জন সহযোগীকে হত্যা করে। এ অভিযানে ১জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত এবং ২জন আহত হন। এ অভিযানে মুক্তিযোদ্ধারা ১টি জিপ সহ প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম হস্তগত করেন।
১৩ জুন নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধারা চকের ব্রিজ,আত্রাই থানার সাহাগোলা রেল ব্রিজ ও বগুড়া জেলার আদমদিঘী রেল ব্রিজ ডিনামাইড দিয়ে উড়িয়ে দেয়। ফলে পাকহানাদার বাহিনীর রেল চলাচলে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। এছাড়া পত্নীতলা থানায় ক্যাম্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী একদল পাকসৈনিকের উপর নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চলিয়ে বিপুল পরিমান অস্ত্র অধিকার করে। এ হামলায় নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর নাজমুল। প্রতিশোধপরায়ন পাকহানাদার বাহিনী এরপর নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতন শুরু করলে স্বাধীনতা সংগ্রাম আরও বেগবান হয়। সাধারন জনগন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মুক্তি বাহিনীকে সহযেগীতা শুরু করে। তারা শত্রুপক্ষের সংবাদ ও অবস্থানের কথা গোপনে মুক্তি বাহিনীকে পৌঁছে দিত,গাইড হিসেবে পথ চিনিয়ে দিত।
১০ জুলাই মধুইল নামক স্থানে মকাই চৌধুরীর নেতৃত্ব পাক বাহিনীর উপর হামলা চলিয়ে তাদের ৬ জনকে হত্যা করে।
১৬ জুলাই পাক বাহিনীর নদী পথে রানীনগর থানার তিলাবুদু গ্রামে প্রবেশের সংবাদ পেয়ে ওহিদুর রহমান ও আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনী পাকহানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণ চালায়। এতে পাক বাহিনীর ২টি নৌকা ডুবে যায় এবং ৪জন পাকসৈনিকের মৃত্যু হয়।
১৪ আগষ্ট পাকিস্থানের স্বাধীনতা দিবসে মহাদেবপুর থানার হাপানিয়া মহাসড়কে মুক্তিবাহিনীর পেতে রাখা একটি শক্তিশালী বোমার আঘাতে ১টি জিপ ধ্বংস হলে ৫ হানাদার সৈন্য নিহত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ১৫ আগষ্ট পাক বাহিনী আশেপাশের গ্রামে নির্মম গনহত্যা চালায়।
১৯ সপ্টেম্বর আত্রাই থানার বান্দাইখাড়া গ্রামে পাক বাহিনী ১৯টি নৌকযোগে হামলা চালায়। এই সংবাদ পেয়ে ওহিদুর রহমান ও আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনী তারানগর ঘাউল্যা নামক স্থানে পাক বাহিনীর নৌকাতে হামলা চালায়। প্রচন্ড যুদ্ধে পাক বাহিনীর ৯টি নৌকাই ডুবে যায় এবং এই সাথে অসংখ্য রাজাকার ও পাকসেনার সলিল সমাধি হয়।


Masjid And Madrasha:Town jame Masjid,Shahi Masjid,Bashjhar Masjid,Bazar Masjid,Kazi para Masjid. Eidgah:Nojoan,Dhopara,Dakshin Par naogaon,Golvandar,Digree maath,Suktanpur. Mondir:Aluhati,Kalitola,Shupari Potty,Akhra. Sporting Club:Sunrise Club,Probaho Shanshod.Onnesha Nishan,Victoria,Jhotika,Sathi shongho,Nobarun, Bandminton Association, Tennis Club. Play Ground:Naogaon Stadium,Atm Maath,Nojoan Maath,Teenis club. Hotel & Motel:Jamuna Hotel,Motel Chisty,Naogaon Rest House 1 & 2,Hotel Obokash,Farial,Agmony,Shapla,Hotel Plabon,Arif,Niribili,North Begal,Porsha,Hotel Khawa Dawa. Restaurant and Chinese Restaurant:EDEN,Dophin,Food Palace,Plabon Food corner,Dhaka Hotel.Sabbir Biriani,Molbi Hotel,Shornali,7-11. Cultural organisations:Club 668, press club 1, public library 27, cinema hall 40, dakbungalow 20, circuit house1

Main occupations:Agriculture 49.01%, fishing 1.25%, agricultural labourer 26.96%, wage labourer 2.3%, commerce 8.35%, service 3.46%, others 8.67%. Land use:Cultivable land 2777573 hectares, fallow land 68715 hectares; single crop 25%, double crop 55% and treble crop land 20%. Main crops:Paddy, potato, watermelon, oil seeds, pulses,jute. Traditional Banned crops: W**d

Fruit production:Mango, jackfruit, banana, litchi, coconut. Special Foods:Sabbir Biriani,Molbir Biriani,Muktir More Kabab Ruti,Malek Chop,Mustakim Kabab,Jalil baro vaja,Boshonter jilapi,monmoto Doi. Commutation facilities:Roads: pucca 374.77 km, semi pucca 59.12 km and mud road 3595.32 km; railway 15 km; waterways 36 nautical mile. Traditional transport:Palanquin, horse carriage, bullock cart, buffalo cart. These means of transport are either extinct or nearly extinct. Vehicle:Rickshaw,Van,Tom Tom,CNG,Losimon,Cycle,Motor Bike,Car,Micro. Business Logistic:Track,Tracktor,Van,Locimon,Pickup. Manufacturer
Automatic rice and husking mill, ice factory, flour mill, oil mill, sawmill, welding etc. Cottage industries
Goldsmith, blacksmith, potteries, blacksmith, bamboo, cane and mat work, tailoring etc. Hats, bazars and fairs
Total number of hats and bazars is 207. Main exports
Paddy, rice and potato. http://en.wikipedia.org/wiki/Naogaon_District

21/03/2026

আপনাকে ঈদ মোবারক

18/03/2026

কিছুক্ষণ আগে ভিডিও করলাম মাধনগর রেল স্টেশনে। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের এই অবস্থা ছিল। এখন শুনতেছি সান্তাহার পার হয়ে লাইনচ্যুত হয়েছে ৭টি বগি। অনেকে আহত হয়েছে।
আল্লাহতালা সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।
Md Ruhul Amin Rana

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার পার হয়ে এসে মারাত্মকভাবে  দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কয়েকটি বগি লাইন ...
18/03/2026

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার পার হয়ে এসে মারাত্মকভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কয়েকটি বগি লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক।

20/02/2026

আপনার ঘরের সবচেয়ে ছোট রোজাদারের বয়স কত ???

19/02/2026

খুবই হালকা টিপ টিপ বৃষ্টি

12/02/2026

আপনাদের আসনের/কেন্দ্রের খবর কি ???
কমেন্টে জানান

12/02/2026

আপনার আসনে কোন প্রতীক জিততে যাচ্ছে ?
🗳️

একটা জরিপ হয়ে যাক, আপনার আসনে কে জিততে পারেন ???
10/02/2026

একটা জরিপ হয়ে যাক, আপনার আসনে কে জিততে পারেন ???

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে জুনায়েদ সাকী নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (০৪ ...
04/02/2026

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে জুনায়েদ সাকী নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে হাসপাতালের সামনে একটি পিকআপ থেকে মরদেহটি ফেলে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান চালক ও তার সহযোগী (হেলপার)।

নিহত জুনায়েদ সাকী (৩৭) বরিশাল জেলার পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ কাস্টম্‌সের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ।

নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আসছিলেন জুনায়েদ। তবে ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙের একটি পিকআপ ভোর সাড়ে ৫টায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ২৫০ শয্যা নওগাঁ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংগৃহীত : রূপসী নওগাঁ পেজ

31/01/2026

নওগাঁ মহাদেবপুরে ডাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জনের মৃত্যু।

​নওগাঁর মহাদেবপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ডাম্প ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এ বা... নওগাঁত তুষার পড়বা আর বেশি দেরি লয়...কি কচ্চিন তোমরা ???
29/12/2025

এ বা... নওগাঁত তুষার পড়বা আর বেশি দেরি লয়...
কি কচ্চিন তোমরা ???

আজ ১৮ই ডিসেম্বর নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে বিজয় এলেও দেশ স্বাধীনের দুই দিন পর ১৮ ডিসেম্বর ...
17/12/2025

আজ ১৮ই ডিসেম্বর নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে বিজয় এলেও দেশ স্বাধীনের দুই দিন পর ১৮ ডিসেম্বর নওগাঁ হানাদার মুক্ত হয়। এদিন প্রায় দুই হাজার পাকিস্তানি সেনা নওগাঁর যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
২৫ মার্চ পাক হানাদারদের আক্রমণের শিকার হয় নওগাঁও। পরে প্রায় এক মাস মুক্ত ছিল। ২২ এপ্রিল নওগাঁ পাক হানাদারদের দখলে চলে যায়। প্রায় সাড়ে ৭ মাস ধরে পাক হানাদার বাহিনীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালায়।
১০ ডিসেম্বর জেলার রাণীনগর উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার হানাদার মুক্ত হয়। ফলে পার-নওগাঁয় বসবাসকারী সকল অবাঙালিরা ১৪ ডিসেম্বর রাতের মধ্যে স্বপরিবারে নওগাঁ কেডি স্কুলে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেয়। এ সময় হানাদার বাহিনী নওগাঁ ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সাবেক থানা চত্বর আদালত পাড়া ও এসডিও বাসভবন চত্বরে আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলে।
১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে। এ খবর শোনার পরও নওগাঁর পাকিস্তান সেনাবাহিনী অত্মসমর্পণ করবে না বলে ঘোষণা দেয়।
মুক্তিবাহিনীর স্থানীয় কমান্ডার জালাল হোসেন চৌধুরী তার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরের দিন (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে প্রায় ৩৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নওগাঁ শহরের দিকে অগ্রসর হন। ১৭ ডিসেম্বর, শীতের সকাল। মুক্তিবাহিনী জগৎ সিংহপুর ও খলিশাকুড়ি গ্রামে আসতেই পাকিস্তানি সেনারা মর্টার শেল ছোড়া শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা শহরের ভেতর যতোই অগ্রসর হচ্ছিলো পাকিস্তানি সেনাদের মর্টার শেল নিক্ষেপ ততোই বাড়ছিলো। জালাল হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। সম্মুখযুদ্ধে দুই বাহিনীর মধ্যে দূরত্ব একেবারে কমে আসে। মাঝেখানে থাকে শুধু যমুনা নদী। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উভয় পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
১৮ ডিসেম্বর শনিবার সকালে বগুড়া থেকে অগ্রসরমান ভারতীয় মেজর চন্দ্রশেখর, পশ্চিম দিনাজপুর বালুরঘাট থেকে পিবি রায়ের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী নওগাঁয় প্রবেশ করলে হানাদার বাহিনীর আর কিছুই করার ছিল না। ফলে সকাল ১০টার দিকে প্রায় দুই হাজার পাকসেনা নওগাঁ কেডি স্কুল থেকে পিএম গার্লস স্কুল, সরকারি গার্লস স্কুল, পুরাতন থানা চত্বর এবং এসডিও অফিস থেকে শুরু করে রাস্তার দু’পাশে মাটিতে অস্ত্র রেখে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে নতমস্তকে আত্মসমর্পণ করে।
তৎকালীন নওগাঁ মহকুমা প্রশাসক সৈয়দ মার্গুব মোরশেদ মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীকে স্বাগত জানান। বর্তমান পুরাতান কালেক্টরেট (এসডি) অফিস চত্বরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা পতাকার প্রতি সালাম জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। ফলে নওগাঁ হানাদারমুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর।

Address

Naogaon
Naogan
6500

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নওগাঁ জেলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to নওগাঁ জেলা:

Share